Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2026

এক পঙ্‌ক্তির আত্মবিষে আত্মস্থ দ্রোহের বার্তা

গোবিন্দ ধর । ত্রিপুরা রাজ্য তথা উত্তরপূর্বের এক নিরলস আখরচাষী সাহিত্যিক । কলম বেয়ে তাঁর নিরন্তর প্রসবিত হতে থাকে বোধসঞ্জাত সংলাপ । প্রকাশিত হতে থাকে নানা আঙ্গিকের সাহিত্য, বই - পুস্তক - সংকলন-গ্রন্থাদি । সম্প্রতি হাতে এসেছে সদ্য পেরিয়ে আসা বর্ষে প্রকাশিত তাঁর ত্রয়ী অণুগ্রন্থ যাঁর এপিগ্রাফ বা নির্যাস হচ্ছে ‘ এক পঙ্ ‌ ক্তির আত্মবিষ ’ । ‘ দ্রোহ ’ বিষয়ক শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে একের পর এক তিনটি ১/৪ লেটার বা ১/৮ ট্যাবলয়েড সাইজের পাকা বাঁধাইয়ের অণুগ্রন্থ । প্রতিটি গ্রন্থই ৬৪ পৃষ্ঠার । রয়েছে প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে আত্মবিষ অর্থাৎ জাগতিক সকল অশুভের বিরুদ্ধে শ্লেষ, প্রতিবাদ ও দ্রোহের প্রতিফলন। এক ব্যতিক্রমী চিন্তা, ব্যতিক্রমী ফসল নি:সন্দেহে। পাশাপাশি রয়েছে মুক্তিচিন্তা, প্রেম ইত্যাদিও। তিনটি গ্রন্থের ফসলকে একত্রে একটি সাধারণ মাপের গ্রন্থেই যেখানে সংকলিত করা যেত সেখানে তিনটি কেন এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। এর উত্তর গ্রন্থকারের কাছেই শুধু পাওয়া যেতে পারে ধরে নিয়েও যা অনুধাবন করা যায় তা হল - বীজ থেকেই যেখানে সকল কার্যের সূত্রপাত তাই এক এক করে এগোলে যে ক্রমটি পাওয়া যায় তা হচ্ছে - ‘দ্রোহবীজ’, ‘দ্রোহকাল’...

সমকালে প্রকাশিত বরাকের দুই প্রতিবেশী সাহিত্য পত্রিকা সংখ্যা

বরাকের দুই প্রধান শহর - শিলচর ও শ্রীভূমি । জন্মগত না হলেও স্থানিক সূত্রে দুই যমজ শহর । লেখালেখি , পত্রপত্রিকার ধারাবাহিকতায় সমৃদ্ধ এই উপত্যকার দুটি পত্রিকা । সম্প্রতি শিলচর থেকে প্রকাশিত হয়েছে স্বাগতা চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকার শারদীয় ১৪৩২ সংখ্যা এবং শ্রীভূমি থেকে নারায়ণ মোদক সম্পাদিত সীমান্তরশ্মি পত্রিকার একাদশ সংখ্যা , বইমেলা সংখ্যা । বিষয়ে , নিবেদনে হাতে তুলে নেওয়ার মতো সংক্ষেপিত ১ / ৪ ট্যাবলয়েড সাইজের এবং ১০০ টাকা মূল্যের উভয় পত্রিকায় রয়েছে মানসম্পন্ন লেখালেখির সমাহার ।   কল্পতরু ৫৬ পৃষ্ঠার পত্রিকা সংখ্যায় রয়েছে গদ্যপদ্যের সুষম সম্ভার । মাতৃ আবাহন ও শরতের উল্লেখের পাশাপাশি সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় মূলত স্থান পেয়েছে জনকণ্ঠ সংগীত শিল্পী জুবিন গার্গের অস্বাভাবিক অকালমৃত্যুর প্রসঙ্গ ও শোকগাথা । সংখ্যাটি উৎসর্গও করা হয়েছে এই অমর শিল্পীকেই । তবে সবচাইতে আকর্ষণীয় এর প্রচ্ছদ । বস্তুত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ পত্রিকাকে করে তোলে পাঠকপ্রিয় । শিকাগো মূলের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী লিজ ফ্লোরস - এর সাড়া জাগানো হিউমান ফেস্ ‌ অ্যাবস্ট্রাক্টের আদলে রূপাঙ্কিতা রায় চৌধুরীর প্রচ্ছ...

সমকালিক দুই ব্যতিক্রমী আঙ্গিকের পত্রিকা

  A4 সাইজের পত্রিকাগুলোর পৃষ্ঠাসংখ্যা কম হলেও নিজেদের বুকে ধরে রাখে লেখালেখির বিশাল সম্ভার । তবু পঠনবান্ধব নয় মোটেও । বস্তুত পাঠকালীন সময়ে ম্যাগাজিনটিকে সামলে রাখতে গিয়ে দস্তুর মতো কসরত করতে হয় বইকী । ত্রিপুরা থেকে সমকালে প্রকাশিত সময়াতনিক দুটি পত্রিকা আলোচনার টেবিলে উঠে আসে এইটুকু সাদৃশ্যের খাতিরে । শারদ পর্যায় ২০২৫ ( সার্বিক ২৬তম বর্ষ , ২৭তম সংখ্যা ) - পত্রিকা ‘ প্রবাহ ’, সম্পাদক জহর দেবনাথ এবং উত্তর বাধার ঘাট , আগরতলা থেকে প্রকাশিত ‘ আলোক বিন্দু ’ র প্রথম সংখ্যা । সম্পাদক রাখী রানী দাশদেব ।   প্রবাহ ধারাবাহিকতা মেনে মহালয়ার পুণ্য লগ্নে ধলাই থেকে প্রকাশিত হয়েছে ৫৮ পৃষ্ঠার পত্রিকা । প্রকাশের ধারাবাহিকতা এবং লেখালেখির মান অক্ষুণ্ণ রয়েছে যথারীতি । প্রথম পৃষ্ঠায় যথার্থ গরজে উৎসর্গ স্বরূপ সদ্যপ্রয়াত কবি , সাহিত্যিক জ্যোতির্ময় রায়ের স্মৃতিতে রয়েছে দুটি কবিতা । লিখেছেন নিশীথ রঞ্জন পাল এবং সম্পাদক জহর দেবনাথ । এবং এই পৃষ্ঠার প্রথম কবিতার শিরোনাম থেকেই শুরু হয়েছে বানান বিভ্রাট যা অক্ষুণ্ণ রয়েছে আদ্যোপান্ত , এমনকী রচনার শিরোনামেও । বস্তুত এই একটি বিভ্রাটের বাইরে আস্ত ম্যাগ...

নান্দনিকতায় প্রকাশিত ত্রিপুরার দুটি সমকালিক পত্রিকা

ত্রিপুরার সমস্থানিক দুটি লিটল ম্যাগাজিন যদিও প্রকাশের ধারাবাহিকতায় একেবারেই ভিন্ন। ২০২৫-এর শেষ তৃতীয়াংশে প্রকাশিত ‘বহ্নিশিখা’ (শারদ উৎসব সংখ্যা, ৩৫তম বর্ষ) এবং ‘ঐতিহ্য’ (প্রথম সংখ্যা) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর থেকে নিভা চৌধুরী এবং ধলাই জেলার কমলপুর থেকে প্রবোধ চন্দ্র দাসের সম্পাদনায়। স্বভাবতই সম্ভার, উৎকর্ষ ও সম্পাদনায় বৈপরীত্য থাকলেও আলোচনার টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে গরজ ও ভৌগোলিক নৈকট্যের নিরিখে।   বহ্নিশিখা ‘ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিষয়ক ত্রৈমাসিক ’ এই পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার এক আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রচ্ছদ। ব্যত্যয় ঘটেনি আলোচ্য সংখ্যায়ও। প্রাসঙ্গিকতায়, চিত্রে, বর্ণে যথারীতি চিত্তাকর্ষক যদিও আলোচ্য সংখ্যায় প্রচ্ছদকারের নাম অনুল্লেখিত । ১ / ৪ ক্রাউন সাইজের সাকুল্যে ২৯ পৃষ্ঠার এই সংখ্যাটি আবার সম্ভারে পরিপূর্ণ । কাব্যিক উৎসর্গ করা হয়েছে অসম তথা উত্তরপূর্বের ‘ গণকবি ’ বিপুল কুমার দত্তের উদ্দেশে । নি : সন্দেহে এক ব্যতিক্রমী উৎসর্গ । শক্তিপূজা ও দুর্গোৎসব নিয়ে এক পৃষ্ঠার সম্পাদকীয়র আগে দুই পৃষ্ঠাব্যাপী সূচিপত্রে রয়েছে গদ্য - পদ্যের বাহার যদিও ব...

হে নিরুপমা...

জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছেন নিরুপমা। শেষবর্ষার এক পশলা তুমুল বৃষ্টি যেন পৃথিবীর যাবতীয় মালিন্য ঘুচিয়ে দিয়ে এক স্নিগ্ধ শরতের সূচনায় মেতেছে। একাকী বসে বৃষ্টিকথা শুনছেন নিরুপমা। বৃষ্টি এসে যেন শুনিয়ে যায় জীবনেরই কথা। জীবনের কথা কেউ ভোলে না কখনও । বস্তুত বয়স যতই এগোয় , স্মৃতি ততই ধাওয়া করে পিছনপানে । এ এক আশ্চর্য বীক্ষণ । পিছিয়ে যেতে যেতে পৌঁছে যায় একেবারেই গোড়ার দিকে - ছ - সাত বছরের শৈশব যাপন যেন আয়না হয়ে নিতিদিন দর্শন করায় জীবনছবি । বাস্তবে ফিরে যাওয়া কিংবা ফিরে দেখার কোন সম্ভাবনা নেই জেনেও এই অমূল্য দর্শনে মজে যেতে ইচ্ছে করে প্রতিনিয়ত । এই যাপনে কোনো দুঃখব্যথার উপস্থিতি নেই । শুধুই সুখবাখানের স্ন্যাপশট । নিরুপমার তখন পঁচিশে পা । স্পষ্ট মনে আছে, থাকারই কথা। দাদাদের সংসারে বাবাহীন নিরুপমা তখন নিজেকে একটু একটু করে মেলে দিচ্ছে সর্বজনীন করে। বৃদ্ধা, রোগাক্রান্ত মা আর স্নেহময়ী বউদির তত্ত্বাবধানে বৃহৎ জগৎসংসারে নতুন দায়ভার সামলানোর স্বপ্ন এসে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে নিরুপমার মনোজগতে। মা অনেকটা সংযত বাক্যে আর বউদি খোলামেলা কথায় সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছেন নিরুপমার স্নায়ুতন্ত্রে।...