ফেরারি মন যখন তখন পাড়ি দেয় মহাবাহুর ডুবন্ত পাড়ের একচিলতে মাটির ঢেলায় বসে অনন্ত প্রত্যাশা মাখা জেলেটির কাছে। আমার পলাতক শরীর বেয়ে চুঁইয়ে পড়ে সুরমা গাঙের দু'ফোঁটা জল, ঘাম হয়ে, অশ্রু হয়ে মিশে যায় লোহিতে। লোহিত কণিকা বেয়ে বিলীন হয়ে যায় বরাক সুরমা কুশিয়ারা লঙ্গাই থেকে লোভা জাটিঙ্গা হয়ে দিহিং দিবং সিয়াং পেরিয়ে সুবণশিরি রাঙ্গানদী আই ডিক্রং হয়ে ভরালী হয়ে, মহাবাহু হয়ে গঙ্গাসাগর পথে। কেউ জানে না উজান পথের সাকিন, জানে শুধু সেই জেলেটি উজান বেয়ে, দিনের শেষে যখন ধরা দেয় একটি 'কুড়ি' কিংবা একটি 'আড়ি' তখনই তো শুকিয়ে গিয়ে স্বেদবিন্দু, শুকিয়ে গিয়ে অশ্রু - জেলের ঘরে আঁধার রাতে চড়ে সুখের হাঁড়ি। দু’চোখ বেয়ে একই ধারা - কপিলী, কলংমা স্বপ্ন দেখায় সুরমা-লুইত, গঙ্গা আমার মা।
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা