Skip to main content

৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা ‘মিলন’


একটি পত্রিকা প্রকাশের দায়ভার কতটা তা সম্পাদকমাত্রেই বোধগম্য। আর সেই পত্রিকাটি যদি প্রকাশিত হয় মেঘালয়ের ‘তুরা’ নামক প্রত্যন্ত স্থান থেকে তাহলে সম্পাদকের শ্রম ও নিগূঢ় অধ্যবসায়ের বহর অনুমান করা সাধারণ মানুষের পক্ষে নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। সেই অসাধ্য কাজটিই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে করে আসছেন ‘মিলন’ নামক এ অঞ্চলে বহু পরিচিত একটি বার্ষিক পত্রিকার সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। লেখালেখির সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার ফলে তাঁর এই গরজ স্বাভাবিক অর্থেই আকাশছোঁয়া।
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘মিলন’ পত্রিকার চার দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা - ২০২৫। প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ-নিবন্ধের বাইরেও রয়েছে একগুচ্ছ কবিতা, গল্প, ছোটগল্প ইত্যাদি। স্বচ্ছ, সটান সম্পাদকীয়তে স্পষ্টভাষ্যে উচ্চারিত হয়েছে এক প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে পত্রিকা প্রকাশের বহুবিধ সমস্যা ও তা কাটিয়ে ওঠার এক দুর্বার প্রয়াসের কথা। রয়েছে পত্রিকার মান নিয়ে আপসহীন বক্তব্য। পত্রিকার আলোচ্য সংখ্যাটির প্রথম লেখা হিসেবে রয়েছে ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব’ বিভাগে রাজকুমার সরকার (ঝাড়খণ্ড)-এর একটি চমৎকার রচনা - ‘কমল চক্রবর্তী ও তাঁর হাতে গড়া ‘ভালোপাহাড়”। বঙ্কিম পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কমল চক্রবর্তী, তাঁর ‘ভালোপাহাড়’ নিয়ে, কবিতা ও গদ্যের বিশেষ সৃষ্টিশীলতা নিয়ে অসম্ভব ভালো একটি প্রতিবেদনধর্মী লেখা।
‘প্রবন্ধ’ বিভাগে রয়েছে মোট ৯টি রচনা। ভিন্নভাষী জাতি উপজাতিদের সমাজ, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন লেখকবৃন্দ। গারোদের বিষয়ে দুটি প্রবন্ধ লিখেছেন প্রবোধ এম সাংমা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। দ্বিতীয়োক্ত প্রবন্ধটি অনেকটাই বিস্তৃত এবং তথ্যসমৃদ্ধ। কোচদের নিয়ে বিস্তৃত লিখেছেন নির্মল কোচ। হাজংদের নিয়ে লেখা দুটি রচনা - লিখেছেন বীরেন হাজং ও বাসুদেব হাজং। রাভা লোকসংগীত নিয়ে একাধিক গানের উল্লেখ ও তার অনুবাদ সহ বিস্তৃত লিখেছেন সুনীল পাল। ড. সুভাষচন্দ্র পাল লিখেছেন - ‘ঝাড়খণ্ডী কুর্মি সমাজে জন্ম সংস্কার’। লেপচাদের নিয়ে তথ্যসংবলিত রচনা লিখেছেন সুলেখা সরকার। শিরোনাম অনুযায়ী প্রতিটি প্রবন্ধেই প্রতিভাত হয়েছে সংশ্লিষ্ট জাতি-উপজাতি জনজীবনের যাপনকথার নির্যাস। ‘সংক্ষিপ্ত পরিসরে স্বল্প কথা বিভূতিভূষণ’ - লিখেছেন বরুণ চক্রবর্তী। অনেকটাই সংক্ষিপ্ত এবং আবেগিক প্রবন্ধ। মূলত এই বিভাগ সংখ্যাটির মান বৃদ্ধি করেছে অনেকটাই।
সমৃদ্ধ কবিতা বিভাগে রয়েছে একগুচ্ছ নামিদামি কবিদের কবিতা। যাঁরা লিখেছেন - বিকাশ সরকার, কমল সাহা, প্রাণজি বসাক, তুষারকান্তি সাহা, গোবিন্দ ধর, বাপী চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ বাগচী, বিশ্বজিৎ নাগ, নীতীশ বর্মণ, সঞ্জীব দে, সঞ্জয় সোম, ফাল্গুনী চক্রবর্তী, বনমালী নন্দী, সৌম্যস্বপন চক্রবর্তী ও কৃতিকণা চিনি। নানা বিষয়ের উপর নানা আঙ্গিকে লেখা সব কবিতা। বিশেষোল্লেখ সংগত হবে না মোটেও।
গল্প বিভাগের প্রথম গল্প সমরেন্দ্র বিশ্বাসের ‘ধর্মহীন খড়ের শব’। গভীর চিন্তাপ্রসূত একটি সুলিখিত বার্তাবহ গল্প। পরিসরের প্রেক্ষিতে একে অণুগল্প বিভাগেও রাখা যেত যদিও সম্পাদক সম্ভবত বিষয়ের বিস্তৃতির কথা ভেবেই গল্পটিকে এই বিভাগে স্থান দিয়েছেন। উৎপল ধরের ‘ওভারটাইম’ গল্প টানটান গদ্যের এক নমুনা। গল্প এগিয়েছে তরতরিয়ে যদিও সমাপন একেবারেই ভিন্নধর্মী। সমস্যার এমন সমাধান কতটা গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণের দায় পাঠকের। তবে গল্পকারের চিন্তা যে একেবারেই ব্যতিক্রমী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভাগের তৃতীয় তথা শেষ গল্প ‘বেওয়ারিশ লাশ’। লিখেছেন সংযুক্তা দাশ পুরকায়স্থ। গল্পের আদলে গড়ে ওঠা কিছু বাস্তব সত্য ভিত্তিক কথোপকথন। সত্যজিৎ চৌধুরীর অণুগল্প ‘গ্রামোফোন’ একটি সার্থক, বার্তাবহ অণুগল্প।
প্রবন্ধ-নিবন্ধের সংজ্ঞাবিষয়ক জটিলতায় প্রবেশ না করে পত্রিকায় এরপর রয়েছে চারটি ‘নিবন্ধ’। প্রতিটি রচনাই ‘মিলন’ পত্রিকা বিষয়ক স্মৃতিচারণে সমৃদ্ধ। লিখেছেন তুষারকান্তি সাহা, সুনীল কুমার সাহা, বরুণ মণ্ডল ও শিবব্রত দেওয়ানজী। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুষারকান্তির লেখা থেকে তুলে ধরা যায় এই পরিসরে - ‘…ছোটো পত্রিকা এক একটি সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যেই জন্ম নেয়। সংগ্রামের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তাকে চলতে হয়, কালের নিয়মে তার আয়ুও অনিশ্চিত এবং চিরন্তন নিয়মে মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী। বিশ্বব্যাপী সাহিত্যের ইতিহাস তার সাক্ষী। তবু প্রকৃতিগতভাবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে আমাদের আশায় আশায় পথচলা থেমে থাকে না, থাকতে পারে না। বিশ্বজিৎ নন্দীও তার ব্যতিক্রম নয়…।’ ছোটপত্রিকা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দীর বিষয়ে এক উল্লেখযোগ্য বয়ান। বিভাগের শেষ নিবন্ধটি পুন:প্রকাশিত। শিবব্রত দেওয়ানজীর লেখা ‘গারো পাহাড়ের বাংলা পত্রিকা মিলন’। ‘মিলন’ পত্রিকা ও এর সঙ্গে লেখকের আন্তরিক যোগসূত্রের কথা। লেখাটি লেখকের মৃত্যুর পূর্বে শারদ সংখ্যা - ২০১২তে প্রকাশিত হয়েছিল।
১১১ পৃষ্ঠার এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পত্রিকা সংখ্যা। উচ্চমানের কাগজ ও বাঁধাই, স্পষ্ট ছাপা, যথাযথ অক্ষর, শব্দ ও বাক্য বিন্যাস। কিছু বানান বিভ্রাট নিতান্তই অনিবার্য রূপে থেকে যায়। শেষ কথা - উত্তরপূর্বের ছোটপত্রিকার সংসারে ‘মিলন’ নিঃসন্দেহে এক অপ্রতিরোধ্য ও গর্বের প্রকাশ।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
মূল্য - ২৫০ টাকা
একটি পত্রিকা প্রকাশের দায়ভার কতটা তা সম্পাদকমাত্রেই বোধগম্য। আর সেই পত্রিকাটি যদি প্রকাশিত হয় মেঘালয়ের ‘তুরা’ নামক প্রত্যন্ত স্থান থেকে তাহলে সম্পাদকের শ্রম ও নিগূঢ় অধ্যবসায়ের বহর অনুমান করা সাধারণ মানুষের পক্ষে নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। সেই অসাধ্য কাজটিই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে করে আসছেন ‘মিলন’ নামক এ অঞ্চলে বহু পরিচিত একটি বার্ষিক পত্রিকার সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। লেখালেখির সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার ফলে তাঁর এই গরজ স্বাভাবিক অর্থেই আকাশছোঁয়া। 
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘মিলন’ পত্রিকার চার দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা - ২০২৫। প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ-নিবন্ধের বাইরেও রয়েছে একগুচ্ছ কবিতা, গল্প, ছোটগল্প ইত্যাদি। স্বচ্ছ, সটান সম্পাদকীয়তে স্পষ্টভাষ্যে উচ্চারিত হয়েছে এক প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে পত্রিকা প্রকাশের বহুবিধ সমস্যা ও তা কাটিয়ে ওঠার এক দুর্বার প্রয়াসের কথা। রয়েছে পত্রিকার মান নিয়ে আপসহীন বক্তব্য। পত্রিকার আলোচ্য সংখ্যাটির প্রথম লেখা হিসেবে রয়েছে ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব’ বিভাগে রাজকুমার সরকার (ঝাড়খণ্ড)-এর একটি চমৎকার রচনা - ‘কমল চক্রবর্তী ও তাঁর হাতে গড়া ‘ভালোপাহাড়”। বঙ্কিম পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কমল চক্রবর্তী, তাঁর ‘ভালোপাহাড়’ নিয়ে, কবিতা ও গদ্যের বিশেষ সৃষ্টিশীলতা নিয়ে অসম্ভব ভালো একটি প্রতিবেদনধর্মী লেখা। 
‘প্রবন্ধ’ বিভাগে রয়েছে মোট ৯টি রচনা। ভিন্নভাষী জাতি উপজাতিদের সমাজ, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন লেখকবৃন্দ। গারোদের বিষয়ে দুটি প্রবন্ধ লিখেছেন প্রবোধ এম সাংমা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দী। দ্বিতীয়োক্ত প্রবন্ধটি অনেকটাই বিস্তৃত এবং তথ্যসমৃদ্ধ। কোচদের নিয়ে বিস্তৃত লিখেছেন নির্মল কোচ। হাজংদের নিয়ে লেখা দুটি রচনা - লিখেছেন বীরেন হাজং ও বাসুদেব হাজং। রাভা লোকসংগীত নিয়ে একাধিক গানের উল্লেখ ও তার অনুবাদ সহ বিস্তৃত লিখেছেন সুনীল পাল। ড. সুভাষচন্দ্র পাল লিখেছেন - ‘ঝাড়খণ্ডী কুর্মি সমাজে জন্ম সংস্কার’। লেপচাদের নিয়ে তথ্যসংবলিত রচনা লিখেছেন সুলেখা সরকার। শিরোনাম অনুযায়ী প্রতিটি প্রবন্ধেই প্রতিভাত হয়েছে সংশ্লিষ্ট জাতি-উপজাতি জনজীবনের যাপনকথার নির্যাস। ‘সংক্ষিপ্ত পরিসরে স্বল্প কথা বিভূতিভূষণ’ - লিখেছেন বরুণ চক্রবর্তী। অনেকটাই সংক্ষিপ্ত এবং আবেগিক প্রবন্ধ। মূলত এই বিভাগ সংখ্যাটির মান বৃদ্ধি করেছে অনেকটাই।
সমৃদ্ধ কবিতা বিভাগে রয়েছে একগুচ্ছ নামিদামি কবিদের কবিতা। যাঁরা লিখেছেন - বিকাশ সরকার, কমল সাহা, প্রাণজি বসাক, তুষারকান্তি সাহা, গোবিন্দ ধর, বাপী চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ বাগচী, বিশ্বজিৎ নাগ, নীতীশ বর্মণ, সঞ্জীব দে, সঞ্জয় সোম, ফাল্গুনী চক্রবর্তী, বনমালী নন্দী, সৌম্যস্বপন চক্রবর্তী ও কৃতিকণা চিনি। নানা বিষয়ের উপর নানা আঙ্গিকে লেখা সব কবিতা। বিশেষোল্লেখ সংগত হবে না মোটেও।
গল্প বিভাগের প্রথম গল্প সমরেন্দ্র বিশ্বাসের ‘ধর্মহীন খড়ের শব’। গভীর চিন্তাপ্রসূত একটি সুলিখিত বার্তাবহ গল্প। পরিসরের প্রেক্ষিতে একে অণুগল্প বিভাগেও রাখা যেত যদিও সম্পাদক সম্ভবত বিষয়ের বিস্তৃতির কথা ভেবেই গল্পটিকে এই বিভাগে স্থান দিয়েছেন। উৎপল ধরের ‘ওভারটাইম’ গল্প টানটান গদ্যের এক নমুনা। গল্প এগিয়েছে তরতরিয়ে যদিও সমাপন একেবারেই ভিন্নধর্মী। সমস্যার এমন সমাধান কতটা গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণের দায় পাঠকের। তবে গল্পকারের চিন্তা যে একেবারেই ব্যতিক্রমী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভাগের তৃতীয় তথা শেষ গল্প ‘বেওয়ারিশ লাশ’। লিখেছেন সংযুক্তা দাশ পুরকায়স্থ। গল্পের আদলে গড়ে ওঠা কিছু বাস্তব সত্য ভিত্তিক কথোপকথন। সত্যজিৎ চৌধুরীর অণুগল্প ‘গ্রামোফোন’ একটি সার্থক, বার্তাবহ অণুগল্প। 
প্রবন্ধ-নিবন্ধের সংজ্ঞাবিষয়ক জটিলতায় প্রবেশ না করে পত্রিকায় এরপর রয়েছে চারটি ‘নিবন্ধ’। প্রতিটি রচনাই ‘মিলন’ পত্রিকা বিষয়ক স্মৃতিচারণে সমৃদ্ধ। লিখেছেন তুষারকান্তি সাহা, সুনীল কুমার সাহা, বরুণ মণ্ডল ও শিবব্রত দেওয়ানজী। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুষারকান্তির লেখা থেকে তুলে ধরা যায় এই পরিসরে - ‘…ছোটো পত্রিকা এক একটি সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যেই জন্ম নেয়। সংগ্রামের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তাকে চলতে হয়, কালের নিয়মে তার আয়ুও অনিশ্চিত এবং চিরন্তন নিয়মে মৃত্যুও অবশ্যম্ভাবী। বিশ্বব্যাপী সাহিত্যের ইতিহাস তার সাক্ষী। তবু প্রকৃতিগতভাবে অদম্য ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে আমাদের আশায় আশায় পথচলা থেমে থাকে না, থাকতে পারে না। বিশ্বজিৎ নন্দীও তার ব্যতিক্রম নয়…।’ ছোটপত্রিকা ও সম্পাদক বিশ্বজিৎ নন্দীর বিষয়ে এক উল্লেখযোগ্য বয়ান। বিভাগের শেষ নিবন্ধটি পুন:প্রকাশিত। শিবব্রত দেওয়ানজীর লেখা ‘গারো পাহাড়ের বাংলা পত্রিকা মিলন’। ‘মিলন’ পত্রিকা ও এর সঙ্গে লেখকের আন্তরিক যোগসূত্রের কথা। লেখাটি লেখকের মৃত্যুর পূর্বে শারদ সংখ্যা - ২০১২তে প্রকাশিত হয়েছিল।
১১১ পৃষ্ঠার এক স্বয়ংসম্পূর্ণ পত্রিকা সংখ্যা। উচ্চমানের কাগজ ও বাঁধাই, স্পষ্ট ছাপা, যথাযথ অক্ষর, শব্দ ও বাক্য বিন্যাস। কিছু বানান বিভ্রাট নিতান্তই অনিবার্য রূপে থেকে যায়। শেষ কথা - উত্তরপূর্বের ছোটপত্রিকার সংসারে ‘মিলন’ নিঃসন্দেহে এক অপ্রতিরোধ্য ও গর্বের প্রকাশ। 
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
মূল্য - ২৫০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৪৩৬১১২১১৩ 

Comments

Popular posts from this blog

শেকড়ের টানে নান্দনিক স্মরণিকা - ‘পরিযায়ী’

রামকৃষ্ণনগর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক উপত্যকার এক ঐতিহ্যময় শহর । বিশেষ করে শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে চিরদিনই এক অগ্রণী স্থান হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে এই নাম । বৃহত্তর রামকৃষ্ণনগরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস বহুদিনের । দেশভাগের আগে ও পরে , উত্তাল সময়ে স্থানচ্যূত হয়ে এখানে থিতু হতে চাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ ও কষ্টের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে এক বিশাল বাসযোগ্য অঞ্চল । শুধু রুটি , কাপড় ও ঘরের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রই নয় , এর বাইরে শিক্ষা অর্জনের ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মমনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেইসব মহামানবেরা । ফলস্বরূপ এক শিক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যদিও উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে বেরোতে হয়েছিল নিজ বাসস্থান ছেড়ে । শিলচর তখন এ অঞ্চলের প্রধান শহর হওয়ায় স্বভাবতই শিক্ষা ও উপার্জনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হয় । এবং স্বভাবতই রামকৃষ্ণনগর ছেড়ে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন এই শিলচরে । এই ধারা আজও চলছে সমানে । শিলচরে এসেও শেকড়ের টানে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে রামকৃষ্ণনগর মূলের লোকজনেরা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক সৌহার্দমূলক বাতাবরণ । এবং সেই সূত্রেই ২০০০ সালে গঠিত হয় ‘ ...

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...