গভীর প্রত্যয়ের সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রান্তিক’
‘প্রান্তিক’ এর সাম্প্রতিকতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে শারদীয় সংখ্যা ১৪২৮ হিসেবে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এই সংখ্যার সম্পাদক হলেন সাহিত্যিক ও সমাককর্মী জয়ন্ত কুমার দে। মানবিক আবেদন সম্পন্ন একটি পৃষ্ঠাজোড়া সম্পাদকীয়তে পত্রিকা প্রকাশের প্রতিবন্ধকতার সাথে পাশাপাশি প্রত্যয়িত হয়েছে দায়বদ্ধতাও। করোনার ভয়াবহ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই দায়বদ্ধতার প্রত্যয়েই বজায় থেকেছে পত্রিকার নিয়মানুগ প্রকাশ। সম্পাদক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার উল্লেখ করে সংখ্যাটির কলেবর বিবেচনায় যদিও লিখছেন এ ‘শীর্ণ সংখ্যা’ কিন্তু ভারে হলেও ধারে যে তা নয় মোটেও তা এক কথায় মেনে নিতেই হবে। যথাসম্ভব বৈচিত্রে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে এই সংখ্যাটিকে। এবং তা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি উচ্চ মানসম্পন্ন সংখ্যাতেই পর্যবসিত হয়েছে এই পত্রিকা। প্রথমেই শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়েছে নিষ্ঠাবান গল্পকার, প্রাবন্ধিক, কবি ও ‘প্রান্তিক’ এর প্রাক্তন সম্পাদক কৃষ্ণা বাগচী মহোদয়াকে। এক এক করে পাঁচটি প্রবন্ধ রয়েছে সংখ্যাটিতে। প্রাবন্ধিক তথা কবি সান্ত্বনা দেব সেন চৌধুরী লিখেছেন ‘দুর্গোৎসব - কিছু ভাবনা’। ধর্মীয় ভাবনার বাইরেও দুর্গোৎসবের যে এক সর্বজনীনতার প্রেক্ষাপট রয়েছে তারই যথাযথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রবন্ধটিতে। রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর সান্নিধ্য নিয়ে বাপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে চমৎকার নিবন্ধ লিখেছেন উল্কা মণ্ডল (বাড়ৈ)। বাসুদেব দাস-এর নিবন্ধ ‘যুগসন্ধির লেখক তারাশঙ্কর’ তথ্যসমৃদ্ধ একটি সুখপাঠ্য নিবন্ধ। লেখিকা প্রভাবতী দেবীর জীবন ও সাহিত্যকর্মের এক স্পষ্ট তথা অদেখা দিক উন্মোচিত করেছেন কবি, প্রাবন্ধিক মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম) তাঁর ‘বিস্মৃতির অতলে প্রভাবতী দেবী’ প্রবন্ধে। ‘নামহীন গোত্রহীন নারী ও রবীন্দ্র সাহিত্য’ শীর্ষক একটি সুচারু প্রবন্ধ লিখেছেন ডঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য।
কবিতায় সমকালকে তুলে ধরেছেন একগুচ্ছ সুজন কবি। তাঁরা হলেন গৌতম বসু, অসিতবরণ রায়, প্রাণজি বসাক, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, যশোধরা রায়চৌধুরী, রবীন কুমার ভট্টাচার্য, দেবাশীষ দত্ত, উত্তম চৌধুরী, সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়, সমীর চক্রবর্তী, সজল পাল, মৈত্রেয়ী সিনহা এবং দাস ভৌমিক চিত্রা। সব ক’টি কবিতাই ভালো যদিও কিছু কবিতা ভাবতে শেখায় পাঠককে। বিশেষোল্লেখ করতেই হয় প্রাণজি বসাক, দেবাশীষ দত্ত, উত্তম চৌধুরী এবং সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়ের কথা।
মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে এই সংখ্যায়। জমাট বুনোটের একটি চমৎকার গল্প ‘আগমনির সুর’ লিখেছেন অশোক কুমার রায়। বিশিষ্ট গল্পকার অর্পিতা বিশ্বাস লিখেছেন অসাধারণ একটি গল্প ‘স্বপ্নের রঙ বদলে যায়’। শেফালি ব্রহ্মের গল্প ‘শেষ কোথায়’। বহুল ব্যবহৃত প্লট যদিও এর গল্পময়তাকে অস্বীকার করা যায় না। তথ্যের বুনোটে তবু থেকে যায় কিছু ধন্দ। ‘আজ নয়’ - বিমল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প। মনের বিচিত্র ভাবধারা নিয়ে একটি পরিপাটি গল্প। তবু শেষটা বড্ড ঝটিতি হয়েছে বোধ হয়। ‘ভুল’ শিরোনামে বিকাশ পালের গল্প মন্দ নয়।
শেষে পত্রিকায় নিয়মিত বিভাগে শাখা সংবাদ লিপিবদ্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৮ পৃষ্ঠার বৈচিত্র্যময় সম্ভার। চকচকে প্রাসঙ্গিক প্রছদের ব্যাপারটি উল্লেখ না করলে নয়। প্রচ্ছদ শিল্পী স্বরূপ পালের মুন্সিয়ানার কথা যথার্থে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে সম্পাদকীয়তেও। হয়তো বা সময়াভাবেই বেশ কিছু বানান/ছাপা ভুল রয়ে গেছে সংখ্যাটিতে। আশা করা যেতেই পারে এই ব্যাপারটিতে ভবিষ্যতে আরো বেশি সতর্ক হবেন সম্পাদকমণ্ডলী। সব কিছু ছাপিয়ে ‘প্রান্তিক’ এর নিয়মিত প্রকাশটিই বিশেষোল্লেখের দাবি রাখে নিশ্চিত।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
‘প্রান্তিক’
মূল্য - ২০ টাকা
যোগাযোগ - ৮৬৩৮৩৩০২৭৮
Comments
Post a Comment