Skip to main content

পেখম দোলাও মনময়ূরী

পেখম দোলাও মনময়ূরী

 

বৃষ্টিভেজা অপরাহ্নের মেঘাচ্ছন্ন নীলাকাশ,
তোমায় সাজাই মনমুকুরে অফুরন্ত অবকাশ।
হাতড়ে স্মৃতির সালতামামি তোমারই গান গাইব আজ,
স্বপ্ন রঙিন ইচ্ছেডানায় গাঁথব পালক শিখীসাজ।
 
বিনুনির ওই দুলকি চালে হৃদয় দোলে দিগ্বিদিক,
মুক্ত কিংবা বদ্ধ কেশে রূপশোভা দুই সমান- ঠিক।
বিলি কেটে ঢালব সোহাগ আঁকব ছবি ওই ভালে,
চাঁদপানা মুখ উদ্ভাসিত এলোচুলের আবডালে।
 
চোখের ভাষায় ভালোবাসা ওই ভাষাতেই মন পাগল,
কাজল কালো নয়নঠারে অবিশ্রান্ত ঝড় বাদল।
ওই নয়নের নয়নকোঠায় আমার সুপ্ত অবস্থান,
তারায় তারায় চাউনি হেনে বিঁধলে আমার এ মন-প্রাণ।
 
টিকোলো কি হালকা, ভারি - নাকফুলিতে কী যায় আসে  ?
স্বেদবিন্দু শিশিরকণার রূপের সাজে মুচকি হাসে।
খুনসুটিতে উঠব মেতে নাক ফুলিয়ে কপট রাগ,
নাকছাবিতে সাজাই তোমায় রাগের বদলা অনুরাগ।
 
কুন্তলের ওই দুল কি তোমার রূপের ছটায় মানানসই ?
কুহরে এক আলতো ছোঁয়ায় নেশায় বিভোর, কই গো সই ?
কানে কানে কানাকানি প্রেমের গানে মাতবে রাত,
সাথে সাথে গুনগুনিয়ে চলব এমনি জনম সাত।
 
অধর জুড়ে মধুর হাসি চুম্বনে তার আস্বাদন,
ভূধর জুড়ায় সেই অধরের মিষ্টি মধুর সম্ভাষণ।
স্বপ্ন আমার ওষ্ঠযুগল রাখব তোমার অধর পর,
স্বর্গসুখের হড়পা বানে ভাসব দুয়ে জীবনভর।
 
টোল খেলে ওই চিবুক জুড়ে নিটোল শোভা বিশ্বময়,
স্পর্শসুখে বিশ্বপ্রেমের দর্শনে যে হর্ষ হয়।
গালজুড়ে এক আঁকব প্রতীক প্রেমিক হব নিখাদ আজ,
চুম্বিত ওই কপোল পরে ভালোবাসার মূর্ত সাজ।
 
অন্দরে ওই সপ্তসুরের ব্যঞ্জনাতে সুর খেলে,
বহিরঙ্গে হার মানা হার হৃদয়তন্ত্রে ঢেউ তোলে।
মিষ্টি সুরের মধুর আওয়াজ হাতছানি দেয় নিরন্তর,
অন্তরাত্মা উপচে উঠে তোমার সুরে জীবনভর।
 
পীনোন্নত পয়োধরে উপত্যকার গিরিপথ,
হার মানা হার বৃন্তে শ্যেনের দৃষ্টি বিফল মনোরথ।
বক্ষজোড়া তৃষ্ণা আমার জীবন জোড়া নিমন্ত্রণ,
আকাশ আমার, কুসুম আমার শিয়রে আজ শিহরণ।
 
আঁচল তলে শ্বেতশুভ্র মধ্যতনুর মখমলি হাট,
সৃষ্টিসত্তা অন্তরে আর বাইরে পেলব লালসা ঠাট।
মসৃনতার কোমল শুভ্র সুতনুকার অহংকার,
হাওয়ায় ভাসাই অঞ্চল আজ দেখব শুধুই চমৎকার।
 
শিঞ্জিনীর ওই নিক্কণে আজ সজ্জাশোভার অন্তরাগ,
আন্দোলিত অন্তরে তাই প্রেমের সানাই গায় বেহাগ।
পালিয়ে বেড়ায় মূর্ছনা সব ওই নূপুরের ঝংকারে,
আমার গর্ব হাপর ছোটায় আমার বক্ষপিঞ্জরে।
 
প্রথম প্রেমের আনকোরা দিন লহর তোলে আজীবন,
সঙ্গোপনে সহাবস্থান স্বপ্নে দোলায় প্রাণ ও মন।
চোখের পলক, মুখের হাসি ইতিহাসে স্থানান্তর,
সেই ইতিহাস হাতড়ে বেড়াই অনুসন্ধান নিরন্তর।
 
কামিনী আর জুঁই বেলিতে গাঁথব তোমার চিকুরজাল,
এ মনচোরা মনের সুখে বিন্দি সাজায় তোমার ভাল।
কাজলকালো নয়নপাশে অধরজোড়া রক্তরাগ,
নাকছাবি আর কানবালাতে সিঞ্চরিত সব সোহাগ।
 
কলকে পাড়ের অঙ্গাভরণ জড়াই ঘটা খুব করে,
সাতরঙা সাজ জড়িয়ে সাজাই মনমুকুরের সাজঘরে।
রক্তরাঙা আলতারঙে রাঙিয়ে চরণ প্রেয়সীর,
ভালবাসার নয়নঠারে মত্ত ঠমক উর্বশীর।
 
ছন্দবদ্ধ এই গাথাতে মনমাঝারে আবাহন,
আমার মনের মানসকন্যার হৃদয়মাঝে সংস্থাপন।
গোধূলির এই আবছা আলোয় দেখব তোমার অরূপ সাজ,
পেখম দোলাও মনময়ূরী প্রেমসায়রে ভাসব আজ।

 

- - - - - - - - - - - -

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত স্মরণ সংখ্যা ‘আলোহাওয়া’

একটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটপত্রিকা হচ্ছে সমাজের সাহিত্যদর্পণ । শুধুই সমকালিক নয়। যুগান্তরের ভাষাসাহিত্য ও তার যুগন্ধর স্রষ্টাদের সঙ্গে সমকালকে পরিচিত করে দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। আর একের পর এক এই লক্ষ্যেই উৎকৃষ্টতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি শহর থেকে প্রকাশিত ‘ সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ’ পত্রিকা ‘ আলোহাওয়া ’ । রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা - ২৫তম বর্ষ , পৌষ ১৪৩২ - ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা । কবি জিতেন্দ্র নাথ সম্পাদিত এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যিক ‘ তুষারকান্তি নাথ স্মরণ সংখ্যা ’ হিসেবে । তুষারকান্তি নাথ এমন একজন সাহিত্যিক যাঁকে আখ্যায়িত করা যায় একজন সার্বিক সাহিত্যিক হিসেবে। ধারে ও ভারে তাঁর সৃষ্টি শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয় এর বাইরেও সমাদৃত। তাঁর লেখনী রত্নপ্রসবা। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায় যে ঘরে বাইরে কিছু স্বীকৃতি , কিছু প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকলেও তাঁর লেখালেখি ও নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের গভীরতার মূল্যায়ন যতটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কিন্তু হয়নি। আসলে প্রান্তিকতা সততই লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পরিচিতির পথে এক বৃহৎ অন্তরা...

প্রখর গরজ ও শ্রদ্ধায় নিবেদিত একটি ‘সুকান্ত সংখ্যা’ - শতদল

হাতে নিলে আর পাঁচটা নিয়মিত সংখ্যা পত্রিকার মতো মনে হলেও উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ী থেকে কবি, লেখক রতন চন্দ সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘শতদল’ পত্রিকার সম্প্রতি প্রকাশিত ২৯তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৪৩৩, মে-২০২৬ (কবি সুকান্ত জন্মশতবর্ষ সংখ্যা) সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সেই মাত্র ৪২ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংস্করণ হলেও প্রচ্ছদ থেকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি যতন, গরজ ও উৎকর্ষের এক সম্ভার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেও। বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র স্থান ধরে আছেন অকালপ্রয়াত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি এবং আগত-অনাগত চিরকালীন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই কবি মূলত একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেই সাহিত্যবিশ্বে পরিচিত হলেও তাঁর কবিতায় এর বাইরেও যে রয়ে গেছে বহুমাত্রিক এক বোধ, ভাষ্য - বোধ করি তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি আজও। তবে যতই তাঁকে নিয়ে চর্চা হবে ততই এক এক করে খুলবে বিস্ময়ের ঝাঁপি এ কথা অনস্বীকার্য। এবং তারই এক নির্মোহ প্রয়াস ও প্রকাশ আলোচ্য সংখ্যাটি। সুসজ্জিত কবি-প্রতিকৃতিযুক্ত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ - সজ্জায়, বর্ণ সংস্থাপনে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য পাঠকের। সৌজন্যে মুদ...