এমন অভিযোগও আছে
যে কবি, সাহিত্যিকরা এক ভিন্ন গ্রহের অধিবাসী। কোনও কিছুই এদের বিচলিত করতে পারে না।
অথচ এর বিপরীত দৃশ্যই সাধারণত দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে কবিরা স্বভাবত
অতি মাত্রায় সংবেদনশীল। ফলত সমাজের অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে
ঝটিতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে কবিরা সচরাচর পিছিয়ে থাকেন না। তাঁদের প্রতিবাদ কবিতার
মাধ্যমেই জোরালো হয়ে ওঠে।
মুন্না চক্রবর্তী একজন প্রতিবাদী এবং স্পষ্টবাদী কবি হিসেবেই পরিচিত অথচ তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাকুল্যে এক। তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘তোমরা ফিরে এসো’। কবিতাগুলির মতো এই গ্রন্থের উৎসর্গ এবং ভূমিকাটিও সমান প্রাসঙ্গিক। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘বর্ণালী, নাজমা, নির্ভয়া...কে। বোঝাই যাচ্ছে - শ্লীলতাহানি, হত্যার মতো পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদেই কলম ধরেছেন কবি। ‘আমার কথা’য় কবি লিখছেন - ‘প্রতিদিন কোনো না কোনো বর্ণালীরা হারিয়ে যায় আর আমরা শুধু মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়ে নিজেকে প্রতিবাদী মনে করি। ... মানুষ-রূপী অমানুষেরা আজও হাজারো বর্ণালীর শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে হত্যা কর। তাই প্রতিবাদের জন্য কলম তুলে নিই ...।’
৪০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে রয়েছে ৩৩টি কবিতা। ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আছে নানা অনুষঙ্গের কবিতা। আছে ভাষা সংগ্রামের কথা, উনিশের ব্যথা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র শ্লেষ। আর আছে অন্যায়, অনাচার, অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীর্যক ক্ষোভ। কবি মুন্না চক্রবর্তীর (মুন চক্রবর্তী নামেই যিনি অধিক পরিচিত) কবিতার ধারা কিছুটা ব্যতিক্রমী। স্বল্প কথায় শব্দের ঝংকার তুলতে পারেন তিনি। নিমগ্নতায় পাঠ করতে হয় তাঁর কবিতা। জাতিধর্মের যুদ্ধে আহত বোধ করেন কবি - ‘জতুগৃহের মতো জ্বলছে / সাতষট্টি বছরের পালাকাল... / কাদের শিশুরা ডাস্টবিন খোঁজে / ভাত শুধু ভাত ??? (কবিতা - স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট)। প্রতিবাদের পাশাপাশি কবির অন্তরের ব্যথাও ফুটে ওঠে কবিতায় - ‘...সমতার লড়াই পণের লেলিহানে ঝলসায় / লিঙ্গ বৈষম্যের ভাবনায় / কন্যাভ্রুণ হত্যার নিরন্তর লজ্জা, দীর্ঘশ্বাসে / আমি ভালো নেই, শৈশবের খেলায়। (কবিতা - আমি ভালো নেই)।
পৃষ্ঠাজোড়া কবিতার পাশাপাশি রয়েছে ছয় থেকে আট লাইনের কিছু কবিতাও। ‘জীবন’ কবিতায় কবি ফুটিয়ে তুলেছেন এক বিচিত্র অনুষঙ্গ - ‘জীবনের জঠর থেকে আলোতে / উদাসীন বাতাসে নাগরদোলা / অনেক সম্ভাবনার তালিকায় / অজস্র তারার মাঝে হারিয়ে / কিছু পাওয়া না পাওয়ার / লাভ ক্ষতির হিসাবে / জীবন ফেরি করা।
মুন্নার কবিতায় কিছু শব্দের ব্যবহার যেমন ব্যতিক্রমী তেমনি কিছু দুর্ভেদ্য শব্দেরাও এসে ভাবনায় ফেলে পাঠককে। দু’একটি বানানের বাইরে কোথাও ত্রুটি নেই গ্রন্থের। প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ছাপা, অক্ষর বিন্যাস সবই যথাযথ। কবির পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের অপেক্ষা করা যেতেই পারে।
মুন্না চক্রবর্তী একজন প্রতিবাদী এবং স্পষ্টবাদী কবি হিসেবেই পরিচিত অথচ তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাকুল্যে এক। তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘তোমরা ফিরে এসো’। কবিতাগুলির মতো এই গ্রন্থের উৎসর্গ এবং ভূমিকাটিও সমান প্রাসঙ্গিক। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘বর্ণালী, নাজমা, নির্ভয়া...কে। বোঝাই যাচ্ছে - শ্লীলতাহানি, হত্যার মতো পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদেই কলম ধরেছেন কবি। ‘আমার কথা’য় কবি লিখছেন - ‘প্রতিদিন কোনো না কোনো বর্ণালীরা হারিয়ে যায় আর আমরা শুধু মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়ে নিজেকে প্রতিবাদী মনে করি। ... মানুষ-রূপী অমানুষেরা আজও হাজারো বর্ণালীর শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে হত্যা কর। তাই প্রতিবাদের জন্য কলম তুলে নিই ...।’
৪০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে রয়েছে ৩৩টি কবিতা। ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আছে নানা অনুষঙ্গের কবিতা। আছে ভাষা সংগ্রামের কথা, উনিশের ব্যথা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র শ্লেষ। আর আছে অন্যায়, অনাচার, অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীর্যক ক্ষোভ। কবি মুন্না চক্রবর্তীর (মুন চক্রবর্তী নামেই যিনি অধিক পরিচিত) কবিতার ধারা কিছুটা ব্যতিক্রমী। স্বল্প কথায় শব্দের ঝংকার তুলতে পারেন তিনি। নিমগ্নতায় পাঠ করতে হয় তাঁর কবিতা। জাতিধর্মের যুদ্ধে আহত বোধ করেন কবি - ‘জতুগৃহের মতো জ্বলছে / সাতষট্টি বছরের পালাকাল... / কাদের শিশুরা ডাস্টবিন খোঁজে / ভাত শুধু ভাত ??? (কবিতা - স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট)। প্রতিবাদের পাশাপাশি কবির অন্তরের ব্যথাও ফুটে ওঠে কবিতায় - ‘...সমতার লড়াই পণের লেলিহানে ঝলসায় / লিঙ্গ বৈষম্যের ভাবনায় / কন্যাভ্রুণ হত্যার নিরন্তর লজ্জা, দীর্ঘশ্বাসে / আমি ভালো নেই, শৈশবের খেলায়। (কবিতা - আমি ভালো নেই)।
পৃষ্ঠাজোড়া কবিতার পাশাপাশি রয়েছে ছয় থেকে আট লাইনের কিছু কবিতাও। ‘জীবন’ কবিতায় কবি ফুটিয়ে তুলেছেন এক বিচিত্র অনুষঙ্গ - ‘জীবনের জঠর থেকে আলোতে / উদাসীন বাতাসে নাগরদোলা / অনেক সম্ভাবনার তালিকায় / অজস্র তারার মাঝে হারিয়ে / কিছু পাওয়া না পাওয়ার / লাভ ক্ষতির হিসাবে / জীবন ফেরি করা।
মুন্নার কবিতায় কিছু শব্দের ব্যবহার যেমন ব্যতিক্রমী তেমনি কিছু দুর্ভেদ্য শব্দেরাও এসে ভাবনায় ফেলে পাঠককে। দু’একটি বানানের বাইরে কোথাও ত্রুটি নেই গ্রন্থের। প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ছাপা, অক্ষর বিন্যাস সবই যথাযথ। কবির পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের অপেক্ষা করা যেতেই পারে।
- বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
মূল্য - ৬০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৭০৬১৬৭৮০৩
যোগাযোগ - ৯৭০৬১৬৭৮০৩

Comments
Post a Comment