Skip to main content

জলছাপ আগুনকথা

()
কত দিন কিংবা বছর
কিংবা শতাব্দী
বেঁচে থাকে কেউ কারো আস্তানায় ?
 
আসলে কেউই বেঁচে থাকে না
থাকে যা সর্বনামে
তা হলো কিছু কাঠামো
আর বাকিটা ক্রিয়াপদে
 
()
নদী হারিয়ে গেলেও
থেকে যায় দীর্ঘ পাড়
দুদণ্ড বসে কেউ
লিখে রাখে নদীনামা
 
আকাশের গায়ে লেখা থাকে
নক্ষত্রের পতন আর
লুপ্ত জীবনের জলকথা
 
()
হাওয়ার অনুকুলে থেকে
ধুলো খুঁজে নেয় নতুন জীবন
লেখা হয় সফরনামা
 
আমি প্রতিকূল বলে
গায়ে মেখে অতীতের আস্তরণ
কুড়িয়েছি সফরের স্বাদ
বৈভবে আবৃত মহাকাল
 
()
কোন পথে হিংস্র শ্বাপদ
সে তো নির্ধারিত নয়
রণপা-তাড়িত দুটি পায়ে তাই
রাতভর শুধু পথ চলা
 
স্থান-পাত্র-ভূগোল বেয়ে বেয়ে
মানচিত্রে রেখে দুটি পা
গ্রহণে দৃপ্ত আলোকের দায়
 
()
অবশেষে বীজ বুনে মানচিত্রে
গড়ে ওঠে নতুন স্বদেশ
রাশি রাশি আলোকের রেশ
 
তণ্ডুলকণা আসে ঘরে
কিংবা বিদ্যাবতীর দোরে দোরে
বেড়ে ওঠে দূর আগামী
সোনালি আলোয় ঘেরা প্রত্যয়বীজ
 
()
দুরন্ত হাওয়ার দেহে
শিরদাঁড়া খুঁজে ফেরে ক্ষ্যাপা
ঘুরন্ত লাটিমের দেহ ঘিরে আছে
ক্ষণিকের শিরদাঁড়া
 
বহুকোষী অ্যামিবা-মানুষ
কোথায় হারিয়ে এল
অস্থিকোটরে থাকা পরশপাথর ?
 
()
আগুন প্রখর হলে সরে যেতে হয়
ঝলসে যাওয়ার থেকে
সরে আসে যে, সে পলাতক নয়
 
ঝলসে যাওয়ার ছবি যে দেখেনি
তার জিনে উত্তাপ নেই
আছে শুধু অপলাপ
আর আছে একগাদা ছাই।
 
(৮)
একগাদা খড় ছিল পুকুরপাড়ে
নিঃশেষে পুড়ে ছাই সব
এত কাছে জল তবু হায়
রিক্ত নিঃস্ব চরাচর
 
অপমান ফিরে আসে একদিন
নিঃসীম মহাকাশ তলে
জলছাপ আগুনকথায়।

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...