Skip to main content

প্রতিশ্রুতির প্রথম সোপান - ‘অনাদৃতা’


কবি অনন্যা ভট্টাচার্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের প্রতি গ্রন্থকারের এক ব্যতিক্রমী আবেগ, অনুভূতি যে জড়িয়ে থাকে তা অনস্বীকার্য। ‘অনাদৃতা’ গ্রন্থটি হাতে নিলেই দৃষ্টি অবধারিতভাবে আকর্ষিত হবে গ্রন্থের ছিমছাম, নান্দনিক প্রচ্ছদের দিকে। ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে শীতালং পাবলিকেশনের। এবারের প্রচ্ছদ শিল্পী অভিজিৎ দেবনাথ।
৪৪ পৃষ্ঠার কাব্যগ্রন্থের ৩৮ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ৩৮টি কবিতা। ৪ থেকে ১৬ লাইনের এক একটি কবিতায় ধরা রয়েছে নানা অনুষঙ্গ। প্রকৃতি, অনুভব-অনুভূতি, কল্পনা, বাস্তব, আকাঙ্ক্ষা, প্রতিবাদ ইত্যাদি। কিছু কিছু কবিতায় প্রাথমিক জড়তার ছাপ থাকলেও প্রথম কাব্যগ্রন্থের কবিতা হিসেবে বলা যায় যথেষ্ট পরিশীলিত এবং স্বচ্ছন্দ। অনুভবের অনুরণন ধ্বনিত হয়েছে অধিকাংশ কবিতায়। কবি লিখছেন -
একটি গোটা সন্ধ্যা কাটে তারার খোঁজে
রাত নামে, হালকা নীল-কালো চাদরে
আবৃত চরাচর,
সাদা প্যাঁচা ঘুরে রাতে
চাঁদের আলোয় ঝলসায় কালপুরুষ
সন্ধ্যাতারা করে জায়গা বদল
সপ্তর্ষিমণ্ডল আঁকে অনন্ত প্রশ্ন -
হারিয়ে যাওয়া তারার খোঁজে
আমি রয়ে যাই - একা। (কবিতা - হারানো তারা)।
গ্রন্থের প্রথমেই রয়েছে ‘প্রান্তিক’ সিরিজের ১০টি কবিতা। এর কোনো উল্লেখ অবশ্য পাওয়া যায়নি ‘কবির কথা’য়। এই ভূমিকায় রয়েছে কবির  ও কবিতার বেড়ে ওঠার কথা, আত্মপরিচয়। এই আত্মপরিচয়ের এক নান্দনিক সুর ভেসে আসে গ্রন্থনাম শীর্ষক কবিতায়ও -
অনাদৃতা - তোমার নীরবতাই মহাকাব্যের ছন্দ
তুমিও সেই কালপুরুষের আনন্দ -
অনাদৃতা হয়েও তুমি অনন্যা
মহাকালের বুকে অবিচ্ছেদ্য ধ্রুপদিয়া।
অগতানুগতিকভাবে গ্রন্থে কোনো সূচিপত্র নেই যা পাঠকের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। কবিতায় যেহেতু শব্দসংখ্যা কম সেখানে অক্ষরাকার (ফন্ট) কিছুটা বড় করা যেত। ছাপা, বাঁধাই, বর্ণ সংস্থাপন যথাযথ। দুটি ব্লার্বেই কবি পরিচিতি, একটিতে কাব্য পরিচিতিও থাকতে পারত। দু’একটির বাইরে শুদ্ধ বানান গ্রন্থের অন্যতম সম্পদ। কবি গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রয়াত ঠাকুমা ও বাবাকে - যাঁদের অনুপ্রেরণায় কবিতার পথে কবির পথ চলা। সব মিলিয়ে প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন একটি কাব্যগ্রন্থ - অনাদৃতা।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

মূল্য - ১৩৫ টাকা, যোগাযোগ - ৯৩৬৫৩১০০২৭

Comments

Popular posts from this blog

শেকড়ের টানে নান্দনিক স্মরণিকা - ‘পরিযায়ী’

রামকৃষ্ণনগর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহে বরাক উপত্যকার এক ঐতিহ্যময় শহর । বিশেষ করে শিক্ষাদীক্ষার ক্ষেত্রে চিরদিনই এক অগ্রণী স্থান হিসেবে উচ্চারিত হয়ে আসছে এই নাম । বৃহত্তর রামকৃষ্ণনগরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস বহুদিনের । দেশভাগের আগে ও পরে , উত্তাল সময়ে স্থানচ্যূত হয়ে এখানে থিতু হতে চাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ ও কষ্টের ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে এক বিশাল বাসযোগ্য অঞ্চল । শুধু রুটি , কাপড় ও ঘরের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রই নয় , এর বাইরে শিক্ষা অর্জনের ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মমনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেইসব মহামানবেরা । ফলস্বরূপ এক শিক্ষিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যদিও উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে বেরোতে হয়েছিল নিজ বাসস্থান ছেড়ে । শিলচর তখন এ অঞ্চলের প্রধান শহর হওয়ায় স্বভাবতই শিক্ষা ও উপার্জনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হয় । এবং স্বভাবতই রামকৃষ্ণনগর ছেড়ে এক বৃহৎ অংশের মানুষ এসে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন এই শিলচরে । এই ধারা আজও চলছে সমানে । শিলচরে এসেও শেকড়ের টানে পরস্পরের সাথে যুক্ত থেকে রামকৃষ্ণনগর মূলের লোকজনেরা নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলেন এক সৌহার্দমূলক বাতাবরণ । এবং সেই সূত্রেই ২০০০ সালে গঠিত হয় ‘ ...

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...