Skip to main content

৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা ‘মিলন’


একটি পত্রিকা প্রকাশের দায়ভার কতটা তা সম্পাদকমাত্রেই বোধগম্য। আর সেই পত্রিকাটি যদি প্রকাশিত হয় মেঘালয়ের ‘তুরা’ নামক প্রত্যন্ত স্থান থেকে তাহলে সম্পাদকের শ্রম ও নিগূঢ় অধ্যবসায়ের বহর অনুমান করা সাধারণ মানুষের পক্ষে নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। সেই অসাধ্য কাজটিই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে করে আসছেন ‘মিলন’ নামক এ অঞ্চলে বহু পরিচিত একটি বার্ষিক পত্রিকার সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। লেখালেখির সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার ফলে তাঁর এই গরজ স্বাভাবিক অর্থেই আকাশছোঁয়া।
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘মিলন’ পত্রিকার চার দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা - ২০২৫। প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ-নিবন্ধের বাইরেও রয়েছে একগুচ্ছ কবিতা, গল্প, ছোটগল্প ইত্যাদি। স্বচ্ছ, সটান সম্পাদকীয়তে স্পষ্টভাষ্যে উচ্চারিত হয়েছে এক প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে পত্রিকা প্রকাশের বহুবিধ সমস্যা ও তা কাটিয়ে ওঠার এক দুর্বার প্রয়াসের কথা। রয়েছে পত্রিকার মান নিয়ে আপসহীন বক্তব্য। পত্রিকার আলোচ্য সংখ্যাটির প্রথম লেখা হিসেবে রয়েছে ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব’ বিভাগে রাজকুমার সরকার (ঝাড়খণ্ড)-এর একটি চমৎকার রচনা - ‘কমল চক্রবর্তী ও তাঁর হাতে গড়া ‘ভালোপাহাড়”। বঙ্কিম পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কমল চক্রবর্তী, তাঁর ‘ভালোপাহাড়’ নিয়ে, কবিতা ও গদ্যের বিশেষ সৃষ্টিশীলতা নিয়ে অসম্ভব ভালো একটি প্রতিবেদনধর্মী লেখা।
‘প্রবন্ধ’ বিভাগে রয়েছে মোট ৯টি রচনা। ভিন্নভাষী জাতি উপজাতিদের সমাজ, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন লেখকবৃন্দ। গারোদের বিষয়ে দুটি প্রবন্ধ লিখেছেন প্রবোধ এম সাংমা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। দ্বিতীয়োক্ত প্রবন্ধটি অনেকটাই বিস্তৃত এবং তথ্যসমৃদ্ধ। কোচদের নিয়ে বিস্তৃত লিখেছেন নির্মল কোচ। হাজংদের নিয়ে লেখা দুটি রচনা - লিখেছেন বীরেন হাজং ও বাসুদেব হাজং। রাভা লোকসংগীত নিয়ে একাধিক গানের উল্লেখ ও তার অনুবাদ সহ বিস্তৃত লিখেছেন সুনীল পাল। ড. সুভাষচন্দ্র পাল লিখেছেন - ‘ঝাড়খণ্ডী কুর্মি সমাজে জন্ম সংস্কার’। লেপচাদের নিয়ে তথ্যসংবলিত রচনা লিখেছেন সুলেখা সরকার। শিরোনাম অনুযায়ী প্রতিটি প্রবন্ধেই প্রতিভাত হয়েছে সংশ্লিষ্ট জাতি-উপজাতি জনজীবনের যাপনকথার নির্যাস। ‘সংক্ষিপ্ত পরিসরে স্বল্প কথা বিভূতিভূষণ’ - লিখেছেন বরুণ চক্রবর্তী। অনেকটাই সংক্ষিপ্ত এবং আবেগিক প্রবন্ধ। মূলত এই বিভাগ সংখ্যাটির মান বৃদ্ধি করেছে অনেকটাই।
