Skip to main content

অনন্য মিছিল

অনন্য মিছিল


শ্রীযুক্ত অনন্য ------------
হেঁটে যায় মিছিলের একেবারে মাঝখানে। 
দীর্ঘ মিছিল – আদি থেকে অন্ত
জীবন যাত্রার অনন্ত মিছিল।
লক্ষ্যহীন, অজানা ভবিষ্যৎ - তবু
ছুটে চলে নিরলস।
বাঁধা হয়ে থাকে তার প্রতিটি পদক্ষেপ
অজানা সুতোয়। সূত্রপাতে থাকে
কল্পনার এক অদৃশ্য, অমোঘ হাত।
অবাক মিছিলে মেলায় পা নতুন পদাতিক
কিছু পা হারিয়ে যায় মিছিলের ফাঁকে –
কেউ তা জানে না।
অজস্র অমুক-এর স্রোতে আমিও মেলাই পা
এক কার্তিকী মৃগশিরা থেকে
আরেক অবিদিত বেহিসেবি ক্ষণ।
আমার এপাশ-ওপাশ শুধু মিছিলের অগণিত পা
কিছু অচেনা, অতিশয় কিছু চেনা।
পা থেকে অবয়ব, কাঁধ, মাথা –
মাঝে মাঝে কিছু বণ্টিত ব্যথা।
মহামিছিলের ফাঁকে ভেসে উঠে
কিছু সাদামাটা – কিছু রঙিন
উপজীবনের ছড়ানো ছিটানো কিছু কোলাজ।
আত্মোপলব্ধির কিছু সাক্ষাৎ দেব-মানব –
আর কিছু অজানা ঈশ্বর।
কিছু জ্যান্ত শ্বাপদ, কিছু অদেখা আত্মা।
দেবীর প্রসাদী পানীয় আর –
নিশ্চিন্ত আস্তানা – কাতরতায় অহরহ
নেপথ্য দেবতার নিখাদ ভরসা।
আলাদা নয়, মিছিলে এগিয়ে চলা
আরোও অসংখ্য দ্বিপদের –
হুবহু ছন্দ – চেনা বৃত্ত, চেনা পরিধি।
অষ্ফুট আবোলতাবোলের পর
আরোও এক মানবী মায়ের হাত ধরে
এগিয়ে যাওয়া - মানবতার পাঠশালে।
ঘরের বাইরে জগৎটাকে চেনার শুরু
জীবনের পাঠদান – প্রতিভাত অন্তরে।
মিছিল শুরু বন্ধুর পথে – অজান্তেই
সংগ্রাম, তাগিদ – শুধু জীবন বীক্ষা।
মিছিলের ফাঁক গলে মাঝে মাঝেই
চোরা স্রোতে ভেসে আসে
কিছু স্বপ্ন, কিছু কথা, কিছু অনুভূতি।
তূলাদণ্ডে সুখের পাল্লা ভারী হয়
বিভাজিত ব্যথায়, ভালোবাসায় – যদি
দুঃখ শোকে মিছিলের আগুয়ান হাত
কখনোও বা থিতু হয় কাঁধে – আস্থায়, বিশ্বাসে।
ভেষজ আস্তানায় ছবি হয়ে থাকে
এক পাত্রে তিনটি অভিন্ন হাতের
পঞ্চবায়ুর সংগ্রামী গ্রাসাচ্ছাদন।
তেঁতুল পাতার ফরাশ পেতে
এক পিদিমে স্থিতপ্রাজ্ঞ ন’জন।
একেবারেই আটপৌরে শৈলি ধরে
অস্থির – সাদামাটা জীবনধারা
নেই কোন তাক লাগানো আলোর ছটা
যুগান্তরের মিছিল ধরে পায়ে শুধু পা মিলিয়ে
যেমন চলে অবয়বের অগস্ত্যযাত্রা।
বিস্মৃতির ওই পাতায় পাতায়
যেমন থাকে হাজার স্মৃতির
নাম না জানা সুখ আর শোক।
যেমন হারায় ঝলসানো রোদ
বৃষ্টিধারায় – কুহেলিকায়।
থাকে শুধু হৃদয় জুড়ে –
একটি হৃদয় আগাপাশতলা
কুঁড়ি থেকে ঝরা পাতার
দীর্ঘ পথের সাতকাহন।
হেমন্তের ঝরা পাতা-
বসন্ত বাহারের ব্যস্ত আঁতুড় ঘর
অঙ্কুর থেকে স্খলনের বাঁধা সুতোয়
গ্রথিত শুধু মিছিলের রঙ বেরঙ
মিছিলের ফাঁক গলে হেঁটে যাই
চোরাবালি স্ন্যাপশট অলিতে গলিতে
দেশান্তরের মিছিল শেষে
সাদা কালো জীবনের সংগ্রামী অধ্যায়
বুভুক্ষা গৌণ হয় সমাদর চিন্তায়
বাটোয়ারা মন নব নির্মিত হয়
মিছিলের শিক্ষায় হাতেখড়ি সুর
অনন্যোপায় দিন গুজরানেও
জেগে ওঠে অনন্যের বাসনা
সঁপে দেয় রিক্ত, নিঃস্ব যত
অসহায় সহায়ের হাত
অঙ্গীকারে হয় যত সখের জলাঞ্জলি
বেড়ে ওঠে অনন্যের মেধা ও মনন
মিছিলের ভিড়ে নিশব্দে এগোয়
স্থির সঙ্কল্পে বিন্যস্ত দুটি পা
পিছিয়ে থাকে যত দলছুট জন
অলিখিত ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়
অনন্য - জীবন কাহিনি
থেকে থেকে ঘুরে যায় মিছিলের মুখ
দৃশ্যান্তরে ভেসে ভেসে ওঠে
মহামানবের মহা খয়রাত
সুজন বিস্মৃত হয় স্ব-পরজন
অনন্ত কাল ধরে প্রসারিত হয়
পরিচর্যার নিঃস্বার্থ হাত
বেঁচে যায় এক মুমূর্ষু জীবন
কৃতজ্ঞ মিছিল মানব আজ নতশির
ক্ষুদ্র পাতার সেই সুজন নজন
অতঃপর এগোয় মিছিলের পথ ধরে
অনন্ত বিস্মৃতির অন্তিম লক্ষ্যে
সেদিনের ক্ষুদ্রতম সেই অনন্য
তাকায় ফিরে আজ মিছিলের উলটোপথে
খুঁজে ফেরে ফেলে আসা কিছু অবয়ব
ডান কাঁধে রেখেছিল হাত
সুদামাসখা, কৃষ্ণকিংবা
বাঁহাত আঁকড়ে ধরা শিশু ইসলাম
এক বৃন্তে ফুটেছিল অসংখ্য কুসুম
উজান যাত্রাপথে আজ নয় 
আগামীও নয়শুধু ফিরে দেখা
মিছিলের স্রোতে থাকা যত অপার সুখ
ভাসিয়ে দুঃখ তুড়ি মেরে
মানসপটে শুধু ফিরে ফিরে আসে
যত অলক্ষ্য স্রষ্টাজীবন দাতা
মহাকালের মিছিলে এগিয়ে যায়
অযুত লক্ষ নিযুত কোটি অবয়ব
হাতে হাত ধরেপায়ে মিলিয়ে পা
ক্কচিৎ কখনো ঝলসে উঠে
কিছু মুখ, কিছু অনন্য ধারা
বাকি থাকা যত অতি সাধারণ
মিছিলে চমকে ওঠার স্বপ্নে বিভোর
উৎকণ্ঠিত জেগে রয় প্রতিটি হৃদপিণ্ড
শিরায় শিরায় খেলে বেড়ায়স্পৃহা
মিছিলে দাগ রেখে যায়অবিনশ্বর
আগুয়ান মিছিলের নতুন মুখ যেন
অনায়াসে খুঁজে পায়চাঁদের আলো,
অস্তমিত সূর্যের বিচ্ছুরিত আলো
বীক্ষণে নিরূপিত হয় মিছিল মানবের
স্বতন্ত্র জীবন ধারা, বিক্ষিপ্ত পথ চলা
মহামিছিল বহিরঙ্গে সংহত, নিচ্ছিদ্র
প্রাতিস্বিক জীবন যুদ্ধে যত
অন্তরঙ্গে অনু পরমানু হয়ে
তাই থাকে মিছিলের মহা অবয়বে
যুগান্তরের মিছিল স্রোতে যত পদাতিক
স্বকীয় পথের দিশায়ভাস্বর
মহামিছিলের বিস্মৃত যত সৈনিকসব
আপন জীবন নদীর অনন্য নাবিক
মিছিলের ফেলে আসা পথে
অনন্যসাধারণ যত পদচিহ্ন
বিস্মৃত সব অধুনায় প্রতিভাস
মিছিলের আগুয়ান গতিপথ ঘিরে
অচেনা কুশীলব আর
অজ্ঞাত যত গাথাঅগোচরে
জীবিকার গাথা - যত কথা, যত ব্যথা
আলোকিত তাই শুধু, মহীয়ান সমকালে
আজকের বেঁচে থাকা, আজকের পথ চলা
হয়ে থাকে মিছিলে কেতায় লিখা
অগুনতি চেনা মুখ, চেনা অবয়ব
আপন গরবে গরবিতবণ্টিত
দুঃখ সুখের সুর ভাসে কোরাসে
বেলা শেষে গরবিত মিছিলের গান
গড়ে দেয় মসৃন ভাবীকাল
পরিণত পুরোধার জয়গানে আজ
অনন্য জীবন সুধায় সিক্ত মিছিল

--------------------------------------

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...