জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছেন নিরুপমা। শেষবর্ষার এক পশলা তুমুল বৃষ্টি যেন পৃথিবীর যাবতীয় মালিন্য ঘুচিয়ে দিয়ে এক স্নিগ্ধ শরতের সূচনায় মেতেছে। একাকী বসে বৃষ্টিকথা শুনছেন নিরুপমা। বৃষ্টি এসে যেন শুনিয়ে যায় জীবনেরই কথা। জীবনের কথা কেউ ভোলে না কখনও । বস্তুত বয়স যতই এগোয় , স্মৃতি ততই ধাওয়া করে পিছনপানে । এ এক আশ্চর্য বীক্ষণ । পিছিয়ে যেতে যেতে পৌঁছে যায় একেবারেই গোড়ার দিকে - ছ - সাত বছরের শৈশব যাপন যেন আয়না হয়ে নিতিদিন দর্শন করায় জীবনছবি । বাস্তবে ফিরে যাওয়া কিংবা ফিরে দেখার কোন সম্ভাবনা নেই জেনেও এই অমূল্য দর্শনে মজে যেতে ইচ্ছে করে প্রতিনিয়ত । এই যাপনে কোনো দুঃখব্যথার উপস্থিতি নেই । শুধুই সুখবাখানের স্ন্যাপশট । নিরুপমার তখন পঁচিশে পা । স্পষ্ট মনে আছে, থাকারই কথা। দাদাদের সংসারে বাবাহীন নিরুপমা তখন নিজেকে একটু একটু করে মেলে দিচ্ছে সর্বজনীন করে। বৃদ্ধা, রোগাক্রান্ত মা আর স্নেহময়ী বউদির তত্ত্বাবধানে বৃহৎ জগৎসংসারে নতুন দায়ভার সামলানোর স্বপ্ন এসে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে নিরুপমার মনোজগতে। মা অনেকটা সংযত বাক্যে আর বউদি খোলামেলা কথায় সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছেন নিরুপমার স্নায়ুতন্ত্রে।...
‘দুপুরের গনগনে সূর্য ঢলে পড়ল অনন্ত অতলে ঠিক অসময়ে । উত্তাল ঢেউয়ে কেঁপে উঠল মহাসমুদ্র , কেঁপে উঠল আকাশ - বাতাস , অপ্রত্যাশিত দু : সংবাদে । … বুক ভরা কান্না নিয়ে সমদলে গেয়ে উঠল লক্ষ জনতা প্রিয়জন বিয়োগে । কেঁপে উঠে চারিধার সেই মায়াবিনী রাতে । অন্ত হল একটি যুগ , অন্ত হল এক মহাজীবনের । ’ মধ্য অসমের লংকা থেকে প্রকাশিত ‘ শতরূপা ’ পত্রিকার শারদ সংখ্যা ১৪৩২ - এর প্রথম পাতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে মোট ২৭ লাইনের একটি কবিতা উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্যপ্রয়াত , অকালপ্রয়াত জনকণ্ঠ জুবিন গার্গের উদ্দেশে । রচনাকার সম্পাদক মনোজকান্তি ধর । পত্রিকার এই পঞ্চদশ সংখ্যাটিতে লেখালেখির এক ভারসাম্যতা লক্ষ করা যায়। ৫টি প্রবন্ধ, ২টি ভ্রমণ কাহিনি, ১টি রূপকথার গল্প, ৪টি ছোটগল্প, ১টি অণুগল্প ও ১৫জন কবির কবিতায় সেজে উঠেছে পেপারব্যাক প্রচ্ছদে ১/৪ ক্রাউন সাইজের এবারের ৬৪ পৃষ্ঠার শারদ সংখ্যা। শারদীয় উৎসবের সঙ্গে প্রকৃতির যে অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক রয়েছে তারই প্রেক্ষিতে প্রকৃতি ধ্বংস ও শরতের হারানো মাধুর্য নিয়ে এক চিন্তাশীল সম্পাদকীয়তে সমৃদ্ধ হয়েছে পত্রিকা সংখ্যাটি। নৃপেন্দ্রলাল দাস-এর ‘শাবরোৎসব’ দিয়ে শুরু হয়েছে প্রবন্ধ বিভাগ। অপেক্ষা...