কবিতা কেন লিখি কবিতা কেন লিখি ? জানি না তো !! এমন ব্যতিক্রমী প্রশ্নের মুখোমুখি হইনি কখনো আগে। অতলস্পর্শী অন্তরটাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল প্রশ্নটি। এ তো এক হৃদয়জনিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ তো অনুভূতি প্রকাশের তাগিদ। কিংবা বলা যায় গরজ। বলা হয় গরজ বড় বালাই। কবতা হলো গিয়ে সেই বড় বালাই। উত্তরের খোঁজে তবে হৃদয়ের গভীরে - ‘ডুব মারি মন কালী বলে ’ । যুগ পাল্টাচ্ছে, যুগধর্ম পাল্টাচ্ছে। বয়স পাল্টাচ্ছে, বয়সোচিত ব্যবহার পাল্টাচ্ছে। জীবনের রঙ্গমঞ্চে একের পর এক দৃশ্য অভিনীত হচ্ছে। যে কথাটি একদিন বলা যেত অনায়াসে, সেই কথাটি আজ হয়তো হয়ে পড়েছে নিতান্তই বেমানান। খাপ খায় না হাল আমলের পারিপার্শ্বিকতায়। অথচ কত কথাই তো থেকে যায় অস্ফূট, অনুচ্চারিত। খেয়ালের লিপিবদ্ধ রূপ, ভাবনার অকপট স্বীকারোক্তি থেকে যায় অসমাপ্ত। অপ্রকাশিত মনন চিন্তন জট বাঁধে হৃদপিঞ্জরে। বাকরুদ্ধ ভাবনার পাহাড় জমে ব্যথিত হয় অন্তর। অবরুদ্ধ না থেকে, সব প্রতিরোধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চায় জলের তোড়ের মতো। প্রবাহিত অবাধ জলধারায় উচ্চারিত হতে চায় সব না-বলা কথা। আমার চিন্তায় সেই না বলা কথার অবাধ জলধারার নামই কবিতা। কবিতা, একমাত্র কবিতাই পারে হৃদয়...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা