ঢাক বাদ্যিতে ভাসান শেষ হলে নিস্তব্ধ মণ্ডপে পড়ে থাকা শূন্যতার পাড়ে দীপ জ্বেলে রাখি নীরবে মৃদু আলোয় দেখি উচ্ছিষ্ট কুড়িয়ে নিতে নিতে হেঁটে আসছেন তিনি… পুনর্জন্ম হচ্ছে ঈশ্বরের - (পৃষ্ঠা - ৪৮) এমনই সব সাহসী উচ্চারণ, এমনই সব অনন্য অনুভবকে সম্বল করে নানা আঙ্গিক, নানা বিষয়ের উপর লেখা আনুমানিক ৬০টি কবিতার সন্নিবেশে প্রকাশিত হয়েছে কবি রত্নদীপ দেব-এর কাব্যগ্রন্থ ‘ঈশ্বরের পুনর্জন্ম’। আনুমানিক লেখা হল এই অর্থে যে যেহেতু কবিতাগুলো শিরোনামবিহীন তাই পরবর্তী পৃষ্ঠার কয়েক পঙ্ক্তির কবিতা আসলে পূর্বর্তী পৃষ্ঠাজোড়া কবিতার সম্প্রসারণ কিনা তা সঠিক অনুমান করা দুষ্কর। তাই পাঠকের কাছে শিরোনামযুক্ত কবিতাই অধিকতর গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রত্নদীপের প্রতিবাদী কবিতা বরাবরই স্পষ্ট উচ্চারণে নির্ঘোষিত। আলোচ্য গ্রন্থটিও ব্যত্যয় নয়। তবু এক মিশ্র অনুভবের কাব্যগ্রন্থ হিসেবে একে আখ্যায়িত করা যায় যেহেতু এখানে রয়েছে জীবনের কথা, যাপনের কথা, প্রেম-ভালোবাসার কথা। রয়েছে স্বীয় ধারণার বশবর্তী দেশভাবনার কথা, রয়েছে অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে শ্লেষ ও গর্জন। বরাকের কবি হওয়ার সূত্রে জি সি কলেজের শতাব্দী প্রাচীন বটবৃক...
‘সব ভালো যার শেষ ভালো’। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন ও রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালি মাসাধিক কাল ধরে সারাক্ষণ চোখ রেখে চলেছিল সাম্প্রতিক ঘটনাবলির উপর। বিশেষ করে ত্রিপুরা, আসাম ও ঝাড়খণ্ড ইত্যাদি বাঙালি বহুল প্রদেশের মানুষেরা। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলার ভাগ্যে কী আছে সেটাই দেখার ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শাসক দলের লাগামছাড়া দুর্নীতি, মিথ্যাচার, গরিবের পেটে লাথি মেরে নিজেদের পকেট ভর্তি করার ঘটনা, বিধ্বস্ত নারী সুরক্ষা, তিলোত্তমার মতো প্রতিশ্রুতিবান ডাক্তারের নৃশংস হত্যা ও বিচারের নামে প্রহসন ও স্বজনপোষণ, কাটমানি, তোলাবাজি, চুনোপুঁটি নেতাদের দাদাগিরি, পার্টি অফিসের সীমাহীন দুর্নীতি ও সাধারণ জনগনের উপর অত্যাচার, অনুন্নয়ন, দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, আক্রমণ ইত্যাদি হাজার কুকর্মের ফল শাসক দল ভোগ করবে কিনা এ নিয়ে ঔৎসুক্য ছিল সবার। স্বৈরাচারী বামেদের মতো লুঠেরার দল তৃণমূলের পতন হবে কিনা, হলে কারা আসবে মসনদে তা ছিল দেখার। শেষমেশ দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তে পত্তন হল একটি নি...