সকাল ঠিক সাড়ে সাতটায় পাশের চেয়ারটিতে রাখা মোবাইলে অ্যালার্ম বাজতেই ধড়ফড়িয়ে উঠতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল তুষার । বয়েস হয়েছে । বয়সের কথাটা অহরহ মনে করিয়ে দেয় সোনালি । এমনিতে বলার মতো তেমন কোনও ব্যাধি কিংবা অস্বস্তি নেই তুষারের । তবু সামলে চলার বোধটা তৈরি হয়ে গেছে ভেতরে ভেতরে । চোখ খুলে তাই হাত বাড়িয়ে অ্যালার্ম অফ করে এক মুহূর্ত শুয়েই রইল । এরপরই উঠে বসল ধীরে ধীরে । পা নামিয়ে , চপ্পলটা পায়ে গলিয়ে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল । কয়েক পা এগিয়েই ফের ফিরে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে এবার গিয়ে ঢুকল বাথরুমে । এমনিতে সব সময় বাজে না মোবাইল কিন্তু বাথরুমে গেলেই কেউ না কেউ ফোন করবেই । এটা যেন নিয়ম হয়ে গেছে বহু দিন ধরে । তাই মোবাইল হাতে করে নিয়ে যাওয়াটাই শ্রেয় বলে ভাবে তুষার । যথারীতি বাথরুমে থাকতে থাকতেই বেজে উঠল ফোন । বাবলু ফোন করেছে । দাঁত ব্রাশ করতে থাকা সময়ে ফোন এলে খুবই সমস্যা হয় । অথচ বাবলুর ফোন না ধরলেও নয় । মুখের ভেতর জমে থাকা বিস্বাদটুকু বেসিনে ফেলে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বাবলুর স্বর - গুড মর্ণিং , ঘুম ভাঙল ? – হ্যাঁ , গুড মর্ণিং । – শোন্ । রুমা বলেছে সকালের ব্রেকফাস্ট আমাদের বাড়ি...
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা