সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’।
সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।
মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটের হুমকি, সমাজে ডিভোর্সের কারণ ও প্রতিকার, পরিবার ও সংসারে ভাঙন রোধের উপায় ইত্যাদি। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে দেশ, ধর্ম, ভাষার দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সরকার গঠন তথা ক্ষমতা দখলের বিষয়টি। আলোচনায় এই বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন একাধিক বিদ্বৎজন। তাঁরা বলেন - বুদ্ধদেবের বাণী, মনুসংহিতা, কোরানের সূত্র ধরে ধর্মান্ধতা নয় বরং উপবাস, কীর্তন, শব্দব্রহ্মের আরাধনায়, আধ্যাত্মিকতায় জনজীবনের উত্তরণ সম্ভব। হিন্দু ধর্মে সহিষ্ণুতার কথা বারবার উল্লেখ আছে, কুসংস্কার থেকে মুক্তির উপায়ও বর্ণিত আছে। আত্মানুসন্ধানের জন্যই ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, ধর্মীয় মতবাদ - বলেন মধুমিতা দত্ত তাঁর লিখিত নিবন্ধে।
গুয়াহাটিতে ব্রাহ্ম সমাজের পুন:প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা। বিভেদ নয় একতা ও আধ্যাত্মিকতার পথ ধরেই উত্তরণ সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন সবাই। এমন মতবিনিময়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানান উপস্থিত বিদ্বৎজনেরা।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।


🙏
ReplyDelete🙏🙏
Deleteপড়ে ভালো লাগলো। ছিমছাম উপস্থাপনায় আলোচনা সভার মূল বক্তব্য উঠে এসেছে।
ReplyDeleteধন্যবাদ 🙏🙏
Deleteভাল লাগল কারন বিষয়টী খুবই গুরুত্ব এবং তাৎপর্যপূর্ণ ।🙏
ReplyDelete