যে পথ স্বভাবে ছিল , সেই পথেরই চলার বৃত্তান্ত কবির কলমে চূড়ান্ত উৎকর্ষে কবিতায় দিয়েছে ধরা । কেমন সেই পথ ? তারই নির্মোহ প্রতিবেদন এই কাব্যগ্রন্থ - অমোঘ শব্দ ও পঙ্ ক্তির চুলচেরা প্রয়োগে । কবির পথ কবির একান্তই নিজস্ব । তাঁর স্বভাবজাত । পাঠকের পথ ভিন্ন হতেই পারে । কিন্তু কবিতার সুষমায় এখানে কবি ভিন্ন পথের পথিককেও ধরে রাখতে সক্ষম হ বে ন নিশ্চিত । কী আছে কবির পথে ? এই অনুসন্ধানে উল্লেখ করা যাক কিছু টুকরো প ঙ্ ক্তি । শুরু হোক প্রথম কবিতা থেকেই - যা ৮২ পৃষ্ঠার এই কাব্যগ্রন্থের ৭০ পৃষ্ঠা জুড়ে লিখা ৬৮টি কবিতারই সুস্পষ্ট পরিচায়ক। এই দুঃসময়ে দেখো দেশ আর মানুষ জড়াজড়ি করে কাঁদে, হরিবোলে ডুবেছে সময় ভালোবাসা গেছে নির্বাসনে ঘৃণা আর দীর্ঘশ্বাস ঢেকেছে বাতাস, তবু প্রতিদিন সকাল হলে সূর্য এসে টোকা দেয় দরজায় - ওঠো, এবার সময় হল ঘুরে দাঁড়াবার। (কবিতা - এই দুঃসময়) এই প্রথম কবিতার বিশ্লেষণে দেখা যায় কবিতার শরীরে বসে আছে দুঃসময়, কাঁদে, হরিবোল, নির্বাসনে, ঘৃণা, দীর্ঘশ্বাস আদি অন্যূন ছয়টি নেতিবাচক এবং নৈরাশ্যবাদী শব্দ। আবার শেষ পর্বে ‘তবু’র অনুষঙ্গে সূর্য ওঠারও ইঙ্গিত। প্রতিটি কবিতাই কিন্তু একই ধারা...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা