Skip to main content

বরাক ত্রিপুরা সফর ২০১৯ আগস্ট

ইতি হলো দারুণ এক সফরের। চার দিনের উত্তর ত্রিপুরা ও বরাক সফর। এই মুহূর্তে ফেরত যাত্রায় বসে আছি রেলের কামরায়। সঙ্গে অনন্ত সুখ-স্মৃতির ভাণ্ডার। মনে হচ্ছে পেছনে ফেলে আসছি এক 'সব পেয়েছির দেশ'পূর্ব পরিচিত ও সদ্য পরিচিত সুজনদের সান্নিধ্যে আজ কানায় কানায় পরিপূর্ণ আমার হৃদয় ।
**
বন্ধুবর দেবাশিস পানিসাগরে নিজের ঘর বানিয়েছে বছর তিনেক হলো। আমি যেতে পারিনি বলে ওর গৃহসুখ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছিল। দেড় দিনের উপস্থিতিতে ওর ফোলা গাল সঠিক জায়গায় ফিরে এসেছে। হৃদয়ের কোন অলিন্দে সযতনে সাজাই এমন অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ? বন্ধু পত্নী বাবলির- প্রতি পলের অক্লান্ত অতিথি সৎকার ছিল অনবদ্য। দুর্ধর্ষ গরমকেও হার মানিয়েছে বাবলি।
**
এই দেড় দিনেই আরেক অন্তরঙ্গ বন্ধু অসীম ও বন্ধু পত্নী মনিকার অতিথি হয়ে সাক্ষী হয়ে রইলাম বন্ধুকৃত্যের এক অপূর্ব উদাহরণের। মননে কৃষ্ণ সুদামা। 
**
জন্মভূমি বরাকের সমৃদ্ধ সাহিত্য জগতে নিজের অস্তিত্বের অভাব অনুভূত হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। কড়ায় গণ্ডায় তা পরিপূর্ণ করে দিলেন অগ্রজ প্রতিম কবিবর সুশান্ত ভট্টাচার্য। নিজের ঘরে সাহিত্য বাসরের আয়োজন করে আমাকে ভাসিয়ে দিলেন বরাকের প্রবহমান সাহিত্য স্রোতে। ধন্যবাদ কিংবা কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো শব্দ আমার পুঁজিতে নেই আর সেই ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বকুনি খাওয়ার ইচ্ছেও মোটেই নেই। কতটুকু সমৃদ্ধ হলাম সেদিনের সাহিত্য সভায় তা বর্ণনা করার সাধ্যও আমার নেই। শতদল আচার্য, মমতা চক্রবর্তী, লীনা নাথ সহ সেদিনের সব গুণীজনের সাহচর্য আজীবন অটুট থাকবে স্মৃতির পাতায়। 
**
শেষ দিনে বরাকের তথা উত্তর পূবের বাংলা সাহিত্য জগতের আরেক দিকপাল মনোমোহন মিশ্রের সঙ্গে সাক্ষাতে পূর্ণ হলো আরেক দীর্ঘদিনের সযতনে রাখা সুপ্ত মনষ্কাম। উপহার স্বরূপ পেলাম তিন তিনটি বই। আমি আপ্লুত। 
**
পুরো সফর জুড়ে বন্ধু বেষ্টিত আমি কী করে ভুলি 'পরাণ সখা বন্ধু আমার' - পীযূষ ও তার সহধর্মিণী মুন, টিটু ও তার সহধর্মিণী মউ, গার্গী ও তার 'সহধর্মী' শিশির-দাকে ? কী করে ভুলি ৮৫ বর্ষীয়া মাসি (টিটুর মা)-এর বালিকা বয়সে শেখা দীর্ঘ কবিতার আবৃত্তি
**
ভোলা যায় না এ কথা যখন ধর্মনগর থেকে রেলে শিলচর আসার পথে করিমগঞ্জ স্টেশনে সটান হাজির বাল্যবন্ধু সঞ্জীব। বর্তমানে কলেজ শিক্ষকশোনাল এক অদ্ভুত গা ছম ছম করা তথ্য। বললো - "আজ থেকে ১০০ বছর আগে সিলেট যাওয়ার পথে এই স্টেশনে পদার্পণ করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ একশো বছর পর তুই এলি। কামনা করি তোর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটুক উত্তরোত্তর"। বিমূঢ় আমার 'ধরণী দ্বিধা হও'-এর বাইরে বলার মতো কিছু ছিল না। 
**
দু'দিনের বরাক সফরকে সুস্বাদু করে তোলায় যাদের সস্নেহ অবদান ছিল অকৃত্রিম সেই বোনটি আমার মিঠু ও তার করিৎকর্মা পতিদেবতা রাজু এবং চল্লিশ বছর পর আমাকে 'ভুজিয়া' মাছের 'কড়ুয়া' খাইয়ে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করে রাখলেন বৌদি অপর্ণা ও দাদা বিশ্বজিৎ। 
**
বিদায় বেলায় ভাষা শহিদ স্টেশনে বাবার হাত ধরে রাতের খাবার হাতে প্রবেশ অপর্ণা বৌদির মেয়ে কন্যাসম নেহা ও অন্য দিক থেকে শেষ মুহূর্তে হন্তদন্ত হয়ে অকুস্থলে হাজির আমার ব্যস্ততম সুহৃদ পীযূষ।

সবার অকুণ্ঠ স্নেহ ভালোবাসায় ঋদ্ধ আমি - 
'
একটি কথাই চাই বলিবারে 
আবার আসিব ফিরে এই বরাকেরই তীরে'

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...