এক দিন মাঝদরিয়ায় …… লুইত এখানে অপার দরিয়া ঠিক জলে জলে একাকার সব দিক। সোমেশ্বরের নৌকো যাবে ঘাটে তখন পশ্চিমে সূর্য সবে পাটে। প্রাণপনে বইঠা ধরেছে হরিচরণ বাহুমূলে তাগড়া হাতের পেশি জারি সারি সুর শেষে জোর দেয় হাঁক, পড়ন্ত সূর্যের রক্তিমাভা মেখে গায়ে জোর টানে দাঁড় পাড়ের দিকে সোমেশ্বর সামলে রাখে বোরিয়লা ঝাঁক । আজ রাতে ধলা গ্রামে হবে উৎসব গঞ্জে গঞ্জে বিকোয় বোরিয়লা সব। সিলেটের ভাষা জানে সোমেশ্বর কেওট দেখেনি সে দেশ । কোন সে মুলুক সে কত নদী পার হরিচরণ নমশূদ্র চেনে শুধু ধলাপার আর চেনে সুদামা সখা সোমেশ্বর নাম। আজ রাতে দুই ঘরে মাছের কেত্তন সখা দুই দিনশেষে আয়েসের ঘোরে কথায় কথায় দেশ বিদেশ ঘুরে। পাকশালে গৃহিণীর মাছময় রাত বাইরে মদার তলে গাঢ় আঁধারে ফিসফাস ভালোবাসা জল হয়ে ঝরে। হরির ‘পুয়া’র নাম বাছা ‘জোনমণি’ আদরের ‘শ্যামা’ আজ সোমের ‘ছোঁয়ালি’ হাসে গাঁয়ের লোক এ কী হেঁয়ালি ? তিলে তিলে গাঢ় হয় ভালোবাসাবাসি ডাগর নয়ন জুড়ে কান্না হাসি। এক দিন জানাজানি হয় কানে কানে, ক্রমে ক্রমে এক রাতে চার হাত হয় একাকার দুই ঘরে বয়ে যায় আনন্দ অপার। উৎসব শেষে আজ লুইতের বুকে ...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা