বরাকের শনবিলের ছেলে, বর্তমানে লোহিত পারে গুয়াহাটি নিবাসী কবি বিদ্যুৎ চক্রবর্তী মহাশয়ের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ (এবং সার্বিক চতুর্থ গ্রন্থ) 'মাটির পৃথিবী'। কাব্যগ্রন্থটির নামই ব্যঞ্জনাময়, বহুধাবিভক্ত পৃথিবীর মানবসমাজের ঐক্যসূত্র যে মাটি, আমরা যে মাটির ছেলে মানবজাতি। এখানেই কবি বিশ্বভাতৃত্বের ঐক্যবন্ধন উচ্চারণ করেন এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে। কিন্তু এই গতবাঁধা সম্প্রীতির জোয়ারে বিদ্যুৎবাবুর মৌলিকত্ব রয়েছে। কবি অন্ধ বিশ্বপ্রেমে হারিয়ে যান না। তিনি ইতিহাস ও বর্তমান সচেতন কবি। তিনি ভুলেননি তিনি যে উত্তরপূর্বের হিন্দু বাঙালি - যে জাতি প্রত্যক্ষ দেশভাগ ও বিশেষ ধর্মীয় মৌলবাদের হিংস্রতার শিকার, উত্তর-পূর্ব ভারতের উগ্র প্রাদেশিকতাবাদের শিকার। বিশ্বভাতৃত্বের অন্তরায় অশুভ শক্তির মুখোশ উন্মোচনের সাহসী উচ্চারণ কবির 'সুনামগঞ্জের বদনাম', 'দিবাস্বপ্ন', 'মূলোৎপাটন গাথা' প্রভৃতি কবিতায়। ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বপ্রান্তে যে মানবতার বধ্যভূমির আবির্ভাব ঘটেছে কালে কালে তার স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ব্যাথাহত চিত্তে- "উফ! বুকের মাঝে এখনও সেই ব্যথা, স্বাধীন দেশের অসহায় কত...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা