Skip to main content

সমকালে প্রকাশিত বরাকের দুই প্রতিবেশী সাহিত্য পত্রিকা সংখ্যা


বরাকের দুই প্রধান শহর - শিলচর ও শ্রীভূমি জন্মগত না হলেও স্থানিক সূত্রে দুই যমজ শহর লেখালেখি, পত্রপত্রিকার ধারাবাহিকতায় সমৃদ্ধ এই উপত্যকার দুটি পত্রিকা সম্প্রতি শিলচর থেকে প্রকাশিত হয়েছে স্বাগতা চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকার শারদীয় ১৪৩২ সংখ্যা এবং শ্রীভূমি থেকে নারায়ণ মোদক সম্পাদিত সীমান্তরশ্মি পত্রিকার একাদশ সংখ্যা, বইমেলা সংখ্যা বিষয়ে, নিবেদনে হাতে তুলে নেওয়ার মতো সংক্ষেপিত ১/৪ ট্যাবলয়েড সাইজের এবং ১০০ টাকা মূল্যের উভয় পত্রিকায় রয়েছে মানসম্পন্ন লেখালেখির সমাহার 
কল্পতরু
৫৬ পৃষ্ঠার পত্রিকা সংখ্যায় রয়েছে গদ্যপদ্যের সুষম সম্ভার মাতৃ আবাহন ও শরতের উল্লেখের পাশাপাশি সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় মূলত স্থান পেয়েছে জনকণ্ঠ সংগীত শিল্পী জুবিন গার্গের অস্বাভাবিক অকালমৃত্যুর প্রসঙ্গ ও শোকগাথা সংখ্যাটি উৎসর্গও করা হয়েছে এই অমর শিল্পীকেইতবে সবচাইতে আকর্ষণীয় এর প্রচ্ছদবস্তুত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ পত্রিকাকে করে তোলে পাঠকপ্রিয়শিকাগো মূলের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী লিজ ফ্লোরস-এর সাড়া জাগানো হিউমান ফেস্অ্যাবস্ট্রাক্টের আদলে রূপাঙ্কিতা রায় চৌধুরীর প্রচ্ছদও স্বভাবতই পত্রিকাটিকে করে তুলেছে নান্দনিক
সুচিপত্র অনুযায়ী ভেতরের পৃষ্ঠাসমূহে প্রথমেই তিনটি স্মৃতিচারণমূলক লেখার বাইরে দুই ভাগে রয়েছে একাধিক কবিতা, দুই ভাগে রয়েছে চারটি গল্প এবং রয়েছে একটি মুক্ত গদ্যবরাকের সদ্যপ্রয়াত লেখক অভিজিৎ চক্রবর্তীর স্মৃতিকথা লিখেছেন কাজল দেমতাঅভিজিতের সৃষ্টিসমূহের খতিয়ান এক দলিল হয়ে রইবেতাঁকে নিয়েই ভাবে, ব্যঞ্জনায় স্মৃতিময় দিনগুলির কথা লিখেছেন সম্পাদক স্বাগতা চক্রবর্তীএছাড়া রয়েছে অভিজিৎ চক্রবর্তীর একটি কবিতাঅমর উনিশশুভব্রত দত্তের লেখাশারদীয় কিছু ভাবনাআসলে বহু দিক সামলে লেখা একটি গোছানো গদ্যশবরী চৌধুরীর অণুগল্প ‘হীরার দুল’ সুলিখিত। স্বাগতা চক্রবর্তীর ‘বুড়োর বসন্ত’ অনবিল, ফুরফুরে ভাষার বুনোটে লেখা এক নস্টালজিক মাপসই গল্পকথা। ‘অপত্য’ - প্রাঞ্জল পালের অনেকটাই বড় একটি গল্প যেখানে কয়েক প্রজন্মের টানাপোড়েন উঠে এসেছে। একটি উপন্যাসের বিষয়বস্তুকে গল্পে বর্ণনা করতে গিয়ে ছোটগল্পের সংজ্ঞা ব্যাহত হয়েছে বলে মনে হয়। শেষ গল্প মিথিলেশ ভট্টাচার্যের ‘মায়ের চোখ’। ব্যতিক্রমী অথচ মায়াময় - বিষয়ে, শৈলীতে।
কবিতা বিভাগে রয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠিত কবিদের কবিতা। স্বভাবতই এক সমৃদ্ধ বিভাগ রয়েছে সুচয়িত, সুলিখিত কবিতার সম্ভার। যাঁরা লিখেছেন - বিজয় কুমার ভট্টাচার্য, অমিতাভ সেনগুপ্ত, অশোক বার্মা, আনওয়ারুল হক বড়ভূইয়া, রবিশঙ্কর ভট্টাচার্য, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, আশিসরঞ্জন নাথ, মমতা চক্রবর্তী, ড. কস্তুরী হোমচৌধুরী, কাজল দেমতা, হাসনা আরা শেলী, যূথিকা দাস, স্নিগ্ধা চট্টোপাধ্যায় বিশ্বাস, আলপনা রায়চৌধুরী, ছন্দা দাম, ড. শ্রাবণী সরকার ও প্রণবকান্তি দাস। কবিতা বিভাগে নবীন কবিদের অনুপস্থিতি অনুভূত হয়েছে।
কাগজ, ছাপার স্পষ্টতা, অক্ষর বিন্যাস যথাযথ হলেও কিছু ছাপার বিসঙ্গতি (বিশেষ করে সূচিপত্র পৃষ্ঠায়) এবং বেশ কিছু বানান বিভ্রাট পরিলক্ষিত হয়েছে যার বাইরে চয়নে, বুননে, নান্দনিকতায় এক সার্বিক উৎকর্ষের শারদীয় সংখ্যা - ‘কল্পতরু’।
যোগাযোগ - ৯৭০৬২১৫০৩১
 
সীমান্তরশ্মি
শ্রীভূমি বইমেলায় নিয়মিত প্রকাশ এই কবিতাপত্রিকার। ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত আলোচ্য সংখ্যাটি হচ্ছে সার্বিক একাদশ সংখ্যা। নবীন প্রবীণ একগুচ্ছ কবির কবিতার বাইরেও এই পত্রিকার বিশেষত্ব হচ্ছে তার সম্পাদকীয়। আলোচ্য সংখ্যায়ও ব্যত্যয় ঘটেনি এই ধারার। এক নতুন চিন্তাপ্রসূত বিষয় উঠে এসেছে সম্পাদকীয়তে। একটি গ্রন্থের সাড়ম্বরপূর্ণ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বহিরঙ্গের চাকচিক্যের মধ্যেই কীভাবে খোদ গ্রন্থ থেকে যায় ব্রাত্য তারই এক ব্যতিক্রমী উল্লেখ।
৭২ পৃষ্ঠার আলোচ্য সংখ্যায় সন্নিবিষ্ট হয়েছে ৫৯ জন কবির পৃষ্ঠাজোড়া কিংবা পৃষ্ঠা পেরোনো কবিতা। নানা আঙ্গিকের একাধিক মানসম্পন্ন কবিতার সমাহার সংখ্যাটি।
বিশেষোল্লেখে রাখতেই হয় গীতশ্রী ভট্টাচার্য, জহর দেবনাথ, মন্টু দাস, নিবারণ নাথ, রঞ্জিতা চক্রবর্তী, জয়শ্রী ভট্টাচার্য, অরূপ কুমার ভুঞা, সুবল চক্রবর্তী, বিমলেন্দু চক্রবর্তী, ড. শমিতা ভট্টাচার্য, অভিষেক সেন, গোপালচন্দ্র দাস, গীতাঞ্জলী রায়, ছন্দা দাম, পিঙ্কু চন্দ, নারায়ণ মোদক ও পার্থ বসুর কবিতাকে।
এছাড়াও রয়েছে বিষয়ে, বর্ণনায় একগুচ্ছ কবিতা। লিখেছেন যাঁরা তাঁরা হলেন - গীতা সাহা, শিখা দাশগুপ্ত, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, সুদীপ ভট্টাচার্য, ঋতা চন্দ, গৌতম চৌধুরী, আশুতোষ দাস, শিপ্রা শর্মা, বিদ্যুৎ দাস, চান্দ্রেয়ী দেব, সুমিতা গোস্বামী, ধ্রুবজ্যোতি দাস, শঙ্করী চক্রবর্তী, বন্দনা সেনগুপ্ত, অনামিকা শর্মা, অনুপ কুমার বনিক, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রানা চক্রবর্তী, শতদল আচার্য, সৌরভ চক্রবর্তী, বাহারুল ইসলাম, সৌম্যজ্যোতি দাস, নির্মল দেবনাথ, পি কে রায়, শুক্লা মিশ্র, ক্ষিতীশ দেবনাথ, প্রতীমরাজ ভট্টাচার্য, বিজন বোস, সুমি দাস, কমলিকা মজুমদার, রফি আহমেদ মজুমদার, শিবানী গুপ্ত, শঙ্করীপ্রভা আচার্য, গীতা মুখার্জি, অনিন্দিতা চক্রবর্তী, প্রতিমা শুক্লবৈদ্য, জয়িতা চক্রবর্তী, রতন চন্দ, ডালিয়া সিংহ, রাজকুমার ধর, সমীরণ চক্রবর্তী ও সুস্মিতা দাস।
কিছু কবিতার পঙ্‌ক্তি বিন্যাস ব্যাহত হয়েছে। বানান ভুল আছে কবিতায়, শিরোনামে এবং কবিনামেও। এই বিষয়ে অধিকতর সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। ছাপার স্পষ্টতা, কাগজ অক্ষর বিন্যাস যথাযথ। বইমেলায় প্রকাশিত সংখ্যাটির বইবিষয়ক নান্দনিক প্রচ্ছদের সৌজন্যে গৌতম চক্রবর্তী (ভোলা)। সংখ্যাটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘রবিবারের সাহিত্য আড্ডার শরিক প্রয়াত সমাজসেবী প্রাবন্ধিক নির্মাল্য দাস’কে। সব মিলিয়ে বিষয়ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকাশিত নানা স্বাদের কবিতার এক সমাহার আলোচ্য সংখ্যা ‘সীমান্তরশ্মি’
যোগাযোগ - ৯৪৩৫০৭৬০৬৯
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

Comments

Popular posts from this blog

শেকড়ের টানে নান্দনিক স্মরণিকা - ‘পরিযায়ী’

রামকৃষ্ণনগর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক উপত্যকার এক ঐতিহ্যময় শহর । বিশেষ করে শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে চিরদিনই এক অগ্রণী স্থান হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে এই নাম । বৃহত্তর রামকৃষ্ণনগরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস বহুদিনের । দেশভাগের আগে ও পরে , উত্তাল সময়ে স্থানচ্যূত হয়ে এখানে থিতু হতে চাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ ও কষ্টের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে এক বিশাল বাসযোগ্য অঞ্চল । শুধু রুটি , কাপড় ও ঘরের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রই নয় , এর বাইরে শিক্ষা অর্জনের ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মমনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেইসব মহামানবেরা । ফলস্বরূপ এক শিক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যদিও উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে বেরোতে হয়েছিল নিজ বাসস্থান ছেড়ে । শিলচর তখন এ অঞ্চলের প্রধান শহর হওয়ায় স্বভাবতই শিক্ষা ও উপার্জনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হয় । এবং স্বভাবতই রামকৃষ্ণনগর ছেড়ে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন এই শিলচরে । এই ধারা আজও চলছে সমানে । শিলচরে এসেও শেকড়ের টানে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে রামকৃষ্ণনগর মূলের লোকজনেরা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক সৌহার্দমূলক বাতাবরণ । এবং সেই সূত্রেই ২০০০ সালে গঠিত হয় ‘ ...

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...