Skip to main content

পূর্ণ আকাশ, অপূর্ণ আশা

– আকাশ দেখেছ শান্তিময়ী ? আমি আকাশ দেখেছি।
এমন আপাত অর্থহীন প্রশ্নে থতমত খেয়ে যান শান্তিময়ী। এই প্রথম যদিও নয়। প্রায়শ এমন ধোঁয়াশামুখর প্রশ্নের সামনে পড়ে শান্তিময়ীর মতো গভীর সংসারী, প্রখর বিচক্ষণ মহিলাও দস্তুর মতো হাবুডুবু খেয়েছেন অথই সাগরে। বহুবার। খেই না পেয়ে ‘জানি না’ বলে পাশ কাটানোকেই শ্রেয় বলে সরে আসতেন পুলকেশের সামনে থেকে।
ঘরে বাইরে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার নামই সংসারধর্ম বা জীবনযুদ্ধ এমনই মনে করতেন পুলকেশবাবু এখনও তাই ভাবেন, বিশ্বাস করেন মনে প্রাণে ঠিক নির্বাণ বা সন্ন্যাস হয়তো নয়, তবে এমন বিশ্বাস বা ধারণা পুলকেশের ভিতরে জন্ম নিয়েছিল জীবনের প্রথমদিকেই গভীর বাস্তবকে আঁকড়ে ধরেই যেহেতু চলতে হবে আমৃত্যু, তাই ভবিষ্যতের একটা ছক মনে মনে কষে রেখেছিলেন তখন থেকেই
পৃথিবীতে তাঁর আসাটা যেহেতু নিজের ইচ্ছায় নয় তাই এখানে থাকা কিংবা এখান থেকে চলে যাওয়াটাও যে নিজের ইচ্ছায় হবে না তা বিলক্ষণ বুঝে উঠতে পেরেছিলেন সেই বয়সেই সুতরাং কোনওরকমের ধানাইপানাই নয়, যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে গেছেন ন্যূনতম চাহিদাপূরণের মাধ্যমে সবদিক সামলেসুমলে নির্বাহ করতে এই সংগ্রামমুখর যাপনটুকু এখন অবসৃত জীবনে নিঃসন্তান পুলকেশ নিজেকে এক আগাছার বাইরে কিছুই আর ভাবতে পারেন না। দৌড়ঝাঁপের দিনাতিপাত শেষে এই অখণ্ড অবসর তাঁকে পলে পলে বিদ্ধ করছে শান্তিহীনতার কাঁটায়। কোনও কাজ নেই হাতে। নাওয়া খাওয়া নিদ্রার বাইরে বিধাতা তাঁর জন্য আর কোনও কাজ রাখেননি এ সংসারে। নিজেই তাই খুঁজে খুঁজে কল্পনার ঘাস কাটতে থাকেন যখন তখন সেই হারিয়ে যাওয়া শাদা ঘোড়াটির জন্য। সেই প্রথম যৌবন থেকেই কল্পনার বিলাসী যাপনে যে স্বপ্নটি তিনি দেখতেন নিতান্তই পুলক ছড়াতে, চোখ বন্ধ করে সেই আমেজে জড়িয়ে রাখতেন নিজেকে সেই স্বপ্নটি এখনও দেখেন মাঝে মাঝেই।
এক সমৃদ্ধ সান্ধ্য আড্ডার অধিকারী ছিলেন পুলকেশবাবু। একগুচ্ছ সাদা মনের অধিকারী বন্ধুদের সান্নিধ্যে কাটানো সেই কৈশোরোত্তীর্ণ বেলাটি তাঁর হৃদয়ে সযত্নে লালিত এক সম্পদ। রঙিন ঘুড়ি তখন নিত্য উড়ান দিত মনের মধ্যে। কোন খেয়ালে একদিন অলীক এক ভাবনা এসে কল্পনার ডানা মেলে ধরল সঙ্গোপনে। আপাদমস্তক এক শাদা ঘোড়া এসে দাঁড়াল তাঁর স্বপ্নে। তিনি দেখলেন অবসৃত জীবনে সেই আড্ডাস্থানে তিনি সেই ঘোড়ায় চড়ে এসে নামলেন বিস্ফারিত চোখে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুদের সামনে। ঘোড়াকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেহিসেবি আড্ডাশেষে আবার ঘোড়ায় উঠলেন লাফ দিয়ে। ঘরে ফিরছেন এক যাপনজয়ী যোদ্ধা, যাঁর চলনবলনে আভিজাত্যের চমক। এই অলীক স্বপ্নের কথা তিনি মুখ ফুটে বলেওছিলেন কিছু আপনজনদের। বলাই বাহুল্য সবাই হো হো করে হেসে উঠেছিল সেসব কথা শুনে কথারা এমনি পুলকেশের মনে মাঝে মাঝেই এসে দানা বাঁধত এবং জায়গাও করে নিত চিরস্থায়ী হয়ে। সাংসারিক যাপনে ব্যস্ততার মধ্যেই যখন অতিবাহিত হল জীবনের বেশির ভাগ সময় তখন হঠাৎ করে অবসর জীবনে এসে খেই হারিয়ে ফেললেন পুলকেশ। তখন শুধু অতীতকে নিংড়ে নেওয়া কথাসাগরে উথালপাথা সাঁতার কাটার বাইরে বেশি কিছু আর করার রইল না।
রাত হলে বেশ কিছুক্ষণ এক চিলতে ব্যালকনিতে বসে যে যার মতো টপিক নিয়ে রোজ আলাপে মেতে উঠেন পুলকেশ ও শান্তিময়ী। যে যতই কাছের হোক, কার ভেতরে কোন ভাবনা ঘুরপাক খায় তার খেই অপর পক্ষের হৃদয়ে ধরা দেয় না। একাত্মা শব্দটি তাই নিতান্তই কথার কথা বলেই ভাবেন পুলকেশ যদিও এভাবে কাছাকাছি বসার সময়টুকুতে যে ভবিষ্যতে একলা থাকার দুঃসহ কাল নিয়েই আলোড়িত হয় উভয় হৃদয় সেটা উভয়ের কাছেই জলবৎ তরল। তবু এ নিয়ে কথা বলা উভয়েরই নাপসন্দ্‌
ব্যালকনিটি এমনিতেই যথেষ্ট ছোট। পরিসর আরোও অনেকটাই ছোট করে এনেছেন শান্তিময়ী তাঁর গাছগাছালির সম্ভারে পরিপূর্ণ করে। পুলকেশের এই ব্যাপারে বিশেষ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ নেই কোনোদিনই। আঁধারিত ব্যালকনি থেকে আলোকিত রাস্তাটি স্পষ্ট দেখা যায়। আর দেখা যায় রাতের আকাশের এক টুকরো তারকাখচিত আঁধারনীল। টুকটাক কথার মধ্যেই পুলকেশের মন চলে যায় দূর দূরান্তে। আকাশেরই দিকে তাকিয়ে আচমকাই বলে ওঠেন - ‘আকাশ দেখেছ শান্তিময়ী ? আমি আকাশ দেখেছি।’
শান্তিময়ী বলেন - হ্যাঁ, ওই তো। কেমন নির্মল দ্যাখো।
– আমি এই আকাশের কথা বলছি না শান্তিময়ী। একসাথে পুরো আকাশ দেখেছ কোনোদিন ?
চোখের পলকে গোটা জীবনচক্র ঘুরে এসে হতাশ শান্তিময়ী জানালেন - নাহ্‌। কী করে দেখব বলো ? সবদিকেই যে আকাশটাকে ঢেকে রেখেছে গাছগাছালি আর ইমারত।
– ঠিক বলেছ। পুরো আকাশ কখনও ধরা দেয় না আমাদের চোখে। আমি কিন্তু দেখেছি।
পুলকেশের জীবনের অঘোষিত যাপনসংবাদ নিমেষে উৎসাহিত করে তোলে শান্তিময়ীকে - কী করে ? উৎসুক প্রশ্ন নিমেষেই ধেয়ে আসে পুলকেশের দিকে। পুলকেশও পলকেই পৌঁছে গেছেন অকুস্থলে। ছবির মতো চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই সব কষ্টকর যাপন দিনের কথা। পুলকেশ ভাবেন এক সময়ের কষ্টকর যাপন কী করে যে পরবর্তীতে সুখস্মৃতির অ্যালবামে এসে জায়গা করে নেয় তা বড়ই রহস্যের।
###
তখন সবে পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন পুলকেশ। এবার অর্থ উপার্জনে ব্রতী হওয়ার সময়। সামান্য চেষ্টাতেই এক প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করার সুযোগ এসে গেল। কনস্ট্রাকশন সাইটে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের পোস্ট। মধ্য অসমের রাঙাপাড়া নামক জায়গাটির কাছে মিসামারি আর্মি ক্যাম্পের ভিতর আবাসন প্রকল্পের কাজ তখন শুরু হয়েছে। সমস্যা হল সেখানে থাকার জায়গা নেই। নিজেই থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সেই জায়গাটি অনেকটাই প্রত্যন্ত। তাছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে বেতন বলতে যা পাবেন তা দিয়ে আলাদা করে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। বাবা শুনেই বললেন - ভাবছিস কেন ? রাঙাপাড়াতে তো আমার মাসতুতো ভাই থাকে। গোপাল। তোকে বলেছি আগেও। মনে নেই হয়তো। আমার সঙ্গে তো যোগাযোগ আছে চিঠিপত্রে। তুই চলে যা। আমি লিখে দিচ্ছি। রাঙাপাড়া শহরের শান্তিপাড়াতে গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে।
মনে পড়ল পুলকেশের। সেও শুনেছে গোপালকাকুর কথা। মনেই আসছিল না এতক্ষণ। যেমন ভাবা গিয়ে উঠলেন কাকুর বাড়িতে। সেই প্রথম দেখা। একত্রে তিনটি সংসার। গোপালকাকু বড়। একই জায়গায় আরোও দুই কাকুদের সংসারযাপন। পুলকেশকে দেখে, চিঠি পড়ে কাকু, কাকিমারা এবং সঙ্গে পুলকেশের সম্পর্কিত ভাই বোন, দাদাদের সে কী উচ্ছ্বাস। পুলকেশ যত দেখছেন ততই অবাক হচ্ছেন।
পরদিন কাজে যোগ দিলেন পুলকেশ। সকালে যেতে প্রায় একঘণ্টা। বিকেলে ফিরতেও অনেকটাই দেরি। কখনও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। এক নতুন দিগন্ত যেন উন্মুক্ত হল পুলকেশের সামনে। কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি কাকুদের সংসারে ধীরে ধীরে যেন এক স্থায়ী সদস্যের তকমা জুটিয়ে নিয়েছেন পুলকেশ। এত আদর, এত ভালোবাসা পুলকেশের জীবনে হয়তো এর আগে এমন ব্যাপক হয়ে আসেনি কখনও। সন্ধে হতেই ভাই বোন দাদারা পথ চেয়ে থাকত যেন কখন ফিরবেন পুলকেশ। পুলকেশও এসেই যা খাওয়ার খেয়ে তৈরি ওদের সঙ্গে এবাড়ি ওবাড়ি কিংবা এদিকে ওদিকে টো টো করতে বেরোবে বলে। দুই বোন জয়া ও বিজয়া আর প্রায় একই বয়সের দুই দাদা অঞ্জন ও সুজন তো এ ক’দিনেই ভালোবাসার ডোরে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে পুলকেশকে। উপর থেকে কাকু কাকিমাদের সযত্ন দেখভাল। পুলকেশের জীবন নতুন খাতে বইতে শুরু করেছে যেন।
দিন পনেরো সবে হয়েছে। পুলকেশ বুঝতে পারছেন এখানে চাকরি করে জীবনে থিতু হওয়া সম্ভব নয়। বড্ড নীরস। মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হবে সারা জীবন। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন চাকরি ছেড়ে দেবেনঘরে এসে জানাতে যেন এক আকাশ ম্লানিমায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল অনেকগুলো মুখ। এদের ছেড়ে যেতে যে কষ্ট বুকের মধ্যে জমা হয়েছে পুলকেশের তা আজও মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন পুলকেশ।
সেই যে ছেড়ে আসা এরপর কেটে গেছে অন্যূন তিরিশটি বছর। বহুবার চেষ্টা করেও সেভাবে আর সেখানে ফিরে যেতে পারেননি পুলকেশ। এই ক্লেশ তাঁকে পোড়ায় নিরন্তর। যতবারই যেতে চেয়েছেন পার্থিব ঝুটঝামেলায় ব্যাহত হয়েছে সেই পরিকল্পনা। এখনও, এই বয়সেও ওখানে ফিরে যেতে দুর্বার ইচ্ছে হয় তাঁর কিন্তু কিছুতেই পেরে উঠছেন না। কাকু, কাকিমারা গত হয়েছেন বহুদিন। অকৃতজ্ঞ পুলকেশ তাও যেতে পারলেন না নতুন চাকরির বাধ্যবাধকতায়। বোনদের বিয়ে হয়েছে কবেই। আজ তাদের ছেলেমেয়েদেরও বিয়ে হয়েছে। দাদা, ভাইরা প্রায়শ এ নিয়ে দুঃখ করে, অভিমান করে। যা নিতান্তই স্বাভাবিক। তবু কোন এক অমোঘ নিয়মে যে অপারগ হয়ে রইলেন পুলকেশ এ তাঁর বোধগম্যতার বাইরে। তবু সেই স্বপ্ন আজও তিনি দেখেন। আবার জমে উঠবে সেই গল্পের আসরআবার লাগামহীন টইটই করে চষে বেড়াবেন সেই স্বপ্নময় পথঘাট। এমন স্বপ্ন দেখেন প্রতিনিয়ত। বলতে গেলে পুলকেশের কাছে এটাই ছিল স্বজনসমাবেশের প্রথম অভিজ্ঞতা, প্রথম স্বজনপ্রেম। আজ নিজেকে এক অপরাধী বলে মনে হয় প্রতিনিয়ত।
###
শান্তিময়ীর সপ্রশ্ন চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন পুলকেশ - ধূসর, বিস্তীর্ণ প্রান্তরে নির্মীয়মাণ আবাসন প্রকল্পের জায়গাটি ছিল আমার প্রথম কর্মক্ষেত্র। তখন সবে মাটি কেটে ভিত গড়ে তোলা হচ্ছিল। সারা দিন খোলা আকশের নীচে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে সেই কাজ আমাকে নিরীক্ষণ করতে হতো। শ্রমিকদের কাজ কিংবা ভোজনের অবসরে ক্লান্ত আমি মাঝে মাঝে শুয়ে পড়তাম নরম ঘাসের উপর। সেই প্রথম আমার সরেজমিনে আকাশমাটির সান্নিধ্য। চোখের সামনে ধরা দিত উন্মুক্ত এক বিশাল নীলাকাশ যার কোনও সীমা ছিল না। সেই নীলাকাশ যেন ছড়িয়ে দিত এক বিশাল জীবনপথের বারতা, মাটি থেকে আকাশই যার শেষ গন্তব্য।
রাতের আবছা আলোয় শান্তিময়ী অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন পুলকেশের দিকে। আকাশেরই মতো বিশাল যাঁর অন্তর তাঁর লালিত ইচ্ছেটুকু পূর্ণ করতে শান্তিময়ীর কি কোনো দায় নেই ? প্রশ্ন করেন নিজেকেই। পাশে বসে পুলকেশও প্রশ্ন করেন নিজেকে - ফিরে যাওয়া হবে কি আবার ? 

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

Comments

Popular posts from this blog

শেকড়ের টানে নান্দনিক স্মরণিকা - ‘পরিযায়ী’

রামকৃষ্ণনগর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক উপত্যকার এক ঐতিহ্যময় শহর । বিশেষ করে শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে চিরদিনই এক অগ্রণী স্থান হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে এই নাম । বৃহত্তর রামকৃষ্ণনগরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস বহুদিনের । দেশভাগের আগে ও পরে , উত্তাল সময়ে স্থানচ্যূত হয়ে এখানে থিতু হতে চাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ ও কষ্টের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে এক বিশাল বাসযোগ্য অঞ্চল । শুধু রুটি , কাপড় ও ঘরের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রই নয় , এর বাইরে শিক্ষা অর্জনের ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মমনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেইসব মহামানবেরা । ফলস্বরূপ এক শিক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যদিও উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে বেরোতে হয়েছিল নিজ বাসস্থান ছেড়ে । শিলচর তখন এ অঞ্চলের প্রধান শহর হওয়ায় স্বভাবতই শিক্ষা ও উপার্জনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হয় । এবং স্বভাবতই রামকৃষ্ণনগর ছেড়ে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন এই শিলচরে । এই ধারা আজও চলছে সমানে । শিলচরে এসেও শেকড়ের টানে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে রামকৃষ্ণনগর মূলের লোকজনেরা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক সৌহার্দমূলক বাতাবরণ । এবং সেই সূত্রেই ২০০০ সালে গঠিত হয় ‘ ...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...

মহানিষ্ক্ৰমণ

প্রায় চল্লিশ বছর আগে গ্রামের সেই মায়াময় বাড়িটি ছেড়ে আসতে বেজায় কষ্ট পেয়েছিলেন মা ও বাবা। স্পষ্ট মনে আছে অর্ঘ্যর, এক অব্যক্ত অসহায় বেদনার ছাপ ছিল তাঁদের চোখেমুখে। চোখের কোণে টলটল করছিল অশ্রু হয়ে জমে থাকা যাবতীয় সুখ দুঃখের ইতিকথা। জীবনে চলার পথে গড়ে নিতে হয় অনেক কিছু, আবার ছেড়েও যেতে হয় একদিন। এই কঠোর বাস্তব সেদিন প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে পেরেছিল অর্ঘ্যও। সিক্ত হয়ে উঠছিল তার চোখও। জন্ম থেকে এখানেই যে তার বেড়ে ওঠা। খেলাধুলা, পড়াশোনা সব তো এখানেই। দাদাদের বাইরে চলে যাওয়ার পর বারান্দাসংলগ্ন বাঁশের বেড়াযুক্ত কোঠাটিও একদিন তার একান্ত ব্যক্তিগত কক্ষ হয়ে উঠেছিল। শেষ কৈশোরে এই কোঠাতে বসেই তার শরীরচর্চা আর দেহজুড়ে বেড়ে-ওঠা লক্ষণের অবাক পর্যবেক্ষণ। আবার এখানে বসেই নিমগ্ন পড়াশোনার ফসল ম্যাট্রিকে এক চোখধাঁধানো ফলাফল। এরপর একদিন পড়াশোনার পাট চুকিয়ে উচ্চ পদে চাকরি পেয়ে দাদাদের মতোই বাইরে বেরিয়ে যায় অর্ঘ্য, স্বাভাবিক নিয়মে। ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে যায় দিদিরও। সন্তানরা যখন বড় হয়ে বাইরে চলে যায় ততদিনে বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা মায়ের পক্ষে আর ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বহু জল্পনা কল্পনার শেষে ত...