Skip to main content

Posts

একগুচ্ছ গীতিকবিতার ব্যতিক্রমী সংকলন

‘কথা’ শব্দটির প্রায়োগিক অর্থ দুরকম হতে পারে। যখন ‘কথা ও কবিতা’ বলা হয় তখন কথা শব্দের অবধারিত অর্থ হয়ে দাঁড়ায় গদ্য। অর্থাৎ ‘গদ্য ও পদ্য’। আবার গানের ক্ষেত্রে আকছার বলা হয় - ‘এই গানের কথা - অমুক, সুর - অমুক’। এখানে কথা অর্থে গানের কথা বা লিরিক। এই লিরিক কিন্তু গদ্য নয়। ‘কথা’ নিয়ে এই ভূমিকার কারণ হচ্ছে আলোচ্য গীতিকবিতা সংকলনটিকে অভিহিত করা হয়েছে ‘কথা সংকলন’ হিসেবে অথচ ভিতরের পৃষ্ঠায় কবিতা দেখে পাঠকমনে স্বভাবতই এক দ্বিধার উদ্রেক হতেই পারে। সেক্ষেত্রে ‘গীতিকবিতা সংকলন’ হিসেবে আখ্যায়িত হলে দ্বিধাহীন হতো নির্দ্বিধায়। গ্রন্থনাম - ‘রৌদ্রস্নাত গোধূলি চুম্বন’। কিছু জটিলতা, কিছু ধোঁয়াশা এখানেও। গ্রন্থনাম সরল, তৎসম শব্দ বর্জিত হলে সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় হয় পাঠকের দরবারে। আলোচ্য গ্রন্থটি একই শিরোনামের দ্বিতীয় সংকলন। এ নিয়ে কথামুখ হিসেবে গ্রন্থকার জানাচ্ছেন - ‘...রৌদ্রস্নাত গোধূলি চুম্বন প্রথম খণ্ডটি ১১৭টি গীতিকবিতায় সাজানো হয়েছিল। ২য় খণ্ডটিতে রয়েছে ১৭৯টি কবিতা...। বিভিন্ন আঙ্গিকের কথা রয়েছে এই ২য় খণ্ডটিতে...।’ (এখানেও সেই কথা ও কবিতার জটিলতা বিবেচ্য।) মোট ১০৪ পৃষ্ঠার পাকা বাঁধাই গ্রন্থটির ৯২ পৃষ্ঠা জু...
Recent posts

আপন অঙ্গনের লোকসংস্কৃতি-বিষয়ক অনুপম প্রবন্ধমালা

ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তরাংশ অথবা বলা যায় অবিভক্ত উত্তর ত্রিপুরা জেলার সঙ্গে অসমের বরাক উপত্যকা ও বাংলাদেশের অবিভক্ত সিলেট সহ সংলগ্ন কিছু অঞ্চল মিলিয়ে যে ভূখণ্ড, একত্রবাসের সূত্রে তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, জনপ্রবাহ, লোকাচার আদি আঙ্গিকের এক অসাধারণ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এটাই স্বাভাবিক। দুর্ভাগ্যবশত দেশভাগ ও রাজ্যভাগের ফলে বর্তমানে আর্থ-রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এক বৈসাদৃশ্যের চিত্র পরিলক্ষিত হয় যদিও মানসিক ভাবে এই অঞ্চলের অধিবাসীরা চিরকালই সমমনোভাবাপন্ন এবং তাদের জীবনশৈলী, আচার ব্যবহার, ভাষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক অমলিন সাদৃশ্যের প্রভাব আজও বিদ্যমান। এই অঞ্চলের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্মাচার আদি তাই স্বভাবতই এক সূত্রে গাঁথা। মানুষে মানুষে এক নাড়ির টান, সৌহার্দ বিরাজিত আবহমান কাল ধরে। ত্রিপুরার উত্তরাংশে মনু নদী এবং বরাক উপত্যকার প্রধান নদী বরাকের অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের দৈনন্দিন জীবনচর্চা ও ভাষার সমানতা মূলত অবিভক্ত সিলেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুবাদে শুধু আত্মীয়তা নয়, লোকাচার-আঙ্গিকেও এক সূত্রে বাঁধা। লোক গবেষক তথা ত্রিপুরা সরকার কর্তৃক ‘অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মারক সম্মানে ভূষিত ল...

বিস্তৃত বিষয়ভাবনার সংকলন - ‘সন্দর্ভস্তবক’

স্তবক শব্দটির মূল অর্থ ‘গুচ্ছ’, ‘থোকা’, ‘গ্রন্থাদির অধ্যায়’, ‘শ্লোক বা মন্ত্রের বিভাগ’ ইত্যাদি হলেও প্রচলিত অর্থে তা কবিতার সংঘবদ্ধ চরণের সমষ্টিকেই চিহ্নায়িত করে। সেদিক থেকে দেখলে আলোচ্য গ্রন্থনাম গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে বেশ প্রাসঙ্গিক হয়েছে বলাই যায়। মোট ২১টি সন্দর্ভ অর্থাৎ রচনা বা প্রবন্ধের সংকলন এই গ্রন্থটির প্রণেতা হেমন্ত দেবনাথ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক - যা জানা যায় ব্লার্বের দ্বিতীয় ফ্ল্যাপে। প্রথম ফ্ল্যাপে যথারীতি রয়েছে গ্রন্থবিষয়ক এক সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। দুটি সচিত্র ফ্ল্যাপের পর নিয়ম মেনে রয়েছে উৎসর্গ, সংক্ষিপ্ত একটি মুখবন্ধ ও বিন্যস্ত সূচিপত্র। অর্থাৎ সবকিছুই একেবারে ‘ব্যাকরণসম্মত’ যদিও শূন্য শেষ-মলাট খানিক বিসদৃশ হয়ে ওঠে। তবে সেই রিক্ততা পূর্ণ করে দেয় চিত্রশিল্পী অহীন্দ্র দাসের অবয়বধর্মী জ্যামিতিক অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টের অপূর্ব প্রচ্ছদ। নানাবিধ বিষয়ের উপর লেখা মোট ২১টি প্রবন্ধের সংকলন এই গ্রন্থটি। একজন সাধারণ মানুষের চোখে দেখা হালহকিকত, একজন বিশ্লেষকের চোখে দৃশ্যমান ঘটনাবলি ও চিন্তার ফসল প্রতিটি নিবন্ধ - যেখানে রয়েছে ভাষা-সাহিত্য, ভ্রমণ, বিজ্ঞান, অধ্যাত্মবাদ, মনীষীস্মরণ তথা দেশ-বিশ...

কাজি নজরুল ও বন্দে মাতরম

আজকের দিনে ভারতের জাতীয় সংগীত কোনটি এ নিয়ে কারও কারও মনে একটি ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘জনগণমন অধিনায়ক...’ গানটিকেই জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া ও মানা হতো। অপর দিকে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্‌...’ গানটিকে জাতীয় গান বা স্তোত্র হিসেবে মানা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে শেষোক্ত গানটিকে অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করায় এমন ধোঁয়াশার সৃষ্টি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রথমেই সন্দেহের নিরসন করতে বলে নেওয়া ভালো যে পরিস্থিতি একই আছে। উভয় গানই পূর্ববৎ বহাল আছে। বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম্‌...’ গানটি নিয়ে কিছু বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনগন এই গানে দেবদেবীর বন্দনা থাকায় এটা গাইতে তাঁদের আপত্তি জানিয়েছেন। এ নিয়ে দেশভর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে গানটির প্রথম তিন স্তবক কিন্তু শুধুই দেশজননীর বন্দনা। এবার কেউ কেউ বলছেন দেশকেও মা হিসেবে বন্দনা নাকি ইসলাম বিরোধী। দেশকেও তাই বন্দে মাতরম্‌ বলা যাবে না। এখানেই সমস্যা। এখানে ধর্মের বেড়াজাল থেকে সবাইকে...

রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত স্মরণ সংখ্যা ‘আলোহাওয়া’

একটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটপত্রিকা হচ্ছে সমাজের সাহিত্যদর্পণ । শুধুই সমকালিক নয়। যুগান্তরের ভাষাসাহিত্য ও তার যুগন্ধর স্রষ্টাদের সঙ্গে সমকালকে পরিচিত করে দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। আর একের পর এক এই লক্ষ্যেই উৎকৃষ্টতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি শহর থেকে প্রকাশিত ‘ সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ’ পত্রিকা ‘ আলোহাওয়া ’ । রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা - ২৫তম বর্ষ , পৌষ ১৪৩২ - ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা । কবি জিতেন্দ্র নাথ সম্পাদিত এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যিক ‘ তুষারকান্তি নাথ স্মরণ সংখ্যা ’ হিসেবে । তুষারকান্তি নাথ এমন একজন সাহিত্যিক যাঁকে আখ্যায়িত করা যায় একজন সার্বিক সাহিত্যিক হিসেবে। ধারে ও ভারে তাঁর সৃষ্টি শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয় এর বাইরেও সমাদৃত। তাঁর লেখনী রত্নপ্রসবা। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায় যে ঘরে বাইরে কিছু স্বীকৃতি , কিছু প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকলেও তাঁর লেখালেখি ও নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের গভীরতার মূল্যায়ন যতটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কিন্তু হয়নি। আসলে প্রান্তিকতা সততই লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পরিচিতির পথে এক বৃহৎ অন্তরা...

প্রখর গরজ ও শ্রদ্ধায় নিবেদিত একটি ‘সুকান্ত সংখ্যা’ - শতদল

হাতে নিলে আর পাঁচটা নিয়মিত সংখ্যা পত্রিকার মতো মনে হলেও উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ী থেকে কবি, লেখক রতন চন্দ সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘শতদল’ পত্রিকার সম্প্রতি প্রকাশিত ২৯তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৪৩৩, মে-২০২৬ (কবি সুকান্ত জন্মশতবর্ষ সংখ্যা) সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সেই মাত্র ৪২ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংস্করণ হলেও প্রচ্ছদ থেকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি যতন, গরজ ও উৎকর্ষের এক সম্ভার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেও। বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র স্থান ধরে আছেন অকালপ্রয়াত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি এবং আগত-অনাগত চিরকালীন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই কবি মূলত একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেই সাহিত্যবিশ্বে পরিচিত হলেও তাঁর কবিতায় এর বাইরেও যে রয়ে গেছে বহুমাত্রিক এক বোধ, ভাষ্য - বোধ করি তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি আজও। তবে যতই তাঁকে নিয়ে চর্চা হবে ততই এক এক করে খুলবে বিস্ময়ের ঝাঁপি এ কথা অনস্বীকার্য। এবং তারই এক নির্মোহ প্রয়াস ও প্রকাশ আলোচ্য সংখ্যাটি। সুসজ্জিত কবি-প্রতিকৃতিযুক্ত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ - সজ্জায়, বর্ণ সংস্থাপনে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য পাঠকের। সৌজন্যে মুদ...

১৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ রচনা বাংলা নাটক ও কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র

‘আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসে আমার কবিতাখানি…।’ কবিগুরু লিখেছিলেন এক গভীত প্রত্যয়কে বুকে ধরে। শতবর্ষ বড় কম কথা নয়। প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কবি শতবর্ষ বলতে এক সুদীর্ঘ কালকেই নির্দেশিত করে গেছেন বলে ধারণা করেও বলা যায় - শুধু শতবর্ষ কেন যতদিন বাংলা ভাষা, সাহিত্য বেঁচে থাকবে ততদিন তাঁর কবিতা পঠিত হবে কবি, লেখক, পাঠক, শিল্পী, সাধারণ মানুষের কণ্ঠে। একই ধারায় এ কথাও বলা যায় হলফ করে যে, যুগ যতই পালটে যাক, ভাষাবৈচিত্রের, বানানের যতই পরিবর্তন হোক, বাংলা সাহিত্যের একমেবাদ্বিতীয়ম কথাশিল্পী শরৎচন্দের সৃষ্টিকেও সর্বসাধারণ একই আগ্রহ, একই ব্যাকুলতা নিয়ে যুগ যুগ ধরে আদৃত করে রাখবে হৃদয়ের চিরন্তন ভাব, ভালোবাসা, সুখ ও দু:খের আবেগে, আবহে। প্রাথমিক ভাবে সাহিত্যের মূল ধারায় গল্প, উপন্যাস ও কবিতাই সাধারণত ভাবনায় আসে যদিও প্রবন্ধ সাহিত্য ও নাটকও সমভাবেই প্রণিধানযোগ্য। এ কথা অনস্বীকার্য। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর একগুচ্ছ উপন্যাস, ছোটগল্প, বড়গল্প ও প্রবন্ধের জন্য বহুচর্চিত ও বহুনন্দিত। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে তৎকালীন সমাজের সার্বিক রূপ তিনি অত্যন্ত কুশলী রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন। সত্যিকারের ...

