Skip to main content

মিথিলেশ ভট্টাচার্যের ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ - গল্পবিশ্বে সাহিত্যসুধা

উত্তরপূর্ব তথা বাংলা সাহিত্যের গল্পবিশ্বে ‘অনিশ’ এবং ‘শতক্রতু’ যুগ থেকে শুরু করে আজও যে ক’জন লেখক, গল্পকার নিরলস ব্রতী রয়েছেন কলম হাতে তাঁদের মধ্যে উজ্জ্বল একটি নাম মিথিলেশ ভট্টাচার্য। সম্প্রতি এ বছরের গোড়ার দিকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ সংকলনটি। এ নামের ব্যাখ্যায় গল্পকার লিখছেন “শ্রেষ্ঠ ও সেরা শব্দ দু’টি সমপর্যায়ভুক্ত। তবুও শ্রেষ্ঠ শব্দটি আমার বেশি পছন্দ। তাই এই সংকলন গ্রন্থের নাম রেখেছি শ্রেষ্ঠ গল্প। ......”
অগণিত গল্প থেকে সেরা গল্পসমূহকে বাছেই করে যদি মানগত বিচারে তালিকাভুক্ত করা যায় তবে বিষয়বস্তুর বাইরেও গল্পের সার্বিক গুণগত মানের বিচারে প্রথম সারির পর্যায়ভুক্ত গল্পগুলোকেই শ্রেষ্ঠ গল্পের মর্যাদা প্রদান করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ গল্পের এই সংকলনটি পাঠকের দরবারে পরিবেশন করে গল্পকার এ অঞ্চলের পাঠকদের উপহার দিয়েছেন এক অনবদ্য সাহিত্যসুধা।
মিথিলেশের গল্প পাঠককে বেঁধে রাখে গল্পের বুনোট ও প্রাঞ্জল গল্পময়তায়গল্পের অবয়বের মধ্যে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না বিশাল কোনও ঘটনাপ্রবাহ, পাওয়া যাবে না কোনও ঘটনার ঘনঘটা, চাপান উতোর, বিশাল কোনও চমক কিংবা এক দম বন্ধ করা ক্লাইম্যাক্স, তবু পাঠককে পড়ে শেষ করতেই হবে গল্প। এবং পাঠান্তে পাঠক চিত্তে অবধারিত হয়ে ফুটে উঠবে গল্পের রেশসার্থক ছোটগল্পের সংজ্ঞায়িত সমাপ্তির একশো ভাগ নিয়ম মেনে শেষ হওয়া প্রতিটি ছোটগল্পের বিষয় এবং সমস্যার সমাধানকল্পে গল্পকারের দাওয়াই নিয়ে ভাবতে হবে নিরালায় বসে। প্রতিটি অনিয়ম, প্রতিটি সমস্যাকে গল্পের মোড়কে এমন অনায়াসলব্ধ নৈপুণ্যে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয় যেন পাঠক চলেন গল্পের সাথে সাথে আটপৌরে জীবনপথে। কিন্তু পাঠান্তে ভেসে উঠবে গল্পের বিষয়বস্তু এবং মনে হবে কত চেনা সব দৃশ্যপট যেন পুনঃ উন্মোচিত হলো চোখের সামনে।
এ সংকলনের সব ক’টি গল্পই প্রায় উপরোক্ত বিন্যাসে বিন্যস্ত। একজন লেখকের, গল্পকারের যে বিশেষত্ব তা তো ফুটে উঠবেই তাঁর সেরা কিংবা শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহে। এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু ‘শ্রেষ্ঠ’ তাই সবগুলো গল্পই বুনোটে, বয়ানে, বিশিষ্টতায়, সংলাপে প্রায় সমপর্যায়ভুক্ত। তবু প্রতিটি গল্পের মধ্যে যেন মিশে রয়েছে আলাদা রকমের এক স্বকীয়তা যা পাঠকের পঠনসুখকে নিরন্তর বজায় রেখে যায়। এক গল্প থেকে আরেক গল্পে চলে যেতে উদ্‌বুদ্ধ করে নিমেষে। স্বচয়িত শ্রেষ্ঠ গল্পের সংকলন বিষয়ভিত্তিক হয় না এ তো স্বাভাবিক কথা। অন্যথা গ্রন্থনাম ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ না হয়ে বিষয়-ভিত্তিক হতো। তবু প্রত্যেক সাহিত্যস্রষ্টার একাধিক সাহিত্যকৃতির পাঠান্তে, বিশ্লেষণে তাঁর রচনার অন্দরে কোথাও যেন এক নির্দিষ্ট সুরের অনুরণন অনুভূত হয়। মোদ্দা কথা, বিষয় বিচিত্র হলেও নিবিড় পাঠে অনুভূত হয় সেই সুর। গল্পের অভ্যন্তরে কোথাও না কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় সেই নির্যাস। 
