‘ শরৎ ২০২৫ ’ হিসেবে গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত হয়েছে পরিচিত ধারাবাহিক পত্রিকা ‘ মজলিশ সংলাপ ’- এর ১৫৯তম সংখ্যা । পেপারব্যাকে ১ / ৮ ডিমাই ১৪০ পৃষ্ঠার মধ্যে ১৩২ পৃষ্ঠাই লেখালেখিতে সমৃদ্ধ একটি শারদীয় সংখ্যা । ধারাবাহিকতায় ও সৌকর্যে ‘ মজলিশ সংলাপ ’ বরাবরই আকর্ষণীয় । ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও । একটি শারদ উৎসব সংখ্যা কিংবা বলা যায় শারদীয় পূজা সংখ্যা পত্রিকায় যা এবং যতটা সম্ভার অ্যাভারেজ পাঠকের চাহিদার মধ্যে থাকে তার প্রায় সবটুকুই যে সন্নিবিষ্ট হয়েছে আলোচ্য সংখ্যাটিতে এতে কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয় । সুবিন্যস্ত সূচিপত্র নিশ্চিতভাবেই লেখালেখির একটি পাঠপূর্ব স্পষ্ট ধারণা গড়ে তুলবে পাঠকের কাছে । সদ্যপ্রয়াত কণ্ঠশিল্পী ‘ জনকণ্ঠ জুবিন ’ গর্গকে উৎসর্গ করা হয়েছে সংখ্যাটি । ভাষা ও মননের পারিপাট্যে সুলিখিত সম্পাদকীয়তে একে একে এসেছে শরৎ , জুবিন , শারদীয় দুর্গাপুজো ও ‘ মজলিশ সংলাপ ’ । ভেতরের পাতায় বিভাগ অনুযায়ী বিন্যস্ত নয় লেখালেখি । স্বাদ বদল হয়েছে সঘন । গদ্যের মাঝে মাঝে ‘ কবিতার বারান্দা ’ য় সন্নিবিষ্ট কবিতা ও গল্পের বাইরে একে একে এগোলে প্রথমেই থাকছে গবেষণামূলক উপস্থাপনের ধাঁচে মধুমিতা দত্তের প্রচ্ছদ...
অনেকগুলো সমতার সূত্রে আলোচনায় একযোগে উঠে এল দুটি কাব্যগ্রন্থ । উভয় কাব্যগ্রন্থের প্রকাশক ও প্রচ্ছদশিল্পী - রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ , দৈনিক বজ্রকণ্ঠ , আগরতলা । উভয় গ্রন্থই দুই ফর্মার পেপারব্যাকে জ্যামিতিক অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টের প্রচ্ছদযুক্ত এবং উভয় গ্রন্থই প্রকাশিত হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৫ - এ । এছাড়াও যেসম সমতা রয়েছে সেগুলো এরকম - উভয়ের - মূল্য ১১৫ টাকা করে , শেষ প্রচ্ছদে রয়েছে সচিত্র কবি - পরিচিতি এবং ভেতরের ফন্ট একই । ‘ অন্ধকার রাত্রির মিনার ’ নবীনকিশোর রায় ( জন অরণ্য ছেড়ে যাবো বহুদূর / নির্জন অরণ্যের সন্ধানে …) কবি নবীনকিশোর রায় ত্রিপুরার সমকালীন বাংলা সাহিত্যে কবিতার শৈলী ও আঙ্গিকে ছাপ রেখে আসছেন বহুদিন ধরে। মূলত কবি হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত এবং অধিক স্বচ্ছন্দ। তাঁর কবিতায় যে অ্যাবস্ট্রাক্ট তিনি অঙ্কন করেন তা বস্তুতই এক ভিন্নতর মাত্রায় উতরে যায় কাব্যগুণে। সূচিপত্রহীন আলোচ্য গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট ২৮টি কবিতায়ও সেই অ্যাবস্ট্রাক্ট ধরা দেয় আপন সৌকর্যে - অন্ধকার রাত্রির মিনার থেকে আকাশ কুসুম উদ্ভট ভাবনা খসে পড়লে, জ্বলন্ত সিগারেট পুড়িয়ে দেয়, দুই আঙুলে চেপে ধরা শেষ সীমানা।... ...