মুক্তক গদ্যধর্মী কবিতার ভিড়ে অলৌকিক একাকিত্ব

কবিতা শুধু লেখার নয়। পড়ার এবং হৃদয়ঙ্গম করারও। লিখতে যেমন জানতে হয় তেমনি পড়তেও জানতে হয়। লিখতে গিয়ে যতিচিহ্নগুলির ব্যবহার যেমন জানতে হয় তেমনি পড়তে গিয়ে যতিচিহ্নের ঠিকঠাক ব্যবহার না করলে ঠকতে হয়, হরেকরকমবা হয়। কবি ও পাঠকের মধ্যে তৈরি হয় না যোগসূত্র। ফলত রসকষহীন এক ব্যর্থ পঠনে পর্যবসিত হয় কবিতা। মেলবন্ধন বিহনে হৃদয়ঙ্গমও হয় না। এক্ষেত্রে দায় উভয় পক্ষেরই। কবির যেমন কবিতাকে সর্বজনগ্রাহ্য করে তোলায় সচেষ্ট থাকা উচিত তেমনি পাঠকও নিবিড়তায়, নিমগ্নতায় কবিতা পাঠে রত হওয়া উচিত।   কবি শ্রাবন্তী দাশ পুরকায়স্থ স্বল্পশ্রুত এক নাম। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। উত্তরপূর্বের কাব্যভুবনে এই তরুণী কবি তাঁর একান্ত নিজস্ব কাব্য-আঙ্গিকে একমেবাদ্বিতীয়ম। এটা বলা যায় হলফ করেই। কিন্তু তাঁর কবিতা হৃদয়ঙ্গম করতে হলে নিমগ্নতায় ডুব দিতে হবে তাঁর কবিতার গভীরে। আবছা পঠনে পাঠক হয়তো তল খুঁজে পাবেন না কবিতার । ৬৪ পৃষ্ঠার আলোচ্য কাব্যগ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে মোট ৪৭টি কবিতা । এর মধ্যে রয়েছে ‘ অলৌকিক একাকিত্ব ’ সিরিজের একাধিক কবিতা । শুরু হোক গ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘ অভিসার ’ দিয়ে । ( ১ ) মহাপথ । ... গ্যালাক্সি মায়া ক্রশ ব...

ধারাবাহিকতার এক প্রত্যয়িত নিদর্শন - ‘সীমান্তরশ্মি’ - ১২শ সংখ্যা

মনোলোভা রঙে চিত্রিত অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টের নান্দনিক চিত্র সংবলিত একটি প্রচ্ছদ প্রথমেই নজর কেড়ে নেয় পাঠকের। ছিমছাম একটি পত্রিকা সংখ্যা হাতে তুলে নিতে দ্বিধা কাটিয়ে তোলে নিমেষে। শ্রীভূমি থেকে নিয়মিত প্রকাশিত ‘সীমান্তরশ্মি’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যার এই অপূর্ব প্রচ্ছদের সৌজন্যে মানস ভট্টাচার্য। ৭২ পৃষ্ঠার ১/৪ ট্যাবলয়েড রেগুলার সাইজের পত্রিকার অভ্যন্তরেও যে নান্দনিকতা নেই তা বলা যাবে না মোটেও। ছোটপত্রিকার সম্পাদকের দায়বদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি সামান্যকে অসামান্য করে তোলার সম্পাদকীয় প্রচেষ্টা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন সম্পাদক। গদ্য ও পদ্যের সমাবেশে পদ্যেরই পাল্লা ভারী অন্যান্য সংখ্যারই মতো। তবে ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়নি, বিশেষ করে কিছু ভিন্নধর্মী কবিতার সন্নিবেশে। সম্পাদকীয়তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আত্মোপলব্ধি রয়েছে যার সম্যক উল্লেখ প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে - ‘...আমরা খুব কম সংখ্যক লোক একটি বৃহৎ নৌকার সওয়ার, তবে আমরা এক গোষ্ঠীভুক্ত নই, আমরা বিভক্ত... বিচ্ছিন্ন এবং আত্মম্ভরি মানসিকতা নিয়ে ছোট নৌকার সওয়ার হয়ে বিশাল সাহিত্য নামক নদী পার হওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভবও। ...আমরা নিজের মুখ আয়নায় দেখি না। আমাদের অহং নি...

