Skip to main content

Posts

Showing posts with the label প্রকাশিত - ঈশাণের পুঞ্জমেঘ ব্লগ

রক্তস্নাত উত্তরাধিকার

  রক্তস্নাত উত্তরাধিকার   হারিয়ে যাওয়া ছবিগুলো কোলাজ হয়ে ফিরে এলেই হারাই খেই , স্বচ্ছতোয়া নদীর মতোই নিরেট সোনায় মোড়া ছবি নয় যেন জ্যান্ত উপাখ্যান। বনবাদাড়ে কুড়িয়ে পাওয়া জ্বালানি কাঠ কলসী কাঁখে হাঁফিয়ে ওঠা ফুসফুস আর নিত্যদিনের ধার দেনার উচ্ছিষ্ট চালকণা। এমনি করেই দিবানিদ্রায় গড়ে ওঠে প্রজন্মের উত্তরণ আর সুখের ভবিষ্যৎ। তিলে তিলে সঞ্চিত আশা গড়ে ভিত , গড়ে ওঠে সুখ স্বপনের আস্তানা - অজানা মানচিত্রে স্থাপিত হয় আস্ত নতুন দেশ। অচেনা পড়শি বাড়ায় ভরসার দুটি হাত দেনা পাওনার দিন যাপনে কেটে যায় অগুনতি সব ঝঞ্ঝাবাহিত দুঃস্বপ্নের রাত।   আজ খেলা ভাঙার নতুন খেলায় প্রশ্নচিহ্নে ব্যতিব্যস্ত রক্তস্নাত উত্তরাধিকার। পান্তা ফুরানো বিস্মৃত নুনের উদ্যত অপমানে এবার গোখরো হয়ে হানবো ছোবল , ভাঙব যত ব্যর্থ অহংকার।

এই তো জীবন

  এই তো জীবন   মাঝে মাঝে ছন্দপতন , এ না হলে কীসের জীবন ? কত আর সামনে এগিয়ে চলা , মাঝে মাঝে পেছন ফিরে দেখা এই তো আসল জীবন।   কিংবা কয়েক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে , নয়তো অসময়ে খানিক এগিয়ে যাওয়া। থমকে পড়ে চলার রসদ জুগিয়ে নেয়া। ঘুরপাকে নতুন পথে স্রোতে ভাসা - এই তো সঠিক জীবন।   কালের হিসেব জটিল হয়ে ওঠে জীবন পথে রুদ্ধ সরল পাটিগণিত। অগোছালো কাল গুছিয়ে নিলে তবে সাজানো বাগান হাতছানিতে ডাকে , এই তো সখের জীবন।   যাপন ক্ষেত্র কিংবা খেলার মাঠ তৈরি থাকে পদচারণ আশায় , হোক না যতই বেহিসেবি অবকাশ বিজয় মালা মেলায় সঠিক সময়। এই তো মধুর জীবন ।   জীবন ধারা বয় না ছন্দ মেপে , ধ্বস্ত ধারায় সন্তরনের মুন্সিয়ানায় পেরোতে হয় অকাল বেলার পথ , তবেই আসে বসন্ত উৎসব। এই তো  কাম্য জীবন।

এবার ফিরুক সুখের সাজ

  এবার ফিরুক সুখের সাজ     এ তোমার কেমন উপহার ? দিনের আলোয় দিলে আমায় রাতের অন্ধকার।   চলার পথে এই বিরতি শেষের আগে কোন সে গরজ অবেলায় করলে ইতি ?   আমার চাওয়া নয় তো বেশি ক্ষণিক সুখের মাঝেই কেন ছিনিয়ে নিলে মুখের হাসি ?     হৃদয় আমার ব্যাকুল যে আজ প্রতীক্ষার হোক অন্ত এবার   ফিরুক সুখের সাজ।     তোমার   সহসা খেয়ালি খেলায়   স্তব্ধ আমার দিবস রাত্রি বৃষ্টি ঝরুক তোমার সাড়ায়।

