Skip to main content

ব্যতিক্রমী কাব্যগ্রন্থ - Pandemic Poetry










সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কবি সুশান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ Pandemic Poetry. বরাকের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে কবি সুশান্ত ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই কবিতার দিগন্তে এক উজ্জ্বল তারার নাম ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক কবিতার বই কবিতার সজবোধ্যতা, পাঠকের বোধগম্যতার খুব কাছাকাছি অবস্থানই কবি হিসেবে তাঁর সীমাহীন জনপ্রিয়তার কারণ এবার সেই সূত্রেই প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে প্রকাশিত হলো তাঁর ইংরেজি কবিতার বই মাটির কাছাকাছি থাকা কবির সব কথা, সব অনুভূতি সরাসরি পৌঁছে গেছে মাটিরই কাছাকাছি থাকা পাঠকের দরবারে - একটু ভিন্ন আঙ্গিকে

নাম শুনে এরকম একটি ধারণা পাঠকের মনে আসতেই পারে যে এই গ্রন্থের কবিতাগুলি সম্ভবত অতিমারী বিষয়ক আসলে কিন্তু তা নয় কবিতাগুলি অতিমারী কালে লিখিত বলেই Pandemic Poetry. স্বভাবতই অতিমারী বিষয়ক কবিতারই প্রাধান্য থাকবে গ্রন্থে। কিন্তু এর বাইরেও কবির স্বভাবসিদ্ধ সরলতায় লিপিবদ্ধ হয়েছে একের পর এক অনবদ্য অনুভবের কবিতা।

অতিমারী বিষয়ক একাধিক কবিতায় অসাধারণ দক্ষতায় কবি ধরে রেখেছেন সময়টাকে। এ যেন ত্রস্তবেলার এক জীবন্ত দলিল। একেবারেই সহজ ভাষায় অতিমারীর বিভীষিকাকে ব্যক্ত করেছেন সোজাসাপটা ভাষায়। বই-এর দ্বিতীয় কবিতা - Pandemic Time-এই শুরু এই ধারা -

It is Pandemic Time

Time of Tragedy

The country would go under Lock-down

And we would be in Quarantine.

অতিমারী নিয়ে এভাবেই ধাপে ধাপে এগিয়েছেন কবি তারিখ হিসেবে অতিমারীর পুরো চিত্রটাই লিপিবদ্ধ করেছেন কবিতায় তবে কবিতা শুরুর আগেই যে কথাটি না বললে নয় তা হলো এই যে গ্রন্থের একগুচ্ছ অসামান্য ভূমিকা লিখেছেন বিভিন্ন দেশের কবিতা জগতের একাধিক বরেণ্য ব্যক্তি এর মধ্যে আছেন অশোক চক্রবর্তী থোলানা, সুসানা রবার্টস, কে ভি ডোমিনিক, সুনন্দা মুখার্জী, শিবাশিস চ্যাটার্জী, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়, দোলনচাঁপা দাসপাল এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে এঁরা সবাই আপন কর্মদক্ষতায় উজ্জ্বল ভূমিকায় কবি সুশান্ত ভট্টাচার্যও সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন অতিমারী কালের তাঁর যাপিত জীবনের অনুভব বলতে গেলে খেই ধরিয়ে দিয়েছেন পঠনের

অতিমারী নিয়ে ধারাবাহিক কবিতাগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য - Veil of Darkness, Corona Virus, Quarantine, Social Distancing, COVID-19, Pandemic, Silence, Wild Darkly Night, No Touch No Hug No Kiss, Rat Race, In the Summer Rain, Life And Death ইত্যাদি

নিউ দিল্লির AuthorsPress থেকে প্রকাশিত ২০১ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট রয়েছে কবির ১৩৫টি কবিতা গ্রন্থটি উৎসর্গীকৃত হয়েছে কবিপত্নী পম্পা ভট্টাচার্য, কন্যা সোমালি ভট্টাচার্য এবং পুত্র সুমন ভট্টাচার্যকে

অতিমারীর ত্রাসজর্জরিত দুঃখ ব্যথার বাইরে রয়েছে এক গুচ্ছ কবিতে মূলতঃ এই ধরণের কবিতার জন্যই কবি সুশান্ত ভট্টাচার্য পাঠক মহলে সমাদৃত এবং জনপ্রিয় জীবনরসবোধে সিক্ত এই কবিতাই কবিকে নিয়ে আসে পাঠক হৃদয়ের একেবারে কাছাকাছি এখানেও হয়নি ব্যতিক্রম তাই তো কবির কলমে -

I pour red wine into two glasses

To celebrate the joyful time

With my poet friend Maria

At her flat in Barcelona, Spain.

- - - - - - - -

I zoom my eyes at her photogenic face

And I am enjoying her Spanish Beauty …

- - -  Night is too young to us now - - -

(কবিতা - Spanish Beauty)

কিংবা

You are an interesting woman -

With Your Beauty, intelligentia and pride of -

Being a woman with heart, love and emotion.

- - - - - - - -

Call me when you are at a romantic mood

After reading my free verse poetry -

For a cup of coffee with you

At an evening.      

(কবিতা - For a cup of Cofee).

এই Free verse-এই কবি একাধিক কবিতায় নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন পাঠকের সাথে তবে এইখানে কবিতার আরোও খানিকটা মাধুর্য পাঠক মনে বাঞ্ছিত মনে হয়েছে এছাড়া যদিও হাতে গোণা তবুও কিছু বানানে ছাপাখানার ভুতের ছাপ পড়েছে অবাঞ্ছিত ভাবে

সব মিলিয়ে ইংরেজি কবিতার বই একেবারেই ব্যতিক্রমী ভাবে প্রকাশিত হলো এই অঞ্চল থেকে এটাই অনেক উল্লেখযোগ্য কথা কবি তাঁর কাব্যগ্রন্থ নিয়ে, কাব্যগ্রন্থের অনবদ্য সুষমা নিয়ে, কবিতার নির্যাস নিয়ে এজন্যই থেকে গেলেন ব্যতিক্রমী হয়ে

 

Pandemic Poetry

সুশান্ত ভট্টাচার্য

মূল্য - ৩৯৫ টাকা

যোগাযোগ - ৯৪৩৫০৭১০৮০

 

- - - - - - - - - - - - - - -

 

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী  

  


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

শেকড়ের টানে নান্দনিক স্মরণিকা - ‘পরিযায়ী’

রামকৃষ্ণনগর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক উপত্যকার এক ঐতিহ্যময় শহর । বিশেষ করে শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে চিরদিনই এক অগ্রণী স্থান হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে এই নাম । বৃহত্তর রামকৃষ্ণনগরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস বহুদিনের । দেশভাগের আগে ও পরে , উত্তাল সময়ে স্থানচ্যূত হয়ে এখানে থিতু হতে চাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ ও কষ্টের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে এক বিশাল বাসযোগ্য অঞ্চল । শুধু রুটি , কাপড় ও ঘরের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রই নয় , এর বাইরে শিক্ষা অর্জনের ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মমনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেইসব মহামানবেরা । ফলস্বরূপ এক শিক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যদিও উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে বেরোতে হয়েছিল নিজ বাসস্থান ছেড়ে । শিলচর তখন এ অঞ্চলের প্রধান শহর হওয়ায় স্বভাবতই শিক্ষা ও উপার্জনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হয় । এবং স্বভাবতই রামকৃষ্ণনগর ছেড়ে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন এই শিলচরে । এই ধারা আজও চলছে সমানে । শিলচরে এসেও শেকড়ের টানে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে রামকৃষ্ণনগর মূলের লোকজনেরা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক সৌহার্দমূলক বাতাবরণ । এবং সেই সূত্রেই ২০০০ সালে গঠিত হয় ‘ ...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...

মহানিষ্ক্ৰমণ

প্রায় চল্লিশ বছর আগে গ্রামের সেই মায়াময় বাড়িটি ছেড়ে আসতে বেজায় কষ্ট পেয়েছিলেন মা ও বাবা। স্পষ্ট মনে আছে অর্ঘ্যর, এক অব্যক্ত অসহায় বেদনার ছাপ ছিল তাঁদের চোখেমুখে। চোখের কোণে টলটল করছিল অশ্রু হয়ে জমে থাকা যাবতীয় সুখ দুঃখের ইতিকথা। জীবনে চলার পথে গড়ে নিতে হয় অনেক কিছু, আবার ছেড়েও যেতে হয় একদিন। এই কঠোর বাস্তব সেদিন প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে পেরেছিল অর্ঘ্যও। সিক্ত হয়ে উঠছিল তার চোখও। জন্ম থেকে এখানেই যে তার বেড়ে ওঠা। খেলাধুলা, পড়াশোনা সব তো এখানেই। দাদাদের বাইরে চলে যাওয়ার পর বারান্দাসংলগ্ন বাঁশের বেড়াযুক্ত কোঠাটিও একদিন তার একান্ত ব্যক্তিগত কক্ষ হয়ে উঠেছিল। শেষ কৈশোরে এই কোঠাতে বসেই তার শরীরচর্চা আর দেহজুড়ে বেড়ে-ওঠা লক্ষণের অবাক পর্যবেক্ষণ। আবার এখানে বসেই নিমগ্ন পড়াশোনার ফসল ম্যাট্রিকে এক চোখধাঁধানো ফলাফল। এরপর একদিন পড়াশোনার পাট চুকিয়ে উচ্চ পদে চাকরি পেয়ে দাদাদের মতোই বাইরে বেরিয়ে যায় অর্ঘ্য, স্বাভাবিক নিয়মে। ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে যায় দিদিরও। সন্তানরা যখন বড় হয়ে বাইরে চলে যায় ততদিনে বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা মায়ের পক্ষে আর ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বহু জল্পনা কল্পনার শেষে ত...