Skip to main content

Posts

Showing posts with the label স্মৃতিকথা ২০

জন্মদাত্রী

বসন্ত শুধু প্রস্ফুটিল কুসুমের বেলা নয় , বসন্ত ঝরা পাতারও বেলা। ঝরা পাতারই মতো আমি যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন হয়েছিলাম এমনই এক বসন্তে। তাই বসন্ত এলেই আমার অন্তরে সৃষ্টি হয় এক শূণ্যতা , এক দুঃখবোধের পালা। এমনি এক বিশেষ উদাস বসন্তের দুপুরে আজ গিয়ে হাজির হয়েছিলাম গুয়াহাটি বশিষ্ঠ মন্দির এলাকায়। আমার ঘরের খুবই কাছে। প্রায়ই যাই। সব কিছু চেনা। বশিষ্ঠ নদীর ঝরনার মতো প্রবাহিত জলধারা আর আসা যাওয়ার পথে ঝরা পাতার উড়ে যাওয়া দেখে মনে হলো আমাদের এই জীবনটাওতো এমনি এক ধারাবাহিক ঝরে যাওয়ারই বৃত্তান্ত বৈ আর কিছু নয়। নদী , নালা , ঝরনার জল ক্রমাগত বয়ে চলেছে - নানা পথ , নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে সাগরের পানে। ঝরা পাতা বৃন্তচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ধরিত্রীরই বুকে। মানব জীবনও এমনি করে বয়ে চলে ধারা হয়ে , জীবন ধারা। বয়ে চলে  শেষ গন্তব্য পার্থিব চোখে পঞ্চভূতে , অপার্থিব মননে অজানার পানে। মন্দিরের সামনে থাকা সব দোকানপাট বন্ধ। মারণ ভাইরাসের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত মানবজাতি। বেঁচে থাকার অদম্য স্পৃহা। মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। পুজো হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু দলে দলে লাফালাফি করতে থাকা বাঁদরগুলো সব গেল কোথায় ? অন্যদিন এদের জ্বালায় ...

হারিয়ে পাওয়া

বছর পাঁচেক আগে ' নিরুদ্দেশ সংবাদ ' ধাঁচের একটি পোস্ট দিয়েছিলাম ফেসবুকের পাতায় । হারিয়ে যাওয়া বালক বেলার একটি অধ্যায়ের খোঁজে একটি পরিবারকে হাতড়ে বেড়াচ্ছিলাম গত প্রায় চল্লিশটি বছর ধরে । তখন আমার পাঠশালা জীবন । জগতের যাবতীয় জটিলতার প্রবেশদ্বারে পৌঁছইনি তখনও । গ্রামেরই এক অন্য প্রান্তে দু ' টি টিলার নীচে ছিল তাঁদের বাড়ি । তখন বুঝতাম না , এখন বুঝি কী অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল সেখানে । যেন ছবির মতো সাজানো গোছানো একটি নিটোল ছিমছাম সুখ - বনানী । পরিবারের সবাই ছিলেন আমার বড় । মাসিমা ছিলেন । আর ছিল ওরা দুই ভাই , অশোক - দা আর দীপক - দা । ছিল ওরা দুই বোন , বন্দনা - দি আর বাসনা - দি । আমার কত যে দিন কেটেছে তাদের ঘরে , তাদেরই তত্ত্বাবধানে । সকাল থেকে সন্ধ্যা । সেখানেই খাওয়া দাওয়া । দু ' ভাই এর ন্যাওটা হয়ে পিছু পিছু ঘুরে বেড়াতাম দিনভর । অশোক - দা কবিতা লিখতো । আমার হাতে কাগজ কলম ধরিয়ে দিয়ে নিজে লেগে যেত কোদাল নিয়ে সব্জি ক্ষেতের পরিচর্যায় । অনর্গল বল...