Skip to main content

Posts

আমরা মুখোমুখি মোমবাতি আর বিচারের বিস্মিত দূরত্বে... পরাবাস্তব কবিতায় বাস্তবের পোস্টমর্টেম

কার আবেগ কার অন্ত্যমিলে হাত বুলাই কার পথের পাশে সন্ধ্যাকে টেনে নামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি অনন্ত অপেক্ষার মতো পেপারব্যাকের ফিসফিস শব্দ কানে আসে অসংখ্য নগর বন্দর অরণ্য নদী আমার উপকূলে নোঙ্গর তোলে লোহার শেকল জোনাকি হয়ে রাত জাগে পোতাশ্রয় চুপ করে থাকে (কবিতা - নীরবতার রং কালো) সহস্র কথা-ব্যথা-উচ্চারণের অভীপ্সা নিয়ে চুপ করে থাকে পোতাশ্রয়। কবিও কি তেমনই ? এমনই প্রশ্নের সামনে কবি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন সমবেত পাঠকমণ্ডলীকে। ছত্রে ছত্রে, স্তবকে পঙ,ক্তিতে অগুনতি হ্যালুসিনেশন আর পরাবস্তুবতাকে মিশিয়ে দিয়ে কবিতার নতুন সংজ্ঞা গড়তে চেয়েছেন কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য। তাঁর সাম্প্রতিকতম কাব্যগ্রন্থ ‘পোতাশ্রয়’-এর প্রতিটি কবিতার প্রতিটি লাইন এক একটি জিজ্ঞাসা, এক একটি সত্যান্বেষণ, এক একটি ট্যাগলাইন হয়ে উঠেছে, যারা আঙুল উঁচিয়ে প্রশ্ন করে যায় সমবেত নাগরিককে। বস্তুত গ্রন্থের অন্তর্গত প্রতিটি কবিতা নিয়ে এক একটি আলাদা আলোচনা হতে পারে, হতে পারে এক একটি স্তবক কিংবা পঙ্‌ক্তি নিয়েও। আধুনিক কবিতার অবোধ্যতা কিংবা শব্দের নিষ্ফল মাথা কুটে মরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কোথাও, বরং প্রতিটি কবিতাই বিঁধে যায় মননে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে। হ্যা...
Recent posts

পড়তিবেলার যাপনকথায় সমৃদ্ধ ও সংগ্রহযোগ্য সংকলন

উত্তরপূর্বের সাহিত্য ভুবনের বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা প্রকাশে ‘সেবা’ এক নিয়মিত নাম। কর্মকাণ্ডের বিপুলতায় যুগ্ম সংখ্যা হিসেবেই বছরে এখন একটি করে এই পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকতা মেনে। শ্রীভূমি থেকে ‘সেবা - এ হেল্প এজেড গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত বরিষ্ঠ নাগরিকদের প্রতি নিবেদিত’ ‘সেবা পত্রিকা’ যেখানে, সেখানেই রয়েছে বৃদ্ধাবাস ‘বেলাভূমি’ - যার পরিচালনায় ও দেখভালে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন সমাজসেবী ও কবি, লেখক অপর্ণা দেব। ‘সেবা’ পত্রিকাটি বিষয়ভিত্তিক। বরিষ্ঠ নাগরিকদের সুখদু:খ, জীবন যাপন, আশা প্রত্যাশা নিয়েই সব রচনা। পত্রিকার ৩৩/৩৪ যুগ্ম সংখ্যা (আশ্বিন ১৪৩২, অক্টোবর ২০২৫) প্রকাশিত হয়েছে যথাসময়েই। স্বভাবতই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে ‘সেবা’ এখন আর ছোট্টটি নেই। গত সতেরো বছর ধরে পত্রিকার প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার ধারাবাহিকতায় এতে সন্নিবিষ্ট হয়েছে নানা আঙ্গিকের বহু লেখালেখি। সেখান থেকেই ৫০টি ছোটোগল্প বাছাই করে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সংকলন - ‘বেলাশেষের নীলাকাশ’। নিঃসন্দেহে এক অনন্যসাধারণ প্রয়াস ও প্রকাশ। এই পরিসরে প্রকাশকের তরফে ব্লার্বে সন্নিবিষ্ট হয়েছে প্রেক্ষাপট সহ যে গ্রন্থ পরিচিতি তার কিয়দংশ মোটেও অ...

অণুগল্পে উদ্ভাসিত অনুভূতি, অনুভব

বাইরের প্রচ্ছদ, ভিতরের কাগজ, ছাপা, অলংকরণ সব মিলে পাঠকের ‘প্রথম দৃষ্টিতেই প্রেম’-এর ছোঁয়ায় নন্দিত হতে বাধ্য উন্নয়ন সংঘ, আগরতলা থেকে প্রকাশিত ‘স্বরবর্ণ’ পত্রিকার প্রথম বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা (নভেম্বর ২০২৫) - ‘নির্বাচিত অণুগল্প’ সংখ্যাটি। সাদেক মুকুল-এর প্রচ্ছদ ও সম্পাদক সুমিতা দেব-এর নামলিপি ও রংবাহারি প্রচ্ছদ রূপায়ণ অনায়াসে নজর কেড়ে নেবে পাঠকের। ভেতরের পাতায় চোখ রাখলে প্রথমেই রয়েছে ‘কথাপৃষ্ঠা’ শিরোনামাঙ্কিত সম্পাদকীয় যেখানে বর্ণিত কথা সহজেই খেই ধরিয়ে দেয় পাঠ-সূচনার - ‘উপন্যাস, গল্প-ছোটোগল্পের পর অণুগল্প এখন বাংলা কথাসাহিত্যে একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় ধারা। অনেকটা হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার মতো - বাঁশির সুরে সে আমাদের মন-মননকে ছুঁয়ে যায়। একটিমাত্র ঘটনা বা অনুভূতিকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সম্পূর্ণ গল্পের প্রকাশই হল অণুগল্প। তাছাড়া খুব কম শব্দে লেখা আমাদের জীবনের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরাই অণুগল্পের অন্যতম গুণ। ছোট্ট আকারে লেখা হলেও থাকে একটি বিশেষ অনুভূতি - যা সহজেই হৃদয় স্পর্শ করে - পাঠকের অনুভব ও উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সাহায্য করে। …ত্রিপুরার লেখক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিকদের কলমে এই অণুগল্প সংখ্যা যেমন স...

উত্তর ত্রিপুরার দুটি ছোটপত্রিকার বিশেষ সংখ্যা

দশকের পর দশক ধরে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর , কদমতলা ও অন্যান্য স্থান থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে বহু ছোটপত্রিকা । এক সময় ‘ কবির শহর ’ বলেই পরিচিত ছিল ধর্মনগর । সেখান থেকেই এবছর মে মাসে পনেরোটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একযোগে উন্মোচিত হয়েছে একাধিক পত্রিকা । এক অনন্য ঘটনা নি : সন্দেহে । সেই ধর্মনগর থেকেই একসময় প্রকাশিত হতো প্রাবন্ধিক মন্টু দাস সম্পাদিত ‘ কিরাতভূমি থেকে ’ পত্রিকাটি । মাঝে বহুদিন বন্ধ থাকার পর এই অনুষ্ঠানে ফের প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকাটির ‘বিশেষ রবীন্দ্র সংখ্যা ১৪৩৩’। একই সাথে কবি নাট্যকার নিবারণ নাথ সম্পাদিত পত্রিকা ‘নীলকণ্ঠ’-এর ১৯শে মে ২০২৬ সংখ্যাটিও প্রকাশিত হয়। আলোচনার টেবিলে একযোগে উঠে এল পত্রিকাদুটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত অবলোকন।   কিরাতভূমি থেকে হিন্দু পুরাণ ও মহাভারত তথা বিভিন্ন গেজেট অনুযায়ী , কিরাতভূমি বলতে মূলত পূর্ব হিমালয় ও নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে নির্দেশ করা হয়েছে । এর মধ্যে নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকা , ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (যেমন আসাম , ত্রিপুরা) এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ (যেমন জলপাইগুড়ি , প্রাচীন দিনাজপুর ইত্যাদি) ও রংপুর অঞ্চল প্রাচীনকা...

পঞ্চাশটি অণুগল্পের অনবদ্য নিবেদন - ‘দোপাতা’

বাংলা ভাষা - সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশেও সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে উত্তর ত্রিপুরা জেলা । নৈসর্গিক জম্পুই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জেলার একটি প্রত্যন্ত শহর কাঞ্চনপুর । সেখানেই বাস কিছু নিমগ্ন কবি - লেখকের যাঁরা প্রতিনিয়ত চাষাবাদ করে চলেছেন ভাষাসাহিত্যের । কথাকার দিব্যেন্দু নাথ তাঁদেরই একজন । পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে নিহিত সৌন্দর্য ও তার গা বেয়ে নেমে আসা জলধারার প্রেমে আকণ্ঠ মজ্জিত এই মানুষটি শুধুই কথাকার নন , একজন কবিও । তাঁরই সম্পাদিত পত্রিকা - ‘ দোপাতা ’, যার ট্যাগলাইন হচ্ছে - ‘ দোপাতা একটি পাহাড়ি ছড়া … বহতা জীবনের ভাষাপাখির গান …’ । এখানে ছড়া অর্থে নিশ্চিতই ক্ষীণতনু জলধারার কথাই বলা হচ্ছে । সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার নবম বর্ষ , ষষ্ঠ সংখ্যা ২০২৬ । বিশেষ অণুগল্প সংখ্যা । সম্পাদকীয়তে এ নিয়ে আছে কিছু মনোরম কথাবাক - ‘… জম্পুই পাহাড় - এর নীল দুহিতা , প্রকৃতির সিংহাসনে বসে শিক্ষায় - দীক্ষায় রাজরানি । সে আলো শুষে নিলে কাঞ্চনপুরের আলো কমে যায় । শব্দও যেন নাদ হয়ে হাঁটে পাহাড়ঢালে । তার সুরেলা গন্ধ বেয়ে যে ক্ষীণধারাগুলি উপত্যকার খ...

ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত উত্তর ত্রিপুরার দুটি ছোটপত্রিকা

একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা বড় সহজ কথা নয় । গুচ্ছের কাঠখড় পুড়িয়ে অলাভজনক এই প্রক্রিয়ায় লেগে থাকা - সে এক গভীর মননশীলতা ও গরজের আন্তরিক প্রয়াস নি : সন্দেহে এবং স্বভাবতই প্রশংসার্হ । ত্রিপুরার সাহিত্য জগতে অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি উত্তর ত্রিপুরা জেলা থেকেও নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে একাধিক সাময়িকী । সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের নিরলস সাধনা ও সাহিত্যমনষ্ক তাগিদকে কুর্ণিশ জানাতেই হয় । সম্প্রতি একই দিনে প্রকাশিত হয়েছে বিদ্যুৎ নাথ সম্পাদিত ‘ জ্যোতি ’ পত্রিকার ১ম বর্ষ , দ্বিতীয় সংখ্যা এবং মধুমঙ্গল সিনহা সম্পাদিত ‘ মঙ্গলদীপ ’ পত্রিকার ২২তম বর্ষ ১ম সংখ্যা । ক্ষীণতনু উভয় পত্রিকায় ধরা আছে ভাষাসাহিত্যের প্রতি এক নিরলস দায়বদ্ধতা।   জ্যোতি পৃষ্ঠাসংখ্যার হিসেবে প্রথমেই আসে ‘জ্যোতি’ পত্রিকাটি। সরসপুর, কদমতলার জীবন জ্যোতি ক্লাবের সভাপতি হচ্ছেন এই এক ফর্মার স্যাডল স্টিচ পত্রিকার সম্পাদক বিদ্যুৎ নাথ। পত্রিকাটি একাধারে ক্লাবের মুখপত্রও বটে। স্বভাবতই দুটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পত্রিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে দুটি প্রতিবেদন। ক্লাব প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে - সভাপতির ক...

