Skip to main content

কলাবতী কন্যা



এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু,
এ তো বড়ো রঙ্গ
চার মিঠে দেখাতে পার
যাব তোমার সঙ্গ।
বরফি মিঠে, জিলাবি মিঠে,
মিঠে শোন-পাপড়ি
তাহার অধিক মিঠে, কন্যা,
কোমল হাতের চাপড়ি।
এ তো বড়ো রঙ্গ, জাদু,
এ তো বড়ো রঙ্গ
চার সাদা দেখাতে পার
যাব তোমার সঙ্গ।
ক্ষীর সাদা, নবনী সাদা,
সাদা মালাই রাবড়ি
তাহার অধিক সাদা তোমার
পষ্ট ভাষার দাবড়ি।

"জীবন ধারা" - শব্দবন্ধটি আমার খুব প্রিয়। একটি জীবনের আদ্যন্ত পাঠ শুধুমাত্র 'মুসকিল'ই নয়, 'না-মুমকিন'ও। তবে একটি কথা হলফ করে বলতে পারি যে অন্য সবারই মতো আমিও আমার জীবনের সবচাইতে সেরা - সোনালি অধ্যায়টা পেরিয়েছি আমার একমাত্র সন্তানটির শৈশব ও কৈশোরকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেই।
'
স্ত্রীয়াশ্চরিত্রং দেবা ন জানন্তি'শিশু থেকে বালিকা, কিশোরী হয়ে আজ মেয়েটি আমার যুবতী হওয়ার পথে। ধীরে ধীরে 'জীবন ধারা'য় স্নাত হতে হতে এখন স্নাতক স্তরের ছাত্রী। বুদ্ধির সাথে সাথে বোধেরও ঘটে চলেছে বিকাশ।
'
কোমল হাতের চাপড়ি' আর 'পষ্ট ভাষার দাবড়ি' পেরিয়ে এখন স্বভাবতই তৈরি হচ্ছে ওর নিজস্ব মনোজগৎ।
চৌষট্টি রকম কলার অস্তিত্ব থাকলেও সংগীতকলাতেই ওর যা কিছু ঝোঁক। আর আছে কিছু 'ছলাকলা'সেই 'স্ত্রীয়াশ্চরিত্রং' এর অঙ্গ হিসেবেই হয়তো। এই ছলাকলার অধিকাংশই আবার পরীক্ষিত হয় এই ভাবকল্পক বাবাটিরই উপর। আজও আমরা দুজনের মধ্যে চলে আসছে সেই একই নকল ছলাকলার সরল খেলা। আর কখনো এরই মাঝে অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করি আমার এই 'কলাবতী' কন্যার বয়সানুপাতিক বিকশিত চিন্তাধারা।
****
তিনসুকিয়ার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে এসে ভর্তি হয়েছিল তখন সামনের পাটির দুটো দাঁত ছিল না। কিন্তু সেই বয়সে তো আর সে ভ্রুক্ষেপ থাকার কথাও নয়।
সেই তখন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুবাদে বিদ্যালয়টির প্রতি কী পরিমাণ আন্তরিকতার সৃষ্টি হয়েছে ওর অন্তরে সেটি দেখতে পেলাম সেদিন ওর চোখে, ওর কার্যকলাপে। দীর্ঘ দিন পর তিনসুকিয়া ভ্রমণের ফাঁকে হন্তদন্ত হয়ে গিয়ে হাজির হয়েছে বিদ্যালয়ে। সঙ্গে অবশ্যই সবচাইতে নিরাপদ 'দেহরক্ষী' এই বাবাটি। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণে কোণে উঁকি মেরেছে স্মৃতি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে। পাগলের মতো গিয়ে বসেছে অধ্যয়নকালীন শ্রেণিকক্ষগুলিতে। আর আমার উপর বর্ষিত হয়েছে সেই 'পষ্ট ভাষার দাবড়ি' - "বাবা, ফটো ওঠাও"।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছিলাম আমার হৃদয়ের একান্ত কাছের - আমারই আত্মজার বেড়ে ওঠার দিকে।
ফটো ওঠানোর ফাঁকে ফাঁকে ওর নজর এড়িয়ে বার কয়েক যে মুছতে হয়েছে চোখের কোণ - সে কথাটি কি আর বলা যায় সেদিনের আমার 'কোমল হাতের চাপড়ি' দেওয়া - আজকের 'কলাবতী' মেয়েটিকে ?


Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...