Skip to main content

সৌকর্য ও উৎকর্ষের সমাহার ‘কবিতাসংগ্রহ -১’


কোনও একজন মানুষের নয় শুধু, বয়স বাড়ছে পৃথিবীরও। স্বভাবতই পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীতে থাকা জীবন ও জীবনধারণের শৈলীও বদলে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই নিত্য নতুন পরিবর্তনই আজ একরকম নেশা হয়ে পড়েছে মানুষ নামের প্রাণীটির। বদলে যাচ্ছে চলনবলন, বদলে যাচ্ছে মানবিকতা, তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে অনুষঙ্গের প্যাটার্নও। সুতরাং সাহিত্য সংস্কৃতির প্যাটার্নও যে বদলাবে তাতে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। সে যুগধর্মের সূত্র ধরেই কবিতার রূপ পরিবর্তন আমাদের চোখের সামনে প্রোজ্জ্বল। বিদেশি কিংবা ভারতীয় অন্যান্য ভাষার কথা বাদ দিয়ে বাংলা কবিতার এই ক্রমপরিবর্তনশীল ধারার সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। বোধগম্যতার বিতর্কিত বিষয়টি বাদ দিয়েই বলা যায় কবিতার শৈলী কিংবা ধারা আজ বহুনুখী। বহুধাবিচিত্র। সাহিত্যের মূল নির্ণায়ক অনুষঙ্গ পাঠকের কাছে কবিতার গ্রহণযোগ্যতাও তেমনি বহুধাবিভক্ত। সুতরাং একটি কবিতা ভালো নাকি খারাপ, বিচারের সেই রায়ও সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকেনি আর। সেক্ষেত্রে একজন কবির কাছে কোনও এক বিশেষ ধারায় নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখার দিনও আর নেই। তবু প্রত্যেক কবির স্বত:স্ফুর্ত একরৈখিকতা এক অনিবার্য বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্ত্বেও বহুরৈখিক সৃষ্টি আজ কবির কাছে এক অবশ্যপালনীয় দায়। সেই বহুরৈখিক সৃষ্টির এক অনবদ্য প্রতিফলন কবি গৌতম মণ্ডলের সম্প্রতি প্রকাশিত কবিতাসংগ্রহ -১।
কবিতাসংগ্রহ মানে বলা যায় কমবেশি যাবতীয় কবিতার এক সম্ভার। এখানে কবির সার্বিক কবিতার সমাহার। এখানেই কবিতাসংগ্রহ ও নির্বাচিত কবিতার পার্থক্য। গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে কবির এ যাবৎ প্রকাশিত দ্বিতীয় থেকে নবম কাব্যগ্রন্থের কবিতা এবং পরিশিষ্টতে রয়েছে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা। আলাদাভাবে রয়েছে গ্রন্থপঞ্জি এবং গীতবিতানধারায় কবিতার প্রথম পঙ্‌ক্তির অনবদ্য বর্ণানুক্রমিক সূচি। নান্দীমুখে গ্রন্থটির অন্যতম উৎকর্ষ হিসেবে রয়েছে বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক গৌতম বসুর সারগর্ভ ভূমিকা যা পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছে গ্রন্থটির এক সার্বিক পরিচিতি এবং কবির কাব্যভাবনাও যা গ্রন্থপাঠে উপলব্ধি করা যায় নিরন্তর। রয়েছে গ্রন্থকারের একটি আত্মবিশ্লেষণও। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এক সুচিন্তিত এবং সুসংঘবদ্ধ প্রয়াস। ভূমিকা ও ‘নিবেদন’ শীর্ষক আত্মবিশ্লেষণ থেকে প্রতিভাত হয় যে অন্যমনষ্কতা ও বিষাদগ্রস্ততা একাধারে যেমন একজন কবির অনিবার্য সম্পদ অন্যদিকে আবার কবির কবিতার উৎকর্ষের আধারও। এবং গ্রন্থান্তর্গত কবিতার শরীরে এই দুই গুণের সমাহার ছড়িয়ে রয়েছে ছত্রে ছত্রে, স্তবকে স্তবকে। কবির কবিতা নিরন্তর একমুখী হতে পারে না। বড়জোর কোনও একটি কাব্যগ্রন্থে তা সম্ভব। কিন্তু কবিতাসংগ্রহে যেহেতু যাবতীয় কবিতার সমাহার তাই কোনও এক ধারা কিংবা বিষয়ের অনুসন্ধান নিরর্থক। কবিতার পর কবিতা, গ্রন্থের পর গ্রন্থে তাই স্বভাবতই জেগে উঠেছে বিচিত্র ভাবনা, বিচিত্র অনুষঙ্গ। কবিতা নিয়ে জাগলিং করেছেন কবি। কিছু স্বত:স্ফুর্ত কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা। কাব্যশৈলী একজন কবির একাধারে মূল পরিচয় এবং এক স্থায়ী সূচকও। বিষয় কিংবা ভাবনা বহুমুখী হলেও আকছার পরিলক্ষিত হয় যে তার উপস্থাপনায় কবির নিজস্ব শৈলীই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী রূপ পরিগ্রহ করে। কিছু রকমফের ঘটলেও ফিরে আসে তা শেষ পর্যন্ত। প্রথম গ্রন্থটিকে কবি অস্বীকার করেছেন তাই দ্বিতীয় থেকে শুরু করলেও দেখা যায় ১৯৯৪ থেকে ২০১৯ দীর্ঘ এই পঁচিশ বছরের কবিতাযাত্রায় অনেক কিছুই বদলে গেলেও বারবার ফিরে এসেছে সেই শৈলীর ছোঁয়া যা একজন কবির আত্মগত বৈশিষ্ট্য। আসলে কবিতার বা কাব্যধারার সঠিক এবং যথাযথ বিশ্লেষণ আলোচক তো দূর কবি নিজেও কতটা উপলব্ধি করতে পারেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাওয়ার সমূহ কারণ থেকে যায়। তাই হয়তো ভূমিকাকার তাঁর ভূমিকার শেষে লিখছেন - ‘...আমি তাঁর নতুন কবিতা বুঝতে চেষ্টা করছি, ভাবছি, সে কোন নির্জন দ্বীপ, যেখান থেকে কথা ভেসে আসছে।’ আর পাঁচজন কবিরই মতো দ্বিধাগ্রস্ত গ্রন্থকার কবিও লিখছেন - ‘...নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে চলেছি। কিন্তু সত্যিই কি কিছু লিখে উঠতে পারছি ?’ এবং সম্ভবত তারই নিরিখে বোধগম্যতার পর্যায়কে এতটাও উচ্চতায় নিয়ে যাননি তিনি যা বিভ্রান্ত করে পাঠককে। গৌতমের কবিতা তাই পঠনসুখের আকর।
সেইসব সত্যকে মূলধন করেই এই ‘হাজার হাজার’ কবিতার মধ্য থেকে পরিসরের বাধ্যবাধকতায় দু-চারটি কবিতাকে বিশ্লেষণ করার চাইতে বেশি দরকারি হচ্ছে কবিতার প্রসারতাকে পাঠকের কাছে তুলে ধরা। আলোচ্য গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে -
১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘রাত ও রাতের বিভা’ কাব্যগ্রন্থের ৩৯টি যতিচিহ্নবিহীন কবিতা। (এই কাব্যগ্রন্থের পরিমার্জিত সংস্করণ প্রয়াশিত হয় ২০০১ সালে। আলোচ্য গ্রন্থে সেসব কবিতাই সন্নিবিষ্ট হয়েছে।)
১৯৯৯ সালে প্রয়াশিত ‘স্কন্দমূলের আকাশ’ কাব্যগ্রন্থের ৫৮টি কবিতা।
২০০০ সালে প্রকাশিত ‘কালপুরুষ’ কাব্যগ্রন্থের ২৯টি কবিতা।
১৪১৩ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত ‘ভূপাখি জন্মপাখি’ কাব্যগ্রন্থের ৪২টি কবিতা।
২০০৯ সালে প্রকাশিত ‘দুর্লভ শিখরদেশ’ কাব্যগ্রন্থে সন্নিবিষ্ট ৬২টি কবিতা।
২০১২ সালে প্রকাশিত ‘অলসরঙের টিলা’ কাব্যগ্রন্থের ৭২টি স্বল্পদৈর্ঘের শিরোনামবিহীন, যতিচিহ্নবিহীন কবিতা।
২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘বিবাহের মন্থর আয়োজন’ কাব্যগ্রন্থের ৮৫টি কবিতা। এবং-
২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘অরচিত অন্ধকার’ শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে সন্নিবিষ্ট ৬৯টি কবিতা।
এছাড়া কবির মতে ‘নিজস্বতা ও নিজস্ব ডিকশন’ না থাকা কবিতার সন্নিবেশ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যাকে কবি বর্জন করেছেন নিজেই - ‘উজাগর আঁখি’ থেকে নির্বাচিত কয়েকটি কবিতা ও সন্নিবিষ্ট করেছেন ‘পরিশিষ্ট’তে। কারণ হিসেবে কবি লিখছেন - ‘...রাখলাম একটাই কারণে, পাঠকেরও লেখকের প্রতি একটা অধিকার থাকে। কীরকম সেই অধিকার ? লেখকের উন্মেষপর্ব, তা যতই কাঁচা হোক, জানার অধিকার। লেখাগুলি দিলাম শুধু এই কারণে, যে, সেই বয়সে - যখন নিজেকে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ ভাবছি, সেসময় কতটা খারাপ লিখতাম।’ - কী গভীর অকপট স্বীকারোক্তি। কিন্তু আদপেই কি ততটা খারাপ ছিল সেইসব কবিতা ? এ তো কবির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। আসলে অন্যমনষ্কতা, বিষাদগ্রস্ততা আর বোহেমিয়ানার পাশাপাশি এই সততাও একজন কবির গর্বের মূলধন। এই সততাই কবিকে পোঁছে দেয় স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার শিখরে।
এই স্বকীয়তার ফলেই কবির কলম থেকে প্রসবিত হয় গুচ্ছ গুচ্ছ নির্মোহ উচ্চারণ। এই ধারাতেই গৌতমের কবিতায় প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে উঠে এসেছে  - মেঘ-বৃষ্টি-রৌদ্র, জল, আঁধারের আবহে সতর্ক সংযত নৈঃশব্দ্যের প্রকাশ। সময়ের সাথে সাথে, বয়সের পরিপক্কতার পাশাপাশি, লেখালেখির চর্চায় মেতে থাকা একজন কবির কবিতায় সৌকর্য, উৎকর্ষ যে ক্রমবর্ধমান ধারায় এগিয়ে চলে, চলবে তা তো অনস্বীকার্য। সেই ভাব, সেই বিকশিত ভাবনার প্রকাশ গৌতমের কবিতায়ও স্পষ্ট। তাই ‘রাত ও রাতের বিভা’য় যখন তিনি লিখছেন -
জলপথে আজ আর জল নেই
শুধু সিঁড়ি রয়েছে
শাখায় শাখায় রেণু ও রস ছড়িয়ে
নড়ে ওঠে এইসব সিঁড়ি
নড়ায় সমস্ত ধ্বনিঘর
না-দেখা কৃষ্ণা-যমুনার আচ্ছন্ন বৃষ্টিপ্রহর। (কবিতা - বৃষ্টিপ্রহর)
তখন ‘অরচিত অন্ধকার’ কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখছেন -
ভালোবাসি বৃষ্টি
রৌদ্র এসে মুছে
দিতে চায় সব জলরেখা
রেখার উপরে ও নীচে
থাকা অন্ধকারও

ক্রমশ আলোয়
ভরে ওঠে চরাচর

নিষ্পত্র গাছে ফোটে নি:সঙ্গ বৃষ্টিফুল (কবিতা - বৃষ্টিফুল)। - এক সূক্ষ্ম বিবর্তন, তবু সেই ধারাবাহিকতা যা একজন কবির সহজাত।
৩৪৩ পৃষ্ঠার গ্রন্থে ছাপা, অক্ষরবিন্যাস যথাযথ। পঙ্‌ক্তিবিন্যাসে দু-একটি জায়গায় ‘গোল’ পরিলক্ষিত হয়েছে। বানানের শুদ্ধতা, সতর্কতা, সচেতনতা গ্রন্থের অন্যতম সম্পদ। আঙুলে গোনা গুটিকতক ধর্তব্যে না আনাই শ্রেয়। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘শঙ্খ ঘোষ, আলোক সরকার, উৎপলকুমার বসু ও গৌতম বসু’কে। সব মিলিয়ে জল-স্বচ্ছ কবিতার ‘অন্যমনষ্ক’ উচ্চারণ এই কবিতা সংগ্রহ - প্রথম খণ্ড।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
প্রকাশক - আদম, কলকাতা
মূল্য - ৫৫০ টাকা।

Comments

Popular posts from this blog

শেকড়ের টানে নান্দনিক স্মরণিকা - ‘পরিযায়ী’

রামকৃষ্ণনগর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক উপত্যকার এক ঐতিহ্যময় শহর । বিশেষ করে শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে চিরদিনই এক অগ্রণী স্থান হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে এই নাম । বৃহত্তর রামকৃষ্ণনগরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস বহুদিনের । দেশভাগের আগে ও পরে , উত্তাল সময়ে স্থানচ্যূত হয়ে এখানে থিতু হতে চাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ ও কষ্টের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে এক বিশাল বাসযোগ্য অঞ্চল । শুধু রুটি , কাপড় ও ঘরের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রই নয় , এর বাইরে শিক্ষা অর্জনের ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মমনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেইসব মহামানবেরা । ফলস্বরূপ এক শিক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যদিও উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে বেরোতে হয়েছিল নিজ বাসস্থান ছেড়ে । শিলচর তখন এ অঞ্চলের প্রধান শহর হওয়ায় স্বভাবতই শিক্ষা ও উপার্জনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হয় । এবং স্বভাবতই রামকৃষ্ণনগর ছেড়ে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন এই শিলচরে । এই ধারা আজও চলছে সমানে । শিলচরে এসেও শেকড়ের টানে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে রামকৃষ্ণনগর মূলের লোকজনেরা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক সৌহার্দমূলক বাতাবরণ । এবং সেই সূত্রেই ২০০০ সালে গঠিত হয় ‘ ...

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...