‘চিন্তা’, কলকাতা থেকে প্রকাশিত গল্পকার মিথিলেশ ভট্টাচার্যের ২১৪ পৃষ্ঠার এই ‘চিন্তা গল্প সিরিজ ১০’ এর অন্তর্গত সংকলনে সন্নিবিষ্ট হয়েছে মোট ২৬ টি গল্প। গল্পগুলির প্রকাশকাল বিগত চারটি দশক। বিভিন্ন গল্পের পাঠক্রমে অনুভব করা যায় এই সময়সীমাকে। স্বভাবতই উক্ত সময়কালের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক নির্মোহ চিত্রও আপন ছন্দে জায়গা করে নিয়েছে গল্পের অন্দরমহলে। মূলত বরাক ও শহর শিলচরের প্রেক্ষাপটেই লিখিত অধিকাংশ গল্প। খেটে খাওয়া গরিবগুর্বোদের থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত সমাজের টানাপোড়েনে আবদ্ধ চরিত্ররাই প্রাধান্য পেয়েছে গল্পগুলিতে। আটপৌরে চরিত্রদের যে পাহাড়প্রমাণ সমস্যা সেইসব সমস্যার গভীরে প্রোথিত যে মনস্তাত্ত্বিক পশ্চাৎপট তারই কাঁটাছেড়া বিশ্লেষণে প্রোথিত হয়েছে গল্পসমূহের গভীরতা। সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে বিদ্বজন অবধি তাই এই গল্পসমূহের সমান গ্রহণযোগ্যতা।
প্রথম গল্প থেকেই শুরু হয়েছে গভীর মনস্তত্ত্বের জাদুকরি প্রয়োগ। একই চমৎকারিত্বে শেষ হয়েছে পুরো গল্প। ‘নষ্ট শশা’ শীর্ষক প্রথম গল্পটি খুবই উঁচু মানের। গল্পের নায়ক প্রাক্তন কলেজ অধ্যাপক নিধুবাবুর বিস্মৃত চিন্তায় ধরা আছে অতীত। কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খায় তাঁর মননে। ব্যতিক্রমী প্লট, ব্যতিক্রমী উপস্থাপন। দ্বিতীয় গল্প ‘কক্ষপথ’-এ ধরা রয়েছে নিম্নবিত্ত মানসিকতার আবহে রোজকার টানাপোড়েনের এক বাস্তব গল্প। অগুনতি চরিত্রের ভিড়েও লেখক অনায়াস দক্ষতায় ধরে রেখেছেন গল্পের খেই যেমনটি এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি গ্রহ উপগ্রহকে নিজেদের কক্ষপথে ধরে রেখেছে অপেক্ষাকৃত বৃহৎ গ্রহ নক্ষত্র। তৃতীয় গল্প ‘গোপাল যখন বিচারক’। অসাধারণ ভাবনার টুকরো টুকরো কোলাজে ও ভাষার বাঁধনে সজ্জিত একটি বর্ণনাত্মক গল্প। যে গল্প অশেষ, যে গল্পে জীবন ধরা থাকে স্রোত প্রবাহের মতো।
ব্যঞ্জনা ও সংলাপ মিথিলেশের গল্পের মূল উপজীব্য গুণ। ‘দৌড় ৪০’ গল্পে এর উদাহরণ ছড়িয়ে আছে চূড়ান্ত পারিপাট্যে। প্রায় পুরো গল্পই সংলাপ নির্ভর, যার মধ্যে বর্তমানকে নিখুঁত ব্যঞ্জনায় পরিবেশন করেছেন গল্পকার। ‘একটি অবাস্তব ঘটনার খসড়া চিত্র’ দাঙ্গাবিরোধী একটি অনবদ্য গল্প যেখানে শুধু সমস্যার গভীরেই আলোকপাত করে থেমে থাকেননি গল্পকার, সমাধানের পথও দেখিয়েছেন। এখানেই মিথিলেশের স্বাতন্ত্র্য। পড়তে পড়তে ইচ্ছে হয় পুরো গল্পটাই তুলে ধরা হোক পাঠকের চোখের সামনে। ভাষার চাতুর্যে প্রকৃতি আর ভালোবাসা, দুঃখগাথা আর জড়ের ব্যক্তিকরণের মতো জটিল বিষ্যকে অনবদ্য মুনশিয়ানায় লিপিবদ্ধ করেন লেখক - “ঘরের মেঝেতে নেমে অভ্যস্ত পায়ে হেঁটে লীলা দরজার কাছে গিয়ে জীর্ণ পাল্লা দু’টো শব্দ তুলে হাট করে খুলে দেয়। খুলে দিতেই দরজার গায়ে ওৎ পেতে বসা একফালি শাদা জোছনা বেড়ালছানার মতো নধর শরীরে ঘরের উঁচু-নিচু, অসরল মেঝেতে লাফ মারে। ঘরের ভিতরকার দমচাপা জমাট অন্ধকার সামান্য ফিকে হয়ে আসে তাতে।” (গল্প - ছারপোকা)। পরবর্তী গল্প ‘কেশবলালের ভূমিকা। এই গল্পে সামান্য একটি ঘাস কাটার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতির অসামান্য বর্ণনা আলাদা করে দাগ কাটে পাঠক মনে।  
মিথিলেশের গল্পবিশ্বে সংলাপে সংলাপে তরতর করে এগোয় গল্প, গ্রথিত হয় সময়। অথচ কী আশ্চর্যের কথা সময় যেন বদলাতে বদলাতেও থেমে থাকে একই জায়গায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রাস্তাঘাটের জীর্ণ দশা, নদীর পথ বদলের কথা, সমাজের অধিকাংশ সমস্যা যেন যুগ পুরানো, চিরন্তনএকই ধারায় আবর্তিত হচ্ছে দু’কুড়ি বছর সময় ধরে। রূপক আর ব্যাঞ্জনা যেন লেখকের সহজাত দক্ষতা। একাধিক গল্প - যেমন ‘জন্মভূমি, পুনশ্চ’, ‘অজগরটি আসছে তেড়ে’, ‘জগৎ পারাবারের তীরে’, ‘অথ মহাসেন কথা’ ইত্যাদি। ভিন্ন প্রেক্ষাপট, ভিন্ন আঙ্গিক তবু বর্ণনার ঘনঘটায় সবগুলি গল্প সরস এবং সার্থক।  যেমন অপরাপর দেশভাগের উপর লিখা গল্পসমূহের দুঃখ, দুর্দশা, কান্নার বিপরীতে সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করতে পারেন গল্পকার মিথিলেশ তাঁর ‘এক যে ছিল...’ গল্পে। দেশভাগের ছায়া প্রলম্বিত হয়েছে একাধিক গল্পে। যাপিত জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে ছড়িয়ে আছে এ যন্ত্রণা। তাই এগুলো এসেছে স্বাভাবিক ধারায়। ‘সন ১৩৮১’ যাপিত সময়ের এক দলিল। সাংসারিক টানাপোড়েন আর এক টুকরো ভালোবাসার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
একই আবেশ তাঁর পরবর্তী গল্পে। “একটি বাড়ির গভীর কালো দীর্ঘ ছায়া যখন অন্য আরেক সিঁদুর মাখানো বাড়িকে পূর্ণগ্রাসে উদ্যত, রক্তে তখন ‘জলকে চল্‌’ চাঞ্চল্য। কত বৃথা এই চঞ্চলতা ...... চূর্ণ আঁধার যখন চিলের ডানার মতো চুপে গভীর নীলকে কালচে সীসাবর্ণ করে দেয়; বুকে তখন তিরবেঁধা পাখির আর্ত আকুলতা...।” (গল্প - সৌরকলঙ্কে তার ছায়া)।
বেশ কিছু গল্পে প্রসঙ্গক্রমে প্রেম, ভালোবাসার অসাধারণ এক একটি চিত্র অঙ্কিত হয়েছে অসামান্য দক্ষতায় যেখানে হৃদয়ের আকুলতা এবং শরীরী ভাষার সহাবস্থান যেন স্বচ্ছ জলের মতো পরিস্ফুট হয়ে আছে। একে কেউ কেউ অবদমিত যৌনতা ভেবে থাকতে পারেন। কিন্তু এমন প্রতিটি কোলাজ যেন এসেছে গল্পেরই খাতিরে। কোথাও অশ্লীলতা কিংবা যৌনধর্মী বর্ণনার দেখা পাওয়া যায় না। জীবনের এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই পরিমিতিবোধের নমুনা রেখেছেন গল্পকার সব জায়গাতেই। ‘বর্জ্য পদার্থ’ ও তর্পণ বিধি’ গল্প দু’টিতেও লেখক সময়কে ধরে রেখেছেন সযতনে। সামান্য ঘটনাকে বৃহৎ সমস্যার রূপক হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন অনবদ্য বয়ানে। চমৎকার বুনোটের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এর পরেই দেখতে পারা যায় এক ট্র্যানজিশন। পুরোপুরি এক ভিন্নতর ফরম্যাটে স্থান করে নিয়েছে ‘কর্কটক্রান্তি’ ও ‘চৈত্র পবনে’ গল্প দু’টি। সুন্দরী শিলং-এর আবহে ভাই-বোনের আদুরে সম্পর্কের গল্প ‘ঝর্ণার শব্দ’। পরবর্তী চারটি গল্প ‘মুরলীধর’, ‘শেয়ালগুলো’, ‘নিলাজবতী’ এবং ‘স্বপ্নপূরণ’ বর্ণনায়, উপস্থাপনায় যথেষ্ট সুলিখিত যদিও বাকি গল্পগুলোর তুলনায় খানিকটা পিছিয়ে থাকবে হয়তো। যদিও শেষ গল্পটিতে ফের স্বমহিমায় ফেরার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
‘জন্মভূমি পুনশ্চ’ গল্পটি গল্পকার মিথিলেশ তাঁর নিজস্ব পছন্দের জায়গার উপর লিখেছেন বলে দেশভাগের উপর আর পাঁচজন গল্পকারের নিছক কান্নাকাটির গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে সোজাসাপটা ভাষায় প্রতিবাদের সাহস দেখিয়েছেন। সেই হিসেবে এই গল্পটি শ্রেষ্ঠতর হিসেবে গণ্য করা যেতেই পারে। কঠোর বাস্তবকে সাহিত্যে রূপান্তর করা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। এ কাজটিই তিনি করেছেন সাবলীল লেখনীর সহায়তায়। পরবর্তী ‘ফকিরচন্দ্রের ভিটেমাটি’ ও হরণ বা নির্বাসন পর্ব’ গল্পদু’টিও আটপৌরে জীবনযাত্রার বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ হয়েছে।       
শেষ গল্প ‘প্রণতি বুক স্টল’ নিশ্চিতভাবেই এক ব্যতিক্রমী গল্প। গল্পে বই পড়ার যুগ শেষে একটি বুক স্টলের বর্ণনা পাঠক মনে ভাবনার উদ্রেক ঘটাবে নিঃসন্দেহে - “দুপুরবেলার হইচই মুখর, জমজমাট শহরে সকলে কেমন নিজ নিজ পসার সাজিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করছে, আর প্রণতি বুক স্টল স্তব্ধ বোবা, অসাড় হয়ে পড়ে আছে এক কোণে। মৌচাক ঘিরে মৌমাছির অহর্নিশ ব্যস্ততার মতো পথের দু’পাশে অসম্ভব চঞ্চল এক ব্যস্ততা। কাপড়-জুতোজামা-ওষুধপত্র-মনোহারি জিনিস-ঘড়ি-মোবাইল-সাইবার কাফে-পার্লার-মিষ্টি-ফলপাকুড়-জাঙ্কফুড-শপিং মল-বিগবাজার-হোটেল-রেস্তোঁরা - রমরমা ব্যবসা হাঁকডাক বেচাকেনা - শুধু ক্রেতাহীন হাঁকডাকশূন্য পড়ে আছে ভীষণ একেলা বোবায় ধরা প্রণতি বুক স্টল !...” এই গল্পে ব্যতিক্রমী ভাবনা ও অনবদ্য লিখনশৈলীর মাধ্যমে গল্পকার মিথিলেশ গল্পকার হিসেবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন রেখে টেনেছেন গ্রন্থের সমাপ্তি রেখা। যার রেশ থেকে যায় অনিরূপিত কালাবধি। 
এমনি বিচিত্র ও ব্যতিক্রমী সব ঘটনাপ্রবাহের সাজানো গোছানো বর্ণনাময় বাখান এই ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ সংকলন। গ্রন্থটি লেখক উৎসর্গ করেছেন তাঁর ‘জীবনের সেরা প্রাপ্তি প্রণতি (রুবি) ভট্টাচার্যের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে’। ছিমছাম শোভন প্রচ্ছদের কৃতিত্ব রাজীব চক্রবর্তীর। অক্ষর, শব্দ, বাক্য বিন্যাস যথাযথ এবং নিখুঁত। সামান্য কিছু বানান/ছাপার ভুলের বাইরে এক কথায় এক পুরস্কারযোগ্য এবং অবশ্যপাঠ্য সার্বিক প্যাকেজ এই গল্প সংকলন।
 

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী


Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...