দেশের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু না লিখলে নিজেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের কাছেই প্রতিপন্ন করাটা দুষ্কর হয়ে যাবে।
ভারত দেশের ৭০ বছরের শিরঃপীড়ার গতকাল 05/08/2019 তারিখে উপশম ঘটালো দেশের নির্বাচিত সরকার। শাসক দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে উল্লেখ করা মতো কাশ্মীর থেকে উঠিয়ে নেওয়া হলো ধারা ৩৭০ এর মতো বিশেষ ব্যবস্থা। কোটি কোটি মানুষের উপচে পড়া ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত সরকার কথা রাখলো। স্বভাবতই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক এতে দারুণ খুশি।
কিন্তু এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় সোচ্চার কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডে আমরা সত্যিই অবাক। এদের কাছে যে দেশ বড় নয়, রাজনীতি
(পড়ুন মোদী বিরোধী নীতি) বড় তা সবার কাছে জলের মতো পরিষ্কার। গত কয়েক বছরে এমনিতেই এরা দেশবাসীর কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এবার মনে হচ্ছে চন্দ্রবাবু ও লালুর মতো নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত এরা নিজেরাই থামবে না।
প্রতিবেশী
রাজ্যের মহিয়সী মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এত বড় পদক্ষেপের আগে কাশ্মীরের জনগণের রায় নেওয়া হয়নি। এ তো ঘোরতর অন্যায়। আরে সবজান্তা দিদি, বিগত ৭০ বছর ধরে তো শুধু আদর আপ্যায়ন আর তোষামোদই চললো। আর কত ? কিলের কাঁঠাল কিলেই পাকে। কিন্তু কিল দেওয়ার বুকের পাটা তো সবার থাকে না। তার জন্য চাই ৫৬ ইঞ্চি ছাতি। তাই সব জেনে বুঝেও বিরোধিতার নামে বিরোধিতা ছেড়ে একটু বাস্তবতাকে মেনে নিন। এসব কুটকচালি করে নিজের পায়ে নিজেই যে কুড়ুলটা মারছেন সেই সহজ অঙ্কটিও কি বোধগম্য হয় না ? বস্তুতঃ এই সাংবিধানিক ধারাটির অপব্যবহার করেই নিশ্চিন্তে দেশ বিরোধী কাজকর্ম চালিয়ে আসছিল কিছু লোক, দল
ও সংগঠন।
আরেক আছেন জন্মাবধি গোলাম। বুড়ো হয়ে গেলেন রাজনীতি করতে করতে কিন্তু কুমতলব আর গোলামী ত্যাগ করতে পারলেন না। এই করে এক সময়ের সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দলটির আসন সংখ্যা এমন এক স্তরে নিয়ে এলেন যে বিরোধী দলনেতার আসনটিও হারাতে হলো। তবুও এদের শিক্ষা হয় না। আসন সংখ্যা শূন্যতে নিয়ে না এসে এরা থামবেন না। (আজকের দিনের উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম - জনার্দন রেড্ডি, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ভুবনেশ্বর কলিতা)
।
আরেক দল হচ্ছে 'নির্যাতিত,
খেটে খাওয়া' মানুষের দল। এই দলের এখন আর দেশে অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। কু আর বাম (উল্টো)
রাজনীতি করে করে এরা এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। কিন্তু এতদিনের মৌরসী পাট্টা সহজে ভুলে তো যাওয়া যায় না। তাই অবশিষ্ট কিছু সাগরেদ আর দোসর নিয়ে চীৎকার চেঁচামেচি করে দেশবিরোধিতার নির্লজ উদাহরণ এরা একের পর এক সৃষ্টি করেই যাচ্ছেন। নিত্য দিন ঐতিহাসিক ভুল।
স্বভাবতই সরকারের এই সাম্প্রতিকতম ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় এরা পথে নেমেছেন। এদের সঙ্গে আবার প্রকাশ্যে গরুখেকোর মতো নির্লজ্জ কুলাঙ্গার আর কুবুদ্ধিজীবীদেরও আছে ভয়ংকর গাঁটছড়া। ওদিকে নাগরিক মাওবাদীদের ক্রমাগত মিথ্যাচার আর অপপ্রচার। আমার চোখে এদের এই আন্দোলন দেশ বিরোধিতার চূড়ান্ত নিদর্শন। গণতান্ত্রিক দেশের সহিষ্ণু সরকার বলেই এরা গরাদের বাইরে থেকে এমন উল্টো গান গাইতে পারছেন। তাই এদের ধিক্কার জানানো আজকের দিনে খুবই দরকার।
আরেক বাঙালি নচ্ছার লোকসভায় প্রথম দিন উল্টোপাল্টা ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আর এবার আবার বালখিল্যের আচরণ করে নিজ দলেই হয়েছেন ধিকৃত। তাঁর কথায় কাশ্মীর ভারতের নয়, রাষ্ট্রসংঘের। ধিক।
তাই আজ সবাই এদের চিনে রাখছে। ভবিষ্যতে এইসব দেশ বিরোধী কাজের উচিত শিক্ষা এরা পাবেই পাবে। কিছু ব্যক্তিবিশেষও সব কিছু জেনেও শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরে অপ্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্নের অবতারণা করছেন। যেমন কাশ্মীর থেকে ধারা ৩৭০ তুলে দেওয়া হলো তাহলে নাগাল্যাণ্ড বা আন্দামান থেকে কেন নয় ? এদের বলি এত কষ্ট করে কুটকচালি না করে সক্ষম সরকারের তত্ত্বাবধানে নিশ্চিন্তে থাকুন। ব্যাথা হলেই শল্যচিকিৎসার দরকার হয়। অন্যথা নয়। প্রতিবেশী দেশের মদতে কাশ্মীরের এক বিশাল সংখ্যক নাগরিক ধারা ৩৭০ এর সুযোগের দুর্ব্যবহার করে আর দেশের ভ্রষ্ট ও মেরুদন্ডহীন রাজনৈতিক নেতাদের সংকীর্ণ মনোবৃত্তির ফলে দেশের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটা কথা আশা করি আপনাদের অজানা নয় - অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সয় উভয়েই কিন্তু সমভাগে দোষী। (এ
নিয়েও সম্প্রতি তৈরি হয়েছে নতুন আইন। সুতরাং সাধু সাবধান)।
Comments
Post a Comment