বিলিতি সুরা। নাম টিচার্স। শুনেই কেমন কুঁচকে গেল ভুরু। বলিহারি ওদের রুচির। শিক্ষকের নামে মদ ? অভাবনীয়। – না এটা হবে না। অন্য কিছু দিন। ওয়াইন শপের ডেলিভারিম্যান জিজ্ঞেস করল - কী দেব ? ব্ল্যাক ডগ ? ছিঃ ছিঃ। কী কুক্ষণেই না আনাড়ি বৈভব এসেছে এই আনকোরা অঙ্গনে। – অন্য কিছু দিন। রিপিট করে বৈভব। – রয়্যাল স্ট্যাগ, ব্লেন্ডার্স প্রাইড, ইম্পেরিয়াল ব্লু, জনি ওয়াকার... ? রয়্যাল ও ইম্পেরিয়ালের মধ্যে কিছু না বুঝেই প্রথমটি নিয়ে ঘরে এসে প্রথমবারের মতো ছিপি খুলল বৈভব। আজকের রাত জীবনের সবচাইতে ব্যতিক্রমী রাত। ঘুম আসবে না এই রাতে। জেগে থেকে শেষ হবে না এই রাত। আজ ভুলে থাকার রাত। বহুদিনের কথোপকথন, সংসর্গ, সুখযাপন, সহযাপন, উদ্দীপনাকে ভুলে যাওয়ার রাত। অথচ এক রহস্যের ঘেরাটোপেই অতিবাহিত হয়েছিল দিন। পনেরো ঘণ্টাই হোয়াটস্অ্যাপে খুনশুটি আর উৎকণ্ঠা। হইহই করে বেরিয়ে যাওয়া একত্রে। হাতে হাত রেখে সেলফি, চোখে চোখ রেখে চায়ের কাপে মায়ার চুমুক, হারিয়ে যাওয়া মহাজাগতিক আলোর পথে, ক্ষণিকের অনুপস্থিতিতে হৃদয়তন্ত্রীর বেসুরো তান, ব্রাহ্মমুহূর্তে ওপাশ থেকে আবেগ, উৎকণ্ঠার প্রশ্ন ভেসে আসা। এ সবকিছুকে ...
প্রচ্ছদে গ্রন্থনাম দেখে খানিক ধন্দে পড়তেই হয় বইকী। ১/৮ ক্রাউন পেপারের সংক্ষিপ্ত আকারের আবার হার্ডবোর্ড বাঁধাইযুক্ত গ্রন্থটির ভিতরে ঠিক কী আছে - কাব্যবিষয়ক কথা নাকি কথার কাব্যরূপ তা অনুধাবন করতে অনতিবিলম্বেই প্রবেশ করতে হবে গ্রন্থের অভ্যন্তরে। পৃষ্ঠাসংখ্যা নেহাত কম নয়। দেখে বোঝার জো নেই যে এই ক্ষীণাঙ্গ গ্রন্থের ৫০ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ৪০টি কবিতা। অর্থাৎ কিনা ‘কবিতার কথা’ আসলেই এক কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থের কবিতাপর্ব শুরু হওয়ার আগেও মঙ্গলাচরণ হিসেবে রয়েছে একে একে একটি শুভেচ্ছা বার্তা, ‘শুভেচ্ছা নিরন্তর’ শিরোনামে কবি নারায়ণ মোদকের শুভেচ্ছাসংবাদ এবং কবির তরফে সাকুল্যে পাঁচ লাইনের একটি ‘ভূমিকা’ - যার পুরোটাই তুলে দেয়া যায় এখানে - ‘আমার এলোমেলো অনুভূতির বন্যায় ভেসে ওঠা কিছু শব্দ দিয়ে তৈরি করেছি আমার এই ‘কাব্য কথা’। সোহাগি শ্রাবণ, মায়াবী রোদ, হারানো শৈশব, কঠিন বাস্তব সবকিছুই খুঁজে পাবেন আমার এই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থটিতে। কবিতা পড়তে পড়তে যদি পাঠকেরা নিজেদের জীবনের সাথে যৎসামান্য পরিমানও মিল পান, তবেই আমার কলম সার্থক।’ বাহুল্য বর্জিত এই ক্ষুদ্র ভূমিকার মধ্যে কবি সাজিয়ে রেখেছেন বৃহৎ পরিসর। কে বলে কবিতার ...