‘… প্রকৃতির ছন্দকে আবিষ্কার করেন কবি , প্রকাশ করেন ভাষায় । তবে বয়নশিল্পীর ন্যায় কারুকার্য , রসগাথা , ভাব - অনুভূতি সহ নানা প্রকার শব্দালংকার প্রয়োগ করে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণই লক্ষ্য থাকা উচিত । ’… যথাযথ লিখেছেন প্রবন্ধকার সন্তোষ কুমার দত্ত । কবির কবিতা - তা সে যতই শব্দভূষিত হোক না কেন কাব্যিকতাই কবিতার শেষ কথা এ অনস্বীকার্য যদিও অধুনা এই দিকটিতে অধিকাংশ কবি , বিশেষ করে নবীনরা খানিক উদাসীন বটে । বলতে দ্বিধা নেই এর অন্তর্নিহিত কারণ মূলত বোধজনিত অস্পষ্টতা । ‘ বিশ্বমানবতায় কবিতার অবদান ভারত থেকেই শুরু হয়েছিল ’ শীর্ষক এই একটিমাত্র প্রবন্ধই স্থান পেয়েছে শ্রীভূমি থেকে প্রকাশিত ‘ স্বরিত ’ পত্রিকার ১৮তম সংখ্যায় । প্রবন্ধের মাঝখানটায় কিছু সময় ধান ভানতে শিবের গীত থাকলেও ( লেখক নিজেও তা স্বীকার করেছেন ) একটি গোছানো প্রবন্ধ নি : সন্দেহে । ক্রৌঞ্চমিথুনের আদি শ্লোক নিয়েই মূলত এই প্রবন্ধ । এছাড়াও ১০০ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক বাঁধাইযুক্ত পত্রিকার গদ্য বিভাগে রয়েছে তিনটি অণুগল্প । মধ্যবিত্তের ঘরে কাজের মাসিদের অপরিহার্যতা প্রশ্নাতীত । তাঁদের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সাহিত্যবিশ্বে বহু গল্প লেখা হয়েছে । ব...
বানপ্রস্থ সময়, জীবন সায়াহ্নে… ইত্যাদি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ একটাই অর্থ বহন করে যা সাধারণ্যে সহজবোধ্য। তিন কুড়ি বয়স পেরোলেই মন মস্তিষ্ক জুড়ে বেজে ওঠে এক প্রস্থান সুর। পৃথিবীর বুকে গড়ে তোলা বসতবাসের সময় ফুরিয়ে আসার এক অলিখিত সংকেত অনুরণিত হতে শুরু করে চিন্তায় মননে। আশির কোঠায় পদার্পণরত কবি হরিনারায়ণ সেনগুপ্ত। ত্রিপুরার বাংলা কাব্যসাহিত্যে হয়তো সে অর্থে বহুল পরিচিত মুখ নয়। অথচ তাঁর লেখালেখির সূত্রপাত ছাত্রজীবন থেকেই। আলোচ্য গ্রন্থের মুখবন্ধে এবং ব্লার্বে আছে সে কথা। কিয়দংশ সেখান থেকেই নাহয় নান্দীমুখে তুলে ধরা যাক। মুখবন্ধে কবিকন্যা সুজাতা সেনগুপ্ত লিখছেন - ‘…ছাত্র অবস্থায় ব্রজেন্দ্র কিশোর ইনস্টিটিউশনে পড়াকালীন বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকায় লেখালেখি, ১৯৬৭ সালে ‘বিষাণ’, ১৯৬৮ সালে ‘শুক্লপক্ষ’, ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত (যৌথ উদ্যোগে) হাতে লেখা পত্রিকা ‘অগ্রণী’ সম্পাদনা এবং ১৯৭৫ সালে শিল্প সংস্কৃতি মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরিশীলিত হতে থাকে, কিন্তু সরকারি চাকুরিতে যোগদানের পর এই নিয়মিত অভ্যাসে ভাটা পড়ে। স্মরণিকা ও বিভিন্ন পূজা সংখ্যায় কিছু প্রবন্ধ, কিছু কবিতা প্রকাশের মধ্যেই লেখালেখি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। প...