অণুকবিতার অনন্তপথে প্রত্যয়িত প্রকাশ

‘শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির লিখে রাখো একফোঁটা দিলেম শিশির’ কিংবা - রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসে অন্তর্যামী। ১১০টি কবিতার সন্নিবেশে রবীন্দ্রনাথের ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থ আস্তই এমন সব অণুকবিতার রসে ভরপুর। স্বল্প কথায় গভীর ভাবের ব্যঞ্জনাই হল অণুকবিতার বিশেষত্ব। কবির ‘স্ফুলিঙ্গ’ ও ‘লিপিকা’ও এমনই। অণুকবিতার এমন সুললিত রূপ বাঙালি এর আগে কোথাও দেখেছে কিনা জানা নেই। তবে এর শুরু কিন্তু বহু আগেই। সংস্কৃত প্রাচীন ধর্মগ্রন্থাদি এবং খ্রিস্টিয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী জুড়ে লিখিত চর্যাপদে এমন অসংখ্য পদ আছে যা অণুকবিতারই ধরন বহন করে। এর অনেক পদই মাত্র দুই বা তিন পঙ্‌ক্তির ছিল, যা রূপকের আশ্রয়ে গভীর জীবনবোধ প্রকাশ করত। জাপানি ‘হাইকু’ তথা ‘লিমেরিক’ও সমগোত্রীয় বললে অত্যুক্তি হয় না। ষাটের দশকে বাংলা সাহিত্যে হাংরি আন্দোলন ও অন্যান্য নতুন ধারার হাত ধরে প্রচলিত ছন্দের বাঁধন ভেঙে অণু কবিতা নতুন রূপ পায়। কবিরা দীর্ঘ কবিতার পরিবর্তে চার বা ছয় লাইনে গভীর ভাব প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। একুশ শতকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য...

জোনাকি নিভে গেলে কবে কে আর হয়েছে কাতর...কবিতায় উদ্ভাসিত জীবনবোধ

একটি কাব্যগ্রন্থ সব সময় বিষয়ভিত্তিক নাও হতে পারে। একগুচ্ছ কবিতা - যাকে বলে পাঁচমিশেলি, সব মিলিয়ে দিব্যি তা হতেই পারে। কিন্তু গ্রন্থের নিবিড় পাঠে অবধারিতভাবেই উঠে আসে এক নিশ্চিত নির্যাস। অন্তর্নিহিত এক বিষয় ভাবনা। উত্তরপূর্বের কবি ঋতা চন্দের সাম্প্রতিকতম পঞ্চম কাব্যগ্রন্থটি আবার প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে। এতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বায়নের যুগে বরঞ্চ এটাই স্বাভাবিক। গ্রন্থনামে ‘জীবন’ শব্দটি রয়েছে এবং অবধারিতভাবেই উঠে এসেছে কবির জীবনভিত্তিক এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। কবিতায় কবিতায় কবি নিজেকেই করেছেন উদ্ভাসিত। নানা আঙ্গিকের, নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে যে ভাবনাটি মূর্ত হয়েছে স্পষ্টতর অনুষঙ্গে তা হচ্ছে কবির জীবনের দু:খসুখের, হতাশার, ক্ষোভের আবার প্রাপ্তিসুখেরও বহি:প্রকাশ, মুখবন্ধে যা নিজেই করেছেন ব্যক্ত। কোনো এক ‘তুমি’কে উদ্দেশ করে ‘আমি’র নির্ঘোষ বয়ানে ধরা আছে সেইসব অনুভূতি - পঙ্ক্তির পর পঙ্ক্তি জুড়ে। এসব নিয়েই কিংবা এসব ছাড়াও রয়েছে জীবনবোধ, অভয়া, করোনা, জুবিন গর্গ, ভাষা শহিদ, অপ্রাপ্তির বেদনা, উপত্যকার বিভেদ, নাগরিকত্বের বিড়ম্বনা আদি প্রসঙ্গ। আসলেই কবিমন দূরে থাকতে পারে...

শুভ পরিণয়

বিলিতি সুরা। নাম টিচার্স। শুনেই কেমন কুঁচকে গেল ভুরু। বলিহারি ওদের রুচির। শিক্ষকের নামে মদ ? অভাবনীয়।  –   না এটা হবে না। অন্য কিছু দিন। ওয়াইন শপের ডেলিভারিম্যান জিজ্ঞেস করল - কী দেব ? ব্ল্যাক ডগ ? ছিঃ ছিঃ। কী কুক্ষণেই না আনাড়ি বৈভব এসেছে এই আনকোরা অঙ্গনে। –   অন্য কিছু দিন। রিপিট করে বৈভব। – রয়্যাল স্ট্যাগ, ব্লেন্ডার্স প্রাইড, ইম্পেরিয়াল ব্লু, জনি ওয়াকার... ? রয়্যাল ও ইম্পেরিয়ালের মধ্যে কিছু না বুঝেই প্রথমটি নিয়ে ঘরে এসে প্রথমবারের মতো ছিপি খুলল বৈভব। আজকের রাত জীবনের সবচাইতে ব্যতিক্রমী রাত। ঘুম আসবে না এই রাতে। জেগে থেকে শেষ হবে না এই রাত। আজ ভুলে থাকার রাত। বহুদিনের কথোপকথন, সংসর্গ, সুখযাপন, সহযাপন, উদ্দীপনাকে ভুলে যাওয়ার রাত।  অথচ এক রহস্যের ঘেরাটোপেই অতিবাহিত হয়েছিল দিন। পনেরো ঘণ্টাই হোয়াটস্‌অ্যাপে খুনশুটি আর উৎকণ্ঠা। হইহই করে বেরিয়ে যাওয়া একত্রে। হাতে হাত রেখে সেলফি, চোখে চোখ রেখে চায়ের কাপে মায়ার চুমুক, হারিয়ে যাওয়া মহাজাগতিক আলোর পথে, ক্ষণিকের অনুপস্থিতিতে হৃদয়তন্ত্রীর বেসুরো তান, ব্রাহ্মমুহূর্তে ওপাশ থেকে আবেগ, উৎকণ্ঠার প্রশ্ন ভেসে আসা। এ সবকিছুকে ...

মৃত্যুর পাশে বসে আমি কবিতা লিখেছিলাম... এক সুখপাঠ্য কবিতার সম্ভার

প্রচ্ছদে গ্রন্থনাম দেখে খানিক ধন্দে পড়তেই হয় বইকী। ১/৮ ক্রাউন পেপারের সংক্ষিপ্ত আকারের আবার হার্ডবোর্ড বাঁধাইযুক্ত গ্রন্থটির ভিতরে ঠিক কী আছে - কাব্যবিষয়ক কথা নাকি কথার কাব্যরূপ তা অনুধাবন করতে অনতিবিলম্বেই প্রবেশ করতে হবে গ্রন্থের অভ্যন্তরে। পৃষ্ঠাসংখ্যা নেহাত কম নয়। দেখে বোঝার জো নেই যে এই ক্ষীণাঙ্গ গ্রন্থের ৫০ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ৪০টি কবিতা। অর্থাৎ কিনা ‘কবিতার কথা’ আসলেই এক কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থের কবিতাপর্ব শুরু হওয়ার আগেও মঙ্গলাচরণ হিসেবে রয়েছে একে একে একটি শুভেচ্ছা বার্তা, ‘শুভেচ্ছা নিরন্তর’ শিরোনামে কবি নারায়ণ মোদকের শুভেচ্ছাসংবাদ এবং কবির তরফে সাকুল্যে পাঁচ লাইনের একটি ‘ভূমিকা’ - যার পুরোটাই তুলে দেয়া যায় এখানে - ‘আমার এলোমেলো অনুভূতির বন্যায় ভেসে ওঠা কিছু শব্দ দিয়ে তৈরি করেছি আমার এই ‘কাব্য কথা’। সোহাগি শ্রাবণ, মায়াবী রোদ, হারানো শৈশব, কঠিন বাস্তব সবকিছুই খুঁজে পাবেন আমার এই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থটিতে। কবিতা পড়তে পড়তে যদি পাঠকেরা নিজেদের জীবনের সাথে যৎসামান্য পরিমানও মিল পান, তবেই আমার কলম সার্থক।’ বাহুল্য বর্জিত এই ক্ষুদ্র ভূমিকার মধ্যে কবি সাজিয়ে রেখেছেন বৃহৎ পরিসর। কে বলে কবিতার ...

কাব্যোৎকর্ষে উদ্ভাসিত মায়াজীবন

কবির জীবনে একটি সময় আসে যখন কবিসৃষ্ট অগণিত কবিতা থেকে যথাযথ ঝাড়াইবাছাই করে শ্রেষ্ঠতর কবিতা নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দুটি বিষয় এখানে ক্রিয়া করে। শ্রেষ্ঠ কবিতার চয়ন ও প্রকাশের দায়িত্ব। উভয় ক্ষেত্রেই আবার দুটি করে অনুষঙ্গ জড়িয়ে থাকে। চয়নের ক্ষেত্রে যা হল এই কবিতার চয়ন কে করবেন ? কবি/পাঠক, নাকি প্রকাশক ? প্রকাশের ক্ষেত্রেও তথৈবচ। কোনও প্রকাশক কি নিজে থেকে আগ্রহ দেখিয়ে এই দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবেন ? নাকি কবিই স্বত:প্রণোদিত হয়ে এই কাজে তৎপর হবেন। এই সমগ্র বিষয়টি আলোচনা করতে গেলে এক বৃহৎ পরিসরের প্রয়োজন, যা এক্ষেত্রে নেই বলেই সংক্ষেপে বলে নেওয়া ভালো। জন্ম উত্তরবঙ্গে হলেও বিকাশ সরকার উত্তরপূর্বের কবি বলেই পরিচিত। শুরুটা বঙ্গে হলেও কবিতাকে সঙ্গী করে বেড়ে ওঠা এই অসমে। বিকাশ সরকার আসলে কবি নাকি গদ্যকার ? এমন প্রশ্ন এলে অনেকেই অবাক হবেন। কিন্তু ঘটনা এই যে তাঁর নিজের মূল্যায়নে তিনি গদ্যকার বেশি এবং কবি কম। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে সাহিত্যবিশ্বে তিনি কবি বিকাশ সরকার নামেই বহুল পরিচিত। তবে এটাও ঠিক যে পিছিয়ে নেই তিনি কোনোদিকেই। সুতরাং কাব্যভুবনে এক ব্যতিক্রমী আঙ্গিকের কাব্যস্রষ্টা হিসে...

