শিশু ‘দমান্তী’ ঠাকুমার বড় আদরের। দমান্তী ? এ আবার কেমন নাম বলে কেউ জিজ্ঞেস করতেই পারে, তাই না ? আসলে ছোট্ট এই মেয়েটির নাম দময়ন্তী। অশীতিপর ঠাকুমার মুখে ‘দময়ন্তী’ নামটি ঠিকঠাক উচ্চারিত হয় না। তাই তাঁর মুখে পড়ে ‘দময়ন্তী’ হল গিয়ে ‘দমান্তী’। সঙ্গীসাথিদের সামনে বললে ওর লজ্জা লাগে। প্রিয় ঠাম্মার উপরও খুব রাগ ওঠে, অভিমান হয়। ‘ঠাম্মা, আমাদের ঘরে অতিথি এলে বা আমার সঙ্গের কেউ এলে আমাকে কিন্তু দমান্তী বলে ডাকবে না’ - ঠাকুমাকে বলে। ‘তাহলে কী বলে ডাকব গো ঠাকরুন দিদি ?’ - ঠাকুমাও সস্নেহে জিজ্ঞেস করেন। ‘ঠিক মতো যদি ডাকতে না পারো তাহলে ‘ময়না’ বলে ডেকো। মামণি, সোনামণি - কত নামই তো আছে। তার যেকোন একটি নাম ধরে ডাকলেই হল।’ - বলেই ঠাম্মাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঝুলতে থাকে দময়ন্তী। ঠাকুমার ফোকলা মুখে সন্তোষের হাসি। ঠাকুমার সঙ্গে দময়ন্তীর এত যে ভাব তার কারণ হল ওর মা-বাবা দুজনই চাকুরে। তাই দিনের বেশির ভাগ সময় ওকে ঠাকুমার সঙ্গেই কাটাতে হয়। ঠাকুমা রূপকথার গল্প শোনান। মা-বাবা ওর উপর রাগ করলে ঠাকুমা বাধা দিয়ে বলেন - ওর জন্য তোদের সময় কোথায়? আদর করার সময় না থাকলে বকাঝকা করার জন্য আর সময় বের করতে হবে না।’ আসলে ঠাকুমা...
উত্তরপূর্বের সমকালীন বাংলা সাহিত্য পরিমণ্ডলে অনুবাদ সাহিত্যের প্রকাশ সততই সীমিত। বর্তমান সময়ে গল্প, কবিতা আদি গ্রন্থ প্রকাশের বহর অনেকটাই বেড়ে গেলেও অনুবাদ কর্ম সেভাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায় না। এমনকী নিকটবর্তী ভাষা অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রেও বলা যায় শূন্য না হলেও হাল নিতান্তই দীন। এমনই এক সমকালে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে অনুবাদক সত্যজিৎ চৌধুরীর অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ ‘একবার শুধু রাধা হয়ে দেখো কানাই’। অসমিয়া ভাষার কবি নিবেদিতা শইকীয়ার মূল কাব্যগ্রন্থ ‘এবার মাথোঁ রাধা হৈ চোয়া কানাই’-এর বাংলা অনুবাদ। প্রসঙ্গত মূল এই গ্রন্থটি যেমন কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ তেমনি অনুবাদকেরও এটাই প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ। স্বভাবতই কিছু জড়তা থেকে গেলেও এ এক শুভযাত্রা নি:সন্দেহে। হার্ডবোর্ড বাঁধাইয়ে ৬৮ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে রয়েছে পৃষ্ঠাজোড়া থেকে একাধিক পৃষ্ঠা অবধি বিস্তৃত ৪২টি কবিতা। প্রথমেই রয়েছে দুটি শুভেচ্ছা বার্তা, ভূমিকা, কবির কথা ও অনুবাদকের কথা। এসবের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে আলোচ্য গ্রন্থের অনেকখানি নির্যাস যদিও মূল পাঠের আগে এতগুলো পৃষ্ঠার সংযোজন পাঠকের কাছে কতটুকু আরামদায়ক সে সন্দেহ থেকেই যায়। অনুবাদের...