শেষ অঘ্রানের ধানি গন্ধ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই শুরু হয়ে যেত আমাদের দৌড়ঝাঁপ। কাটা ধানগাছের গোড়ার অংশগুলো পায়ে পায়ে মাড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে তৈরি হয়ে উঠত গাঁয়ের একচিলতে ক্রিকেট মাঠ। শীতের নরম রোদে ক্রিকেটের মতো এমন সুস্বাদু টাইমপাস্ আর কিছুই ছিল না তখন। স্কুল যেদিন বন্ধ থাকত সেদিন সারা দিন জুড়ে , আর তা না হলে শুধু বিকেলের শেষ রোদে জমে উঠত ক্রিকেটের আসর। স্কুলের ফার্স্ট বয় রাজু থেকে শুরু করে কৃষক বন্ধু অমল অবধি সব একই মাঠের সুহৃদ। ফাস্ট বোলার ছিল রত্নেশ্বর। তার ছোড়া বল খেলতে দস্তুর মতো হিমশিম খেতে হতো আমাদের। আমরা ভাবতাম রত্নেশ্বর নির্ঘাত বহু দূর যাবে ক্রিকেটকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু বিধাতার লিখন কি আর কেউ পড়তে পারে আগেভাগে ? সেই ফাস্ট বোলার রত্নেশ্বর একদিন সব ছেড়েছুড়ে চলে গেল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে দূরদেশে। দিন মাস বছর গড়াতে থাকল। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে। রত্নেশ্বর চাকরিবাকরি পেয়ে থিতু হলো জীবনে। আজ বহু যুগ পর খেলার মাঠ থেকে বহু দূর অবস্থানরত প্রৌঢ় রত্নেশ্বর অন্য আরেক কৃতিত্বে পরিচিত হয়ে আছে সমাজে। শুধু ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ই নয়। রত্নেশ্বর দেখিয়ে দিয়েছে - ‘যে ক্রিকেট খেলে...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা