‘আমি সেই পাহাড়টার কাছে যেতে পারিনি যার সানুদেশে ছেড়ে আসা যায় সব ঘৃণা ও অবসাদ, পাপ ও প্রতীক্ষার নীল-জল। আমি সেই নদীটির কাছেও যেতে পারিনি যার তীরে মানুষ তর্পণ সাজায় পূর্বপুরুষ ও পূর্বনারীর তরে। বিসর্জনের মন্ত্রে ভাসিয়ে দেয় কাম ও লোভের ছলাকলা। ...... তাই এ অক্ষম বেঁচে-বর্তে থাকা সব আলো নিভিয়ে, জোনাকিপ্রহরে। প্রথম কবিতায়, যা আবার গ্রন্থনামশীর্ষকও, যিনি ছড়িয়ে দিতে পারেন এমন কাব্যিকতা, এমন অনুভব ও অনুভূতির উৎকর্ষ - সেই কবির বাকি সব কবিতাও যে অবধারিতভাবেই হয়ে উঠবে সুপাঠ্য ও সুখপাঠ্য তাতে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। কার্ডস্টক পেপারে স্যাডল স্টিচের ৪৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির ৪২ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে মোট ৪০টি কবিতা। স্বভাবতই পৃষ্ঠা ছাড়িয়েছে দুটি কবিতা। এর বাইরে সব এক-পৃষ্ঠার আবেগিক নিবেদন। কবি প্রথম পুরুষেই কবিতা লিখতে পছন্দ করেন সাধারণত, যেখানে উঠে আসে জীবনের নানা প্রাপ্তিতে, ঘাত প্রতিঘাতে অনুভূত সব অনুভবের নান্দনিক প্রকাশ - শব্দে, শব্দদ্বৈতে, পঙ্ক্তিতে, চরণে। প্রতিটি কবিতা থেকেই তুলে আনা যায় রাশি রাশি ট্যাগলাইন, অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া পঙ্ক্তি। যেমন - ...উৎসব শেষে যারা ফিরেছে ঘরে/ তারা কেউ আনন্দিত...
লেখকের এটি তৃতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। বলা বাহুল্য যে ইতিপূর্বে প্রকাশিত দুটি গ্রন্থই পাঠক মহলে যথেষ্ট সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিল। এর প্রধান কারণ তিনটি। প্রথমত ফিচারধর্মী লেখা যা সততই পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য, দ্বিতীয়ত জনসাধারণ্যে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাবলি সংবলিত বিষয়বস্তু এবং তৃতীয়ত সরল অথচ ব্যতিক্রমী লিখনশৈলী। এই তিনের সংমিশ্রণে আজকের দিনে তাই উত্তরপূর্বে এক জনপ্রিয় লেখক হয়ে উঠেছেন সঞ্জয় গুপ্ত এতে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নেই। আলোচ্য গ্রন্থ ‘পেজ ফোর’ও একই ধারায় প্রকাশিত ১২৮ পৃষ্ঠার একটি ফিচার সংকলন যার ১১৫ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ২৪টি ভিন্ন ধারার অধ্যায়। গ্রন্থপাঠের খেই ধরিয়ে দিতে ভূমিকার যে এক বিশেষ স্থান আছে তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যায় বিশিষ্ট লেখক ও কবি বিকাশ সরকারের ভূমিকায় যেখানে তিনি সবিস্তারে লিপিবদ্ধ করেছেন ফিচার বিষয়ক যাবতীয় তথ্যাদি এবং পাশাপাশি ফিচার ও প্রবন্ধ রচনার ফারাক নিয়েও উদাহরণ সহ আলোচনা করেছেন। লেখকের লেখার ধরন নিয়ে তিনি লিখছেন - ‘...প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষার উপর দখল না থাকলে প্রকৃত ফিচার লেখা অসম্ভবপ্রায়। সঞ্জয়ের রচনাসমূহের মধ্যে এর সবকটি গুণই বিদ্যমান, যা আমাকে প্রতিনিয়ত চমকিত করে। ...