সমৃদ্ধ কবিতা বিভাগে রয়েছে একগুচ্ছ নামিদামি কবিদের কবিতা। যাঁরা লিখেছেন - বিকাশ সরকার, কমল সাহা, প্রাণজি বসাক, তুষারকান্তি সাহা, গোবিন্দ ধর, বাপী চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ বাগচী, বিশ্বজিৎ নাগ, নীতীশ বর্মণ, সঞ্জীব দে, সঞ্জয় সোম, ফাল্গুনী চক্রবর্তী, বনমালী নন্দী, সৌম্যস্বপন চক্রবর্তী ও কৃতিকণা চিনি। নানা বিষয়ের উপর নানা আঙ্গিকে লেখা সব কবিতা। বিশেষোল্লেখ সংগত হবে না মোটেও।
গল্প বিভাগের প্রথম গল্প সমরেন্দ্র বিশ্বাসের ‘ধর্মহীন খড়ের শব’। গভীর চিন্তাপ্রসূত একটি সুলিখিত বার্তাবহ গল্প। পরিসরের প্রেক্ষিতে একে অণুগল্প বিভাগেও রাখা যেত যদিও সম্পাদক সম্ভবত বিষয়ের বিস্তৃতির কথা ভেবেই গল্পটিকে এই বিভাগে স্থান দিয়েছেন। উৎপল ধরের ‘ওভারটাইম’ গল্প টানটান গদ্যের এক নমুনা। গল্প এগিয়েছে তরতরিয়ে যদিও সমাপন একেবারেই ভিন্নধর্মী। সমস্যার এমন সমাধান কতটা গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণের দায় পাঠকের। তবে গল্পকারের চিন্তা যে একেবারেই ব্যতিক্রমী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভাগের তৃতীয় তথা শেষ গল্প ‘বেওয়ারিশ লাশ’। লিখেছেন সংযুক্তা দাশ পুরকায়স্থ। গল্পের আদলে গড়ে ওঠা কিছু বাস্তব সত্য ভিত্তিক কথোপকথন। সত্যজিৎ চৌধুরীর অণুগল্প ‘গ্রামোফোন’ একটি সার্থক, বার্তাবহ অণুগল্প।
প্রবন্ধ-নিবন্ধের সংজ্ঞাবিষয়ক জটিলতায় প্রবেশ না করে পত্রিকায় এরপর রয়েছে চারটি ‘নিবন্ধ’। প্রতিটি রচনাই ‘মিলন’ পত্রিকা বিষয়ক স্মৃতিচারণে সমৃদ্ধ। লিখেছেন তুষারকান্তি সাহা, সুনীল কুমার সাহা, বরুণ মণ্ডল ও শিবব্রত দেওয়ানজী। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুষারকান্তির লেখা থেকে তুলে ধরা যায় এই পরিসরে - ‘…ছোটো পত্রিকা এক একটি সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যেই জন্ম নেয়। সংগ্রামের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তাকে চলতে হয়, কালের নিয়মে তার আয়ুও অনিশ্চিত এবং চিরন্তন নিয়মে মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী। বিশ্বব্যাপী সাহিত্যের ইতিহাস তার সাক্ষী। তবু প্রকৃতিগতভাবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে আমাদের আশায় আশায় পথচলা থেমে থাকে না, থাকতে পারে না। বিশ্বজিৎ নন্দীও তার ব্যতিক্রম নয়…।’ ছোটপত্রিকা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দীর বিষয়ে এক উল্লেখযোগ্য বয়ান। বিভাগের শেষ নিবন্ধটি পুন:প্রকাশিত। শিবব্রত দেওয়ানজীর লেখা ‘গারো পাহাড়ের বাংলা পত্রিকা মিলন’। ‘মিলন’ পত্রিকা ও এর সঙ্গে লেখকের আন্তরিক যোগসূত্রের কথা। লেখাটি লেখকের মৃত্যুর পূর্বে শারদ সংখ্যা - ২০১২তে প্রকাশিত হয়েছিল।
১১১ পৃষ্ঠার এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পত্রিকা সংখ্যা। উচ্চমানের কাগজ ও বাঁধাই, স্পষ্ট ছাপা, যথাযথ অক্ষর, শব্দ ও বাক্য বিন্যাস। কিছু বানান বিভ্রাট নিতান্তই অনিবার্য রূপে থেকে যায়। শেষ কথা - উত্তরপূর্বের ছোটপত্রিকার সংসারে ‘মিলন’ নিঃসন্দেহে এক অপ্রতিরোধ্য ও গর্বের প্রকাশ।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
মূল্য - ২৫০ টাকা
একটি পত্রিকা প্রকাশের দায়ভার কতটা তা সম্পাদকমাত্রেই বোধগম্য। আর সেই পত্রিকাটি যদি প্রকাশিত হয় মেঘালয়ের ‘তুরা’ নামক প্রত্যন্ত স্থান থেকে তাহলে সম্পাদকের শ্রম ও নিগূঢ় অধ্যবসায়ের বহর অনুমান করা সাধারণ মানুষের পক্ষে নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। সেই অসাধ্য কাজটিই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে করে আসছেন ‘মিলন’ নামক এ অঞ্চলে বহু পরিচিত একটি বার্ষিক পত্রিকার সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। লেখালেখির সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার ফলে তাঁর এই গরজ স্বাভাবিক অর্থেই আকাশছোঁয়া। 
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘মিলন’ পত্রিকার চার দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা - ২০২৫। প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ-নিবন্ধের বাইরেও রয়েছে একগুচ্ছ কবিতা, গল্প, ছোটগল্প ইত্যাদি। স্বচ্ছ, সটান সম্পাদকীয়তে স্পষ্টভাষ্যে উচ্চারিত হয়েছে এক প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে পত্রিকা প্রকাশের বহুবিধ সমস্যা ও তা কাটিয়ে ওঠার এক দুর্বার প্রয়াসের কথা। রয়েছে পত্রিকার মান নিয়ে আপসহীন বক্তব্য। পত্রিকার আলোচ্য সংখ্যাটির প্রথম লেখা হিসেবে রয়েছে ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব’ বিভাগে রাজকুমার সরকার (ঝাড়খণ্ড)-এর একটি চমৎকার রচনা - ‘কমল চক্রবর্তী ও তাঁর হাতে গড়া ‘ভালোপাহাড়”। বঙ্কিম পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কমল চক্রবর্তী, তাঁর ‘ভালোপাহাড়’ নিয়ে, কবিতা ও গদ্যের বিশেষ সৃষ্টিশীলতা নিয়ে অসম্ভব ভালো একটি প্রতিবেদনধর্মী লেখা। 
‘প্রবন্ধ’ বিভাগে রয়েছে মোট ৯টি রচনা। ভিন্নভাষী জাতি উপজাতিদের সমাজ, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন লেখকবৃন্দ। গারোদের বিষয়ে দুটি প্রবন্ধ লিখেছেন প্রবোধ এম সাংমা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। দ্বিতীয়োক্ত প্রবন্ধটি অনেকটাই বিস্তৃত এবং তথ্যসমৃদ্ধ। কোচদের নিয়ে বিস্তৃত লিখেছেন নির্মল কোচ। হাজংদের নিয়ে লেখা দুটি রচনা - লিখেছেন বীরেন হাজং ও বাসুদেব হাজং। রাভা লোকসংগীত নিয়ে একাধিক গানের উল্লেখ ও তার অনুবাদ সহ বিস্তৃত লিখেছেন সুনীল পাল। ড. সুভাষচন্দ্র পাল লিখেছেন - ‘ঝাড়খণ্ডী কুর্মি সমাজে জন্ম সংস্কার’। লেপচাদের নিয়ে তথ্যসংবলিত রচনা লিখেছেন সুলেখা সরকার। শিরোনাম অনুযায়ী প্রতিটি প্রবন্ধেই প্রতিভাত হয়েছে সংশ্লিষ্ট জাতি-উপজাতি জনজীবনের যাপনকথার নির্যাস। ‘সংক্ষিপ্ত পরিসরে স্বল্প কথা বিভূতিভূষণ’ - লিখেছেন বরুণ চক্রবর্তী। অনেকটাই সংক্ষিপ্ত এবং আবেগিক প্রবন্ধ। মূলত এই বিভাগ সংখ্যাটির মান বৃদ্ধি করেছে অনেকটাই।
সমৃদ্ধ কবিতা বিভাগে রয়েছে একগুচ্ছ নামিদামি কবিদের কবিতা। যাঁরা লিখেছেন - বিকাশ সরকার, কমল সাহা, প্রাণজি বসাক, তুষারকান্তি সাহা, গোবিন্দ ধর, বাপী চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ বাগচী, বিশ্বজিৎ নাগ, নীতীশ বর্মণ, সঞ্জীব দে, সঞ্জয় সোম, ফাল্গুনী চক্রবর্তী, বনমালী নন্দী, সৌম্যস্বপন চক্রবর্তী ও কৃতিকণা চিনি। নানা বিষয়ের উপর নানা আঙ্গিকে লেখা সব কবিতা। বিশেষোল্লেখ সংগত হবে না মোটেও।
গল্প বিভাগের প্রথম গল্প সমরেন্দ্র বিশ্বাসের ‘ধর্মহীন খড়ের শব’। গভীর চিন্তাপ্রসূত একটি সুলিখিত বার্তাবহ গল্প। পরিসরের প্রেক্ষিতে একে অণুগল্প বিভাগেও রাখা যেত যদিও সম্পাদক সম্ভবত বিষয়ের বিস্তৃতির কথা ভেবেই গল্পটিকে এই বিভাগে স্থান দিয়েছেন। উৎপল ধরের ‘ওভারটাইম’ গল্প টানটান গদ্যের এক নমুনা। গল্প এগিয়েছে তরতরিয়ে যদিও সমাপন একেবারেই ভিন্নধর্মী। সমস্যার এমন সমাধান কতটা গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণের দায় পাঠকের। তবে গল্পকারের চিন্তা যে একেবারেই ব্যতিক্রমী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভাগের তৃতীয় তথা শেষ গল্প ‘বেওয়ারিশ লাশ’। লিখেছেন সংযুক্তা দাশ পুরকায়স্থ। গল্পের আদলে গড়ে ওঠা কিছু বাস্তব সত্য ভিত্তিক কথোপকথন। সত্যজিৎ চৌধুরীর অণুগল্প ‘গ্রামোফোন’ একটি সার্থক, বার্তাবহ অণুগল্প। 
প্রবন্ধ-নিবন্ধের সংজ্ঞাবিষয়ক জটিলতায় প্রবেশ না করে পত্রিকায় এরপর রয়েছে চারটি ‘নিবন্ধ’। প্রতিটি রচনাই ‘মিলন’ পত্রিকা বিষয়ক স্মৃতিচারণে সমৃদ্ধ। লিখেছেন তুষারকান্তি সাহা, সুনীল কুমার সাহা, বরুণ মণ্ডল ও শিবব্রত দেওয়ানজী। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুষারকান্তির লেখা থেকে তুলে ধরা যায় এই পরিসরে - ‘…ছোটো পত্রিকা এক একটি সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যেই জন্ম নেয়। সংগ্রামের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তাকে চলতে হয়, কালের নিয়মে তার আয়ুও অনিশ্চিত এবং চিরন্তন নিয়মে মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী। বিশ্বব্যাপী সাহিত্যের ইতিহাস তার সাক্ষী। তবু প্রকৃতিগতভাবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে আমাদের আশায় আশায় পথচলা থেমে থাকে না, থাকতে পারে না। বিশ্বজিৎ নন্দীও তার ব্যতিক্রম নয়…।’ ছোটপত্রিকা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দীর বিষয়ে এক উল্লেখযোগ্য বয়ান। বিভাগের শেষ নিবন্ধটি পুন:প্রকাশিত। শিবব্রত দেওয়ানজীর লেখা ‘গারো পাহাড়ের বাংলা পত্রিকা মিলন’। ‘মিলন’ পত্রিকা ও এর সঙ্গে লেখকের আন্তরিক যোগসূত্রের কথা। লেখাটি লেখকের মৃত্যুর পূর্বে শারদ সংখ্যা - ২০১২তে প্রকাশিত হয়েছিল।
১১১ পৃষ্ঠার এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পত্রিকা সংখ্যা। উচ্চমানের কাগজ ও বাঁধাই, স্পষ্ট ছাপা, যথাযথ অক্ষর, শব্দ ও বাক্য বিন্যাস। কিছু বানান বিভ্রাট নিতান্তই অনিবার্য রূপে থেকে যায়। শেষ কথা - উত্তরপূর্বের ছোটপত্রিকার সংসারে ‘মিলন’ নিঃসন্দেহে এক অপ্রতিরোধ্য ও গর্বের প্রকাশ। 
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
মূল্য - ২৫০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৪৩৬১১২১১৩ 

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত স্মরণ সংখ্যা ‘আলোহাওয়া’

একটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটপত্রিকা হচ্ছে সমাজের সাহিত্যদর্পণ । শুধুই সমকালিক নয়। যুগান্তরের ভাষাসাহিত্য ও তার যুগন্ধর স্রষ্টাদের সঙ্গে সমকালকে পরিচিত করে দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। আর একের পর এক এই লক্ষ্যেই উৎকৃষ্টতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি শহর থেকে প্রকাশিত ‘ সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ’ পত্রিকা ‘ আলোহাওয়া ’ । রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা - ২৫তম বর্ষ , পৌষ ১৪৩২ - ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা । কবি জিতেন্দ্র নাথ সম্পাদিত এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যিক ‘ তুষারকান্তি নাথ স্মরণ সংখ্যা ’ হিসেবে । তুষারকান্তি নাথ এমন একজন সাহিত্যিক যাঁকে আখ্যায়িত করা যায় একজন সার্বিক সাহিত্যিক হিসেবে। ধারে ও ভারে তাঁর সৃষ্টি শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয় এর বাইরেও সমাদৃত। তাঁর লেখনী রত্নপ্রসবা। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায় যে ঘরে বাইরে কিছু স্বীকৃতি , কিছু প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকলেও তাঁর লেখালেখি ও নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের গভীরতার মূল্যায়ন যতটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কিন্তু হয়নি। আসলে প্রান্তিকতা সততই লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পরিচিতির পথে এক বৃহৎ অন্তরা...

প্রখর গরজ ও শ্রদ্ধায় নিবেদিত একটি ‘সুকান্ত সংখ্যা’ - শতদল

হাতে নিলে আর পাঁচটা নিয়মিত সংখ্যা পত্রিকার মতো মনে হলেও উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ী থেকে কবি, লেখক রতন চন্দ সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘শতদল’ পত্রিকার সম্প্রতি প্রকাশিত ২৯তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৪৩৩, মে-২০২৬ (কবি সুকান্ত জন্মশতবর্ষ সংখ্যা) সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সেই মাত্র ৪২ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংস্করণ হলেও প্রচ্ছদ থেকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি যতন, গরজ ও উৎকর্ষের এক সম্ভার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেও। বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র স্থান ধরে আছেন অকালপ্রয়াত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি এবং আগত-অনাগত চিরকালীন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই কবি মূলত একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেই সাহিত্যবিশ্বে পরিচিত হলেও তাঁর কবিতায় এর বাইরেও যে রয়ে গেছে বহুমাত্রিক এক বোধ, ভাষ্য - বোধ করি তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি আজও। তবে যতই তাঁকে নিয়ে চর্চা হবে ততই এক এক করে খুলবে বিস্ময়ের ঝাঁপি এ কথা অনস্বীকার্য। এবং তারই এক নির্মোহ প্রয়াস ও প্রকাশ আলোচ্য সংখ্যাটি। সুসজ্জিত কবি-প্রতিকৃতিযুক্ত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ - সজ্জায়, বর্ণ সংস্থাপনে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য পাঠকের। সৌজন্যে মুদ...