Skip to main content

Posts

Showing posts with the label দীর্ঘ কবিতা

শ্রাবণ-গহন কথা

( ১) আমার শ্রাবণ-কথা রোজ কেউ শোনে চুপিসারে। সে চোখে শ্রাবণ ঝরে ? রোজ রাতে পালা করে বন্ধ জানালা ভেঙে আমাকে একশা করে যে শ্রাবণ আমার বন্ধকি জীবন তারই কাছে রেখেছি গচ্ছিত। ( ২) হৃদয় দরোজা ভেঙে হড়পা বানের মতো যে শ্রাবণগন্ধে আমি হই মাতোয়ারা পদ্মনাভিতে করি রোজ তারই আবাহন , তারই স্তব স্তুতি সেই তো মেঘডম্বরু , একেলা একা শ্রাবণঘন আমার পাগলপারা। ( ৩) শ্রাবণ আমাকে যতটা করেছে নিঃস্ব দিয়েছে ফিরিয়ে তার কিছুটা বেশি চোখে তার ভরা শ্রাবণের উতল নদী চোখে হারাই তারে নিরবধি , কেন যে একদিন শুধু ভিজেছি অকারণে নদী ধারে - শ্রাবণ সুখে কুড়িয়েছি মায়াবী সঙ্গসুধা , আঁজলা ভরে। ( ৪) মধ্য শ্রাবণ দিনে বৃষ্টিকথায় উঠেছিল ধোঁয়া ওঠা পিরিচ পেয়ালায় চুমুক চুম্বনে ঘোর মায়ার তুফান সে তুফান একেবারেই কি গিয়াছে থামি ? সেই থেকে স্বপ্নবিহীন যাযাবর আমি। আজ মোহ নেই আর শ্রাবণ ধারাপাতে ভিজে মরি শুধু একেলা রাতে। ( ৫) শ্রাবণ আমাকে ভিজিয়েছে বার বার হর্ষ বিষাদে করেছে তোলপাড় শ্রাবণ আবহে সঘনে মায়া ও মোহে এসেছিল কেউ মেঘমল্লার হয়ে সে গিয়াছে চলি কাঁটার পথেও কুসুম বিছিয়ে বিছিয়ে , মোহকণ্টকে আমি আছি ঠায় দাঁড়িয়ে। ( ৬) অবশেষে কো...

খোলা বাতায়ন

( ১ ) কী যেন আড়াল করে রাখি আজীবন বুজে রাখি দু ’ চোখের পাতা একদিন ছাই হবে সত্তা , ফুসমন্তর হবে সব কথা ।   তাসের ঘরে বসে আর যাই হোক যাপন কথা তো রাখা যায় না লিখে । জীবন মানেই কালের বিস্মরণ এ অমোঘ সত্য - জানে বা ক ’ জন ?   ( ২ ) কিছু মুখ ফিরে ফিরে আসে বার বার অন্তর - নয়নে ভাসে ছবি আপাদমস্তক পারি না ফেরাতে তারে কিছুতে কিছু সরল পাটিগণিত পারি না মেলাতে ।   এমনই ব্যর্থ যাপন , রুদ্ধ বাতায়ন এ মনই হল শেষে কাল মন বাতায়ন কে আর পেরেছে খুলে দিতে জানতে কিংবা অজানিতে ?   ( ৩ ) যে কথা যে মুখ রোজ আসে মনজানালায় হয়তো সে কিছু নয়, কিছুই নয় অথচ অযথা কম্পিত তনু মন এই তো কিমাশ্চর্যম্‌, রহস্য যাপন।   নিথর থর জুড়ে দেখেছি যে বালুকা চোখে হারাই তারে সাগর সৈকতে গরাদে হাত রেখে ক্ষণিকের কত স্ন্যাপশট দাঁড়ায় চকিতে এসে, বাজে ছায়ানট।   (৪) নিজেকে দেখে দেখেই যায় আধেক জীবন ‘তুমি’ যে কী, সে আমি কী বা জানি ? শেষের বেলায় শেষে দরোজায় মৃদু করাঘাত হা-হুতাশ আর শুধু হত, গত মিঠে মধুরাত।   পাহাড়িয়া পথ ধরে যত আসা যাওয়া মন্দমধুর যত ইতিউতি পাথুরে যাপন সব ছবি জমে থাকে পথের ধুলায় চোখে এসে বিঁধে শেষে ...

শ্মশানের স্তব্ধতা

- যা , আরেকবার খুঁচিয়ে দিয়ে আয় দেহটা দেখিস না কেমন বেঁকে গেছে পা-টা ?   সেদিন চোখের ভিতর ' তিনকা ' পড়ে সে কী জ্বালা গরম জলের একটি বিন্দু তুলেছে ঢাউস এক জলটম্বুর ফোসকা দিন সাতেকের দহন যন্ত্ৰণা।   - আরে আরে পড়ে যাবে ' বডি ', শীগগির যা ভালো করে গুঁজে দে কাঠখড়ি   সেবার খাটের কোণে পা লেগে যে পড়েছিল দেহ মাস্টার বেডরুমে ভেঙেছিল কড়ে আঙুল ( তবু রক্ষা ভাঙেনি মেঝে ) ফুলে কলাগাছ হয়ে রইল দিন দুই কুড়ি। এই নরদেহ পলকে ভোকাট্টা আকাশের ঘুড়ি নচেৎ পথের ধারঘেঁষা সব অচল পাথর , নুড়ি।   - কই রে গোপাল ? যা তো দেখ চেয়ে - ফাটছে কপাল। আপাত নীরব যাত্রাপথে শব্দের কোলাহল। কপাল খুঁজে খুঁজে ফেরে মাতাল গোপাল হাঁক দেয় কেউ - ক ' পেগ টেনেছিস মাল ?   আগেও একবার ফেটেছিল এ কপাল ছেড়েছিল দেশ - হানাহানি উত্তাল ছেড়েছিল সব সম্ভ্রম, শেষ পারানির সম্বল সব হারিয়ে নিঃস্ব অকিঞ্চন ছিল শুধু এই দেহ, এই নাম তকমা জুটেছে শিরোপরি - ভাগ্যের পরিণাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উদ্‌বাস্তু শিরোনাম। আজ শেষবার ফাটছে কপাল শেষ যাত্রায় এই দেহ, এই নাম - ছাড়ছে ইহকাল।   মাঝে মাঝেই উঠছে রোল হরি বল , হরি বল চলছে ন...

অনন্য প্রেম

কোনও এক শারদ আশ্বিনে প্রথম দেখেছি তাকে -   কাঁচা , কচি ঘাসফুলের এক কলি নজরকাড়া রূপসাগরের অরূপ মুক্তোদানা নজর ফেরানো দায়।   এর পর দু ' জনেই দেখেছি দুই যুগ ,   ঘাসফুল আজ গুল্ম থেকে তরু খাস পুড়ে পুড়ে আমি প্রায় এক মহীরুহ।   পেরিয়ে এসেছি অনন্য পঁচিশটি বসন্ত ভিন দিশায় , ভিন্ন প্রান্তে - একান্তে। সেই একান্তবাসেরও একটি কবিতা আছে আছে কবিতার পরতে পরতে কত যে গোপন কথা - এদিকে ওদিকে ,   কত কল্প কথার কোলাজ কত বিচিত্র আলাপন - নীরবে একান্তে। জাগ্রত নিশার প্রহরে প্রহরে গভীর রাতশেষের আবেশে , প্রত্যুষে। কত যে অফুরান কথার পাহাড়ে কাজ অকাজের মাঝে গহনে সঘনে সরবে নীরবে ইথারে , দরশনে। কেটেছে কত যে বেলা স্বপনে মননে একসাথে পায়ে পায়ে কত যে চড়াই পাশাপাশি মুখোমুখি ঢল বেয়ে বেয়ে   অনন্ত উৎরাই , সানন্দে - অভিমানে। নির্মোহ বাস্তব এসে ঘুরিয়ে দিয়েছে পথ ঋদ্ধ অনুভবে পাল্টে গেছে সব সংজ্ঞা   কল্পনায় ছড়িয়ে দিয়েছে রামধনু রঙ সেই কলি থেকে কুসুমের উত্তরণ গাথা আজ জন্ম দিয়েছে প্রেমের শ্রেষ্ঠ কবিতা।    গর্বিত আমি - আমার তুমি আছো না থাকার আবডালে চিরন্তনী তুমি আমাকে ভাসিয়...