Skip to main content

Posts

সাম্মানিক

  গতকাল সন্ধ্যায় যৌবনের অন্তরঙ্গ বন্ধু হারু অর্থাৎ হারাধন এসেছিলেন প্রভাসবাবুর বাসায় । বহুদিন আসা যাওয়া হয়নি তাই খানিক গল্পগুজব করার মানসেই আসা । সব হারাধনই কাছের মানুষের কাছে হারু হয়ে যায় একদিন । হারাধন সরকারি বড় পদে চাকরি করে রিটায়ার করেছেন দু ’ বছর আগে । এখন অবসর সময় আর কাটতে চায় না । তাই রোজ সন্ধ্যায় এদিকে ওদিকে একআধটু আড্ডা জমিয়ে সময় কাটাতে উদগ্রীব হয়ে থাকেন । পুজো আসছে । হারাধনের মন তাই বেশ ফুরফুরে । প্রভাসবাবুরও সামনেই রিটায়ারমেন্ট । এসময় হারুকে দেখে অন্তরে এক ভালোলাগা অনুভূত হলেও প্রমাদ গুনলেন প্রভাস । পুজোর আগে দম ফেলার সময় থাকে না লেখক প্রভাসের । গোটা পঁচিশেক পূজা সংখ্যায় লেখা পাঠানোর আর্জি হাতে নিয়ে আর যাই হোক খোশগল্পে মত্ত হয়ে তো থাকা যায় না । তবু ভদ্রতার খাতিরে বসতে বলেন হারুকে । প্রভাসকে লেখার টেবিলে মগ্ন দেখে হারাধনও বুঝতে পেরেছেন প্রভাসের মানসিক অবস্থা । তবু হুট করে চলেও তো যাওয়া যায় না । বসলেন তাই । – তোকে নিয়ে আমরা গর্বিত বন্ধু । অবসরের পর সময় কাটানোর তোর কোনও চিন্তাই নেই । আগে কিন্তু তোর এসব কর্মকাণ্ড আমরা জানতামই না ।   প্রভাস নিজেকে সেরকম ...
Recent posts

আফিম

যে কবিতা কোনোদিনই ছাপা হবে না আমি লিখে যেতে চাই সেই কবিতা। কীজানি হয়তো শিরদাঁড়া থাকা, এলেম থাকা কোনও সম্পাদকের কৃপাধন্য হয় কোনোদিন।   মুনি ঋষিদের এই দুর্ভাগা দেশে আজও ‘আমি হিন্দু’ বলতে ঠোঁট কাঁপে অনেকের। বড় লজ্জার এ কথা। এমন বলতে নেই। নিরপেক্ষতার পাঠ পড়িয়ে এই কথাটিই বারবার ঢোকানো হয়েছে মগজে।   সদ্যই সাড়া পড়ে গেল সারা দেশে, বাহবা বাহবা দিকে দিকে - কেউ একজন নিজেকে ধর্মহীন বলে কুড়িয়েছেন শংসাপত্র। কেউ তাঁকে নমস্কার জানায়নি, জানিয়েছে রাশি রাশি সেলাম আর স্যালুট, এই ধর্মনিরপেক্ষ দেশের কী অপার মহিমা। সেলামও নাকি আমার রঙিন হয় - লাল !! অথচ সেই ধর্মহীন মানুষটি নিজের প্রতিবেশীদের যে করে গেলেন এক বিড়ম্বনার পাত্র কেউ কি রেখেছে সেই হিসেব ? ধর্মহীনের মৃত্যুর পর কী হবে তার দেহের ? কোথা ঠাঁই তাঁর, কবর ? নাকি শ্মশান ? একদিন এ নিয়ে হবে যে কুরুক্ষেত্র তাতে সেই ধর্মহীনের আর কী ?   ভাষার আফিম খাইয়ে ধর্মকে অস্বীকার করানোর চলে আসছে যে খেলা যুগ যুগ ধরে সেই গোপন অ্যাজেন্ডা কি আমরা জানি ?   অথচ একাদশ শহিদের পুণ্যভূমির কিছু ভাষা - আফিমখোর , ব্যবসায়ী ‘করিম’-এর বদলে কবিগুরুর ‘শ্রীভূমি’কে কর...

অ-শোক পরিযায়ী

আমার বাবা কিংবা মায়ের মুখে কখনও আমি দেশ হারানোর শোকগাথা শুনিনি। দেশের বাড়ির গৌরবগাথাও নয়, দেখিনি চোখে এসব নিয়ে শোকজলের আভাস। দেখেছি নতুন মাটির প্রতি একবুক ভালোবাসা, ঘরবার সাজিয়ে তোলার অনন্য সব প্রয়াস। আমাদের বাড়িতে প্রায়ই আসত দিনমজুর - নিশিকাকা আর রূপাই মিঞাঁ। কাঁড়া-আকাঁড়া চাল থেকেই তাদেরও হতো উদরপূর্তি, যেমন হতো আমাদের।   ধার করে সংসার চালিয়েও ধার দিতেন বাবা আসত যারা কপর্দকহীন, ওপার থেকে তাড়া খেয়ে। প্রতিবেশীদের নিয়ে সুখের সংসার গড়েছিলেন তাঁরা রাত করে আড্ডা হতো, বসতো - দশ-পঁচিশের আসর। হাস্যরসের যাপন - শুনিনি কখনও হা-হুতাশ কিংবা কোনো দু:খব্যথা।   অথচ আজ কে বা কারা এসব লিখেই হয়ে উঠলেন খ্যাতনামা সব দুঁদে লেখক কবি। নিজেদের ঢোল নিজেই পিটিয়ে জীবন্ত সব ছবি। আমি বুঝি না এই রহস্য, আমি নিতান্তই অজ্ঞজন - দেশহীনতার কী ছিল কারণ, কারা ছিল দায়ী তাদের বিরুদ্ধে একটি লাইনও কি - লিখেছেন কোনো পরিযায়ী ?

চাওয়া-পাওয়া

জীবন কোনো চলচ্চিত্র নয় জেনেও , অন্ধকার ঘরে বসে পর্দায় দেখার মতো করে চেয়েছি কাউকে - খুব ভালোবেসে কোনো এক ঝড়ের রাতে , পাশাপাশি বসে কিংবা এক বৃষ্টিভেজা রাস্তায় , এক ছাতার নীচে জড়িয়ে ধরুক সে আষ্টেপৃষ্ঠে - ভয়ে , বিহ্বলতায় ।   দিনের ফরসা আলোয় কিংবা রাতের আঁধারে ঘটেনি এমন কোনোকিছুই , যা হবার তাই হয়েছে , হয়নি - যা না হবার । আমার আটপৌরে জীবনে - ঘটেনি চমৎকার আসেনি কোনো মোড় , সাদামাটা একরৈখিক ।   তবু মিথ্যে বলব না , এ জীবনে যা চেয়েছি তার কিছু আমি চাতকের মতো পেয়েছি প্রেম , ভালোবাসা , অপত্য মায়া , মোহ - দুঃখশোক নিমীলিত কিংবা উন্মীলিত চোখে - যেমন চেয়েছি ।

সাগর দেখেছি

মায়ের বুকে আর চোখে লেগে থাকা স্নেহের সাগর আমি দেখিনি কখনও আগে । আমার পার্থিব বয়স শেখায়নি আমাকে তা । এরপর কেটে গেছে বহু দিন সংগ্রামে সমরে   অবশেষে একদিন - সাগর দেখেছি আমি।   সেদিন সৈকত পার , আমি ডলফিন জলকেলিতে মায়ের আচমকা আর্তনাদে যেই ফিরিয়েছি চোখ অমনি দেখেছি তাঁর দুই বিস্ফারিত চোখে - ভেসে ওঠা যুগল সাগরের ছবি নির্নিমেষ । এক চোখে ধেয়ে আসা ফেনিল ঊর্মিমালা , আর - অন্য চোখে স্নেহের সাগরে , আমারই আমিকে।

বাতিঘর - জনমে জনমে

তার কাছে থাকা না থাকার ফারাক যেন দিশাহীন করে দেয় আমার জীবন পথ । কেন যে ছাই এমন অ - সুখ আমার - সুখের লাগিয়া , কে দেবে এই অসার কথার জবাব ? সে আসে না আমার কাছে , আমি যাই ছুটে অমোঘ অবোধ্য টানে বারবার , দুর্বার । যদি অভিমানে থাকি দূরে দূরে , ডাকে সে আমাকে নি : শব্দে , কাতরতায় খুবলে খায় এ হৃদয় । তার আলোমাখা হাসির ছটায় আমি অশরীরী ছুটি আর ছুটি প্রাণপণ - ব্যর্থতার সরণি ধরে ।   নীরবতার আগল ভাঙে সে অমোঘ আলোর ছটায় আমি ডুবে মরি আলোর সাগরে , সে দেখায় পথ জনমে জনমে প্রত্যয়ে - বাতিঘর হয়ে আমার আর জনমের , সুখযাপনের অঙ্গীকার লয়ে ।

প্রেয়সী কন্যা

দেখতে দেখতে অনেকটাই ক্লিন্ন হয়ে গেল ম্লান হতে চলেছে তার আলোর ঝলকানি । এই তো নিয়ম , এই তো ভবিতব্য তবু নিয়মের ছকে থেকে কে আর বোঝে এইসব ?   আমি আজও পাগলপারা , আলোর ছটায় দিশেহারা খুঁজে ফিরি সেই উচ্ছ্বাস , সেই উছল আলোর বন্যা যখনই আমরা সমীপবর্তী কিংবা একান্নবর্তী খানিক আমি তাকাই অপলকে , সটান কিংবা আড়চোখে চিরকালীন ব্যর্থতার কথা ভুলে , খুঁজি আর খুঁজি একটু প্রশ্রয় , ঝলকানি দিয়েও যা মিলিয়ে যায় সতত - বরাবরেরই মতো ।   তবু রোজ রাতে , কে যে আমাকে এগিয়ে দেয় আলোর কাছে , কোন সে টানে - জানি না । জানি শুধু সে কাছে এলেই আমি এক অন্য মানুষ , আর সে চিরকালীন বিস্ময় হয়ে দাঁড়ায় এসে পাশে । আমি মরি লজ্জায় , প্রেয়সী - কন্যা বাতিঘর সকাশে ।

বৃদ্ধাশ্রম

দিনভর উদ্ ‌ যাপনের ভারে ক্লান্ত দেহমন কত আর ফুটিয়ে তোলা যায় কপট হাসি এ হাসি যে হৃদয় - নি : সৃত নয় , কে তা বোঝে ? দিন জুড়ে মিছিমিছি শুধু ভালোবাসাবাসি ।   ঘর নেই যার , নেই পরিজন , নেই আপনজন কী বা তার সুখ ,  আসে কোথা থেকে হাসিমুখ ? তবু করে যেতে হয় অভিনয়, এমনই যে দস্তুর হায়, এ জীবন - পরজনে শুধু বাটয়ারা অ-সুখ ।   দিনশেষে ক’ফোঁটা চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে আসা দু:খসুখের রোমন্থন আর স্মৃতিবিভ্রম বিভ্রান্ত সম্পর্ক শুধু, সর্বনাশা বিধির বিধান ফুসমন্তর সব স্নেহ ভালোবাসা, গন্তব্য বৃদ্ধাশ্রম।

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

এই যে কৃচ্ছসাধনের পালা , অনিচ্ছায় , কপটে খয়রাত জীবনের শোধবোধ যত দায় , ধার - দেনা এ তবে কীসের আয়োজন ? ড্রপসিন বেলা ? নাকি যবনিকাপাতের ক্ষণে পিছুটান খেলা ?   এবার গ্রহণ হবে পূর্ণগ্রাস , তাই এই বর্জন - তান এমনি ফুরোয় বেলা , লেখা আছে জীবনের ধারাপাতে কিছু প্রস্তুতি তো চাই এবেলা সবুজ বিহনে কিছু সঞ্চয় রেখে দিতে হয় বিদায়ের নির্বাহ খাতে ।   তিন কাল গেছে , কাল গুনে - না গুনে , যাপনে চরিত্রের ভিড়ে ঢেকে গেছে বহু প্রশান্ত মুখ জমে আছে বুকের ভেতর অপ্রাপ্তির দীর্ঘ খতিয়ান , ভাগশেষে যতটুকু সুখ তাই নিয়ে ভাসাই সাম্পান ।