সন্ধ্যারাতে তুলসীতলায় সরোজিনীর কন্যা নিয়ম করে রোজ জ্বালায় সান্ধ্য পিলসুজ। তেল-সলতে সাজায় বিনোদিনী - কাঁধ পেঁচিয়ে আঁচলখানা টেনে , স্নিগ্ধ আলোয় জ্বলে প্রদীপখানি। বিনোদিনীর কন্যা হলো শহুরে নন্দিনী ফ্ল্যাটবাড়িতে তুলসীতলা নেই , নন্দিনী রোজ দেয়াল খোপে একবার মাথা ঠেকায় ঈশ্বরের ছবিতে। সারাদিনে ছবিতে আর আসেন না ঈশ্বর। সান্ধ্য প্রদীপ বিনোদিনীর নিত্যদিনের অশ্রু ফেলে আসা তুলসীতলার স্মৃতি জ্বালায় পোড়ায় , অতীত এসে কাঁদায়। ঠিকরে উঠে উদ্ভাসিত করুণ আলোয় বাস্তুচ্যূত , মৃত মায়ের দরদী মুখখানি। ইতিহাসের ইতিবৃত্ত সব জানে নন্দিনী বিনোদিনীর মায়ের স্মৃতি প্রজন্মে ম্রিয়মান ঘুরপথে আসে - সাপ সিঁড়ির ওই সাপ বিষবাস্প ছড়ায় আজও তিন প্রজন্মে ভাসে তুলসীতলায় সরোজিনীর লাশ। তার বুঝি আর পর নেই - শুধু হাহাকার আছে মন আকাশটি জুড়ে ক্রোধের আগুন নির্বাচিত কালেরই গর্ভে। হারিয়ে গেছে ছকের সিঁড়ি , উত্তরনের ধাপ আসে ফিরে বারেবারে বিষাক্ত সব সাপ।
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা