Skip to main content

Posts

ধোঁয়ায় ভর করে ওড়ে কেতাবি প্রবচন... কবিতায় উদ্ভাসিত সমকালিক চিত্রকল্প

উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা, কবি উৎপলেন্দু পাল। চিত্রকল্পের কবি। আগরতলার দৈনিক বজ্রকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক, কবি রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ দ্বারা প্রকাশিত উৎপলেন্দুর সাম্প্রতিকতম ভূমিকাবিহীন, সূচিপত্রবিহীন এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ। ৪৮ পৃষ্ঠার স্যাডল স্টিচ কাব্যগ্রন্থে রয়েছে ৫ থেকে ১৬ পঙ্‌ক্তির মোট ৪৪টি কবিতা। শেষ প্রচ্ছদে ব্লার্ব হিসেবে প্রকাশক লিখছেন - ‘…কবি তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ের বিমূর্ত চিত্র আঁকার চেষ্টা করেন। মানুষ যে স্বাধীনতা নিয়ে জন্মায় ক্রমশ তা হারিয়ে ফেলে একটা ক্ষুদ্র বৃত্তের ভেতর গুটিয়ে যায়…।’ সম্ভবত এই ভাব ও বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এমন গ্রন্থনাম। প্রকৃতার্থে প্রতিটি কবিতাতেই যেন ভেসে উঠেছে এক একটি বিচিত্র চিত্রকল্প। আর সেইসব অনিয়ম, বেহাল সমাজচিত্র থেকে বেরিয়ে আসার এক তীব্র প্রয়াস। প্রথম কবিতাতেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় - চলো একবার ধ্যান করতে বসি/ ক্লান্ত যাপনের ক্ষতচিহ্নগুলি ফেলে এসে/ শরীরকে টেনে নিয়ে বসাই কোনো নির্জন উপদ্বীপে.../ মুণ্ডিত মস্তকে ডুব দিই কালের ত্রিবেণীসঙ্গমে/ চলো অন্তত একবার ধ্যান করতে বসি। (কবিতা - চলো ধ্যান করতে বসি)। আসলে কবি নিজেই কিছুটা ...
Recent posts

সমৃদ্ধ অতীতের শ্রমসাধ্য পুনরাবিষ্কার ও পুনর্মূল্যায়ন

তত্ত্ব ও তথ্যের যথেষ্ট জ্ঞান বা সম্ভার না থাকলে প্রবন্ধ সাহিত্যের অঙ্গনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বড় সহজ কথা নয়। বিষয়ভিত্তিক তথ্যের উপর যথোচিত প্রজ্ঞা এক্ষেত্রে এক অতি আবশ্যকীয় মাপকাঠি। আর প্রবন্ধ সংকলন যাঁর প্রকাশিত হয় তাঁর চর্চা ও মেধা কতটুকু বিকশিত হলে এমন কার্য সম্পন্ন হয় তা অতি সহজেই বোধগম্য। কবি, লেখক গোপাল চন্দ্র দাসের সদ্যপ্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলনটি উপর্যুক্ত যাবতীয় মাপকাঠিকে ছাড়িয়ে গেছে অনায়াসে। লোকসংস্কৃতি বিষয়ক ৮টি প্রবন্ধযুক্ত ১২৮ পৃষ্ঠার সংকলন গ্রন্থে এমন একটি প্রবন্ধ আছে যার ব্যাপ্তি ৪৮ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ বলা যেতে পারে একটি তিন ফর্মার একক গ্রন্থই হয়ে উঠতে পারত এই প্রবন্ধটি। বিশেষ করে আজকের দিনে যখন দেখা যায় ৪৮ পৃষ্ঠার কবিতা কিংবা অণুগল্পের সংকলন প্রকাশিত হচ্ছে আকছার। ব্লার্বের প্রথম ফ্ল্যাপে অত্যন্ত গোছানো এবং সার্বিক একটি লেখক পরিচিতি থাকলেও ব্লার্বের দ্বিতীয় ফ্ল্যাপ ও শেষ প্রচ্ছদ খালি থেকে গেছে। কোথাও প্রকাশকের তরফে গ্রন্থ সম্পর্কিত তথ্যাদি সন্নিবিষ্ট করা যেত। অবশ্য এর পরিবর্তে গ্রন্থের নান্দীমুখেই রয়েছে ‘প্রকাশকের কথা’ - যেখানে বিশিষ্ট লেখক অমিত চট্টোপাধ্যায় লিখছেন - ‘...লেখার মধ্যে...

সার্ধশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভাষা-সাহিত্য বিষয়ক আত্মসমীক্ষায় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

যুগ যুগ ধরে চিরন্তন বাঙালি পাঠক সমাজে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একচ্ছত্রভাবে যে সিংহাসনে আসীন হয়েছিলেন এবং অবস্থান করছেন সেই উচ্চতায় আজও কেউ পৌঁছোতে পারেননি, এ কথা বলা যায় হলফ করে। গত একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাষা পালটেছে, বানান, গদ্যরীতি সবই পালটেছে তবু নিমগ্ন পাঠককূলের হৃদয়তন্ত্রের প্রতিটি ঝংকারে গল্পকার, উপন্যাসকার শরৎচন্দ্রের অমর সাহিত্যকীর্তি প্রতিক্ষণে অনুরণিত হয় - আজও, আবহমান কাল ধরে। নিখাদ সরল বাক্যের সমন্বয়ে রচিত তাঁর সব অমর কীর্তি বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে এক অমূল্য সম্পদ। সমকালিক সমাজ ব্যবস্থাকে বাচনশৈলীর আঙ্গিকে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন যা চিরকালীন। তাঁর সৃষ্ট একাধিক চরিত্র আজও অক্ষয় হয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের নিমগ্ন পাঠকের মনমানসে। তাঁর ‘মহেশ’ গল্পের গফুর চরিত্রের শেষ সংলাপ আজও অশ্রূভারাক্রান্ত করে তোলে পাঠককে।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক সাহিত্যিক হিসেবে শরৎচন্দ্র আপন সাহিত্য রচনায় যে অসাধারণত্ব এবং স্বাতন্ত্র্যের সৃষ্টি করে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে প্রতিটি বাঙালির সাহিত্য উপলব্ধি এবং সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রটিকে পরিপূর্ণতায় ভরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এখনও অ্যাভা...

কৃশতনু হলেও কেতায় প্রকাশিত ১৬০তম সংখ্যা ‘মজলিশ সংলাপ’

‘ নবর্ষায় স্বস্তিসুখের ঝমঝম বারিধারার মতোই নববর্ষ আবহমান বাঙালির জীবনে বয়ে আনে এক অন্তর্লীন সুখানুভূতির দমক । জীবনে আধুনিকতার ছাপ যতই পড়ুক , যতই আসুক বেলাগাম পরিবর্তনের ঢেউ , চিরন্তন সংস্কারবোধ ও আত্মগরিমার , আত্মোপলব্ধির , আত্মগত যাপনের নির্ঘণ্টযাপন এক ভিন্নতর সন্তুষ্টির জন্ম দেয় হৃদয়ে । আসন্ন বা আগত বৈশাখ তাই অজান্তেই যেন উদ্ ‌ বুদ্ধ করে , উজ্জ্বলিত করে আমাদের বোধের জগৎ । আমাদের অস্থিমজ্জায় সযত্নে লালিত উদ্ ‌ যাপন তাই অবধারিত হয়ে ধরা দেয় মনন জুড়ে । হিন্দোল জাগে মনে , এক নূতনত্বের অদেখা আনন্দে । পুরোনো দু : খব্যথাকে দূরে সরিয়ে নূতনের আবাহনে এক সুখযাপন যেন প্রতিবিম্ব হয়ে জায়গা করে নেয় চোখের মণিতে …. । ’ - এভাবেই নান্দনিক ও ললিত সৌন্দর্যে লিখিত সম্পাদকীয় , ‘ মজলিশ সংলাপ ’ পত্রিকার ধারাবাহিক সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে একের পর এক সংখ্যায় । আর শুধু সম্পাদকীয়ই কেন , সুচয়িত রচনাসম্ভারও এই পত্রিকার নিয়মিত অন্তর্ভুক্তি । একে একে ১৬০তম সংখ্যাও প্রকাশিত হয়ে গেল কিছুদিন আগে - ১৪৩৩ নবর্ষ সংখ্যা হিসেবে । পলাক্ষী দাসের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদচিত্রটিও ঠিক ততটাই নান্দনিক । সম্ভার বলা...

স্বাধীনতা আমাদের ঈশ্বর - আমাদের ভালোবাসা

দ্বিশততম বর্ষে আজও নমস্য ও সমান প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন কবি ও গদ্যকার রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিশেষত একটি কালজয়ী কবিতার জন্য। ‘স্বাধীনতা-সঙ্গীত’ শিরোনামে যে কবিতাটি তিনি লিখে গেছেন তাতে একাধারে নিহিত রয়েছে স্বাধীনতার যন্ত্রণা, মন্ত্র ও স্পৃহা। বস্তুত স্বাধীনতা এমন এক শব্দ যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তাবৎ বিশ্বের প্রাণীকুলের মনন-চিন্তনে থাকা এক অদম্য স্পৃহা, আপন ইচ্ছা অনুযায়ী বেঁচে থাকার মন্ত্র। ব্যক্তিগত জীবনে যেমন প্রতিটি প্রাণীই স্বাধীনতাস্পৃহ তেমনি সামাজিক জীবনেও স্বাধীনতা এক অপরিহার্য প্রাপ্তি। আর সামাজিক স্বাধীনতা তখনই আসে যখন নিজ যাপনভূমি স্বাধীন থাকে। আমাদের স্বাধীন ভারতবর্ষের বয়স খুব বেশি নয়। এই স্বাধীনতা ছিল বিদেশি ইংরেজ শাসনের থেকে মুক্তির স্বাধীনতা। দীর্ঘ প্রায় দুশো বছরের পরাধীনতার গ্লানি, দুর্ভোগ ও অত্যাচার সইতে হয়েছে ভারতবাসীকে। কত প্রাণ ঝরে গেছে অকালে। এই পরাধীনতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে যেমন রাজরোষে পড়েছিলেন অনেক অনেক সংগ্রামী, বিপ্লবী, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী তেমনি অকথ্য অত্যাচারের বলি হয়েছেন অগণিত সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতা একদিনে আসেনি। দীর্ঘকালের লড়াইয়ের ফসল এই স্বাধীনতা। আজ অ...

বনের পাখি

মনোময় বসন্তের প্রারম্ভে চমৎকার এক কবিতার আসর বসেছে প্রকৃতির বনময় অঙ্গনে। উৎফুল্ল আগত অতিথি কবি সাহিত্যিকবৃন্দ। এতদিন ধরে মঞ্চে কবিতা পাঠ করেই সবাই অভ্যস্ত, এবং কিছুটা বিধ্বস্তও। শহর থেকে একে একে সংকীর্ণ হয়েছে এখানে পৌঁছানোর পথ। শেষটায় কিছুটা পথ পায়ে হেঁটেই তাই কবিতাঙ্গনে হাজির হয়েছেন সবাই। চারধারে অসংখ্য জানা অজানা গাছগাছালির সবুজাভা ও সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের গন্ধে এক স্বর্গীয় পরিবেশ। একটি কোকিল অনেকক্ষণ ধরেই সুললিত কণ্ঠে বসন্তের বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছিল চরাচরে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক ঘোষণা করলেন - ‘আমাদের আজকের এই আয়োজনে প্রথমেই আমরা মঞ্চে আহ্বান জানাচ্ছি এ অঞ্চলের উঠতি প্রজন্মের খ্যাতিমান কবি অনিরুদ্ধ শর্মাকে।’ দর্শকাসনে সামনের সারিতে নামিদামি কবি, পিছনে নবাগতরা। অনিরুদ্ধ পড়লেন তাঁর কবিতা। আধুনিক কবিতা - বলা ভালো অত্যাধুনিক কবিতা, এআই ঋদ্ধ হাইটেক কবিতা। শুনলেন সবাই - শব্দের কারিকুরি, বলা ভালো জারিজুরি। অধিকাংশেরই মাথার উপর দিয়ে গেল। বনের ঝিঁঝি পোকার একটানা শব্দের মতোই শব্দের অনুরণন বাজতে লাগল মস্তিষ্কে। মনে মনে একেক জন একেক রকম বিশ্লেষণ করছেন কবিতার। তাঁদের দিকে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ এক রহস...

আমরা মুখোমুখি মোমবাতি আর বিচারের বিস্মিত দূরত্বে... পরাবাস্তব কবিতায় বাস্তবের পোস্টমর্টেম

কার আবেগ কার অন্ত্যমিলে হাত বুলাই কার পথের পাশে সন্ধ্যাকে টেনে নামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি অনন্ত অপেক্ষার মতো পেপারব্যাকের ফিসফিস শব্দ কানে আসে অসংখ্য নগর বন্দর অরণ্য নদী আমার উপকূলে নোঙ্গর তোলে লোহার শেকল জোনাকি হয়ে রাত জাগে পোতাশ্রয় চুপ করে থাকে (কবিতা - নীরবতার রং কালো) সহস্র কথা-ব্যথা-উচ্চারণের অভীপ্সা নিয়ে চুপ করে থাকে পোতাশ্রয়। কবিও কি তেমনই ? এমনই প্রশ্নের সামনে কবি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন সমবেত পাঠকমণ্ডলীকে। ছত্রে ছত্রে, স্তবকে পঙ,ক্তিতে অগুনতি হ্যালুসিনেশন আর পরাবস্তুবতাকে মিশিয়ে দিয়ে কবিতার নতুন সংজ্ঞা গড়তে চেয়েছেন কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য। তাঁর সাম্প্রতিকতম কাব্যগ্রন্থ ‘পোতাশ্রয়’-এর প্রতিটি কবিতার প্রতিটি লাইন এক একটি জিজ্ঞাসা, এক একটি সত্যান্বেষণ, এক একটি ট্যাগলাইন হয়ে উঠেছে, যারা আঙুল উঁচিয়ে প্রশ্ন করে যায় সমবেত নাগরিককে। বস্তুত গ্রন্থের অন্তর্গত প্রতিটি কবিতা নিয়ে এক একটি আলাদা আলোচনা হতে পারে, হতে পারে এক একটি স্তবক কিংবা পঙ্‌ক্তি নিয়েও। আধুনিক কবিতার অবোধ্যতা কিংবা শব্দের নিষ্ফল মাথা কুটে মরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কোথাও, বরং প্রতিটি কবিতাই বিঁধে যায় মননে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে। হ্যা...

পড়তিবেলার যাপনকথায় সমৃদ্ধ ও সংগ্রহযোগ্য সংকলন

উত্তরপূর্বের সাহিত্য ভুবনের বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা প্রকাশে ‘সেবা’ এক নিয়মিত নাম। কর্মকাণ্ডের বিপুলতায় যুগ্ম সংখ্যা হিসেবেই বছরে এখন একটি করে এই পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকতা মেনে। শ্রীভূমি থেকে ‘সেবা - এ হেল্প এজেড গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত বরিষ্ঠ নাগরিকদের প্রতি নিবেদিত’ ‘সেবা পত্রিকা’ যেখানে, সেখানেই রয়েছে বৃদ্ধাবাস ‘বেলাভূমি’ - যার পরিচালনায় ও দেখভালে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন সমাজসেবী ও কবি, লেখক অপর্ণা দেব। ‘সেবা’ পত্রিকাটি বিষয়ভিত্তিক। বরিষ্ঠ নাগরিকদের সুখদু:খ, জীবন যাপন, আশা প্রত্যাশা নিয়েই সব রচনা। পত্রিকার ৩৩/৩৪ যুগ্ম সংখ্যা (আশ্বিন ১৪৩২, অক্টোবর ২০২৫) প্রকাশিত হয়েছে যথাসময়েই। স্বভাবতই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে ‘সেবা’ এখন আর ছোট্টটি নেই। গত সতেরো বছর ধরে পত্রিকার প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার ধারাবাহিকতায় এতে সন্নিবিষ্ট হয়েছে নানা আঙ্গিকের বহু লেখালেখি। সেখান থেকেই ৫০টি ছোটোগল্প বাছাই করে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সংকলন - ‘বেলাশেষের নীলাকাশ’। নিঃসন্দেহে এক অনন্যসাধারণ প্রয়াস ও প্রকাশ। এই পরিসরে প্রকাশকের তরফে ব্লার্বে সন্নিবিষ্ট হয়েছে প্রেক্ষাপট সহ যে গ্রন্থ পরিচিতি তার কিয়দংশ মোটেও অ...

অণুগল্পে উদ্ভাসিত অনুভূতি, অনুভব

বাইরের প্রচ্ছদ, ভিতরের কাগজ, ছাপা, অলংকরণ সব মিলে পাঠকের ‘প্রথম দৃষ্টিতেই প্রেম’-এর ছোঁয়ায় নন্দিত হতে বাধ্য উন্নয়ন সংঘ, আগরতলা থেকে প্রকাশিত ‘স্বরবর্ণ’ পত্রিকার প্রথম বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা (নভেম্বর ২০২৫) - ‘নির্বাচিত অণুগল্প’ সংখ্যাটি। সাদেক মুকুল-এর প্রচ্ছদ ও সম্পাদক সুমিতা দেব-এর নামলিপি ও রংবাহারি প্রচ্ছদ রূপায়ণ অনায়াসে নজর কেড়ে নেবে পাঠকের। ভেতরের পাতায় চোখ রাখলে প্রথমেই রয়েছে ‘কথাপৃষ্ঠা’ শিরোনামাঙ্কিত সম্পাদকীয় যেখানে বর্ণিত কথা সহজেই খেই ধরিয়ে দেয় পাঠ-সূচনার - ‘উপন্যাস, গল্প-ছোটোগল্পের পর অণুগল্প এখন বাংলা কথাসাহিত্যে একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় ধারা। অনেকটা হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার মতো - বাঁশির সুরে সে আমাদের মন-মননকে ছুঁয়ে যায়। একটিমাত্র ঘটনা বা অনুভূতিকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সম্পূর্ণ গল্পের প্রকাশই হল অণুগল্প। তাছাড়া খুব কম শব্দে লেখা আমাদের জীবনের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরাই অণুগল্পের অন্যতম গুণ। ছোট্ট আকারে লেখা হলেও থাকে একটি বিশেষ অনুভূতি - যা সহজেই হৃদয় স্পর্শ করে - পাঠকের অনুভব ও উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সাহায্য করে। …ত্রিপুরার লেখক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিকদের কলমে এই অণুগল্প সংখ্যা যেমন স...

উত্তর ত্রিপুরার দুটি ছোটপত্রিকার বিশেষ সংখ্যা

দশকের পর দশক ধরে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর , কদমতলা ও অন্যান্য স্থান থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে বহু ছোটপত্রিকা । এক সময় ‘ কবির শহর ’ বলেই পরিচিত ছিল ধর্মনগর । সেখান থেকেই এবছর মে মাসে পনেরোটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একযোগে উন্মোচিত হয়েছে একাধিক পত্রিকা । এক অনন্য ঘটনা নি : সন্দেহে । সেই ধর্মনগর থেকেই একসময় প্রকাশিত হতো প্রাবন্ধিক মন্টু দাস সম্পাদিত ‘ কিরাতভূমি থেকে ’ পত্রিকাটি । মাঝে বহুদিন বন্ধ থাকার পর এই অনুষ্ঠানে ফের প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকাটির ‘বিশেষ রবীন্দ্র সংখ্যা ১৪৩৩’। একই সাথে কবি নাট্যকার নিবারণ নাথ সম্পাদিত পত্রিকা ‘নীলকণ্ঠ’-এর ১৯শে মে ২০২৬ সংখ্যাটিও প্রকাশিত হয়। আলোচনার টেবিলে একযোগে উঠে এল পত্রিকাদুটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত অবলোকন।   কিরাতভূমি থেকে হিন্দু পুরাণ ও মহাভারত তথা বিভিন্ন গেজেট অনুযায়ী , কিরাতভূমি বলতে মূলত পূর্ব হিমালয় ও নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে নির্দেশ করা হয়েছে । এর মধ্যে নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকা , ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (যেমন আসাম , ত্রিপুরা) এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ (যেমন জলপাইগুড়ি , প্রাচীন দিনাজপুর ইত্যাদি) ও রংপুর অঞ্চল প্রাচীনকা...

পঞ্চাশটি অণুগল্পের অনবদ্য নিবেদন - ‘দোপাতা’

বাংলা ভাষা - সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশেও সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছে উত্তর ত্রিপুরা জেলা । নৈসর্গিক জম্পুই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জেলার একটি প্রত্যন্ত শহর কাঞ্চনপুর । সেখানেই বাস কিছু নিমগ্ন কবি - লেখকের যাঁরা প্রতিনিয়ত চাষাবাদ করে চলেছেন ভাষাসাহিত্যের । কথাকার দিব্যেন্দু নাথ তাঁদেরই একজন । পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে নিহিত সৌন্দর্য ও তার গা বেয়ে নেমে আসা জলধারার প্রেমে আকণ্ঠ মজ্জিত এই মানুষটি শুধুই কথাকার নন , একজন কবিও । তাঁরই সম্পাদিত পত্রিকা - ‘ দোপাতা ’, যার ট্যাগলাইন হচ্ছে - ‘ দোপাতা একটি পাহাড়ি ছড়া … বহতা জীবনের ভাষাপাখির গান …’ । এখানে ছড়া অর্থে নিশ্চিতই ক্ষীণতনু জলধারার কথাই বলা হচ্ছে । সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার নবম বর্ষ , ষষ্ঠ সংখ্যা ২০২৬ । বিশেষ অণুগল্প সংখ্যা । সম্পাদকীয়তে এ নিয়ে আছে কিছু মনোরম কথাবাক - ‘… জম্পুই পাহাড় - এর নীল দুহিতা , প্রকৃতির সিংহাসনে বসে শিক্ষায় - দীক্ষায় রাজরানি । সে আলো শুষে নিলে কাঞ্চনপুরের আলো কমে যায় । শব্দও যেন নাদ হয়ে হাঁটে পাহাড়ঢালে । তার সুরেলা গন্ধ বেয়ে যে ক্ষীণধারাগুলি উপত্যকার খ...

ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত উত্তর ত্রিপুরার দুটি ছোটপত্রিকা

একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা বড় সহজ কথা নয় । গুচ্ছের কাঠখড় পুড়িয়ে অলাভজনক এই প্রক্রিয়ায় লেগে থাকা - সে এক গভীর মননশীলতা ও গরজের আন্তরিক প্রয়াস নি : সন্দেহে এবং স্বভাবতই প্রশংসার্হ । ত্রিপুরার সাহিত্য জগতে অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি উত্তর ত্রিপুরা জেলা থেকেও নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে একাধিক সাময়িকী । সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের নিরলস সাধনা ও সাহিত্যমনষ্ক তাগিদকে কুর্ণিশ জানাতেই হয় । সম্প্রতি একই দিনে প্রকাশিত হয়েছে বিদ্যুৎ নাথ সম্পাদিত ‘ জ্যোতি ’ পত্রিকার ১ম বর্ষ , দ্বিতীয় সংখ্যা এবং মধুমঙ্গল সিনহা সম্পাদিত ‘ মঙ্গলদীপ ’ পত্রিকার ২২তম বর্ষ ১ম সংখ্যা । ক্ষীণতনু উভয় পত্রিকায় ধরা আছে ভাষাসাহিত্যের প্রতি এক নিরলস দায়বদ্ধতা।   জ্যোতি পৃষ্ঠাসংখ্যার হিসেবে প্রথমেই আসে ‘জ্যোতি’ পত্রিকাটি। সরসপুর, কদমতলার জীবন জ্যোতি ক্লাবের সভাপতি হচ্ছেন এই এক ফর্মার স্যাডল স্টিচ পত্রিকার সম্পাদক বিদ্যুৎ নাথ। পত্রিকাটি একাধারে ক্লাবের মুখপত্রও বটে। স্বভাবতই দুটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পত্রিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে দুটি প্রতিবেদন। ক্লাব প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে - সভাপতির ক...