আমি অরিন্দম হবো

আমি অরিন্দম হবো   হ্যালো , কেমন আছিস অরিন্দম ? আছি বন্ধু , থাকাটাই যা - দেশের ঘোষিত অবৈধ নাগরিক ভুল করেছে করণিক , আমি দেব খেসারত - - বিশ্বাস হারিয়েছে অরিন্দম বিশ্বাস ।   দু ’ যুগ পরের কথোপকথন এমন হয় না , বিলুপ্ত উচ্ছ্বাসে ফুটে উঠে একরাশ বিরক্তি । একান্নবর্তী প্রাণের বন্ধু ছুট লাগায় হয়রানির মহড়ায় পালিয়ে বেড়ায় জাহান্নামের পথের দূরে ।   আশির ঘরের বাবা মাঝে মাঝেই গল্পকথায় শোনায় স্মৃতিকথা - হিংস্র লোলুপ শ্বাপদ বিদেয় বৃত্তান্ত । বলে , নিজ হাতে গড়া মোর খাসা ঘর - গোড়াপত্তনের উত্তরাধিকার কথা ।   অসহায় অরিন্দম কী করে বোঝায় হিংসুটে শ্বাপদের হয়নি বিদেয় আজও । আজও ঘৃণার বাস্প ওড়ে দেশের হাওয়ায় অরিন্দম বিশ্বাসরা আজও মাথা কুটে মরে অবিশ্বাস আর ঘৃণার বেড়াজালে ।   এবার কিন্তু মাঝে মাঝে একাকী বেলায় দ্রোহসুর ছলকে ওঠে হৃদয়তন্ত্রী জুড়ে , আগুনের হলকা চোখে ভস্ম অভীপ্সায় । চরাচরে পারদ চড়ে তরতরিয়ে - এবার তবে দেখে নেব শেষ যুদ্ধে - আমি উত্থিত অরিন্দম ।   - - - - - - - - - - - ...

আকাশ মাটি

আকাশ - মাটি   আরোও একটু মিশে যেতে হবে মাটির সাথে - রণপা চড়ে সবাই চলতে পারে না । রূপোর চামচ মুখে নিয়ে ক্ষণজন্মার মাটিতে পা পড়ে না । আরোও কিছুটা পথ চলার বাকি আরোও একাগ্রতা , সংযত পদক্ষেপে এবার বশীকরণ মন্ত্র শেখার পালা । পথের পাশে চালা ঘরের একফালি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ধারায় মন খারাপের ঢল নামে । কারণবিহীন কান্না এসে ভেজায় দুচোখ । আকাশপানে যেতে যেতে খুঁজে নিতে হবে পায়ের তলায় - আরোও খানিকটা শক্ত মাটি ।

মৃত্যুর জয়গান

মৃত্যুর জয়গান   ওই যে ভোরের পাখিটা- গান গেয়ে যায় ওই যে বাউলের একতারাটা- সুর তোলে যায় ওরা কার গান গায় ? আমার গান , তোমার গান- জীবনের জয়গান।   জয়গান কি শুধু জীবনেরই- মৃত্যুর নয় ? নদীটার উজানেই যদি জীবন ভাটিতেই তো তার মৃত্যু একই জল- একই গান- এটাই তো অপার সত্যি।   শরীরী আর অশরীরীর অবাক করা এক ফারাক চিন্তার স্রোতটাকে থামিয়ে রাখে একই বিন্দুতে ওখান থেকেই ভাবনার উৎসবিন্দু পথ খুঁজে বেড়ায় বিশ্লেষণের বেড়াজাল ডিঙিয়ে।   জীবন নাট্যের মৃত্যু যবনিকা হোক না আরেক চিত্রনাট্যের সূত্রপাত। যেখানে স্মৃতির সম্ভারে পরিপূর্ণ হবে ফেলে আসা জীবনেরই আরেক অলিখিত অধ্যায়।   বড় করে নাহয় না-ই দেখলাম জীবনটা তো আমার হাতের মুঠোয় ফুৎকারে আজ হাওয়ায় ভাসাই মৃত্যুকে নতুন করে গেয়ে বেড়াই- মৃত্যুর জয়গান।

দুন্দুবুড়ি

দুন্দুবুড়ি   প্রতিটি রাতের গোপন অভিসারে তোমাকে জাগিয়ে তোলার গরজ কি শুধুই আমার ? খোলস কি একা তোমারই আছে ? নরম মাটির শঙ্কু ছাঁচে কুমোর হয়ে খোলস ভাঙ্গার দায় কি শুধু আমার বলো ? এক তরফের এ অভিমান উল্টোখাতে বইবে কি আর ? সুখের তরে নিতি রাতের হ্যাংলা বাজের হামলে পড়া খেয়ালীর এ কেমন খেলা ?   তুমিই কি সেই পোতায় থাকা , বিবর তলে লুকিয়ে থাকা , কোমল হাতের হালকা ছোঁয়ায় - খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসা লাস্যময়ী দুন্দুবুড়ি - শুধুই আমার ?