Skip to main content

গণতন্ত্র, মিথ্যাচার ও নাটক


সদ্য পেরিয়েছি আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস কিংবা সাধারণতন্ত্র দিবস কিংবা গণতন্ত্র দিবস রাজতন্ত্র আর নেই সুতরাং রাজাও নেই, প্রজাও নেই তবে প্রজা অর্থে সাধারণ লোক অর্থাৎ জনগণ অবশ্যই আছেন এবং দেশে এদেরই আধিক্য এরাই সরকার নির্বাচিত করেন এবং সেই সরকার গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশ পরিচালনা করেন সুতরাং আজ সাধারণতন্ত্র দিবস বা গণতন্ত্র দিবসের পরিপ্রেক্ষিতে আসুন একটু দেখে নেওয়া যাক আমরা সাধারণ মানুষেরা এ দেশে কতটুকু গণতান্ত্রিক জীবন যাপন করছি এবং কতটুকু গণতান্ত্রিক জ্ঞান আহরণ করেছি  

পত্র পত্রিকা কিংবা সামাজিক মাধ্যম খুললেই দেখা যায় শিক্ষিত মানুষের লেখালেখির প্রাচুর্য দুঃখজনক ভাবে এর অধিকাংশই নঞাঁর্থক এসব দেখে মনে হয় এই দেশে এই মুহূর্তে পজিটিভ বলতে কিছুই নেই একমাত্র করোনা রোগীর বাইরে একটি কথা প্রায়শঃই দেখতে পাওয়া যায় - দেশ আজ অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিংবা দেশের সামনে আজ সমূহ বিপদ অথবা দেশটাকে ওরা বিক্রি করে দিচ্ছে সরকার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এসব পেটেন্টমার্কা কিছু শব্দাবলি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে এবং আমরা এসব শিখে নিয়ে চর্বিতচর্বণ করেই যাচ্ছি পাশাপাশি আবার পরিবর্তনের দাবিও তুলছি যা কিছু পুরোনো সব বদলে ফেলতে হবে স্কুলে শিক্ষকরা ছাত্রের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোন ধরণের নির্দেশ দিতে পারবেন না, গায়ে হাত তুলতে পারবেন না, ফেল করাতে পারবেন না পরিবর্তন হচ্ছে, তবে এসব পরিবর্তন কিন্তু কোন সরকার করেনি আমরাই চেয়েছিলাম ফলে আজকের দিনে ছাত্ররা পকেটে মদের বোতল নিয়ে ক্লাসে যায় আর সুন্দরী শিক্ষিকাদের দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে কুকথা বলে বাইরে রাস্তায় বেলেল্লাপনা করে ঘুরে বেড়ানো কিশোরদের দেখেও আপনি কিছু বলতে পারবেন না কারণ সেই অধিকার আমাদের নেই এবং ওদের সেই স্বাধীনতাটুকু আমরাই দিয়েছি অভিভাকদের বক্তব্য - আমার ছেলেকে শাসন করার আপনি কে ? তাই পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে আমরা নব্য হচ্ছি পরিবর্তন এসেছে বৈকি

ফেসবুক, পত্রপত্রিকায় নির্বিচারে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার হচ্ছে এখানে আবার অশ্লীলতার সংজ্ঞা নিয়ে শুরু হয়ে যাবে কড়চা আপনি অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই একটি প্রশ্ন ধেয়ে আসবে - অশ্লীলতার সংজ্ঞা কী ? যেসব শব্দাবলি আমরা স্বল্পশিক্ষিত থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত লোকজন সরাসরি জনসমক্ষে কিংবা নিজেদের মধ্যে উচ্চারণ করি না বা করতে পারি না সেসবই হলো অশ্লীল শব্দ অশিক্ষিতদের সংখ্যা এখানে ধরছি না কারণ এদের সংখ্যা আজ দেশে প্রায় বিরল শ্লীল বা অশ্লীলের পার্থক্য বুঝতে বিশিষ্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই অথচ পণ্ডিত লিখিয়েদের বয়ানে প্রত্যন্ত সমাজে ঘরের ভেতর যেসব গালিগালাজ ব্যবহার হয়ে থাকে তাকে সমক্ষে তুলে ধরারও প্রয়োজন আছে বৈকি - এবং তাই এসব শব্দাবলির যথেচ্ছ প্রয়োগ দরকার তাদেরও আমরা অবহেলা করতে পারিনা তারাও সমাজের অঙ্গ এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে অশ্লীলকে শ্লীল বা অভদ্রকে ভদ্র হিসেবে উত্তরণের পথ না দেখিয়ে এসবের যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে কি আমরা সমাজটাকেই কলুষিত করছি না ? পরবর্তী প্রজন্মকে অভদ্র, অশ্লীল করে তোলার ইন্ধন যোগাচ্ছি না ? কিন্তু কে বুঝে কার কথা ? আমাদের চাই পরিবর্তন বৃদ্ধ মা বাবার ভরণপোষণের জন্য সন্তানকে বাধ্য করতে এখন দেশে আইন বানাতে হয় এসব কি আমাদেরই কৃতকর্মের ফল নয় ?

আমরা সব জেনেও অবুঝ, সব দেখেও অন্ধ কারণ আমাদের চাই যশ, সুনাম তাই পরিবর্তনের সুনামি এনে নাম কামানোর চেষ্টা করতে ক্ষতি কী ? রাজনৈতিক মতভেদের আড়ালে গেল গেল রব তুলে সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করলে ক্ষতি কী ? আমি তো বিশিষ্ট হলাম কেউ প্রত্যন্ত গ্রামের জীর্ণ কুটিরের ছবি দিয়ে ক্যাপশন লিখবেন - হায় ভারতবর্ষ অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আজকাল আবাস যোজনার মাধ্যমে দেশে কোটি কোটি ঘর তৈরি হচ্ছে চোখের সামনে গড়ে উঠছে সুদৃশ্য দালান, অট্টালিকা আমাদেরই ওইসব আমরা নিজেদের আখের ঠিকই গুছিয়ে নিতে জানি কিন্তু বিরোধিতার জন্য কুযুক্তি দেখাতে আমাদের জুড়ি নেই সরকারের সমালোচনায় আমরা সামাজিক মাধ্যমে মুখর নির্জন রাস্তায় আমাদেরই শেখানো পরিবর্তনের ললিপপের বলি হওয়া কোনও গুণ্ডা বদমাশের হাতে সাধারণ পথচারী যদি লুণ্ঠিত, ধর্ষিত, মৃত হয়ে যায় - কোন সরকারি হাসপাতালে হামলা করে কর্তব্যরত ডাক্তারকে গণহারে পিটুনি দেয় - তখন সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সামাজিক মাধ্যমে হামলে পড়ি সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে অমুক থানা থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরত্বে এই জঘণ্য ঘটনা দেশে অরাজকতা চলছে সরকার, প্রশাসন কুম্ভকর্ণ নিদ্রায় যেন যত দোষ শুধু সরকারেরই, দুষ্কৃতিকারীদের নয় তাদের বিরুদ্ধে একটি বাক্যও আমরা ব্যয় করি না কারণ এতে আমাদের ক্ষতি বৈ লাভ কিছু নেই এই স্বার্থপরদের বলতে ইচ্ছে হয় আপনার ঘরের পেছনে দশ মিটার দূরত্বেও যদি নিঃশব্দে কোন অঘটন ঘটে, আপনি টের পান কি ? সরকার কি সারা দেশ জুড়ে প্রতি বর্গফুটে একজন করে সিপাহি রাখবে ? আপনি কুশিক্ষায় সমাজকে উজ্জীবিত করবেন আর সরকার আপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে ? কখনো সরকারের ভালো কাজের উল্লেখ করেছেন কোথাও ? সারা দেশের কোটি কোটি ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে জল, বিজলি বাতি সেসব উত্তরণের খবর কেন শেয়ার করব ? এতে যে রাজনৈতিক শয়তানি হবে না ছাত্রাবস্থা থেকেই মগজ ধোলাই এর যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে সেই ব্যবস্থাটির তো তাহলে অকালমৃত্যু হয় আমরা এতটাই অসহিষ্ণু যে তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনার জন্যও আমরা সরকারকেই কাঠগড়ায় ওঠাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি কারণ এতে সাপও মরে আর লাঠিও ভাঙে না নিন্দাবাদের ফলে সমাজে এক কেউকেটা হওয়ার সুযোগ হয়ে যায় অথচ মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কোন ধরণের শাস্তির সম্ভাবনাও থাকে না অনেককেই দেখা যায় বলতে - আমরা আজ বাকস্বাধীনতা হারিয়েছি মুখ খুললেই বিপদ আসলে যুগ যুগ ধরে চলে আসা মিথ্যাচারের মুখোশ এখন অনেকটাই অনাবৃত হয়ে পড়েছে তাই মিথ্যা কথার ফাঁদে এখন অনেকেই আর পা দেয় না পাশাপাশি শুরু হয়ে গেছে এসব মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিথ্যুকরা নগ্ন হয়ে পড়ছেন সমাজে তাই বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ আসলে বাকস্বাধীনতা নয়, বিপদে এখন মিথ্যাচারের স্বাধীনতা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বোকা বানানোর দিন প্রায় শেষ তাই এত হাহাকার তবু কয়লা না ছাড়ে ময়লা এতদিনের আহৃত কুসংস্কারকে কি আর এত সহজে ঝেড়ে ফেলা যায় ? ধোলাই হওয়া মগজকে কি আর সহজ পথে ফিরিয়ে আনা যায় ? তাই আড়ালে আবডালে সুযোগ পেলেই এখনো সমানে চলছে মিথ্যাচার গণতন্ত্র ধ্বংসের নামে মিথ্যা প্রচার

অথচ নিজেরা কতটুকু গণতান্ত্রিক সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যায় অন্যের নিন্দা বড়ই সহজ বিপরীতে নিজেদের ছায়া আমরা নিজেই দেখি না সব গণতান্ত্রিক নিয়ম কানুন কি মেনে চলছি আমরা ? প্রশ্ন করেছেন কি নিজেদের - হে মহান পণ্ডিতবর্গ ? রাস্তাঘাটে নিয়ম মেনে যানবাহন চালান তো ? যত্রতত্র পানের পিক ফেলে, আবর্জনা ফেলে পরিবেশকে দূষিত করছেন না তো ? ইলেকট্রিক পোস্টের গায়ে চূণ মেখে আর রাস্তার পাশের জলের নর্দমায় প্লাস্টিক ফেলে পরিবেশটাকে বিষিয়ে তুলছেন না তো ? সরকারের সব নির্দেশ মানছেন তো ? মাস্ক পরছেন কি ? নিজের কার্যসিদ্ধির বিনিময়ে ঘুষ দিচ্ছেন না তো ? ঘুষ নিচ্ছেন না তো অফিস আদালতে বসে ? আর এই যে গরিবের দুঃখে কেঁদে পথঘাট ভাসাচ্ছেন, বলি নিজে কত টাকা রোজগার করেন ? তার থেকে ওদের কোন সাহায্য করেন কি নিয়মিত ? যদি নিজে করে না থাকেন তাহলে সরকারের উপর এত প্রত্যাশা কেন আপনার ? আপনি যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষিত করবেন আর সরকার এসে ঠিকমতো সাফাই করছে না বলে গালিগালাজ করবেন এই কি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ? সরকার যে বিনামূল্যে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছে - এমনকি প্রাথমিক স্তরে খাবারদাবারেরও ব্যবস্থা করছে যাতে সবাই শিক্ষিত হতে পারে সেসব কথা কখনো শেয়ার করেছেন কি ? ওসব না করে অশিক্ষিতের গালিগালাজকে স্বীকৃতি দিতেই আপনার বেশি মতলব নীট ফল সমাজের অধঃপতন আর এখানেই আপনার ব্যক্তিগত লাভালাভ সমাজসেবকের ভূমিকায় বেশ একটা দামি আসন লাভের মাধ্যমে কে জানে ভবিষ্যতে গদির কাছাকাছি যাওয়ার যদি একটা সুযোগ হয় ?

এক বৈপরীত্য প্রায়শঃ আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারের প্রধান যখন বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়াচ্ছেন তখন দেশের ভেতরের এক শ্রেণীর মানুষের শুধু গেল গেল রব গণতন্ত্র নাকি বিপন্ন অথচ গণতন্ত্রকে আমরা কতটা বুঝি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সাম্প্রতিক পুরস্কার ফেরতের নাটক এক বিশেষ শ্রেণীর তথাকথিত জ্ঞানী গুণী মানুষজন আজকাল মুড়ি মুড়কির মতো পুরস্কার ফেরত দিচ্ছেন গণতন্ত্র সেই অধিকার তাঁকে দিয়েছে নিশ্চিতই কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর গণতান্ত্রিক বোধ কতটা আছে তা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয় রাজনৈতিক ভাবে আমার আদর্শ একটি বা অনেকগুলি রাজনৈতিক দলের বিপরীত হতেই পারে কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলটি যদি জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হয় সেক্ষেত্রে সরকার আর সেই রাজনৈতিক দলের মধ্যেকার ফারাকটা আমরা বুঝি না বা বুঝতে চাই না সম্প্রতি এ বছরের পদ্ম পুরস্কারে ভূষিত বেশ কয়েকজন পুরস্কার ফেরত দিয়ে কতটা জ্ঞানীর কাজ করেছেন তা তাঁরাই ভালো বুঝবেন কিন্তু একটি অঞ্চলে কোনও কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁর এই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রাপ্তি কিন্তু তাঁকে সারা দেশের সামনে তুলে ধরত তিনি পরিচিত হতেন সারা দেশের জনগণের সাথে, তাঁর কাজ প্রশংসিত হতো দেশ জুড়ে আঞ্চলিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর কাজ, তাঁর জীবনবোধ সারা দেশের কাছে চর্চিত হতো এতে তাঁর সম্মান বাড়ত বৈ কমত না নিঃসন্দেহে পাশাপাশি ইতিহাসেও স্থান পেতে পারতেন তিনি কিন্তু পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে সাময়িক হয়তো এক শ্রেণীর মানুষের চোখে তিনি হিরো হবেন কিন্তু আখেরে সেই চলেই যাবেন বিস্মৃতির গর্ভে

এইসব পুরস্কার ফেরতের তালিকায় যাঁরা আছেন তাঁদের বেশির ভাগ আবার একটি বিশেষ অঞ্চলের সুতরাং প্রশ্ন উঠতেই পারে যে এই পুরস্কার ফেরতের নাটক কি কোনও চাপের ফল ? এমনও জানা গেছে অনেকেই পুরস্কার ফেরত দিচ্ছেন এই বলে যে বিরোধী দলের সরকারের থেকে তাঁরা পুরস্কার নিতে চান না এখানেই সন্দেহটি আরোও ঘনীভূত হয় আর এখানেই আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ব্যাপারেও প্রশ্ন উঠে আসে রাজনৈতিক দল এবং সরকারের মধ্যের পার্থক্যটি আজও আমাদের অধরা কিংবা সেই মগজ ধোলাই এর ফল জেনেও আমরা জানব না, বুঝেও বুঝব না একটি সরকার নির্বাচিত হয় দেশের জনগণের দ্বারা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের অংশীদার হওয়ার সূত্রে এই ব্যাপক গণরায়কে সম্মান জানানো আমাদের কর্তব্য একটি পুরস্কার প্রদান করবেন দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী, কোনও দলীয় নেতা নন সেই বোধটি আমাদের অনেকের মধ্যেই নেই তাই এক প্রকারে বলা যায় বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অন্ধ অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক বোধবুদ্ধি হারিয়ে সরকার প্রদত্ত পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে এইসব নাটুকেরা দেশের অধিকাংশ জনগণকেই অপমানিত করছেন দীর্ঘ সত্তর বছর ধরে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুগামীদের পুরস্কৃত করার মতো মানসিকতা গড়ে ওঠেনি আজ যখন এর বাইরে বেরিয়ে সরকার এক নিদর্শন তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তখন এই পুরস্কার ফেরতের নাটক নিতান্তই এক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়

এই যখন গণতন্ত্র সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান তখন সামাজিক মাধ্যমে মিথাচারের মাধ্যমে বিরুদ্ধবাদের প্রচার কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না আমাদের উচিৎ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার মতো মানসিকতা গড়ে তোলা শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে আখেরে কী ফললাভ হয় তা এখন চোখের সামনে দেখে শিখি না আমরা ঠেকে তো শিখতে পারি ? সদ্য পেরোনো গণতন্ত্র দিবসে তাই একটাই প্রশ্ন - আমরা কি আরো একটু গণতান্ত্রিক হতে পারি না ?



Comments

Popular posts from this blog

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাংলা গল্প : বিষয়ে বিশ্লেষণে

একক কিংবা যৌথ সম্পাদনায় বিগত কয়েক বছরে উত্তরপূর্বের বাংলা লেখালেখি বিষয়ক একাধিক গ্রন্থ সম্পাদনা করে এই সাহিত্যবিশ্বকে পাঠকের দরবারে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার এক প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন নিবেদিতপ্রাণ তরুণ লেখক ও সম্পাদক নিত্যানন্দ দাস । হালে এপ্রিল ২০২৪ - এ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ ‘ উত্তর - পূর্বাঞ্চলের বাংলা গল্প : বিষয়ে বিশ্লেষণে ’ ( প্রথম খণ্ড ) । প্রকাশক - একুশ শতক , কলকাতা । আলোচ্য গ্রন্থটিতে দুই ছত্রে মোট ২৮ জন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিকের ২৮টি প্রবন্ধ রয়েছে । উপযুক্ত বিষয় ও আলোচকদের নির্বাচন বড় সহজ কথা নয় । এর জন্য প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে নিজস্ব জ্ঞানার্জন । কালাবধি এই অঞ্চল থেকে প্রকাশিত উৎকৃষ্ট সাহিত্যকৃতির সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল না হলে তা সম্ভব নয় মোটেও । নিত্যানন্দ নিজেকে নিমগ্ন রেখেছেন গভীর অধ্যয়ন ও আত্মপ্রত্যয়কে সম্বল করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । আলোচ্য গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন প্রতিষ্ঠিত কথাকার রণবীর পুরকায়স্থ । বস্তুত সাত পৃষ্ঠা জোড়া এই ভূমিকা এক পূর্ণাঙ্গ আলোচনা । ভূমিকা পাঠের পর আর আলাদা করে আলোচনার কিছু থাকে না । প্রতিটি নিবন্ধ নিয়ে পরিসরের অভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও ...

প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'স্বপ্নতরী'

  স্বপ্নতরী                         বিদ্যুৎ চক্রবর্তী   গ্রন্থ বিপণী প্রকাশনা  বাবা - স্বর্গীয় সুধীর চন্দ্র চক্রবর্তী মা - শ্রীমতী বীণাপাণি চক্রবর্তী               জনম দিয়েছ মোরে এ ভব ধরায় গড়েছ সযতনে শিক্ষায় দীক্ষায় জীবনে কখনো কোথা পাইনি দ্বন্দ্ব দেখিনি হারাতে পূত - আদর্শ ছন্দ বিন্দু বিন্দু করি গড়ি পদ্য সংকলন তোমাদেরই চরণে করি সমর্পণ প্রথম ভাগ ( কবিতা )   স্বপ্নতরী ১ স্বপ্ন - তরী   নিটোল , নিষ্পাপ কচিপাতার মর্মর আর কাঁচা - রোদের আবোল - তাবোল পরিধিস্থ নতুন আমি ।   আনকোরা নতুন ঝরনাবারি নিয়ে এখন নদীর জলও নতুন বয়ে যায় , তাই শেওলা জমে না ।   দুঃখ আমার রয়ে গেছে এবার আসবে স্বপ্ন - তরী চেনা পথ , অচেনা ঠিকানা ।         ২ পাখমারা   সেই উথাল - পাথাল পাখশাট আজও আনে আরণ্যক অনুভূতি । একটু একটু হেঁটে গিয়ে বয়সের ফল্গুধারায় জগৎ নদীর দু ’ পার ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস - সময়ের কাঠগড়াতে আমি বন...

কবির মজলিশ-গাথা

তুষারকান্তি সাহা   জন্ম ১৯৫৭ সাল৷ বাবা প্ৰয়াত নিৰ্মলকান্তি সাহা ও মা অমলা সাহার দ্বিতীয় সন্তান   তুষারকান্তির ৮ বছর বয়সে ছড়া রচনার মাধ্যমে সাহিত্য ভুবনে প্ৰবেশ৷ ‘ ছায়াতরু ’ সাহিত্য পত্ৰিকায় সম্পাদনার হাতেখড়ি হয় কলেজ জীবনে অধ্যয়নকালীন সময়েই৷ পরবৰ্তী জীবনে শিক্ষকতা থেকে সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে গ্ৰহণ করেন৷ প্ৰথম ছড়া প্ৰকাশ পায় সাতের দশকে ‘ শুকতারা ’ য়৷ এরপর ‘ দৈনিক যুগশঙ্খ ’ পত্ৰিকার ‘ সবুজের আসর ’, দৈনিক সময়প্ৰবাহ ও অন্যান্য একাধিক কাগজে চলতে থাকে লেখালেখি৷ নিম্ন অসমের সাপটগ্ৰামে জন্ম হলেও বৰ্তমানে গুয়াহাটির স্থায়ী বাসিন্দা তুষারকান্তির এ যাবৎ প্ৰকাশিত গ্ৰন্থের সংখ্যা ছয়টি৷ এগুলো হচ্ছে নগ্ননিৰ্জন পৃথিবী (দ্বৈত কাব্যগ্ৰন্থ) , ভবঘুরের অ্যালবাম (ব্যক্তিগত গদ্য) , একদা বেত্ৰবতীর তীরে (কাব্যগ্ৰন্থ) , প্ৰেমের গদ্যপদ্য (গল্প সংকলন) , জীবনের আশেপাশে (উপন্যাস) এবং শিশু-কিশোরদের জন্য গল্প সংকলন ‘ গাবুদার কীৰ্তি ’ ৷ এছাড়াও বিভিন্ন পত্ৰপত্ৰিকায় প্ৰকাশিত হয়েছে শিশু কিশোরদের উপযোগী অসংখ্য অগ্ৰন্থিত গল্প৷ রবীন্দ্ৰনাথের বিখ্যাত ছড়া , কবিতা ও একাধিক ছোটগল্প অবলম্বনে লিখেছেন ...