পুরানো সেই দিনের কথা
হারিয়ে গেল ডিম-কাটা সুতো
হারিয়ে গেল শৈশব
হলেম না তো কাঁচ-কাটা হীরে
হারালো দিন সেই সব।
সেই যে ছিল বিকেল বেলার
গোলাপ টগর খেলা
কিংবা টিলার ঢাল বেয়ে ওই
'ছই' চড়ে পা ফেলা।
রণপা চড়ে এ ঘর ও ঘর
রাখাল সেবার গান
কিংবা বাবাহরের সেবায়
কলকে ধরে টান।
শনির সেবায় হাতে হাতে
প্রসাদ বাটার চল
শেষ পৌষে ধানের খেতে
'নেরা' কাটার দল।
শারদীয়ার প্রাক্কালে রোজ
শিউলি ঝরে ঘাসে
দীপাবলির সন্ধে বেলায়
মশাল জাহাজ ভাসে।
হারিয়ে গেল 'ডেগ'- এর জলে
'জিয়ল' মাছ রাখা
'বরি' ফেলে পুকুর জলে
'চুপকাঠি'টা দ্যাখা।
'রুঙ্গা' কিংবা 'ফুফা' দিয়ে
বানভাসি মাছ ধরা
মাছের সাথে সাপের ভয়ে
'আস্তিক মুনি' স্মরা।
কোথায় বা আজ রাতের বেলায়
টর্চ জ্বালিয়ে ফেরা
মহালয়ায় রেডিওতে
ব্যাটারি জোড়া ভরা।
পেছন টিপে 'উইংসাঙ'- এ
কালি ভরার কসরত
ব্লেডের কারুকার্যে সাজে
কাঠ পেন্সিল বদখত।
হারিয়ে গেল লন্ঠনের সেই
মিষ্টি মধুর আলো
আজ মনে হয় হারালো যা
সবই ছিল ভালো।
হারিয়ে গেল 'খলই', 'পটাশ',
'পিচাশ' পাতার রস
সুর করে সেই নামতা পড়া
'পাঁচ দুগুণে দশ'।
মরসুমি ফল খাওয়ার হ্যাপা
জানতে হতো খুব
চেটোয় পিষে 'লুকলুকি'টা
খাওয়ার ছিল লোভ।
'বরই ভর্তা' জমতো দারুণ
'বাখর পাতা' পেলে
'বাঙ্গি' জমতো চিনির সাথে
'চিনার' 'গুড়' এর দলে।
'পুকড়া' আম আর 'আমড়া', 'কাউ'
'চামকাঠল', 'ভুবি'
'চাইর আনা' পয়সা ছিল
সেদিন পান্না - রুবি।
'ভাই বোন' ফুল ফুটতো গাছে
'বনাক' তলে 'লুটকি'
'করই' জামের স্বাদটি তেমন
যেমন 'হিদল' শুঁটকি।
বৃষ্টি এলেই উদোম গায়ে
দে ছুট পুকুর পানে
পুকুর জলের 'হাগাঢালু'
যায় চলে মাঝখানে।
বর্ষা শেষে 'পিছন্টি' ফল
আর 'ভুজিয়া' মাছ
হারিয়ে গেল 'ঢপ যাত্রা'
'গুমড়া', পুতুল নাচ।
সিগারেটের প্যাকেট ছেঁড়া
কাগজ ছিল 'তাস'
'জাম্বুরা'টাই ফুটবল ভাই
মাদুর - মাঠের ঘাস।
লিখব কত সুখের গাথা
দামালপনার কথা
অফুরন্ত সেসব - আজ
শুধুই ছিন্ন ব্যথা।
শুধুই ছিন্ন ব্যথা।
Comments
Post a Comment