দ্বিতীয় সংখ্যা মুখপত্রের পর আলোচ্য সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ ইংরেজির শেষ পর্যায়ে ‘জাতীয় লোকসংস্কৃতি পরিষদ’-এর কুমারঘাট অধিবেশন উপলক্ষে। সেই হিসেবে এটি তৃতীয় সংখ্যা হিসেবে উল্লেখিত হতো, কিন্তু টাইটেল ভার্সো পেজে লেখা আছে ‘নানাবিধ রচনার সম্ভার’। সুতরাং পরিষদের মুখপত্র বলাটা হয়তো সমীচীন হবে না। টাইটেল ভার্সো পেজে প্রকাশক বা প্রকাশক সংস্থার নাম লেখা আছে ‘কালজয়ী’। সাধারণত আয়োজক সংস্থাই প্রকাশ করে থাকে এসব মুখপত্র জাতীয় গ্রন্থাদি। ধোঁয়াশা এখানেও।
তবে সুখের কথা এই যে এইসব ধোঁয়াশা যা নিতান্তই পরিষদের আভ্যন্তরীণ বিষয় - একপাশে সরিয়ে রাখলে পেপারব্যাকে ২৮৭ পৃষ্ঠার বিশাল এই গ্রন্থের পরতে পরতে যেসব রচনা সন্নিবিষ্ট আছে তা নিতান্তই অমূল্য বললেও কম বলা হয়। এ নিয়ে সম্পাদকীয়তে আছে - ‘...অনেক রচনায় একাডেমিক রীতি অনুসরণ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ নিজের মতো করে গবেষণালব্ধ বিষয়কে উপস্থাপিত করবার চেষ্টা করেছেন। আমরা সম্পাদকমণ্ডলী উভয় বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়ে লেখাগুলো প্রকাশ করবার চেষ্টা করেছি। একটা লক্ষণীয় বিষয় হল, বিভিন্ন রচনায় নানা লুপ্তপ্রায় আচার অনুষ্ঠানকে তুলে ধরেছেন - যা ইতো:পূর্বে কোথাও প্রকাশিত কিংবা আলোচিত হয়নি। সেক্ষেত্রে এজাতীয় বিষয়গুলো উপস্থাপনের ফলে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও গবেষণার ক্ষেত্রকে উন্মোচিত করবে। আমরা এটাই চাইছি...।’
আলোচ্য গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ক মোট ৩২টি নিবন্ধাদি। অধিকতর বিস্তৃতি তথা তথ্যাদির সন্নিবেশে গবেষণাপত্রের ধাঁচে বা দীর্ঘ বর্ণনায় উপস্থাপিত হয়েছে যেসব রচনা সেগুলো হচ্ছে - ড. সুভাষ মিস্ত্রীর ‘লোকায়ত বাঙলা মন্ত্র অখণ্ড জাতিসত্তার প্রতীক’, অহীন্দ্র দাস-এর ‘শারদীয়া দুর্গা পূজা লোকজীবন থেকে উত্তরণের ক্রমপর্যায়’, অশোকানন্দ রায়বর্ধনের ‘লোকনাট্য : দক্ষিণ ত্রিপুরার সমাজ জীবনের প্রেক্ষিতে’, ড. মলয় দেব-এর ‘বাংলার ভাবগানে আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাবনা’, ড. দেবব্রত দেবরায়-এর ‘লোকসংস্কৃতি শ্রম-নিরপেক্ষ নয়’, সুমনা রায়-এর ‘হজগিরি থেকে লাভনী : সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক রঙিন সেতু’, সৌম্যদীপ দেব-এর ‘লোকনাট্য : এক বিশ্লেষণাত্মক পাঠ’, ড. মুজাহিদ রহমান-এর ‘বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতির ওপিঠ’, ড. অলোক সাহার ‘মেঘালয়ে গারো পাহাড়ের ওয়াঙ্গালা উৎসব’, অরুণকুমার সেন-এর ‘লোকসংস্কৃতিই বাঙালি সংস্কৃতির মূলধারা’, জহর দেবনাথ-এর ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি, লোকসাহিত্য ও লোকজীবনে তথাকথিত বিশ্বায়নের প্রভাব’, রতন চন্দ-এর ‘বরাক শ্রীহট্টের লোকাচার : কর্মাদিত্য ঠাকুরের ব্রত’, সুমন মাইতির ‘দেশের সুস্থায়ী উন্নয়নে লোকসংস্কৃতির ভূমিকা’, আদিমা মজুমদারের ‘বাঙালি মুসলমান সমাজে লোকসংস্কৃতি চর্চার স্বরূপ’, বেবী সাউ-এর ‘কাঁদনগীত : নারীর জীবন-আলেখ্য’, ড. রঞ্জিত দে’র ‘ছড়িয়ে ছড়া অঙ্গনে’, ড. চিত্তরঞ্জন মাইতির ‘বাংলাদেশের পটের গানে লোকভাষা ও উপভাষার ব্যাকরণ প্রয়োগ’, মন্টু দাস-এর ‘প্রসঙ্গ : নৌকা পূজা ও প্রাসঙ্গিক কিছু ভাবনা’ ও ড. পদ্মকুমারী চাকমার ‘চাকমা ছড়ায় শিশু মনস্তত্ত্ব’।
বিষয়ে, ভাবনায় ভারী হলেও অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত পরিসরে থাকা নিবন্ধগুলোর মধ্যে আছে ড. অমিত কুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘লোকসংস্কৃতির ইতিবৃত্ত’, নিভা চৌধুরীর ‘’ডিটান’ - বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ’, নির্মল দাস-এর ‘বাঙালি লোকজীবনে পান’, ‘পাপিয়া রায়চৌধুরীর ‘বাংলার লোকসংস্কৃতি : একটি সার্বিক আলোচনা’, ড. নির্মল দেবনাথের ‘ভারতীয় সংস্কৃতিতে ঔষধী গাছের ব্যবহার ও তার ঐতিহ্য’, জহরলাল দাস-এর ‘বাঙালির লৌকিক সংস্কৃতিতে পৌষ পার্বণ’, অরূপ কুমার ভূঞ্যার ‘মেদিনীপুরের কিছু শিল্প - সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য’, কিশোর ভট্টাচার্যের ‘উৎসব ও লোকসংস্কৃতি’, ড. বীথিকা চৌধুরীর ‘ব্রত শুরুর ইতিকথা’, দিব্যেন্দু নাথ-এর ‘জম্পুই ও তার সিঞ্চন’, সংহিতা চৌধুরীর ‘পৃথিবীর প্রগাঢ় কালো রাত্রি’ ও বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর ‘কামাখ্যা মন্দির ও অম্বুবাচি মেলা’। বিশেষ রচনা হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় গোপালচন্দ্র দাস-এর গবেষণাধর্মী দীর্ঘ রচনা ‘প্রেম-সাধক বৈষ্ণব কবি দীন ভবানন্দ’কে।
পরিসরের অভাবে রচনাসমূহের বিস্তৃত আলোচনা সম্ভব নয় অন্যথা প্রায় একশভাগ রচনারই অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে লোকজীবনের যে বিশাল আঙ্গিকের চুলচেরা বিশ্লেষণ তা পাঠকের গরজে মননে যে নতুন ধারার ফিরে দেখা চিন্তার উদ্রেক হবেই সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। সাধারণ্যে অজ্ঞাত বহু বিষয়ের উল্লেখ পাঠকের সামনে নিশ্চিতই খুলে দেবে এক ভিন্নচিন্তার জগৎ। গ্রন্থশেষে রয়েছে লেখকদের সাদাকালো সচিত্র ছবি সহ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
কাগজের মান, ছাপার স্পষ্টতা ও অক্ষরবিন্যাস যথাযথ। ভবিষ্যৎ সংখ্যাসমূহে বানান বিষয়ে অধিকতর সজাগতার প্রয়োজন রয়েছে। রচনার শিরোনামে বানান বিভ্রাট কিংবা ব্যাকরণ বিভ্রাট বিষয়েও অধিকতর চিন্তার পরিসর রয়েছে। লোকসাংস্কৃতিক আঙ্গিকের প্রথম ও শেষ প্রচ্ছদের বিষয়েও কোন উল্লেখ নেই যদিও সব মিলিয়ে এক সংগ্রহযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে ‘লোকসংস্কৃতি’ বিষয় ভাবনা ও বিষয়বৈচিত্রে ভাস্বর।
তবে সুখের কথা এই যে এইসব ধোঁয়াশা যা নিতান্তই পরিষদের আভ্যন্তরীণ বিষয় - একপাশে সরিয়ে রাখলে পেপারব্যাকে ২৮৭ পৃষ্ঠার বিশাল এই গ্রন্থের পরতে পরতে যেসব রচনা সন্নিবিষ্ট আছে তা নিতান্তই অমূল্য বললেও কম বলা হয়। এ নিয়ে সম্পাদকীয়তে আছে - ‘...অনেক রচনায় একাডেমিক রীতি অনুসরণ করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ নিজের মতো করে গবেষণালব্ধ বিষয়কে উপস্থাপিত করবার চেষ্টা করেছেন। আমরা সম্পাদকমণ্ডলী উভয় বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়ে লেখাগুলো প্রকাশ করবার চেষ্টা করেছি। একটা লক্ষণীয় বিষয় হল, বিভিন্ন রচনায় নানা লুপ্তপ্রায় আচার অনুষ্ঠানকে তুলে ধরেছেন - যা ইতো:পূর্বে কোথাও প্রকাশিত কিংবা আলোচিত হয়নি। সেক্ষেত্রে এজাতীয় বিষয়গুলো উপস্থাপনের ফলে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও গবেষণার ক্ষেত্রকে উন্মোচিত করবে। আমরা এটাই চাইছি...।’
আলোচ্য গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ক মোট ৩২টি নিবন্ধাদি। অধিকতর বিস্তৃতি তথা তথ্যাদির সন্নিবেশে গবেষণাপত্রের ধাঁচে বা দীর্ঘ বর্ণনায় উপস্থাপিত হয়েছে যেসব রচনা সেগুলো হচ্ছে - ড. সুভাষ মিস্ত্রীর ‘লোকায়ত বাঙলা মন্ত্র অখণ্ড জাতিসত্তার প্রতীক’, অহীন্দ্র দাস-এর ‘শারদীয়া দুর্গা পূজা লোকজীবন থেকে উত্তরণের ক্রমপর্যায়’, অশোকানন্দ রায়বর্ধনের ‘লোকনাট্য : দক্ষিণ ত্রিপুরার সমাজ জীবনের প্রেক্ষিতে’, ড. মলয় দেব-এর ‘বাংলার ভাবগানে আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাবনা’, ড. দেবব্রত দেবরায়-এর ‘লোকসংস্কৃতি শ্রম-নিরপেক্ষ নয়’, সুমনা রায়-এর ‘হজগিরি থেকে লাভনী : সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক রঙিন সেতু’, সৌম্যদীপ দেব-এর ‘লোকনাট্য : এক বিশ্লেষণাত্মক পাঠ’, ড. মুজাহিদ রহমান-এর ‘বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতির ওপিঠ’, ড. অলোক সাহার ‘মেঘালয়ে গারো পাহাড়ের ওয়াঙ্গালা উৎসব’, অরুণকুমার সেন-এর ‘লোকসংস্কৃতিই বাঙালি সংস্কৃতির মূলধারা’, জহর দেবনাথ-এর ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি, লোকসাহিত্য ও লোকজীবনে তথাকথিত বিশ্বায়নের প্রভাব’, রতন চন্দ-এর ‘বরাক শ্রীহট্টের লোকাচার : কর্মাদিত্য ঠাকুরের ব্রত’, সুমন মাইতির ‘দেশের সুস্থায়ী উন্নয়নে লোকসংস্কৃতির ভূমিকা’, আদিমা মজুমদারের ‘বাঙালি মুসলমান সমাজে লোকসংস্কৃতি চর্চার স্বরূপ’, বেবী সাউ-এর ‘কাঁদনগীত : নারীর জীবন-আলেখ্য’, ড. রঞ্জিত দে’র ‘ছড়িয়ে ছড়া অঙ্গনে’, ড. চিত্তরঞ্জন মাইতির ‘বাংলাদেশের পটের গানে লোকভাষা ও উপভাষার ব্যাকরণ প্রয়োগ’, মন্টু দাস-এর ‘প্রসঙ্গ : নৌকা পূজা ও প্রাসঙ্গিক কিছু ভাবনা’ ও ড. পদ্মকুমারী চাকমার ‘চাকমা ছড়ায় শিশু মনস্তত্ত্ব’।
বিষয়ে, ভাবনায় ভারী হলেও অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত পরিসরে থাকা নিবন্ধগুলোর মধ্যে আছে ড. অমিত কুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘লোকসংস্কৃতির ইতিবৃত্ত’, নিভা চৌধুরীর ‘’ডিটান’ - বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ’, নির্মল দাস-এর ‘বাঙালি লোকজীবনে পান’, ‘পাপিয়া রায়চৌধুরীর ‘বাংলার লোকসংস্কৃতি : একটি সার্বিক আলোচনা’, ড. নির্মল দেবনাথের ‘ভারতীয় সংস্কৃতিতে ঔষধী গাছের ব্যবহার ও তার ঐতিহ্য’, জহরলাল দাস-এর ‘বাঙালির লৌকিক সংস্কৃতিতে পৌষ পার্বণ’, অরূপ কুমার ভূঞ্যার ‘মেদিনীপুরের কিছু শিল্প - সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য’, কিশোর ভট্টাচার্যের ‘উৎসব ও লোকসংস্কৃতি’, ড. বীথিকা চৌধুরীর ‘ব্রত শুরুর ইতিকথা’, দিব্যেন্দু নাথ-এর ‘জম্পুই ও তার সিঞ্চন’, সংহিতা চৌধুরীর ‘পৃথিবীর প্রগাঢ় কালো রাত্রি’ ও বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর ‘কামাখ্যা মন্দির ও অম্বুবাচি মেলা’। বিশেষ রচনা হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় গোপালচন্দ্র দাস-এর গবেষণাধর্মী দীর্ঘ রচনা ‘প্রেম-সাধক বৈষ্ণব কবি দীন ভবানন্দ’কে।
পরিসরের অভাবে রচনাসমূহের বিস্তৃত আলোচনা সম্ভব নয় অন্যথা প্রায় একশভাগ রচনারই অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে লোকজীবনের যে বিশাল আঙ্গিকের চুলচেরা বিশ্লেষণ তা পাঠকের গরজে মননে যে নতুন ধারার ফিরে দেখা চিন্তার উদ্রেক হবেই সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। সাধারণ্যে অজ্ঞাত বহু বিষয়ের উল্লেখ পাঠকের সামনে নিশ্চিতই খুলে দেবে এক ভিন্নচিন্তার জগৎ। গ্রন্থশেষে রয়েছে লেখকদের সাদাকালো সচিত্র ছবি সহ সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
কাগজের মান, ছাপার স্পষ্টতা ও অক্ষরবিন্যাস যথাযথ। ভবিষ্যৎ সংখ্যাসমূহে বানান বিষয়ে অধিকতর সজাগতার প্রয়োজন রয়েছে। রচনার শিরোনামে বানান বিভ্রাট কিংবা ব্যাকরণ বিভ্রাট বিষয়েও অধিকতর চিন্তার পরিসর রয়েছে। লোকসাংস্কৃতিক আঙ্গিকের প্রথম ও শেষ প্রচ্ছদের বিষয়েও কোন উল্লেখ নেই যদিও সব মিলিয়ে এক সংগ্রহযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে ‘লোকসংস্কৃতি’ বিষয় ভাবনা ও বিষয়বৈচিত্রে ভাস্বর।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
সম্পাদক - অমিত চট্টোপাধ্যায়, অহীন্দ্র দাস ও মন্টু দাস। মূল্য - ৩০০ টাকা

Comments
Post a Comment