Skip to main content

Posts

Showing posts with the label প্রকাশিত - দৈনিক বজ্রকণ্ঠ অনলাইন সাহিত্য পত্র আগরতলা

কবিতা কেন লিখি

  কবিতা কেন লিখি   কবিতা কেন লিখি ? জানি না তো !! এমন ব্যতিক্রমী প্রশ্নের মুখোমুখি হইনি কখনো আগে। অতলস্পর্শী অন্তরটাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল প্রশ্নটি। এ তো এক হৃদয়জনিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ তো অনুভূতি প্রকাশের তাগিদ। কিংবা বলা যায় গরজ। বলা হয় গরজ বড় বালাই। কবতা হলো গিয়ে সেই বড় বালাই। উত্তরের খোঁজে তবে হৃদয়ের গভীরে - ‘ডুব মারি মন কালী বলে ’ । যুগ পাল্টাচ্ছে, যুগধর্ম পাল্টাচ্ছে। বয়স পাল্টাচ্ছে, বয়সোচিত ব্যবহার পাল্টাচ্ছে। জীবনের রঙ্গমঞ্চে একের পর এক দৃশ্য অভিনীত হচ্ছে। যে কথাটি একদিন বলা যেত অনায়াসে, সেই কথাটি আজ হয়তো হয়ে পড়েছে নিতান্তই বেমানান। খাপ খায় না হাল আমলের পারিপার্শ্বিকতায়। অথচ কত কথাই তো থেকে যায় অস্ফূট, অনুচ্চারিত। খেয়ালের লিপিবদ্ধ রূপ, ভাবনার অকপট স্বীকারোক্তি থেকে যায় অসমাপ্ত। অপ্রকাশিত মনন চিন্তন জট বাঁধে হৃদপিঞ্জরে। বাকরুদ্ধ ভাবনার পাহাড় জমে ব্যথিত হয় অন্তর। অবরুদ্ধ না থেকে, সব প্রতিরোধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চায় জলের তোড়ের মতো। প্রবাহিত অবাধ জলধারায় উচ্চারিত হতে চায় সব না-বলা কথা। আমার চিন্তায় সেই না বলা কথার অবাধ জলধারার নামই কবিতা। কবিতা, একমাত্র কবিতাই পারে হৃদয়...

ফুসমন্তর চাঁদ

  ফুসমন্তর চাঁদ   আদল যেন মনপবনে ওড়ায় মেঘের ভেলা থমকে থাকে পূর্ণিমা চাঁদ শুধু ছলকে ওঠে কথার ফুলঝুরি , মনদরিয়ায় লহর খেলে অনর্গল । পূর্ণিমার চাঁদ যেন সোনার পাথরবাটি তাকে ধরতে গেলে ফুসমন্তর বালক বেলার উড়ন্ত ফড়িং । অধরা চাঁদ আজ খেলে বেড়ায় আমার আনাচেকানাচে । বিস্মৃতির এক অলীক সোপান জানান দিয়ে যায় - সব চাঁদই তো কলঙ্কময় আখ্যান ।

উড়ে যায় ঘুড়ি মন

  উড়ে যায় ঘুড়ি মন সহজিয়া সুর ভাসে আধফোটা শিমূলে ফ্ল্যাটবাড়ির তপ্ত চৌকাঠ মাড়িয়ে,  ভোরের তন্দ্রাবেলায় রামকেলিতে কিংবা হিন্দোলের মন্দ হিন্দোলে , স্বপ্ন মননে , ফেলে আসা আলোকচিত্রে । বনানীর বুক চিরে ছলকে ওঠে গমক , সুরবাহার বাজে সুরফাঁকে । স্বচ্ছতোয়া চিলতে ধারায় কিশোরী ঠমক ডুবসাঁতারে জলকেলিতে হাতড়ে বেড়ায় অপাপবিদ্ধার অজানা গুপ্তধন । স্বর্ণযুগের অবসানে ঘুড়ি মন উড়ে যায় শৈশব থেকে ধাপে ধাপে পূর্ণাবয়ব পথে উড়েই চলে আকাশ ছোঁয়া ইচ্ছেডানায় দিগন্ত পেরিয়ে শরতের অবারিত শিমূল মেঘে ।

কালকল্পের এজলাস

  কালকল্পের এজলাস   এত অফুরান প্রাণচঞ্চল আবাহন ,   একটানা সারাটা বিকেল জুড়ে কুহু রবে   গেয়েই চলেছে জীবনের জয় গান। চোখে আমার ছবি হয়ে মৃত্যু বিভীষিকা আমি বেসুরো শুনি , তালহীন কলুষতা। পাটিগণিতের সহজ সূত্র - পারি না মেলাতে ,   আসে না ছন্দ , আমার সুখের জলসাঘরে ঘুরপাক খায় সমকালের ক্রূর অট্টহাসি।   জীবনজোড়া অপরাধের বিচারসভায় আজ দাঁড়িয়ে আছি নগ্ন হয়ে - অসহায় প্রায়শ্চিত্ত ক্ষণে। কালকল্পের এজলাসে আজ একা আমি সামনে শুধু অত্যাচারের জলছবি।

ইচ্ছে করে

  ইচ্ছে করে     বড্ড ইচ্ছে করে আজ তোমাকে আরোও একটিবার ছুঁয়ে দেখতে। না না , এভাবে নয় - ছবিতে ,   সরাসরি - মুখোমুখি , পাশাপাশি বসে। যেমন করে অলস যাপনে পার হয়ে এসেছি অজস্র অন্তরঙ্গতা।   তুমি আসবে তো , তুমি হাসবে তো ? উঠবে কি ফুটে আগেরই মতো   কপোল বেয়ে টালমাটালের টোল ?   আমি কেমন হবো আবার তোমার চোখে ?   সেই আগেরই মতো মন মাতানো ,   কুল ছাপানো বেনোজলের তোড়ে   তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ?   আমার নয় , এ তো তোমারই কথা , মনে আছে ?   নাকি আমি এবার আস্ত একটি বিভীষিকা ?   অন্তরে , অন্দরে হুল ফুটিয়ে দেওয়ার   পৈশাচিক অট্টহাসিতে নিমগ্ন এক ভুলতে চাওয়া মূর্তিমান ভাইরাস ?

হারানো মন্দাক্রান্তা

  হারানো মন্দাক্রান্তা     সেদিন রাতে , কলকল ছলছল ছন্দে কবিতা দাঁড়ালো এসে আমার অলিন্দে। আমি উল্লাসে , সোচ্চার হরষে আবাহনে আলিঙ্গন অভিপ্রায়ে বলি তারে - এসো প্রিয় অস্থির মননে। তফাত যাও - রবে বাজে নির্ঘোষ বাণী ছুঁয়ো না আমাকে তুমি পাতক কবি। উদার অবগাহনে স্নাত হও আগে ঝেড়ে ফেলো যত লালসা অহংকার যুগ যুগান্তর ধরে দিনগত পাপক্ষয়ে পরে আছ ব্যর্থ গরিমার ক্লেদাক্ত পরিচ্ছদ খুলে ফেলো সেই কালিমা বর্ম এবার স্বচ্ছ মননে জেগে ওঠো নবরূপে আমি আবার ফিরবো নতুন সূর্যোদয়ে হাতে হাত ধরে মন্দাক্রান্তায় দেবো তিন দোল।     চোখে আমার টলমল শুধু দু ' ফোঁটা অশ্রুজল হারিয়ে গেছে কবিতা আমার   আবার কবে ফুটবে যে সেই কবিতার শতদল।

অনুশোচনা

  অনুশোচনা     পেরিয়ে এসেছি জীবন নদীর   অজস্র পিচ্ছিল পথ , অগুনতি ধাপ তবু আজও অনির্ণীত কত কথা। শুধু সুখের মোহে থেকেছি উদগ্রীব   তাকাইনি কখনো ডাইনে কিংবা বাঁয়ে।   তাই তো জানি না আজও কোথায় আছে সুখ ,   বিধ্বস্ত ঐতিহ্যের আর্তনাদে -   ভুলুণ্ঠিত সংস্কারের গুমরে ওঠায়   নাকি উদাসীনতার স্বার্থপরতায়।   আজ জীবন যখন ধ্বস্ত আপাদমস্তক ,   প্রতিশোধ এর ছোবলে ওষ্ঠাগত প্রাণ তখন ফিরে তাকাই পথের দিকে   মাড়িয়ে আসা সেই নির্ণীত ছন্দপথ।   স্বীকৃত ঐতিহ্য আর সুচয়িত সংস্কারের   সহাবস্থান পথ , কত না সুখের স্পৃহাহীন সকাল বেলার অনাবিল পথ। আমি আবার ফিরে পেতে চাই সে পথ।

মৃত্যুর আনকোরা গন্ধ

  মৃত্যুর আনকোরা গন্ধ অবরুদ্ধ পথ বিশৃঙ্খলিত জীবন নাটিকা কবিতায় ফিরে ফিরে আসে অসংলগ্ন ছন্দ , বাতাসে কেমন একটা অন্যরকম গন্ধ এতদিনের বারুদ বারুদ গন্ধ নেই এখন এখন সরাসরি মৃত্যুর আনকোরা গন্ধ। আর তার ফাঁকে বহুদিনের পুরনো হারিয়ে যাওয়া হাসনুহানা কিংবা ঝিঙেফুল আর লেবুফুলের ককটেল। চাঁপায় কদমে এখন মনমাতানো ভাব সুরে সুরে পাপিয়া আর ঘুঘুর ঐকতান। শ্মশানের লাশ পোড়ানো গন্ধও উধাও প্রিয় মানুষ হারিয়ে যায় বেমালুম কেউ জানে না লাশের খবর শুধু জানে হারিয়ে গেছে প্রিয়তম - চিরতরে , হেরে গেছে মানুষ - নির্মম সত্য।

বেমানান দলছুট

বেমানান দলছুট বেঁচে আছি শুধু - জলছুট মীন হয়ে অবাঞ্ছিত আঁধার ডাঙায় ,   আই সি ইউর কয়েদখানায় অসহায় সুস্থ শয্যাসীন অবয়ব। একটি মাত্র নিদেন তারার খোঁজে রাতভর ছটফট হা-পিত্যেশ। কেউ নেই কোথাও - উতরাই পেরিয়ে বিক্রীত মননে গুছিয়ে আখের সন্ধানে পেয়েছে সুখের আকর।   সুখ-সওদাগর বিলি করে ফেরে   কড়ি দিয়ে কেনা বণ্টিত সুখ বিনিময়ে বিসর্জিত সত্ত্বা।     দলছুট বেমানান - ক্রীত সুখে মুহ্যমান - আরোপিত নশ্বর সুখে সন্ত্রস্ত - অবাঙমনসগোচর বিনাশে।   তবুও বেঁচে থাকে - অতন্দ্র   চড়াই উচ্চ শিখরে -   মাথা উঁচু করে - গরবিত ,   উড়িয়ে আপন মনন ধ্বজা সত্য - শান্ত - শিব সুন্দর।     তারাহীন রাত শেষে   আলোকিত ভোরে ভাসবে চোখে জলকেলিরত মৎস্য-ভোরাই নৃত্য।

জলছবি ভালোবাসা

জলছবি ভালোবাসা   মাঝে মাঝেই কিছু আচমকা উপস্থিতি অবয়ব প্রতিলিপি , চেনা মুখ - অচেনা অধরা হৃদয়। চোখের পলকে ইথারে ভাসে সব সাদা কালো জলছবি , রৌদ্র ছায়ার ভয়কাতুরে ধুকপুকুনি। জীবন চক্র , ইতিহাস আঘাতে আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ সত্ত্বা। চুঁইয়ে পড়ে হৃদয় নিংড়ানো ক ' ফোঁটা বেদনার তাজা রক্ত। আজীবন অনুচ্চারিত অষ্ফুট কিছু কথা থরে থরে সাজানো কিছু ব্যথা গুমরে মরে ফুটন্ত লাজ-এর মতো , অনন্ত ইচ্ছেগুলো চাগিয়ে ওঠে ফের আবারও মাথা কুটে মরে ব্যর্থ ভালোবাসা। ছবিও কেন এত হৃদয়হীন ?   ------------------------------------

স্বপনচারিণী

স্বপনচারিণী গৃহবন্দি আমি , জানালার গরাদ ধরে - সঙ্গী শুধু একরাশ হা - পিত্যেশ । কান পেতে শুনি পদচারণের নি : শব্দ অনুরণন । ব্যর্থ আমি - এবার ঘুমোব , এসো আমার স্বপ্ন সঙ্গিনী ।

গৎ বাঁধা ছক

গৎ বাঁধা ছক   বাঁধা ছকের শুরুতেই ভেসে আসে কিছু সাদা কালো দৃশ্য । ' যেমন খুশি সাজো ' র পাট চুকিয়ে এবার শুধু প্রাণপণ পরিচর্যা । মেতে ওঠা ছন্দহীনের ছায়া যুদ্ধে কসরতে কসরতে কল - তান কর্তবে । বিদ্রোহের চোরাস্রোত সামলাতে বিলম্বিত প্রণিপাতে ঘোর প্রাণপাত । অতঃপর বাঁধা গৎ - এ ছকের পর ছকে জল রঙ পা ফেলা । সমে ফেরার রেলা শেষে - বেলা শেষে খেই হারানোর খেলা । এই তো বেশ ভালো থাকা - মিছিলের গান শেষে ঠিক বেঠিকের নিক্তি হিসেব মাপা । ছুটে চলা নির্বিকার স্বভূমির প্রশ্নহীন , অনুসন্ধানহীন , সংশয়হীন চিরস্থায়ী ঠিকানার স্বপ্ন সকাশে । স্বপ্নভূমির স্বেচ্ছা সমাহিত পথে তুড়ি মেরে ফেলে আসা গৎ বাঁধা ছক ।

বৃক্ষ মানব

বৃক্ষ মানব   পথের দু ' ধারে শুধুই অনুজ বৃক্ষ ছাতাহীন বৃষ্টি পথে এগোয় যুগন্ধর । পাশ থেকে থেকে থেকেই ভেসে আসে সম্মান , আর তির্যক বিস্ময় - পালাক্রমে । যুগ মানবের অন্তরাত্মা শুধুই পিছোয় দীর্ঘ কালের হ্রস্ব উল্টোরথ । অঙ্কুর থেকে চারা গাছ হয়ে এগোয় আবার বৃক্ষ বিবর্তনের সরল ক্যানভাস হাতে । মাঠ ঘাট পেরিয়ে ইট কাঠের কোলাজে চৌচির হয় সব সাজানো স্বপ্ন । জলসাঘরের পর্দা সরিয়ে কুশীলব যত ভিড় করে এসে যাত্রা পথে - আবার হারিয়ে যেতে থাকে যবনিকায় । প্রতিফলনে প্রতিভাত মানুষ মাটি মা জল - গাছের ডাটার মতো মুছে অবিরত । দিগন্ত ছাড়িয়ে তারা হয়ে জেগে থাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কৃষক - বৃক্ষ পিতা । পথের ধারে পড়ে রয় যত অনুজ ধারা ।   পেছনে পড়ে রয় যত আদুরে আকাশ এগোয় শুধু একা বৃক্ষ মানব অবয়ব ।   ---------------

প্রতিটি দিবস শুধুই তোমার

প্রতিটি দিবস শুধুই তোমার নিশ্চিত একদিন নয় প্রতিদিন তোমারই দিন । শেকড় তোমার নাভিমূলে জীবন তোমার বক্ষমূলে নিঃশঙ্ক আস্তানা তোমারই কোলে । ব্যথার যত উপশম , কথার যত বুলি হাতে হাত ধরে , পায়ে পায়ে পথ চলা সে তো একদিন নয় , প্রতিদিন প্রতি পল ।   হাত বদলেও তো ফিরে আসে সেই হাতে হাত ধরে চলা । সুখে না হলেও - শোকে ঠিক নিশ্চিত কাছে পাওয়া । দুঃখ রাতে সেই ভরসার রাত জাগা । বক্র পথের প্রতিটি অনির্ণীত মোড়ে সঠিক দিশার সাকিন হয়ে অঙ্গীকারে মসৃণ পথ চলা ।   শেষ পংক্তির শেষের বেলায় উল্টোরথের যাত্রা পথে - পালা বদলের হাতটি আবার আসেই ফিরে প্রতিটি দিন মূলের টানে সযতনে । এক এক করে ভরসা যত - ফিরিয়ে দিয়ে কানায় কানায় , উপহারে যায় দিয়ে সেই কোজাগরী রাতটি আবার দিনের পরে সব ক ' টি দিন - কোনও ভাবেই নয় শুধু আজ একটি মাত্র দিবস - তোমার জন্য ।