নিম্ন অসমের গোসাইগাঁও - এর মতো একটি শহর থেকে বার্ষিক প্রকাশনার সূত্রে ২৪০ পৃষ্ঠার একটি বাংলা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে বা হয়েছে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল । প্রচ্ছদে , অলংকরণে , মুদ্রণে , সম্ভারে কলকাতাকেন্দ্রিক প্রকাশনাসমুহের সমপর্যায়ের বলতে এতটুকুও দ্বিধা থাকার কথা নয় । এবছর অর্থাৎ ১৪৩৩ বাংলার রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে প্রকাশিত হয়েছে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের উপর্যুক্ত শাখার দ্বাদশ সংখ্যাটি । তিন পৃষ্ঠা জোড়া সূচিপত্রের পরই রয়েছে ফের তিন পৃষ্ঠা জোড়া সম্পাদকীয় , যেখানে সম্পাদক বন্দন দেব অকপট উচ্চারণে বিস্তৃত উল্লেখ করেছেন এই প্রকাশের ভিতরকথা , বাংলা ভাষা সাহিত্যের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার কথা । সম্পাদকীয়ের পর সূচিপত্র ধরে এগোলে প্রথমেই রয়েছে সংস্থার কোকরাঝাড় শাখার প্রাণপুরুষ ও সদ্যপ্রয়াত, প্রণম্য সাহিত্যিক অধ্যাপক সুবোধ বাগচির প্রতি ভব্য শ্রদ্ধাঞ্জলি। লিখেছেন অ্যাডভোকেট প্রমথ ভাওয়াল। এরপর ‘সীমান্ত’ ও সংস্থা সম্পর্কিত এক পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন লিখেছেন নির্মল কুমার পাল। সাহিত্যপর্বে লেখালেখির শুরু এর পর থেকেই। মূলত উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের কবি লেখকদের লেখাই স্থান পেয়েছে পত্রিকায় ...
‘বর্ষার মাঝামাঝি। পদ্মায় ইলিশ মাছ ধরার মরসুম চলিয়াছে...। কুবের মাঝি আজ মাছ ধরিতেছিল দেবীগঞ্জের মাইল দেড়েক উজানে। নৌকায় আরো দুজন লোক আছে। ধনঞ্জয় এবং গণেশ। তিন জনের বাড়িই কেতুপুর গ্রামে...।’ মানিক বব্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র প্রথম তিনটি পরিচ্ছেদ শুরু হয়েছে এভাবেই। এবং চরিত্রের উপস্থিতি শুরু হয় একত্রে এই তিনজন দিয়েই যদিও পরবর্তীতে শেষোক্ত দুজন ক্রমে গৌণ হয়ে গেলেও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়ে গেছে কুবের চরিত্রটি - গণেশের ভাষায় ‘কুবির’ হয়ে - প্রধান চরিত্র হয়ে। ### রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্পে যেখানে ভূপতি, চারুলতা ও অমলের মধ্যেকার জটিল ও গুরুগম্ভীর সম্পর্কের এক নিস্তরঙ্গ ও মনস্তাত্ত্বিক চিত্র ফুটে উঠেছে সেখানে ভিন্নতর আঙ্গিকে শ্যালিকা ও ভগ্নীপতির মধুর সম্পর্ক নিয়ে রয়েছে তাঁর সেই বিখ্যাত কবিতা - ‘বর এসেছে বীরের ছাঁদে’ - ‘শ্যালীর সঙ্গে ক্রমে ক্রমে আলাপ যখন উঠল জমে, রায়বেঁশে নাচ নাচের ঝোঁকে মাথায় মারলে গাঁট্টা। শ্বশুর কাঁদে মেয়ের শোকে বর হেসে কয় - ঠাট্টা’ !...’ ‘পদ্মা নদীর মাঝি’তেও অনুরূপ একটি চিত্র প্রত্যক্ষ করা যায় কুবের, তার স্ত্রী ...