Skip to main content

Posts

Showing posts from December, 2025

সাহিত্য ভাবনায় সমৃদ্ধ ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চের মুখপত্র

একটি মুখপত্র বলতে সাধারণত যেখানে আয়োজক সংস্থার বিবরণ ও উদ্দেশ্যই প্রাধান্য পায় সেখানে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ ত্রিপুরা প্রকাশন মঞ্চ ’- এর মুখপত্র ‘ বইবার্তা ’ নি : সন্দেহে এক ব্যতিক্রমী প্রকাশ । স্টেটমেন্ট সাইজের ৭০ পৃষ্ঠার আলোচ্য মুখপত্রের ৪৮ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা , খতিয়ান ও উন্নত মানের প্রবন্ধ নিবন্ধ । এরই নিরিখে মুখপত্রটি স্থান করে নেয় আলোচনার টেবিলে । ‘ মুখপত্র সম্পাদকের কথা ’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে প্রথমেই উঠে আসে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রকাশনা বিষয়ক একগুচ্ছ তথ্যসমৃদ্ধ অতীত ও গরজে প্রত্যয়িত বর্তমান তথা ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ভাবনা । মুখপত্রের সম্পাদক তথা রাজ্যের সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব গোবিন্দ ধর এই গরজের ফলশ্রুতিতেই একাধারে প্রকাশনা সংস্থাসমূহ, লেখক ও পাঠক প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উন্নতির পথে আগুয়ান হওয়ার আশায় সম্পাদকীয়তে লিখছেন - ‘ ...ত্রিপুরা একটি ছোট রাজ্য। লোকসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪১.৪৭ লক্ষ। পাঠকের সংখ্যা সেই তুলনায় খুবই কম। এরকম একটি রাজ্যে ৩৭ এর উপর প্রকাশনা সংস্থা বই প্রকাশ করে। ...আরও ৩৭টি বা তারও বেশি প্রকাশনা সংস্থা আসুক ত্রিপুরার বইপত্...

উৎকৃষ্টতায় ভরপুর আপন অঙ্গনের শারদীয় সংখ্যা 'শিবালিক লিপি'

নজরকাড়া প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ছাপা ও কাগজের উন্নত মানসম্পন্ন একটি কুলীন অবাণিজ্যিক শারদীয় সংখ্যা, যা এই উত্তরপূর্ব থেকে প্রকাশিত হয় এবং বিশেষভাবে বলতে গেলে কোনও সাহিত্যমূলক সংস্থা নয়, একটি উন্নয়ন সমিতির তরফ থেকে প্রকাশিত হয় তা এ যাবৎ ক’জন পাঠকের হাতে পৌঁছেছে তা জানা নেই তবে ‘আমাদের কথা’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে দুই সম্পাদক সুদীপ্ত দেবরায় ও দেবযানী ভট্টাচার্য লিখছেন এ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা - ‘এ নিয়ে লাগাতার তৃতীয়বারের মতো পুজোর মরশুমে শিবালিক-লিপি পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া গেল। কোনও এক প্রান্তিক অঞ্চলের একটি উন্নয়ন সমিতি প্রতিবছর একটি পুজোসংখ্যা সাময়িকী প্রকাশ করতে সক্ষম হচ্ছে, এ যদি বা সামান্য আত্মশ্লাঘার বিষয় হয়ে থাকে, এর পিছনে কমিটি সদস্যদের শ্রম, ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনের দৃঢ় ভিত্তির কথা স্মরণ করতেই হবে। বহুদিন থেকেই শিবালিক পার্ক শিলচর তথা বরাক উপত্যকার বেশ কিছু স্বনামধন্য, কবি-লেখক-শিল্পীর বাসস্থান। রয়েছেন উদীয়মান আরও অনেকে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তাঁদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ হয়ে থাকে। এর পরেও খ্যাত-অখ্যাত এই সবাকার রচনা বছরে একটিবার অন্তত নিজেদের প্রকাশনায় সংবদ্ধ হোক, যাতে আরও প্রতিভা উ...

গরজে, প্রত্যয়ে উজ্জ্বল - ‘মনুতৈসা’ ও ‘খুমতৈয়া’

ত্রিপুরা থেকে সদ্যপ্রকাশিত দুটি ছোটপত্রিকা । ওজনে , অবয়বে , দর্শনে , লক্ষ্যে কোথাও যেন এক সাদৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায় । উত্তরপূর্বে ত্রিপুরা রাজ্যেই সাহিত্য চর্চা সবচাইতে বেশি হয় বললেও অত্যুক্তি হবে না । বাংলার পাশাপাশি ককবরক , রিয়াং ব্রু বা কাউব্রু কিংবা চাকমা ইত্যাদি ভাষায়ও সাহিত্য রচনা হয় নিয়মিত । প্রকাশিত হয় গুচ্ছ গুচ্ছ লিটল ম্যাগাজিন , ফোল্ডার ইত্যাদি । তবে বর্তমানে বাংলায় সাহিত্যচর্চাই সম্ভবত সবচাইতে বেশি হয় । ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চার রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ।   মনুতৈসা লেখক কবি আশিষকান্তি সাহা সম্পাদিত ‘ মনুতৈসা ’ পত্রিকার দ্বিতীয় বর্ষ , দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি । ২৮ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংখ্যায় একটি গদ্যের বাইরে রয়েছে ২০জন কবির কবিতা । কবিতার অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ কবি । স্বভাবতই রয়েছে একাধিক কাব্যসুষমামণ্ডিত কবিতা , সুখপঠনের কবিতা । মনুতৈসা অর্থে মনু নদী । ককবরক ভাষায় ‘ তৈসা ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে নদী । ত্রিপুরা রাজ্যের অন্যতম প্রধান নদী । কবিমন সততই নদীপ্রেমে মাতোয়ারা । সুতরাং কবি , সম্পাদকের নদীকেন্দ্রিক নাম সততই এক পছন্দের ...

সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নির্মোহ উপস্থাপন - বিকাশ সরকারের ‘উপন্যাস সংগ্রহ’

চারটি উপন্যাসের সংকলন - বিকাশ সরকারের ‘উপন্যাস সংগ্রহ’। ৪০৮ পৃষ্ঠার বোর্ড বাঁধাই সংকলনটির বিষয়ে ব্লার্বের পরিবর্তে শেষ মলাটে রয়েছে অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা - যাকে বলা যেতে পারে খেই ধরিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা কিংবা উপোদ্‌ঘাত । সেখান থেকে খানিক উদ্ধৃতি এখানে তুলে দেওয়াটা হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হবে না - প্রতিটি উপন্যাসের বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে এক মঙ্গলাচরণের আদলে। সাহিত্যগত সংজ্ঞা অনুযায়ী উপন্যাসের শ্রেণিবিভাগ বিন্যাসে যে ক’টি উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হল সামাজিক, রাজনৈতিক, আঞ্চলিক, মনস্তাত্ত্বিক, আত্মজৈবনিক, প্রেমধর্মী এবং ঐতিহাসিক। প্রতিটি উপন্যাসই আসলে লেখা হয়ে থাকে এক নির্দিষ্ট সময়কালকে সম্বল করে। ঘোষিত বা অঘোষিত ভাবে। সেই হিসেবে অধিকাংশ উপন্যাস - তা যে কোনো বিষয়ের উপর আধারিত হোক না কেন - এক একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। শুধু ইতিহাস বইয়ের চরিত্রসমূহের উপর লেখা কাহিনিই যে ঐতিহাসিক উপন্যাসের মর্যাদা পেতে পারে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাই এই ‘ঐতিহাসিক উপন্যাস’-এর বিতর্কটি বাদ দিলে কিংবা আলোচনায় রাখলেও অন্যান্য সবগুলি উপাদানই যেন খুঁজে পাওয়া যায় বিকাশের উপন্যাসে। এমনকি শেষ উপন্যাস যেটি আসলে...

কাব্যসুধায়, অনুপম গদ্যে ব্যতিক্রমী মা ও ছেলে

দুটি ভিন্ন ধারার গ্রন্থ। উত্তরবঙ্গের মাতা-পুত্র। পুত্র সায়ন্তন ধর ও মা ডরোথী দাশ বিশ্বাস উত্তর পূর্বের সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন বহু দিন ধরেই। উত্তরপূর্বের প্রেক্ষিতকে ছুঁয়ে পুত্রের এবং নান্দনিক সাহিত্যধারায় মায়ের এক অন্যতর ব্যতিক্রমী সৃষ্টি। উভয়েই যেভাবে তাঁদের সৃষ্টির মাধ্যমে চমক দিলেন গ্রন্থজগৎকে, নিঃসন্দেহে তার জুড়ি মেলা ভার। একে একে তারই কিছু অবলোকন - ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে (ভাগ ১) - সায়ন্তন ধর ইংরেজি Travelogue শব্দটির প্রচলিত অর্থ যদিও ভ্রমণ কাহিনি তবে তরুণ লেখক সায়ন্তন ধরের এই গ্রন্থটিকে সেই অর্থে ভ্রমণ কাহিনি না বলে ভ্রমণ ডায়ারি বলাই উপযুক্ত হবে। অসম-বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ), বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পারস্পরিক সুসম্পর্ক যুগ পুরোনো। ভৌগোলিক সূত্রে এবং ভাষা - বিশেষ করে লিপিগত সামঞ্জস্যের সূত্রে পাশাপাশি অবস্থিত বলে সম্প্রীতি, সহাবস্থান, আত্মীয়তার সম্পর্ক, সমাজ-সংস্কৃতির সাযুজ্য অনস্বীকার্য। উদ্ভিদবিদ সায়ন্তন কর্মসূত্রে গুয়াহাটিতে কর্মরত হওয়ার ফলে অসমের আলোহাওয়া, জলবায়ুর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ওতপ্রোতভাবে। অসম রাজ্যের অধিবাসী, তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদনদীর সঙ্গে যেন এক দেহ এক প্রাণ যুক্ত করে দিনযাপনে...

নিবিড় পাঠযোগ্য সমৃদ্ধ ‘মানবী’

‘উনিশ বছর , ৭২তম সংখ্যা । ক্যালেন্ডারের হিসেবে দীর্ঘদিন । এই দীর্ঘ চলার পথে নিঃসন্দেহে জীবনের অনেক কথাই লেখা হয়েছে ; তবু মনে হয় অনেক কথাই তো লেখা হয়ে ওঠেনি । মনের অবচেতনে সেসব কথা অস্পষ্ট ঘোরাফেরা করেছে , কিন্তু স্পষ্ট হয়ে লেখায় আসেনি । আসলে আমাদের সংস্কার কিছু কিছু বিষয়ে আমাদেরকে এখনও শেকল বন্দি করে রেখেছে। আমরা সেই তালাবন্ধ শেকল নিয়ে কখনও কখনও নাড়াচাড়া হয়তো করেছি; কিন্তু সেই তালা ভাঙার সাহস এখনও অর্জন করতে পারিনি... । ’ অকপট উচ্চারণে এই কথাটি রয়েছে উপর্যুক্ত সম্পাদকীয়তে । বস্তুত ‘মানবী’ নিরন্তর এক উত্তরণের চেষ্টায় যে রত রয়েছে তা অনস্বীকার্য। তাই তো উত্তরপূর্বের, বিশেষ করে বরাক উপত্যকার শিলচর থেকে চারজন বিশিষ্ট কবি, লেখক দ্বারা সম্পাদিত এই পত্রিকা এক বিশেষ স্থান ধরে রাখতে পেরেছে নিরবধি। তাছাড়া বছরে চার চারটি সংখ্যা নিয়মিত ভাবে প্রকাশ করাও আজকের শত ব্যস্ততার দিনে যে এক অনবদ্য কৃতিত্ব তাতেও কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। আলোচ্য সংখ্যাটি অর্থাৎ এই ৭২তম সংখ্যা, জুলাই - সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত হয়েছে শারদীয় সংখ্যা হিসেবে - চারের এক, দোলনচাঁপা দাসপাল-এর সম্পাদনায়। রেগুলার ১/৪ হাফ ট্যাবলয়েড ...

গল্পে গল্পে উদ্ভাসিত মুদ্রার ভিন্ন পিঠ

খুব বেশি লেখা তাঁর প্রকাশিত হয় না যদিও মাঝে মাঝেই পাঠককে চমকে দিতে ভালোবাসেন সুপ্রদীপ দত্তরায়। পত্রপত্রিকায় মূলত ফরমায়েশি লেখাতেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়। অন্যদিকে জনসমক্ষের বাইরে থেকেই একেবারে গ্রন্থ প্রকাশের মতো বিলাসিতা বোধ করি তাকেই মানায়। ছোটগল্প ও কবিতা - সাহিত্যের এই দুটি ধারাতেই তাঁর সাবলীল বিচরণ। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক গ্রন্থ। সম্প্রতি হাতে এসেছে তাঁর ছোটগল্পের সংকলন - ‘কাঠের চেয়ার’। ৬৮ পৃষ্ঠার হার্ড বোর্ড বাঁধাই, ভূমিকাবিহীন গ্রন্থটিতে সন্নিবিষ্ট হয়েছে মোট ১৪টি গল্প। ভূমিকা না থাকলেও রয়েছে ব্যতিক্রমী উৎসর্গ - তাঁর ‘সুখ-দুঃখের জীবনসাথি সংযুক্তা ও কন্যা অনন্যাকে’। বস্তুত এই উৎসর্গ থেকেই গল্পপাঠের একটা স্বরূপ জানা হয়ে যায়। সুপ্রদীপের গল্প পুরোপুরি ফিকশনদর্মী নয়। যদি কখনও তার ছোঁয়া থাকে কদাপি - সে কাহিনির স্বার্থে, বিষয়য়ের স্বার্থে। প্রতিটি গল্পই যথাসম্ভব ঘোর বাস্তবকে ভিত্তি করে লেখা যেখানে মূলত রয়েছে ধ্বস্ত সামাজিকতার রূপকল্প। তথাকথিত নিম্নবর্গের মানুষ, চোখের আড়ালে থেকে জীবনসংগ্রামে পর্যুদস্ত মানুষের কথাই বেশি করে উঠে আসে তাঁর গল্পে। সংলাপ ও বুনোটে প্রতি গল্পই হয়ে ওঠ...