Skip to main content

মুদ্রা

 মুদ্রা

 ওরা বলে - করতে হবে

আমরা বলি - মানব না
ওদের কথায় দেশ যে চলে
আমাদের তা মানায় না
 
ওরা হলো পিঁপড়ের জাত
মিছিল করে ফুলায় বুক
আমরা হলাম বাঁদর বংশ
টেনে নামাই নিজের লোক
 
ওরা বলে - অস্ত্র আছে
নেহাত সেটা নিইনি হাতে
আমরা বলি - কিছুই তো নেই
অনুকম্পায় বাঁচাও ভাতে
 
ওরা বলে - অস্ত্র নিলে
কেউ পাবে না রেয়াত আজ
আমরা বলি - অহিংসাটাই
অদ্য আমার মাথার তাজ
 
ঘৃণা ওদের চোখে মুখে
হৃদয় জুড়ে হিংসানল
দরিয়াদিল আমরা সবাই
তোয়াজ করাই মোদের চল
 
আব্দার হোক অন্যায় তবু
আদায় ওরা করেই ঠিক
ন্যায্য পাওনা না পেলেও
আমরা থাকি নীরব- ধিক্
ভবিষ্যৎটা ওদের জন্য
একশ ভাগই নিশ্চিত
হাজার প্রমাণ দিয়েও আমরা
থাকছি অসুরক্ষিত
 
ওদের বেলা রাজানুগ্রহ
উপচে পড়ে যেমন চাই
হাজার চোখের রাঙানিতে
আমরা হচ্ছি পুড়েই ছাই
 
ওরা হলো স্বদেশ পুত্র
শেকড় কিন্তু দূর দেশে
আমাদেরও একই সূত্র
তিন পুরুষের এই দেশে
 
ওরা তবু রক্তচক্ষু
দেখিয়ে করে অত্যাচার
ভয়েই আমরা সিঁটিয়ে থাকি
দু'য়ে দু'য়ে হই না চার
 
ওদের মতোই এখন থেকে
দাঁড়াই রুখে আমরা তবে
লক্ষ লোকের লক্ষ ব্যথা
ভাগ করে নিই নিজের ভেবে
 
ভাষার দোহাই দিয়ে ওরা
যতই করুক ফন্দি ফিকির
ভাষার গানেই বাঁধব আমরা
অধিকারের সু-প্রাচীর
 
 
 
ওদের পথেই হাঁটব আমরা
নামব পথে বাঁধনহীন
আমরাও যে ভূমিপুত্র
নই তো আমরা দীন হীন
 
ওদের যেমন দাপট আছে
আমরা এতই কি দুর্বল ?
ঈদে কিংবা পুজোয় তবে
পথ বেয়ে কার নামে ঢল ?
 
ওদের মতোই আমরা এবার
নামব পথে করব পণ
করব আদায় সুবিচার
মিলব পথে লক্ষ জন
 
যতই আসুক রাজরোষ আর
যতই বাধা বিপত্তি
দাঁড়াই রুখে এক হয়ে আজ
মানব না আর আপত্তি
 
ভাষার আত্মীয়তায় বাঁধা
আমরা সবাই হবই এক
হবেই বাধ্য সব পক্ষ
মানবে সত্য ছাড়বে ভেক
 
বুঝুক ওরা আমরাও চাই
অবাঞ্ছিত মুক্ত দেশ
কিন্তু আমরা মানব না তো
অন্যায়ের দেখব শেষ
 
 
 
বুঝবে ওরা আমরাও যে
দেশেরই নাগরিক
কপটতা, ছলচাতুরি
হচ্ছে যা তা নয় যে ঠিক
 
জানুক ওরা আমরা যে আজ
অত্যাচার আর সইব না
দেশভক্তির পরাকাষ্ঠা
আর দেখাতে পারব না
 
মর্জি মতো অন্যায় আর
অবিচারের হোক অবসান
প্রকৃতই যে দেশের মানুষ
পাক সে ফিরে মান সম্মান
 
দেখুক ওরা আমরা যে নই
মোটেই হেলার পাত্র
আমরা তো নই মোটেই শত্রু
সুনাগরিক মাত্র
 
এবার তবে ওদের মতোই
জেগে ওঠার পালা
মন্দির আর মসজিদ ছেড়ে
রাস্তায় পা ফেলা
 
- - - - - - - -

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...