– আকাশ দেখেছ শান্তিময়ী ? আমি আকাশ দেখেছি। এমন আপাত অর্থহীন প্রশ্নে থতমত খেয়ে যান শান্তিময়ী। এই প্রথম যদিও নয়। প্রায়শ এমন ধোঁয়াশামুখর প্রশ্নের সামনে পড়ে শান্তিময়ীর মতো গভীর সংসারী, প্রখর বিচক্ষণ মহিলাও দস্তুর মতো হাবুডুবু খেয়েছেন অথই সাগরে। বহুবার। খেই না পেয়ে ‘জানি না’ বলে পাশ কাটানোকেই শ্রেয় বলে সরে আসতেন পুলকেশের সামনে থেকে। ঘরে বাইরে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার নামই সংসারধর্ম । বা জীবনযুদ্ধ । এমনই মনে করতেন পুলকেশবাবু । এখনও তাই ভাবেন , বিশ্বাস করেন মনে প্রাণে । ঠিক নির্বাণ বা সন্ন্যাস হয়তো নয় , তবে এমন বিশ্বাস বা ধারণা পুলকেশের ভিতরে জন্ম নিয়েছিল জীবনের প্রথমদিকেই । গভীর বাস্তবকে আঁকড়ে ধরেই যেহেতু চলতে হবে আমৃত্যু , তাই ভবিষ্যতের একটা ছক মনে মনে কষে রেখেছিলেন তখন থেকেই । পৃথিবীতে তাঁর আসাটা যেহেতু নিজের ইচ্ছায় নয় তাই এখানে থাকা কিংবা এখান থেকে চলে যাওয়াটাও যে নিজের ইচ্ছায় হবে না তা বিলক্ষণ বুঝে উঠতে পেরেছিলেন সেই বয়সেই । সুতরাং কোনওরকমের ধানাইপানাই নয় , যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে গেছেন ন্যূনতম চাহিদাপূরণের মাধ্যমে সবদিক সামলেসুমলে নির্বাহ করতে এই সংগ্রামমুখর যাপনটুকু । এখন অবসৃত জীবন...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা