চায়ের দোকানে আড্ডা বসে প্রতি রোববার। আগেও বসতো, তবে এখনকার মতো নয়। আগে প্রতি সন্ধ্যায় আড্ডা হতো জোর। জনাদশেক বন্ধুদের হৈ হুল্লোড়ে জমে উঠতো আসর। সব মিলিয়ে তিনটি চায়ের দোকান ছিল কদমতলায়। এক আধা শহরের সংলগ্ন শহরতলি - কদমতলা। কদমতলার কেন্দ্র থেকে তিন দিকে তিনটি রাস্তা বেরিয়ে গেছে ভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে। একেবারে কেন্দ্রস্থলে বিশাল বড় একটি যুগপুরোনো কদম গাছ। সেই থেকে নাম কদমতলা। কদমতলার একশো ভাগ বাসিন্দা হলেন উড়ে এসে জুড়ে বসা। অর্থাৎ দেশভাগ জনিত উদ্বাস্তুর এক নতুন ঠিকানা এই গোটা অঞ্চল। এখানে মিশ্র অর্থনীতির সহাবস্থান। মোটামুটি স্বচ্ছল কিছু পরিবার যেমন আছে তেমনি হাড়ে হাভাতেদেরই আধিক্য। ভাগ্যলক্ষ্মী যাকে যেমন দিয়েছেন আরকি। এতদিনে ক্ষুদ্র এই পরিসরে মোট দশ বারোখানা দোকান গড়ে উঠেছে। টেইলারিং, মুদিখানা, রেডিও মেকার, মণিহারি, সাইকেল রিপেয়ারিং এবং তিনটে চায়ের দোকান। হারু বিশ্বাস, পিণ্টু-দা আর কুটুসের। একেক সন্ধ্যায় আড্ডাসভা বসতো একেক দোকানে। সপ্তাহে দু’দিন - বুধ আর রোববারে সাপ্তাহিক হাট বসতো পুরো এলাকা জুড়ে। সেই বিকেলগুলোতে বদলে যেত নীরব, নিস্তব্ধ, শান্ত কদমতলার পরিবেশ। আশপাশের গ্রামগঞ্জ আর নদী, না...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা