Skip to main content

ধারাবাহিকতা মেনে প্রকাশিত বরিষ্ঠ নাগরিকদের প্রতি অনন্য নিবেদন


উত্তরপূর্বের সাহিত্য ভুবনের বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা প্রকাশেসেবাএক নিয়মিত নাম কর্মকাণ্ডের বিপুলতায় যুগ্ম সংখ্যা হিসেবেই বছরে একটি করে প্রকাশ হচ্ছে ধারাবাহিকতা মেনে শ্রীভূমি থেকেসেবা’ - এ হেল্প এজেড গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত বরিষ্ঠ নাগরিকদের প্রতি নিবেদিত সর্বশেষ সংখ্যাসেবাপত্রিকার ৩৩/৩৪ যুগ্ম সংখ্যা (আশ্বিন ১৪৩২, অক্টোবর ২০২৫) প্রকাশিত হয়েছে যথাসময়েই এই গ্রুপেরই আওতায় রয়েছে বৃদ্ধাবাস ‘বেলাভূমি’।
১১০ পৃষ্ঠার পরিমার্জিত লেটার সাইজের ঢাউস পত্রিকা যথারীতি বিষয় বৈভবে এবারও সমানে পাল্লা দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে পূর্ববর্তী সংখ্যাসমূহের মতো। ষোলো বছরে বৃদ্ধাবাস ‘বেলাভূমি’ ও সতেরো বছরে ‘সেবা’ পত্রিকার পদার্পণ নিয়েই মূলত রয়েছে সম্পাদকীয়। সূচিপত্রে পৃষ্ঠানুযায়ী ধারাবাহিকতা থাকলেও বিভাগ বিন্যাস নেই। আলোচনায় সূচিপত্র অনুযায়ী এগোলে প্রথম থেকে রয়েছে নির্মল কুমার সরকার ও সঞ্জয় গুপ্তের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ যেখানে বরিষ্ঠ নাগরিকদের নানাবিধ সমস্যার বিষয়ে রয়েছে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণবৃদ্ধাবস্থার এক করুণ পর্যায়ে আক্রান্ত সিজোফ্রেনিয়া নিয়ে দুই পৃষ্ঠার নিবন্ধ লিখেছেন সম্পাদক অপর্ণা দেব। রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম ও বিশেষত ‘বেলাভূমি’ নিয়ে  গৌরী দত্ত বিশ্বাসের নান্দনিক প্রতিবেদন। একইভাবে বেলাভূমির দোল উৎসব নিয়ে রয়েছে বীণা বিশ্বাসের একটি প্রতিবেদন। বাবাকে নিয়ে রীতা রয়-এর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণমূলক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে সামান্য টেকনিক্যাল ত্রুটি লক্ষ করা গেলেও লেখাটি সুখপাঠ্য ও মানবিক গুণসম্পন্ন। বৃদ্ধাশ্রমের বাস্তবতা নিয়ে চমৎকার গল্প ‘এনজয় দ্য মোমেন্ট’ লিখেছেন শুভঙ্কর চন্দ। ‘রক্ত’ শিরোনামে অরূপা পটঙ্গীয়া কলিতার অসমিয়া ভাষার বড়গল্প অনুবাদ করেছেন সুশান্ত কর। বিষয়ে অনুবাদে সুপাঠ্য হলেও সাড়ে আট পৃষ্ঠার পাঠ অনেকটাই দীর্ঘমেয়াদি অনুভূত হতে পারে। বিকাশ সরকারের গল্প ‘হননমেরু’ ভাষার চমৎকার প্রয়োগে সুলিখিত একটি রাজনৈতিক হত্যাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের গল্প। রয়েছে নান্দনিক বিষয়সম্পন্ন অনুবাদ গল্প ‘নতুন স্লোগান’। অনুবাদ করেছেন তপন মহন্ত। বোড়ো ভাষার মূল গল্প - নীলকমল ব্রহ্ম। সজল পালের গল্প ‘বেলা শেষের আলো’ বৃদ্ধাশ্রমের এক ভিন্নতর অবলোকন। জীবনযুদ্ধের অসহায়তা ও বৃদ্ধাশ্রম সম্পর্কিত এমনই সুপাঠ্য গল্প ‘এক সন্ধ্যায় কাবেরি’ লিখেছেন বিজয়া দেব। মেঘদূত সেন-এর ‘আলোর সন্ধান’ ভাবনায়, বুনোটে শিরোনামানুযায়ী এক উপভোগ্য গল্প। আঞ্চলিক ভাষার সংলাপসমূহ কোটেশন বা বাঁকা হরফে রাখলে সুপাঠ্য হতোদেশভাগের দুর্দশার উপর কিছু নির্মোহ সত্যবচনসমৃদ্ধ দীর্ঘ গল্প শান্তশ্রী সোম-এর ‘ভাবনার রেশ’। সুলিখিত যদিও ছোটগল্পের সংজ্ঞা অনুযায়ী বিষয়ের পরিসর সীমিত রাখলে অধিকতর সুপাঠ্য হয়। ‘দু:স্বপ্নের দেবতা’ সৌম্যদীপ দেব-এর এক ব্যতিক্রমী আঙ্গিকের আধিভৌতিক গল্প, সংস্কার ও কুসংস্কারের টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে পরতে পরতে। রয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর গল্প ‘হে নিরুপমা...’।
নানাবিধ অনুষঙ্গে, স্মৃতিময় আখ্যানে বর্ণিত কিছু নির্মোহ গদ্য - লিখেছেন রূপক দে, তারাশংকর পাল, ভাস্বতী দাশগুপ্ত, অরিন্দম দাস। এছাড়াও রয়েছে কিছু সংগৃহীত লেখা এবং একগুচ্ছ রচনা ‘আহরণ’ শিরোনামে। সুচয়িত আহরণ যদিও এর পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক মৌলিক লেখালেখি ছোটপত্রিকার জন্য অধিকতর প্রাসঙ্গিকনানা স্বাদের কবিতার বিভাগ সমৃদ্ধ হয়েছে যাঁদের কবিতায় তাঁরা হলেন বিনয় ভূষণ কর, উৎপলেন্দু পাল, মৃন্ময় রায়, অপাংশু দেবনাথ, শ্যামলকান্তি দাশ, দীপেন্দু দাস, স্নিগ্ধা নাথ, সত্যজিৎ চৌধুরী, দিলীপকান্তি লস্কর, সুমঙ্গল দাস, কমল ঘোষ, বিপ্লব ওরাং, কল্লোল চৌধুরী, সুদীপ ভট্টাচার্য।
কাগজের মান, ছাপায়, অক্ষর বিন্যাসে, বানানে, গরজে-মননে সমৃদ্ধ একটি সংখ্যা যা বছরভর সংঘটিত অনুষ্ঠান তথা কর্মকাণ্ডের একগুচ্ছ ছবির সংযোজনে অধিকতর সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদের সৌজন্যে মানস ভট্টাচার্য।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

‘সেবা’ ৩৩/৩৪ যুগ্ম সংখ্যা
সম্পাদক - অপর্ণা দেব
মূল্য - ২০০ টাকা।

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...