মনোলোভা রঙে চিত্রিত অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টের নান্দনিক চিত্র সংবলিত একটি প্রচ্ছদ প্রথমেই নজর কেড়ে নেয় পাঠকের। ছিমছাম একটি পত্রিকা সংখ্যা হাতে তুলে নিতে দ্বিধা কাটিয়ে তোলে নিমেষে। শ্রীভূমি থেকে নিয়মিত প্রকাশিত ‘সীমান্তরশ্মি’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যার এই অপূর্ব প্রচ্ছদের সৌজন্যে মানস ভট্টাচার্য। ৭২ পৃষ্ঠার ১/৪ ট্যাবলয়েড রেগুলার সাইজের পত্রিকার অভ্যন্তরেও যে নান্দনিকতা নেই তা বলা যাবে না মোটেও। ছোটপত্রিকার সম্পাদকের দায়বদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি সামান্যকে অসামান্য করে তোলার সম্পাদকীয় প্রচেষ্টা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন সম্পাদক। গদ্য ও পদ্যের সমাবেশে পদ্যেরই পাল্লা ভারী অন্যান্য সংখ্যারই মতো। তবে ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়নি, বিশেষ করে কিছু ভিন্নধর্মী কবিতার সন্নিবেশে। সম্পাদকীয়তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আত্মোপলব্ধি রয়েছে যার সম্যক উল্লেখ প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে - ‘...আমরা খুব কম সংখ্যক লোক একটি বৃহৎ নৌকার সওয়ার, তবে আমরা এক গোষ্ঠীভুক্ত নই, আমরা বিভক্ত... বিচ্ছিন্ন এবং আত্মম্ভরি মানসিকতা নিয়ে ছোট নৌকার সওয়ার হয়ে বিশাল সাহিত্য নামক নদী পার হওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভবও। ...আমরা নিজের মুখ আয়নায় দেখি না। আমাদের অহং নি...
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী শারদীয় উন্মাদনার মতোই নববর্ষ আপামর বাঙালির কাছে এক বুকভরা আশার উৎসব। বছরভর সুখশান্তির প্রত্যাশায় মেতে ওঠে বাঙালি আপন সৌষ্ঠবে। আর সেই সৌষ্ঠবের এক নান্দনিক এবং বিশেষ অঙ্গ হচ্ছে বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখে অসমের দুই প্রান্ত থেকে প্রকাশিত দুটি উৎকৃষ্ট পত্রিকাসংখ্যা উন্মোচিত হয়ে এসেছে পাঠকের দরবারে। আয়োজনে, প্রত্যাশাপূরণে, গরজে ও নিবেদনে যৎপরোনাস্তি সচেষ্ট থেকেছেন উভয় পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ। প্রান্তিক নিম্ন অসমের কোকরাঝাড় থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের মুখপত্র এই পত্রিকা। এবারেও ঘটেনি ব্যত্যয়। ১/৪ ক্রাউন সাইজের ৭২ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে প্রবন্ধ , কবিতা , গল্পের সম্ভার । প্রবন্ধ বিভাগের শুরুতেই রয়েছে দু’দুটি ব্যতিক্রমী পরিবেশন। সদ্য প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর-এর লেখালেখি নিয়ে রচিত দুটি প্রবন্ধই যথাযথ এবং তথ্যনির্ভর। বিপ্লব শর্মার ‘নগর-বাউল শংকর’ একটি সংগ্রহযোগ্য লেখা যেখানে প্রবন্ধকার প্রয়াত সাহিত্যিকের লেখার গভীরতা অনেকখানি ছুঁতে পেরেছেন। জয়দীপ দে’র ‘সাহিত্যিক শংকর - এক অসাধারণ কথাশিল্পী’ বহু চমকপ্রদ তথ্যে ভরপুর। নিখিল ভারত ...