Skip to main content

আলতি

কাল সন্ধ্যায় স্থানীয় হিন্দু মিলন মন্দিরে গিয়ে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ধ্যারতি উপভোগ করলাম। এঁদের আরতি অনুষ্ঠানটি সত্যিই উপভোগযোগ্য। আরতিও এক ধরণের কলা এবং চরম নৈপুণ্যের সঙ্গে মন্দিরের মহারাজগণ এটা করে থাকেন।

আরতি দেখতে দেখতে আমি কিছুটা আক্রান্ত হয়ে উঠেছিলাম স্মৃতির ভারে। 
শেষ কৈশোরে আর উঠতি যৌবনে চুটিয়ে আরতি করতাম পুজো পার্বণে। দুর্গা পূজার চারদিন তো মহা ধুমধামে চলত আরতি। 
তখন আমরা আরতিকে বলতাম 'আলতি'(এ নিয়ে পরবর্তীতে আমার নববিবাহিত স্ত্রীরত্নটি হেসেই আকুল) 
***
সে যাহোক - আমার এক বন্ধু ছিল। নাম ছিল সমর। ডাক নাম - মরণ। 
এই মরণ আমাদের সময়ের এক বিচিত্র চরিত্র। চূড়ান্ত গরিব ঘরের ছেলে মরণ খেলাধুলায় ছিল অসাধারণ প্রতিভাবান। ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় মাঠেই দাপিয়ে বেড়াত। আমি নিশ্চিত যে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে ও অনেক লম্বা রেসের ঘোড়া হতো।

তখন বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় সব মূর্তি একত্রিত করে নাচ গান আরতি হতো অনেকক্ষণ ধরে (জানি না এখন হয় কি না)।
একবার আমাদের কাছাকাছি তেমনি এক বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় এক আরতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অনেক প্রতিযোগী ছিল। ছিলাম আমি আর মরণও। বিভিন্ন রাউন্ডের মধ্য দিয়ে সবাই একে একে ছিটকে গিয়ে শেষ অবধি টিকে রইলাম আমরা দুজনই। কিছুতেই বিজয়ীর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছিল না। খুব সতর্কতার সঙ্গে তখন দুজনেই আমাদের কলা কুশলতার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছি।
শেষে উপায় না পেয়ে বিচারকরা 'sudden death' এর সিদ্ধান্ত নিলেন।
শুরু হলো অনন্ত সময় ধরে আলতি। একসাথে দু'জন। বাজনাদারের হাত ব্যথায় কাতর। আমরা কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছি না।
এভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎ করে ছোট্ট এক টুকরা আংটা (নারকেলের খোসার জ্বলন্ত টুকরো) ছিটকে মাটিতে পড়ল আমার ধূপতি (ধূপদানি) থেকে।
সমাপ্তি হলো আরতির এক ম্যারাথন প্রতিযোগিতার।
তখন ঘর্মাক্ত বুকেই জড়িয়ে ধরেছি দুজনে দুজনকে।

(আজ এই পোস্টটা যদি মরণ কোনও ভাবে দেখতে পায় তবে সে ও নিশ্চিত আক্রান্ত হবে স্মৃতির ভারে।)

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...