Skip to main content

শুভ পরিণয়


বিলিতি সুরা। নাম টিচার্স। শুনেই কেমন কুঁচকে গেল ভুরু। বলিহারি ওদের রুচির। শিক্ষকের নামে মদ ? অভাবনীয়। 
–   না এটা হবে না। অন্য কিছু দিন।
ওয়াইন শপের ডেলিভারিম্যান জিজ্ঞেস করল - কী দেব ? ব্ল্যাক ডগ ?
ছিঃ ছিঃ। কী কুক্ষণেই না আনাড়ি বৈভব এসেছে এই আনকোরা অঙ্গনে।
–   অন্য কিছু দিন। রিপিট করে বৈভব।
– রয়্যাল স্ট্যাগ, ব্লেন্ডার্স প্রাইড, ইম্পেরিয়াল ব্লু, জনি ওয়াকার... ?
রয়্যাল ও ইম্পেরিয়ালের মধ্যে কিছু না বুঝেই প্রথমটি নিয়ে ঘরে এসে প্রথমবারের মতো ছিপি খুলল বৈভব। আজকের রাত জীবনের সবচাইতে ব্যতিক্রমী রাত। ঘুম আসবে না এই রাতে। জেগে থেকে শেষ হবে না এই রাত। আজ ভুলে থাকার রাত। বহুদিনের কথোপকথন, সংসর্গ, সুখযাপন, সহযাপন, উদ্দীপনাকে ভুলে যাওয়ার রাত। 
অথচ এক রহস্যের ঘেরাটোপেই অতিবাহিত হয়েছিল দিন। পনেরো ঘণ্টাই হোয়াটস্‌অ্যাপে খুনশুটি আর উৎকণ্ঠা। হইহই করে বেরিয়ে যাওয়া একত্রে। হাতে হাত রেখে সেলফি, চোখে চোখ রেখে চায়ের কাপে মায়ার চুমুক, হারিয়ে যাওয়া মহাজাগতিক আলোর পথে, ক্ষণিকের অনুপস্থিতিতে হৃদয়তন্ত্রীর বেসুরো তান, ব্রাহ্মমুহূর্তে ওপাশ থেকে আবেগ, উৎকণ্ঠার প্রশ্ন ভেসে আসা। এ সবকিছুকে নস্যাৎ করে আজ...।
কড়া ডোজের প্রথম পেগ শেষ হতেই মনে পড়ে এক সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তের কাঁটাতারে হেলান দিয়ে ভিডিও কল করেছিল বৈভব। ওপাশ থেকে ভেসে এসেছিল কাতর আহ্বান - 
–   যেও না, যেও না। এতটা কাছে যেও না।
বৈভব চলে গেলেই বা কী ? কী হতো ওপাশের উদ্‌বিগ্ন কণ্ঠের অধিকারিণীর ? বৈভব তার কে হয় ? সেই বা বৈভবের কী হয় ? এই প্রশ্নেরই তো উত্তর জানা হল না আজও। জাগতিক সম্পর্ক একটা আছে বইকী। বড্ড কাছের সে সম্পর্ক। অথচ রক্তের সম্পর্কের নয়। তবু তার সাথে এই মাখামাখি সমাজের চোখে অবৈধ। 
বাট স্টোলেন স্যুইট ইজ গুড টু ইট। এক শীতের রাতে জ্যাকেট পরে সে দাঁড়িয়েছিল আগুনের পাশে। সেই ছবি দেখেই আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল বৈভব। আগুনও তাকে পরম মমতায়, অশরীরী উষ্ণতার আমেজে আগলে রেখেছিল দিন রাত। কিন্তু আজ ?
তৃতীয় পেগের পর বৈভব ধীরে ধীরে ভুলতে শুরু করল সব কিছু। চতুর্থ তথা শেষ পেগের পর শেষবারের মতো বৈভবের আবছা মনে পড়ল - আজ বিপাশার শুভ পরিণয়।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

Comments

Popular posts from this blog

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...