সমকালে প্রকাশিত রাজ্যের দুই প্রান্তীয় পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যা

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী শারদীয় উন্মাদনার মতোই নববর্ষ আপামর বাঙালির কাছে এক বুকভরা আশার উৎসব। বছরভর সুখশান্তির প্রত্যাশায় মেতে ওঠে বাঙালি আপন সৌষ্ঠবে। আর সেই সৌষ্ঠবের এক নান্দনিক এবং বিশেষ অঙ্গ হচ্ছে বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখে অসমের দুই প্রান্ত থেকে প্রকাশিত দুটি উৎকৃষ্ট পত্রিকাসংখ্যা উন্মোচিত হয়ে এসেছে পাঠকের দরবারে। আয়োজনে, প্রত্যাশাপূরণে, গরজে ও নিবেদনে যৎপরোনাস্তি সচেষ্ট থেকেছেন উভয় পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ। প্রান্তিক নিম্ন অসমের কোকরাঝাড় থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের মুখপত্র এই পত্রিকা। এবারেও ঘটেনি ব্যত্যয়। ১/৪ ক্রাউন সাইজের ৭২ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে প্রবন্ধ , কবিতা , গল্পের সম্ভার । প্রবন্ধ বিভাগের শুরুতেই রয়েছে দু’দুটি ব্যতিক্রমী পরিবেশন। সদ্য প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর-এর লেখালেখি নিয়ে রচিত দুটি প্রবন্ধই যথাযথ এবং তথ্যনির্ভর। বিপ্লব শর্মার ‘নগর-বাউল শংকর’ একটি সংগ্রহযোগ্য লেখা যেখানে প্রবন্ধকার প্রয়াত সাহিত্যিকের লেখার গভীরতা অনেকখানি ছুঁতে পেরেছেন। জয়দীপ দে’র ‘সাহিত্যিক শংকর - এক অসাধারণ কথাশিল্পী’ বহু চমকপ্রদ তথ্যে ভরপুর। নিখিল ভারত ...

স্বরচিত সাহিত্য ও আত্মোপলব্ধির অনবদ্য পুনরাবলোকন

১৫৬ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির টাইটেল ভার্সো পেজে-এ বলা হয়েছে - ‘হৃদয়ে সঞ্চিত জীবনের আরব্ধ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কাল্পনিক আখ্যানসমৃদ্ধ সুচিন্তিত রচনাসমূহের সংকলন।’ আসলে গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট অধ্যায় বা বিষয়সমূহকে স্পষ্ট দুটি ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় - স্মৃতিকথা ও স্বরচিত গল্প। গ্রন্থকারের ভাষায় একটি প্রবন্ধ/গল্প সংকলন। লেখক নির্মলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, গুয়াহাটির পাণ্ডুস্থিত বিদ্যামন্দির উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। একজন শিক্ষকের জীবন অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ অপরিমেয়। প্রকৃতার্থেই তাঁরা ‘মানুষ গড়ার কারিগর’। আর এই মানুষ গড়তে গিয়েই জীবনের বিচিত্র সব ঘটনা, পরিঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকেন তাঁরা। তারই এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন আলোচ্য গ্রন্থটি। অশীতিপর এই জ্ঞানতপস্বী বড়ই যত্ন করে ধরে রেখেছেন তাঁর জীবনের কখনও ভুলতে না পারা মুহূর্তের বহু ছবি - স্মৃতিমূলক নিবন্ধে, গল্পের ছলে। শুরুতেই ভূমিকায় গ্রন্থের নির্যাস তথা প্রয়োজনীয় তথাদি সংযোজন করে পাঠের খেই ধরিয়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, সম্পাদক প্রমোদ রঞ্জন সাহা। গ্রন্থকার সম্পর্কে কিছু কথা এখান থেকে - ‘…কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন কৃতী শিক্ষক। …অবসর প্রাপ্তির পর হাতে তুলে নিয়েছে...