পদ্য, কবিতা ও ছড়ার সংজ্ঞার মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে যদিও তার যথার্থ শ্রেণিবিভাজন খানিকটা জটিল বইকী। একটি ছন্দবদ্ধ রচনা একটি পদ্য তো বটেই কিন্তু তার উপর এটি হতে পারে একটি কবিতাও এবং একটি ছড়াও। আধুনিক কবিতা আবার হতে পারে ছন্দহীনও যদিও ছন্দহীন রচনামাত্রেই যে তা কবিতা হয়ে উঠবে তাও নয়। ছড়া যে শুধু ছোটদের জন্যই হতে হবে তারও কোনো মানে নেই। সুতরাং বলাই যেতে পারে যে একটি ছন্দবদ্ধ রচনাকে আদৌ কোন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যায় কিংবা তা কতটা কবিতা হয়ে উঠল তা ভিন্ন মানসে ভিন্নরূপে আখ্যায়িত হওয়ার সমূহ একটি সম্ভাবনা থেকেই যেতে পারে। সব মিলিয়ে এই শ্রেণিবিভাজনের দায় তাই কবি, ছড়াকার, বাচিক শিল্পী এবং পাঠকের হাতেই সঁপে দেওয়া শ্রেয়। মূলত একজন গদ্যকার বিশেষ করে প্রাবন্ধিক ত্রিদেব চৌধুরীর কবি হিসেবে সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘তিন ডজন পদ্য’তে এ নিয়ে এবং নিজেকে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন স্বকৃত ভূমিকা রয়েছে। এখানে আছে - ‘...কবিতা আমার আসে না। কাব্যগুণের ধার ধারি না। এককালে ছন্দ নিয়ে কিঞ্চিৎ নাড়াচাড়া করেছিলাম। এগুলো তারই ফসল। আধুনিক কবিতা ছন্দ বা অন্ত্যমিলের ধার ধারে না এরকম একটা ধারণা হয়তো অনেকের মধ্যেই আছে...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা