মনোময় বসন্তের প্রারম্ভে চমৎকার এক কবিতার আসর বসেছে প্রকৃতির বনময় অঙ্গনে। উৎফুল্ল আগত অতিথি কবি সাহিত্যিকবৃন্দ। এতদিন ধরে মঞ্চে কবিতা পাঠ করেই সবাই অভ্যস্ত, এবং কিছুটা বিধ্বস্তও। শহর থেকে একে একে সংকীর্ণ হয়েছে এখানে পৌঁছানোর পথ। শেষটায় কিছুটা পথ পায়ে হেঁটেই তাই কবিতাঙ্গনে হাজির হয়েছেন সবাই। চারধারে অসংখ্য জানা অজানা গাছগাছালির সবুজাভা ও সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের গন্ধে এক স্বর্গীয় পরিবেশ। একটি কোকিল অনেকক্ষণ ধরেই সুললিত কণ্ঠে বসন্তের বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছিল চরাচরে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক ঘোষণা করলেন - ‘আমাদের আজকের এই আয়োজনে প্রথমেই আমরা মঞ্চে আহ্বান জানাচ্ছি এ অঞ্চলের উঠতি প্রজন্মের খ্যাতিমান কবি অনিরুদ্ধ শর্মাকে।’ দর্শকাসনে সামনের সারিতে নামিদামি কবি, পিছনে নবাগতরা। অনিরুদ্ধ পড়লেন তাঁর কবিতা। আধুনিক কবিতা - বলা ভালো অত্যাধুনিক কবিতা, এআই ঋদ্ধ হাইটেক কবিতা। শুনলেন সবাই - শব্দের কারিকুরি, বলা ভালো জারিজুরি। অধিকাংশেরই মাথার উপর দিয়ে গেল। বনের ঝিঁঝি পোকার একটানা শব্দের মতোই শব্দের অনুরণন বাজতে লাগল মস্তিষ্কে। মনে মনে একেক জন একেক রকম বিশ্লেষণ করছেন কবিতার। তাঁদের দিকে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ এক রহস...
কার আবেগ কার অন্ত্যমিলে হাত বুলাই কার পথের পাশে সন্ধ্যাকে টেনে নামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি অনন্ত অপেক্ষার মতো পেপারব্যাকের ফিসফিস শব্দ কানে আসে অসংখ্য নগর বন্দর অরণ্য নদী আমার উপকূলে নোঙ্গর তোলে লোহার শেকল জোনাকি হয়ে রাত জাগে পোতাশ্রয় চুপ করে থাকে (কবিতা - নীরবতার রং কালো) সহস্র কথা-ব্যথা-উচ্চারণের অভীপ্সা নিয়ে চুপ করে থাকে পোতাশ্রয়। কবিও কি তেমনই ? এমনই প্রশ্নের সামনে কবি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন সমবেত পাঠকমণ্ডলীকে। ছত্রে ছত্রে, স্তবকে পঙ,ক্তিতে অগুনতি হ্যালুসিনেশন আর পরাবস্তুবতাকে মিশিয়ে দিয়ে কবিতার নতুন সংজ্ঞা গড়তে চেয়েছেন কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য। তাঁর সাম্প্রতিকতম কাব্যগ্রন্থ ‘পোতাশ্রয়’-এর প্রতিটি কবিতার প্রতিটি লাইন এক একটি জিজ্ঞাসা, এক একটি সত্যান্বেষণ, এক একটি ট্যাগলাইন হয়ে উঠেছে, যারা আঙুল উঁচিয়ে প্রশ্ন করে যায় সমবেত নাগরিককে। বস্তুত গ্রন্থের অন্তর্গত প্রতিটি কবিতা নিয়ে এক একটি আলাদা আলোচনা হতে পারে, হতে পারে এক একটি স্তবক কিংবা পঙ্ক্তি নিয়েও। আধুনিক কবিতার অবোধ্যতা কিংবা শব্দের নিষ্ফল মাথা কুটে মরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কোথাও, বরং প্রতিটি কবিতাই বিঁধে যায় মননে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে। হ্যা...