“ মাইগ্ গো , অখন কিতা করতাম , বুড়ি - এ আর দিন পাইলা না নি ?” - প্রবল উৎকণ্ঠা মায়ের চোখে মুখে । আমি খনিকটা ভীত । মা কি এখন আমার উপর রাগ করবেন ? কারণ খবরটা তো আমিই এসে মা ’ কে দিলাম এইমাত্র - ‘ অন্ধবুড়ি আসছেন ’ । অন্ধবুড়ি। কেউ তাঁর নাম জানতো না। তিনি নিজেও কি জানতেন ? কীজানি ? মাটিতেই খাঁজ কেটে কেটে তৈরি করা অন্তত পঞ্চাশটি সিঁড়ি ডিঙিয়ে উপরে উঠতে হয় । বৃদ্ধ , অসুস্থ মানুষদের জন্য এক কষ্টকর অভিজ্ঞতা । কিন্তু আমার মতো কিশোরদের কাছে উঠানামা নেহাতই জলভাত । ভিটে ছেড়েই বলতে গেলে দে - ছুট । বাঁদিকে উত্তরের ভিটের ছোট ঘর আর অতসী ফুলের সারি সারি গাছ এবং ডান পাশে কদম আর হরিতকী গাছদু ’ টো পেরোলেই প্রায় ‘ পায়ের মুঠোয় ’ নীচের পায়ে হাঁটা পথ । যে পথটি বাঁদিকে চলে গেছে একের পর এক গ্রামের দিকে - কখনো খানিকটা চওড়া, কখনো একেবারেই সরু হয়ে, ছোট বড় একাধিক নালা কিংবা জলধারা পেরিয়ে । ডানদিকে মোড় নিলে অপেক্ষাকৃত চওড়া আরোও একটি গ্রাম্য পথ । সরু ও চওড়া পথ দু ’ টি যেখানে মিশেছে ঠিক তার উল্টো দিকেই স্বচ্ছ শীতল পানীয় জলের কূপ । সারাটি দিন ধরে অফুরন্ত জলের জোগান ধরে যায় গ্রামবাসীদের । এই চওড়া পথটি দু ’ দি...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা