Skip to main content

'প্রান্তিক' - শারদীয় সংখ্যা ১৪২৮



গভীর প্রত্যয়ের সাহিত্য পত্রিকাপ্রান্তিক 

নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের একাধিক শাখা রয়েছে এই উত্তর পূর্বের বিভিন্ন শহরে
তার মধ্যে হাতে গোণা কিছু শাখা থেকেই নিয়মিত বেরোয় সাহিত্য পত্রিকা একটি সাহিত্য পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশ উত্তর পূর্বের এই আখ্যায়িত ভুবনে এক উল্লেখযোগ্য অবদান এই স্বল্প সংখ্যক পত্রিকার মধ্যে বিশেষ উল্লেখ করতেই হয় কোকরাঝাড় শাখার সাহিত্য পত্রিকাপ্রান্তিকএর কথা বছরে নিয়মিত দুটি সংখ্যা পত্রিকা প্রকাশ করাই যেখানে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য প্রয়াস সেখানে তার উপযুক্ত মান বজায় রেখে চলমানতার ধারাকে জিইয়ে রাখা নিঃসন্দেহে এক গৌরবের কথা এবং সেই ধারাটি এই শাখার তরফ থেকে বজায় আছে সাম্প্রতিক সময়েও
প্রান্তিকএর সাম্প্রতিকতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে শারদীয় সংখ্যা ১৪২৮ হিসেবে বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও এই সংখ্যার সম্পাদক হলেন সাহিত্যিক ও সমাককর্মী জয়ন্ত কুমার দে। মানবিক আবেদন সম্পন্ন একটি পৃষ্ঠাজোড়া সম্পাদকীয়তে পত্রিকা প্রকাশের প্রতিবন্ধকতার সাথে পাশাপাশি প্রত্যয়িত হয়েছে দায়বদ্ধতাও। করোনার ভয়াবহ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই দায়বদ্ধতার প্রত্যয়েই বজায় থেকেছে পত্রিকার নিয়মানুগ প্রকাশ। সম্পাদক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার উল্লেখ করে সংখ্যাটির কলেবর বিবেচনায় যদিও লিখছেন এ ‘শীর্ণ সংখ্যা’ কিন্তু ভারে হলেও ধারে যে তা নয় মোটেও তা এক কথায় মেনে নিতেই হবে। যথাসম্ভব বৈচিত্রে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে এই সংখ্যাটিকে। এবং তা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি উচ্চ মানসম্পন্ন সংখ্যাতেই পর্যবসিত হয়েছে এই পত্রিকা। প্রথমেই শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়েছে নিষ্ঠাবান গল্পকার, প্রাবন্ধিক, কবি ও ‘প্রান্তিক’ এর প্রাক্তন সম্পাদক কৃষ্ণা বাগচী মহোদয়াকে। এক এক করে পাঁচটি প্রবন্ধ রয়েছে সংখ্যাটিতে। প্রাবন্ধিক তথা কবি সান্ত্বনা দেব সেন চৌধুরী লিখেছেন ‘দুর্গোৎসব - কিছু ভাবনা’। ধর্মীয় ভাবনার বাইরেও দুর্গোৎসবের যে এক সর্বজনীনতার প্রেক্ষাপট রয়েছে তারই যথাযথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রবন্ধটিতে। রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর সান্নিধ্য নিয়ে বাপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে চমৎকার নিবন্ধ লিখেছেন উল্কা মণ্ডল (বাড়ৈ)। বাসুদেব দাস-এর নিবন্ধ ‘যুগসন্ধির লেখক তারাশঙ্কর’ তথ্যসমৃদ্ধ একটি সুখপাঠ্য নিবন্ধ। লেখিকা প্রভাবতী দেবীর জীবন ও সাহিত্যকর্মের এক স্পষ্ট তথা অদেখা দিক উন্মোচিত করেছেন কবি, প্রাবন্ধিক মীনাক্ষী চক্রবর্তী (সোম) তাঁর ‘বিস্মৃতির অতলে প্রভাবতী দেবী’ প্রবন্ধে। ‘নামহীন গোত্রহীন নারী ও রবীন্দ্র সাহিত্য’ শীর্ষক একটি সুচারু প্রবন্ধ লিখেছেন ডঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য।
কবিতায় সমকালকে তুলে ধরেছেন একগুচ্ছ সুজন কবি। তাঁরা হলেন গৌতম বসু, অসিতবরণ রায়, প্রাণজি বসাক, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, যশোধরা রায়চৌধুরী, রবীন কুমার ভট্টাচার্য, দেবাশীষ দত্ত, উত্তম চৌধুরী, সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়, সমীর চক্রবর্তী, সজল পাল, মৈত্রেয়ী সিনহা এবং দাস ভৌমিক চিত্রা। সব ক’টি কবিতাই ভালো যদিও কিছু কবিতা ভাবতে শেখায় পাঠককে। বিশেষোল্লেখ করতেই হয় প্রাণজি বসাক, দেবাশীষ দত্ত, উত্তম চৌধুরী এবং সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়ের কথা।
মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে এই সংখ্যায়। জমাট বুনোটের একটি চমৎকার গল্প ‘আগমনির সুর’ লিখেছেন অশোক কুমার রায়। বিশিষ্ট গল্পকার অর্পিতা বিশ্বাস লিখেছেন অসাধারণ একটি গল্প ‘স্বপ্নের রঙ বদলে যায়’। শেফালি ব্রহ্মের গল্প ‘শেষ কোথায়’। বহুল ব্যবহৃত প্লট যদিও এর গল্পময়তাকে অস্বীকার করা যায় না। তথ্যের বুনোটে তবু থেকে যায় কিছু ধন্দ। ‘আজ নয়’ - বিমল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প। মনের বিচিত্র ভাবধারা নিয়ে একটি পরিপাটি গল্প। তবু শেষটা বড্ড ঝটিতি হয়েছে বোধ হয়। ‘ভুল’ শিরোনামে বিকাশ পালের গল্প মন্দ নয়।
শেষে পত্রিকায় নিয়মিত বিভাগে শাখা সংবাদ লিপিবদ্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৮ পৃষ্ঠার বৈচিত্র্যময় সম্ভার। চকচকে প্রাসঙ্গিক প্রছদের ব্যাপারটি উল্লেখ না করলে নয়। প্রচ্ছদ শিল্পী স্বরূপ পালের  মুন্সিয়ানার কথা যথার্থে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে সম্পাদকীয়তেও। হয়তো বা সময়াভাবেই বেশ কিছু বানান/ছাপা ভুল রয়ে গেছে সংখ্যাটিতে। আশা করা যেতেই পারে এই ব্যাপারটিতে ভবিষ্যতে আরো বেশি সতর্ক হবেন সম্পাদকমণ্ডলী। সব কিছু ছাপিয়ে ‘প্রান্তিক’ এর নিয়মিত প্রকাশটিই বিশেষোল্লেখের দাবি রাখে নিশ্চিত।
 
                                                                      বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
‘প্রান্তিক’
মূল্য - ২০ টাকা
যোগাযোগ - ৮৬৩৮৩৩০২৭৮     



Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...