মশারির সঙ্গে আমার মা ও বাবা - দুইজনের স্মৃতিই জড়িয়ে আছে।
আমি ছিলাম বাউণ্ডুলে প্রকৃতির। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মশারির দুই কোণ খুলে বাকি
দেয়ালের দিকের কোণদুটো না খুলেই রেখে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলাম। এতে কম
কাজ করতে হতো।
এই কম কাজ
করার ধান্দা এখনও
আমার মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু মায়ের জন্য পারতাম না।
সকালে পুরোটা খুলে
ভাঁজ করে তো
রাখতেই হতো তার
উপর রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মশারিটা এমন
ভাবে টাঙাতে হতো
যেন চারটে কোণই
সমান উচ্চতায় থাকে।
আবার মশারি গুঁজতে গিয়ে এমন ভাবে তা
করতে হবে যেন
প্রতিটি দিক উলম্বে খাড়া থাকে। কোথাও বাঁকা
হতে পারবে না।
প্রথম দিকে খুব বিরক্ত হতাম কিন্তু মায়ের কথামতোই করতে হতো। এরপর কখন
যেন ব্যাপারটা আমারও
মজ্জার মধ্যে ঢুকে
গেল বুঝতেই পারিনি। এখন
এই শিক্ষাটি আমার
বড় মায়ের থেকে
ছোট মায়ের মধ্যে
ছড়িয়ে দিচ্ছি।
যখন খুবই ছোট ছিলাম
তখন বাবার কাছে
বাজারে যাওয়ার জন্য
বায়না ধরতাম। খুব সখ
হতো বাজারে যাওয়ার। বায়নায় অস্থির হয়ে বাবা একদিন
বললেন - যেদিন
নিজের হাতে মশারির উপরটা ছুঁতে পারবে সেদিন
বাজারে নিয়ে যাব।
বেজায় খুশি হয়ে সেদিন
থেকেই শুরু হলো
কসরত। প্রতিদিন মশারির উপরটা ছোঁয়ার কী বেদম
প্রচেষ্টা। বাবা মাঝে
মাঝে দেখে হাসতেন। যাই
হোক বেশ কিছু
দিন - হয়তো
বা কিছু বছর
পর হঠাৎ একদিন
কোনওক্রমে ছুঁয়ে ফেললাম মশারির উপরিভাগ। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ডেকে এনে বাবাকে দেখালাম অসাধ্য সাধনের কারনামা।
কিন্তু আনন্দের ফোলানো বেলুনটা যে বাবা এভাবে চুপসে
দেবেন সেই কথাটি
আমার কল্পনাতেও আসেনি।
বাবা বললেন - বিছানার উপর থেকে ছুঁলে হবে
না তো। বিছানার নিচে
দাঁড়িয়ে ছুঁতে হবে।
প্রচণ্ড নিরাশ হয়েছিলাম সেদিন।
মনে হয়েছিল এ
জীবনে আর বাজারে যাওয়া হবে না।
এর পর গতানুগতিক ভাবেই গড়াতে থাকে দিন,
মাস, বছর।
শেষে যখন সত্যিই বিছানার নিচে দাঁড়িয়ে নাগাল পেলুম
মশারির উপরিভাগ তখন
আমার বাজারে যাওয়ার আর কোন বিশেষ ইচ্ছে
অবশিষ্ট ছিল না।
কারণ ইতিমধ্যে বাজারের বোঝা বয়ে বয়ে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।
Comments
Post a Comment