Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2026

ভিন্নতর আঙ্গিক ও বৈচিত্রে প্রকাশিত দুটি সমকালিক ছোটপত্রিকা

ত্রিপুরা রাজ্য উত্তরপূর্বাঞ্চলের বাংলা সাহিত্য চর্চার এক উর্বর চারণভূমি । এই রাজ্যে সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি পত্রিকা প্রকাশের যে লহর বয়ে চলেছে অবিরাম তার ব্যাপ্তি উত্তর - দক্ষিণ - পশ্চিম জুড়ে । সম্প্রতি একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছে ধলাই জেলার কুলাই বাজার থেকে রীতা ঘোষ সম্পাদিত ছোটপত্রিকা ‘ ধলাই ’ এবং আগরতলা থেকে শাশ্বতী দেব সম্পাদিত ‘ সমকাল ’ পত্রিকা দুটি । উল্লেখযোগ্য যে দুই মহিলা সম্পাদক সম্পাদিত এই দুটি পত্রিকার বাইরেও এমন দৃষ্টান্ত সমগ্র রাজ্য জুড়ে একাধিক । সাহিত্য সাধনা ও সৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ অনাদিকাল থেকেই সমপর্যায়ে নিমগ্ন রয়েছেন আপন প্রতিভা ও বৈভবে । সেই ধারা আজও সমানে চলছে । ত্রিপুরা তার উৎকৃষ্ট নিদর্শন।   ধলাই পেপারব্যাকে ২৪ পৃষ্ঠার পত্রিকাটি আক্ষরিক অর্থেই ‘ছোট’পত্রিকা যদিও নান্দনিকতা ও গরজে স্থান করে নেয় আলোচনার টেবিলে। ২০২৫-এর শেষার্ধে প্রকাশিত সংখ্যাটি হচ্ছে দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা। অর্থাৎ পত্রিকার পথ চলা এখনও শুরুর পর্যায়েই যদিও কিছু উৎকর্ষ, কিছু ব্যতিক্রমী চিন্তাচর্চার ঝলক অনুধাবন করা যায়। প্রথমত সম্পাদকীয়টিই তার প্রমাণ। কাব্যে সম্পাদকীয় লিখেছেন ‘গোবিন্দ ধর...

লোকজীবনের নানা আঙ্গিকে সমৃদ্ধ সংগ্রহযোগ্য গ্রন্থ - ‘লোকসংস্কৃতি’

দ্বিতীয় সংখ্যা মুখপত্রের পর আলোচ্য সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ ইংরেজির শেষ পর্যায়ে ‘জাতীয় লোকসংস্কৃতি পরিষদ’-এর কুমারঘাট অধিবেশন উপলক্ষে। সেই হিসেবে এটি তৃতীয় সংখ্যা হিসেবে উল্লেখিত হতো, কিন্তু টাইটেল ভার্সো পেজে লেখা আছে ‘নানাবিধ রচনার সম্ভার’। সুতরাং পরিষদের মুখপত্র বলাটা হয়তো সমীচীন হবে না। টাইটেল ভার্সো পেজে প্রকাশক বা প্রকাশক সংস্থার নাম লেখা আছে ‘কালজয়ী’। সাধারণত আয়োজক সংস্থাই প্রকাশ করে থাকে এসব মুখপত্র জাতীয় গ্রন্থাদি। ধোঁয়াশা এখানেও। তবে সুখের কথা এই যে এইসব ধোঁয়াশা যা নিতান্তই পরিষদের আভ্যন্তরীণ বিষয় - একপাশে সরিয়ে রাখলে পেপারব্যাকে ২৮৭ পৃষ্ঠার বিশাল এই গ্রন্থের পরতে পরতে যেসব রচনা সন্নিবিষ্ট আছে তা নিতান্তই অমূল্য বললেও কম বলা হয়। এ নিয়ে সম্পাদকীয়তে আছে - ‘...অনেক রচনায় একাডেমিক রীতি অনুসরণ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ নিজের মতো করে গবেষণালব্ধ বিষয়কে উপস্থাপিত করবার চেষ্টা করেছেন। আমরা সম্পাদকমণ্ডলী উভয় বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়ে লেখাগুলো প্রকাশ করবার চেষ্টা করেছি। একটা লক্ষণীয় বিষয় হল, বিভিন্ন রচনায় নানা লুপ্তপ্রায় আচার অনুষ্ঠানকে তুলে ধরেছেন - যা ইতো:পূর্বে কোথাও প্রকাশিত কিংবা আ...

অক্ষর ও ভাষার গরজে প্রকাশিত দুই প্রতিবেশী পত্রিকা

উত্তরপূর্বের ত্রিপুরা রাজ্যে বিভিন্ন ভাষার পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে নিরন্তর । এর মধ্যে বাংলা পত্রপত্রিকার সংখ্যাই বেশি । অবয়ব কিংবা সম্ভারের আধিক্য নয় , প্রকাশের গরজ , সৃষ্টির মাদকতা ও নান্দনিকতা তথা অক্ষর ও ভাষার প্রতি ভালোবাসাই এখানে বেশি উপজীব্য , শেষ কথা । একদিকে রাজ্যজোড়া পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে জুম চাষ , ফসল সৃষ্টি আর অন্যদিকে অক্ষর ও ভাষার কর্ষণে আকর্ষিত একঝাঁক কবি , লেখকের মুকুটে আকছার শোভা পায় ছোটপত্রিকার সম্পাদকের শিরোপা । সাহিত্য সৃষ্টির সোপান। তেমনই দুটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি শারদীয় আবহে , এক মাসের ব্যবধানে । রাজ্যের উত্তরে অবস্থিত কৈলাশহর থেকে অসীমা দেবী সম্পাদিত ‘ অক্ষরযাত্রা ’ এবং পশ্চিমের খোয়াই থেকে দীপেন নাথশর্মা সম্পাদিত ‘ আজকের ভাষা ’ ।   অক্ষরযাত্রা ছিমছাম নান্দনিকতায় ৩২ পৃষ্ঠার পত্রিকা ‘অক্ষরযাত্রা’। নজরকাড়া প্রচ্ছদের সৌজন্যে ত্রিপুরার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও চিত্রকল্পক মিলনকান্তি দত্ত। দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যাটিতে রয়েছে তীব্র সাহিত্যসাধনার গরজে কিছু কথা - সংক্ষিপ্ত সম্পাদকীয়তে । ‘...সাহিত্য হচ্ছে প্রকৃতি ও মানব জীবনের এক স্বচ্ছ আয়না। ...অক্...

বিশেষ মর্যাদায় প্রকাশিত ‘মনু থেকে ফেনী’র ‘ড. রঞ্জিত দে সংখ্যা’

দেশের অঙ্গরাজ্য ত্রিপুরা মূলত উত্তর-দক্ষিণে অধিক বিস্তৃত। উত্তরে মনু ও দক্ষিণে ফেনী। এই দুটি নদীর নামেই একটি প্রকাশনা সংস্থা, একটি পত্রিকা - ‘মনু থেকে ফেনী’ - অর্থাৎ পুরো ত্রিপুরা রাজ্য। সুচিন্তিত পত্রিকানাম। উত্তরপূর্বের একটি পত্রিকা সংখ্যা, যদিও তা বিশেষ সংখ্যা - এতটা সুসজ্জিত সচরাচর চোখে পড়ে না। পত্রিকাজাতীয় কোনও অবয়ব নেই এখানে, হার্ড বোর্ড বাঁধাইয়ে ডাবল জ্যাকেটে মোড়া আস্ত একটি গ্রন্থ। নান্দনিক, স্পষ্টতায় ভরপুর অরুণকুমার দত্তের প্রচ্ছদ, কাগজের মান, ছাপা, অক্ষরবিন্যাস, উৎকৃষ্ট অলংকরণ সব মিলিয়ে ত্রিপুরার ‘মনু থেকে ফেনী’ পত্রিকার সপ্তম বর্ষ সপ্তম সংখ্যাটি এক ব্যতিক্রমী সংখ্যা হিসেবে চিহ্নায়িত হবেই। লেখক, কবি বিজন বোস-এর সম্পাদনায় আলোচ্য সংখ্যাটি আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ড. রঞ্জিত দে সংখ্যা’ হিসেবে। সব মিলিয়ে ১২৮ পৃষ্ঠার এই সংখ্যায় ত্রিপুরার বিশিষ্ট লোকসাহিত্যিক তথা লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ড. রঞ্জিত দে’কে নিয়ে কলম ধরেছেন একগুচ্ছ লেখক। রয়েছে বিষয়ভিত্তিক একগুচ্ছ কবিতাও। সংক্ষিপ্ত সম্পাদকীয়তে আছে - ‘...এক নিভৃত সাহিত্য সাধক ফেনী চরের বাসিন্দা ড. রঞ্জিত দে। ড. দে ত্রিপুরার লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির গ...