সাহিত্যের আঙিনায় কবি-লেখকদের দুটি সম্প্রদায়ে স্পষ্ট বিভাজন বিদ্যমান। আদ্যিকাল থেকেই। প্রবীণ ও নবীন। নবীনের সাহিত্যকর্ম স্বভাবতই তুলনামূলকভাবে অপরিণত ও কাঁচা। তাই সাধারণত এরা বিদ্যাজীবীদের কাছে অপাংক্তেয়। তবে যতটা না প্রয়োজন, প্রকৃতপক্ষে এরা অদৃষ্টদোষে তার চাইতেও বেশি নিন্দার্হ। একটি ব্যাপারে দ্বিমত হওয়ার উপায় নেই। তা হচ্ছে নবীন ও উঠতি কবি-লেখকদের লেখনী থেকেও মাঝেমধ্যে পরিণত ও উৎকৃষ্ট সাহিত্য বেরিয়ে আসে। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রেও বইতরণি পার হওয়া এদের পক্ষে বড্ড কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। নবীনদের দাবিয়ে রাখার এক প্রবণতা সব সময়ই প্রবীণ ও প্রতিষ্ঠিতদের মধ্যে দেখা যায়। নাম-যশ, প্রতিপত্তি এবং জীবিকাসর্বস্ব ঈর্ষাও এর পিছনে মদত জোগায়। পাঠকবর্গের মধ্যে নবীন-বিরোধী এক ধারণা গড়ে তোলে এঁরা নিজেদের পায়ের তলার জমি শক্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান অহরহ। অথচ তথাকথিত উঁচুদরের কবি-লেখকদের কলম থেকে মাঝে মাঝে এমন সব বিকৃত শব্দাবলি সমন্বিত সাহিত্য-কর্ম সৃষ্টি হয় যা কোনভাবেই প্রকৃত সাহিত্য পদবাচ্য হতে পারে না। তথাপি নামের জেরে আর প্রতিপত্তির জোরে সেসব অত্যন্ত সাড়ম্বরে প্রকাশ হয় ছাপার অক্ষরে। অর্থাৎ মোক্ষম কথা যা - তা হল প্...
মৃত্যু জীবনেরই এক অনিবার্য পরিণতি। বস্তুত মৃত্যুই জীবনকে করে তোলে সম্পূর্ণ। এই আপ্তবাক্য স্মরণে রেখেও কিছু মৃত্যু সহজে মেনে নেওয়া যায় না। আশির দোরগোড়ায় পৌঁছে ও সাহিত্য সৃষ্টি এবং সাহিত্যকর্মে কীভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সদ্যপ্রয়াত গল্পকার, লেখক মিথিলেশ ভট্টাচার্য। আচমকাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল তাঁর যাবতীয় কর্মকাণ্ড। প্রকাশিতব্য নতুন গল্পের বই, তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘পরম্পরা’ - সবকিছুকে ছেড়ে নীরবে পাড়ি দিলেন পরপারে। কিন্তু একজন সাধকের তো মৃত্যু হয় না। কথাকার, সাধক সাহিত্যিক মিথিলেশও তাই হারিয়ে যেতে পারেন না। তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমেই। উত্তর পূর্ব তথা বাংলা সাহিত্যের গল্পবিশ্বে যে অবদান তিনি রেখে গিয়েছেন তার রেশ থেকে যাবে কাল থেকে কালান্তরে। গল্প নির্মাণ ও গল্পভাবনায় মিথিলেশ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তাঁর একাকী জীবনে আপনজনের মতো যেন গল্পেরা নিজে থেকে এসে ধরা দিত তাঁকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে। এক সাধক মহাজীবনের নাক্ষত্রিক মহাপ্রস্থান। তাঁর জীবনচর্চা যেমন নিষ্কলুষ তেমনি তাঁর চিরবিদায়। নিয়মানুবর্তিতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেমন ছিল তাঁর পারদর্শিতা ঠিক তেমনি তাঁর ...