পিদিম শব্দটির বহু প্রতিশব্দ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কুপি, ডিবা, লম্ফ, টেমি ইত্যাদি। তবে এ অঞ্চলে কুপি কিংবা লম্ফ (ল্যাম্প) শব্দটিই সতত প্রচারিত। তা শব্দ যেমনই হোক না কেন শব্দার্থ হচ্ছে ইন্ধনে টিমটিম জ্বলতে থাকা শিখার আধার। সেই অর্থে পিদিমের শিখা বলতে বোঝানো হয়েছে প্রচারের আলো থেকে দূরে, প্রাচুর্যের যাপন থেকে সরে এক কষ্টকর যাপনের বাখান। সেই টিমটিমে আলোর দৈন্যজীবনের কথাই কবি বলতে চেয়েছেন আলোচ্য কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতায়। কবি ছন্দা দাম মূলত এমন ধারার কবিতাতেই সচরাচর স্বচ্ছন্দ। ইতিপূর্বে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থাবলিতেও সন্নিবিষ্ট হয়েছে এমন ধারারই কবিতা - সাথে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের জোরালো নিনাদ। আলোচ্য গ্রন্থে মূল ভাবধারা একইরকম ভাবে বজায় থাকলেও কোথাও রচনাশৈলীতে, শব্দ ও পঙ্ক্তির বিন্যাসে এক ভিন্ন আবহ, ভিন্ন আঙ্গিকের সন্ধান পাওয়া যায়। ছন্দকবিতার বহুল ব্যবহার হয়েছে প্রথমবারের মতো। পূর্বপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহে দু’একটি থাকলেও এবার একাধিক ছন্দকবিতার সমাহার এক অন্য মর্যাদা দিয়েছে আলোচ্য গ্রন্থটিকে। একটির বাইরে সব কবিতা এক পৃষ্ঠায় সংযত। এটাও অন্যতম ব্যতিক্রম ছন্দার কবিতার ক্ষেত্রে। এসব মিলিয়ে কি...
মানুষের জীবনে বয়স কতটা হলে অনুভূতির অনুরণন কতটা অনুভূত হয় হৃদয়ে , অনুভবের শেকড় কতটা গাঢ় হয় - তার কোনো ধ্রুবক আবিষ্কৃত হয়নি এখনও । দেহমনের কার্যক্ষমতাই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ । একজন কবি আর পাঁচজন মানুষের মতো দেখেন না পৃথিবীটাকে । কবির দূরদৃষ্টি সুদূরপ্রসারিত । স্বাভাবিকভাবেই অনুভব - অনুভূতির সম্পদে তিনি অধিকতর সমৃদ্ধ । কবি সুমি দাস অসমের শ্রীভূমি শহরের বাসিন্দা । লেখালেখির জগতে বিচরণ বহুদিন থেকেই যদিও তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি । প্রথম যেহেতু তাই স্বাভাবিক নিয়মেই জমা থাকা কবিতার সংখ্যা বেশি । ৯৮ পৃষ্ঠার কাব্যগ্রন্থের ৮৬ পৃষ্ঠা জুড়ে তাই সন্নিবিষ্ট হয়েছে ৮২টি কবিতা । প্রেক্ষাপটে ‘কবির কিছু কথা’ শিরোনামে কবি লিখছেন - ‘সাহিত্য জগতে কবিতা মনের দর্পণ। মনের অনুভূতিগুলো কলমের নিব দিয়ে অক্ষরে সাজিয়ে তোলাই আমার সামান্য প্রয়াস...। প্রথমত যবে থেকে আমি কবিতা লিখি সেগুলো একদিন যে কাব্যগ্রন্থের রূপ নেবে তা কোনোদিন ভাবিনি। বেশ কয়েকদিন থেকেই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার উৎসাহ দিয়ে চলেছেন আমার স্ব-পরিবার এবং অনেকেই, তার মধ্যে অন্যতম আমার সঙ্গী, নাহলে এই দু:সাহসের জন্ম হতো না...।’ না...