‘আমি হাঁটু গেঁড়ে বসি আমার একমুঠো স্বাধীনতার পায়ে...‘ খেয়ালি কবিতায় উৎকর্ষের খোঁজ

পিদিম শব্দটির বহু প্রতিশব্দ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কুপি, ডিবা, লম্ফ, টেমি ইত্যাদি। তবে এ অঞ্চলে কুপি কিংবা লম্ফ (ল্যাম্প) শব্দটিই সতত প্রচারিত। তা শব্দ যেমনই হোক না কেন শব্দার্থ হচ্ছে ইন্ধনে টিমটিম জ্বলতে থাকা শিখার আধার। সেই অর্থে পিদিমের শিখা বলতে বোঝানো হয়েছে প্রচারের আলো থেকে দূরে, প্রাচুর্যের যাপন থেকে সরে এক কষ্টকর যাপনের বাখান। সেই টিমটিমে আলোর দৈন্যজীবনের কথাই কবি বলতে চেয়েছেন আলোচ্য কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতায়। কবি ছন্দা দাম মূলত এমন ধারার কবিতাতেই সচরাচর স্বচ্ছন্দ। ইতিপূর্বে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থাবলিতেও সন্নিবিষ্ট হয়েছে এমন ধারারই কবিতা - সাথে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের জোরালো নিনাদ। আলোচ্য গ্রন্থে মূল ভাবধারা একইরকম ভাবে বজায় থাকলেও কোথাও রচনাশৈলীতে, শব্দ ও পঙ্ক্তির বিন্যাসে এক ভিন্ন আবহ, ভিন্ন আঙ্গিকের সন্ধান পাওয়া যায়। ছন্দকবিতার বহুল ব্যবহার হয়েছে প্রথমবারের মতো। পূর্বপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহে দু’একটি থাকলেও এবার একাধিক ছন্দকবিতার সমাহার এক অন্য মর্যাদা দিয়েছে আলোচ্য গ্রন্থটিকে। একটির বাইরে সব কবিতা এক পৃষ্ঠায় সংযত। এটাও অন্যতম ব্যতিক্রম ছন্দার কবিতার ক্ষেত্রে। এসব মিলিয়ে কি...

সঞ্চিত অনুভবের প্রথম কাব্যগন্থ

মানুষের জীবনে বয়স কতটা হলে অনুভূতির অনুরণন কতটা অনুভূত হয় হৃদয়ে , অনুভবের শেকড় কতটা গাঢ় হয় - তার কোনো ধ্রুবক আবিষ্কৃত হয়নি এখনও । দেহমনের কার্যক্ষমতাই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ । একজন কবি আর পাঁচজন মানুষের মতো দেখেন না পৃথিবীটাকে । কবির দূরদৃষ্টি সুদূরপ্রসারিত । স্বাভাবিকভাবেই অনুভব - অনুভূতির সম্পদে তিনি অধিকতর সমৃদ্ধ । কবি সুমি দাস অসমের শ্রীভূমি শহরের বাসিন্দা । লেখালেখির জগতে বিচরণ বহুদিন থেকেই যদিও তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি । প্রথম যেহেতু তাই স্বাভাবিক নিয়মেই জমা থাকা কবিতার সংখ্যা বেশি । ৯৮ পৃষ্ঠার কাব্যগ্রন্থের ৮৬ পৃষ্ঠা জুড়ে তাই সন্নিবিষ্ট হয়েছে ৮২টি কবিতা । প্রেক্ষাপটে ‘কবির কিছু কথা’ শিরোনামে কবি লিখছেন - ‘সাহিত্য জগতে কবিতা মনের দর্পণ। মনের অনুভূতিগুলো কলমের নিব দিয়ে অক্ষরে সাজিয়ে তোলাই আমার সামান্য প্রয়াস...। প্রথমত যবে থেকে আমি কবিতা লিখি সেগুলো একদিন যে কাব্যগ্রন্থের রূপ নেবে তা কোনোদিন ভাবিনি। বেশ কয়েকদিন থেকেই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার উৎসাহ দিয়ে চলেছেন আমার স্ব-পরিবার এবং অনেকেই, তার মধ্যে অন্যতম আমার সঙ্গী, নাহলে এই দু:সাহসের জন্ম হতো না...।’ না...