মানুষের জীবনে বয়স কতটা হলে অনুভূতির অনুরণন কতটা অনুভূত হয় হৃদয়ে , অনুভবের শেকড় কতটা গাঢ় হয় - তার কোনো ধ্রুবক আবিষ্কৃত হয়নি এখনও । দেহমনের কার্যক্ষমতাই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ । একজন কবি আর পাঁচজন মানুষের মতো দেখেন না পৃথিবীটাকে । কবির দূরদৃষ্টি সুদূরপ্রসারিত । স্বাভাবিকভাবেই অনুভব - অনুভূতির সম্পদে তিনি অধিকতর সমৃদ্ধ । কবি সুমি দাস অসমের শ্রীভূমি শহরের বাসিন্দা । লেখালেখির জগতে বিচরণ বহুদিন থেকেই যদিও তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি । প্রথম যেহেতু তাই স্বাভাবিক নিয়মেই জমা থাকা কবিতার সংখ্যা বেশি । ৯৮ পৃষ্ঠার কাব্যগ্রন্থের ৮৬ পৃষ্ঠা জুড়ে তাই সন্নিবিষ্ট হয়েছে ৮২টি কবিতা । প্রেক্ষাপটে ‘কবির কিছু কথা’ শিরোনামে কবি লিখছেন - ‘সাহিত্য জগতে কবিতা মনের দর্পণ। মনের অনুভূতিগুলো কলমের নিব দিয়ে অক্ষরে সাজিয়ে তোলাই আমার সামান্য প্রয়াস...। প্রথমত যবে থেকে আমি কবিতা লিখি সেগুলো একদিন যে কাব্যগ্রন্থের রূপ নেবে তা কোনোদিন ভাবিনি। বেশ কয়েকদিন থেকেই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার উৎসাহ দিয়ে চলেছেন আমার স্ব-পরিবার এবং অনেকেই, তার মধ্যে অন্যতম আমার সঙ্গী, নাহলে এই দু:সাহসের জন্ম হতো না...।’ না...
নিম্ন অসমের গোসাইগাঁও - এর মতো একটি শহর থেকে বার্ষিক প্রকাশনার সূত্রে ২৪০ পৃষ্ঠার একটি বাংলা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে বা হয়েছে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল । প্রচ্ছদে , অলংকরণে , মুদ্রণে , সম্ভারে কলকাতাকেন্দ্রিক প্রকাশনাসমুহের সমপর্যায়ের বলতে এতটুকুও দ্বিধা থাকার কথা নয় । এবছর অর্থাৎ ১৪৩৩ বাংলার রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে প্রকাশিত হয়েছে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের উপর্যুক্ত শাখার দ্বাদশ সংখ্যাটি । তিন পৃষ্ঠা জোড়া সূচিপত্রের পরই রয়েছে ফের তিন পৃষ্ঠা জোড়া সম্পাদকীয় , যেখানে সম্পাদক বন্দন দেব অকপট উচ্চারণে বিস্তৃত উল্লেখ করেছেন এই প্রকাশের ভিতরকথা , বাংলা ভাষা সাহিত্যের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার কথা । সম্পাদকীয়ের পর সূচিপত্র ধরে এগোলে প্রথমেই রয়েছে সংস্থার কোকরাঝাড় শাখার প্রাণপুরুষ ও সদ্যপ্রয়াত, প্রণম্য সাহিত্যিক অধ্যাপক সুবোধ বাগচির প্রতি ভব্য শ্রদ্ধাঞ্জলি। লিখেছেন অ্যাডভোকেট প্রমথ ভাওয়াল। এরপর ‘সীমান্ত’ ও সংস্থা সম্পর্কিত এক পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন লিখেছেন নির্মল কুমার পাল। সাহিত্যপর্বে লেখালেখির শুরু এর পর থেকেই। মূলত উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের কবি লেখকদের লেখাই স্থান পেয়েছে পত্রিকায় ...