আমার মা পাখিদের ভাষা বুঝতেন । কাঁঠালের লেজঝোলা হোক কিংবা শিমূলের মগডাল জুড়ে উড়ে - এসে - জুড়ে - বসা সব পাখিদের ভাষা মা বুঝতেন । মায়ের কিছু পোষা পাখিও ছিল , মায়ের কথা বুঝত মা ডাকলেই এসে বসত উঠোন জুড়ে , রান্নাঘরে । আকালের ধন বহুমূল্য তণ্ডুল থেকে কিছু তণ্ডুল , কিছু খুদকুঁড়ো ছড়িয়ে দিতেন মা পাখিরা পরমানন্দে খেয়ে দেয়ে সাজিয়ে রাখা জলের পাত্র থেকে আকণ্ঠ পান করে উড়ে যেত আস্তানায় ‘ অন্য কোথা , অন্য কোনখানে ’ - বনে বা খাঁচায় । পাখিরা কথা বলত নিজেদের মাতৃভাষায় সবাই সবার কথা বুঝত , আমরা একটা নাম দিয়েছিলাম সে ভাষার - কিচিরমিচির । মায়ের পোষা পাখিরা কিচিরমিচিরে মগ্ন সারা দিন আদর সোহাগ যত্নআত্তি , খুনশুটি আর ঝগড়াঝাঁটি । সব পাখিদেরই একটা মা থাকে , মাতৃভাষা থাকে আমরা মায়ের চারটি পোষা পাখি ছিলাম মায়ের জঠরপিঞ্জর থেকে উদ্ গত বক্ষপিঞ্জরের ধন আমাদেরও মাতৃভাষা আছে , ভাষার গরিমা আছে আমাদের ইষ্টিকুটুম আছে , টিয়ে ময়না আছে । আমরা আজও গান শুনি , গান শোনাই - মাতৃভাষার গান , স …… ব মাতৃভাষার জয়গান ।
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা