Skip to main content

Posts

Showing posts with the label গল্প ৫

কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

এক শীতের তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই হঠাৎ করে নির্দেশ এল পার্শ্ববর্তী রাজ্য নাগাল্যাণ্ডের এক অপরিচিত, অখ্যাত জায়গায় যাওয়ার। রাজ্য তথা এই দেশের একেবারে পূর্বসীমান্তে মায়ান্মার সংলগ্ন নতুন জেলা নকলাক-এর সদর নকলাক শহর। তখন কর্মরত ছিলাম ওই রাজ্যেরই ডিমাপুরে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। স্বভাবতই দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা সব সহকর্মীরা। পদমর্যাদায় সিনিয়র মি: ধরচৌধুরী তাঁদেরই একজন যিনি হলেন আমার সফরসঙ্গী। কিংবা বলা ভালো আমি তার। ধরচৌধুরীর মূল বাড়ি কলকাতায়। আমুদে, আন্তরিক মানুষ। গুনগুনিয়ে গাইতে ভালোবাসেন। আমরা দুজনেই সদ্য যৌবনোত্তীর্ণ। বয়সে, মানসিকভাবে হয়তো নয় তখনও।     সফরসূচি তৈরি হল ডিমাপুর থেকেই। ড্রাইভার সহ আমরা মোট পাঁচজন। নকলাক ডিমাপুর থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো কি:মি: দূর। যেতে অন্তত পনেরো ঘণ্টা। পাহাড়ি পথে এক দিনে এতটা পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তাই ভেঙে ভেঙেই পাড়ি দিতে হবে পথ। প্রথম গন্তব্য মাঝামাঝি দূরত্বের আরেক সমৃদ্ধ জেলা সদর মোককচঙ। সেখানেই প্রথম রাত্রিযাপন। ধরচৌধুরীর বাইরেও আমার সঙ্গে আছেন আরও দুজন সহকর্মী। সহায়িকা হিসেবে সোশিয়াল সার্ভে অ্যাসিস্টান্ট মিস রংমেই এবং আলো। আমি ও ...

ছাইপাশ

  ছাইপাশ     “ এভাবেই অপমৃত্যু হয় কিছু ভাবনার , কিছু সিদ্ধান্তের ” - নিজেরই অজান্তে স্বগতোক্তি করেন বিমলেন্দুবাবু। ঘটনার সূত্রপাত লক ডাউন শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরেই। পোড় খাওয়া অন্তরে তা আঁচ করতে পারছিলেন বেশ কিছু দিন  ধরেই। মাস তিনেক হলো রিটায়ার করেছেন বিমলেন্দু সেনগুপ্ত। পাঁচ বছর আগেই নিয়ে নিয়েছেন অকাল অবসর। দেশের টালমাটাল অর্থনীতির জেরে সময় থাকতেই অবসর নিয়ে এখন বাড়িতেই কাটাচ্ছিলেন দিন। উচ্চ পদে যথেষ্ট দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে চাকুরি করেছেন দীর্ঘ ৩০টি বছর। কিছু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর্মদক্ষতার সুবাদে গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চল তথা দেশের অন্যান্য অংশেও এক আলাদা দাম ছিল তাঁর বিভাগ জুড়ে। নানারকম সমস্যার নিরসনে তাই প্রায়শই ব্যস্ত থাকতে হতো। সেদিক দিয়ে নিজেও তাই উপভোগ করছিলেন তাঁর কর্মজীবন। কিন্তু অবসরের পর আজকাল কেমন একটা নিঃসঙ্গতা যেন ক্রমাগত পীড়া দিয়ে যাচ্ছে চিন্তায় মননে। এমনিতে একা নন তিনি মোটেও। ঘরে স্ত্রী সুপ্রিয়ার পাশাপাশি পুত্র , পুত্রবধু আর একমাত্র কন্যাসন্তানটিকে নিয়ে বলতে গেলে ভরপুর সংসার তাঁর। প্রাইভেট ফার্মে চাকুরি করে ছেলে শুভাশিস। দু ’ বছর হলো বিয়ে দ...