বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে উদ্বাস্তুর শহর রামকৃষ্ণ নগরে কিরণকাকু ছিলেন এক মূর্তিমান বিভীষিকা। হালকা নীল রঙের শার্ট আর প্রায় বুক অবধি ওঠানো লং প্যান্ট। দীর্ঘদেহী সুঠাম গড়ন।তাঁকে দেখলেই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠতো। গলাটা যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত। তাঁর আসার কারণটা না জানা অবধি বুকের ভেতর একটা হাতুড়ি পেটার শব্দ বেজে যেত এক নাগাড়ে। নজর থাকতো তাঁর হাতের ছোট্ট ব্যাগটির দিকে। যত গণ্ডগোল ওতেই।ওটি না খোলা অবধি সব ঠিকঠাক। ব্যাগটি খোলার জো যা করলেই চমকে উঠতো পিলে। ### নিজের বাঁ হাতের বাহুমূলে গোলাকার দু'টি দাগ দেখে আসছি - বুঝতে শিখেছি যবে থেকে। বড়দের কাছ থেকে পরবর্তীতে জানতে পেরেছি এগুলো বসন্তের টিকার দাগ। চারপাশের লোকজন সবার হাতেই এই দাগ। মানুষের হাতের এই দাগটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ালো চোখে। এই দাগহীন হাত যেন কেমন বিসদৃশ লাগে। বসন্ত রোগের বিভীষিকায় এক সময় প্রচুর প্রাণহানি ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত এই টিকার আবিষ্কারে জীবন রক্ষা হয়েছে লক্ষ লক্ষ লোকের। এর পর এলো কলেরা। সে কী মড়ক। শুনেছি গ্রামের পর গ্রাম সাফ্ হয়ে গেছে। মড়া পোড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। কী ভয়াবহ অবস্থা। ভাবলেও শিউরে ওঠে গা। শেষ পর্যন্ত...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা