আজো ষাটের ঘরে
পা রাখা অনুলেখার স্পষ্ট মনে আছে ওই অনন্তযাত্রার বৃত্তান্ত। কাতারে কাতারে
আবালবৃদ্ধবণিতার সেই দীর্ঘ পথ পরিক্রমা। ধর্মাধর্মের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার আগেই
আস্তানার খোঁজে বড়দের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে এপার-ওপারের যাত্রা। বয়স তখন কতই বা
হবে অনুলেখার ? বড়জোর সাত কিংবা আট। নিদারুণ কষ্টকর ছিল সে পথচলা। কিন্তু বয়সের
অপরিপক্কতায় কষ্টের মধ্যেও মিশে রয়েছিল
পরিজন-সান্নিধ্যে অজানাকে জানার এক অদম্য কৌতূহল আর রোমাঞ্চ। হয়ত জীবনটাকে জানার
সেই শুরু।
এরপর কতগুলো
বছর পেরিয়ে গেল তরতর করে। জীবনের কত উত্থান পতন। কত সুখ-দুঃখের কাহিনি। চোখের
সামনে জীবন-মৃত্যুর কত উপাখ্যান। সাপ লুডোর অজানা ধাঁচের মধ্যেই নিজের বড়
হয়ে ওঠা। উপরটা ক্রমশঃ খালি হয়ে যাওয়ার বেদনার পাশাপাশি কত না প্রাপ্তিসুখের
আনন্দ।
এভাবেই
পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে অর্ধেক বয়স পেরিয়ে এসেছেন অনুলেখা। এখন এ
সংসারে তিনিই সবচাইতে উপরের ধাপে। নিচে যারা আছে তাদের নিয়েই
বর্তমান, তারা-ই সম্বল। আর আছে ফেলে আসা জীবনের অপার স্মৃতি।
স্মৃতি সততই সুখের। শৈশবের সেই আদরে আহ্লাদে টইটম্বুর দিনগুলোর টুকরো টুকরো আবছা
ছবির পাশাপাশি জীবনের বেদনাবিধুর ঘটনাবলিও তাই রোমন্থন করতে ভালই বাসেন
অনুলেখাদেবী। ঘটনা-দুর্ঘটনার মাঝখান দিয়েই এক পা, দু’পা করে এগিয়েছে জীবন। দায়িত্ব
এসে যথাসময়ে চেপে বসেছে মাথায়। এই তো জীবন। যে ক’দিন বেঁচে বর্তে থাকা,
সামলে-সুমলে চলা। এরপর তো আছেই- অনন্ত ধামের যাত্রা।
পাহাড় ঘেরা
একচিলতে সমতলের মধ্যিখানে নিতান্তই অখ্যাত এক রেল স্টেশন-সর্বস্ব জনপদ - ধানশিরি।
শীতের সকালে প্রথম কাঁচা রোদের আলোয় যেন ছবির মত ভেসে উঠে তার সৌন্দর্য। রেল
লাইনের দু’ধারে শ’দুয়েক মিশ্র জাতির লোকের বসতি। এধারে ওধারে ছোটখাটো একাধিক টিলার
মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরোও কিছু বাড়ি ঘর। লাইন ধরে দিন রাতে সব মিলিয়ে একাধিক
গাড়ির আসা যাওয়া থাকলেও এ স্টেশনে রেলগাড়ি থামে সাকুল্যে দু’বার। একবার সকালে
উজানমুখো যাত্রীবাহী এবং একই গাড়ির ফেরতযাত্রায় সন্ধেবেলা আরোও একবার। বাইরের
পৃথিবীর সঙ্গে এ অঞ্চলের লোকের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে শুধু ঐ একটি মাত্র
রেলগাড়ি। তাই সকাল-সন্ধে দু’বেলা স্টেশন ঘিরে যেন বসে যায় হট্টমেলার আসর। যাত্রী না হলেও সবাই এসে
ভিড় জমায় স্টেশনে। কে কোথা থেকে এলো - যাচ্ছেই
বা কোথায় ? অকারণ অনুসন্ধানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সবাই। এখানে সবাই সবার পরিচিত। সবাই
সবার একান্ত আপনজন। নেই কোনও জাতপাতের বালাই, নেই কোনও উঁচু-নিচুর ফারাক। সবাই
নিজের সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিজেদের নিয়েই সুখী। ধানশিরি থেকে বেরোলে উজানে সবচাইতে
বড় জায়গা হচ্ছে ডিমাপুর। উল্টোদিকে ডিফু-লামডিং। মধ্য অসমের পাহাড়-সর্বস্ব
কার্বি-আংলং জেলার ক্ষুদ্র এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে তাই ডিমাপুর-ডিফু-লামডিংই
হচ্ছে বহির্জগতের পরিচিত ঠাঁই। এর বাইরে প্রসারিত হতে পারে না এদের চিন্তাধারা। এর
বাইরে জগৎ আছে - কেউ তা জানে না।
মূলতঃ জুম
খেতি নির্ভর এখানকার বাসিন্দারা। এর বাইরে মাছ শিকার এবং কয়লা
সংগ্রহ ও সরবরাহে নিযুক্ত আছে কিছু সংখ্যক পরিবার। তবে কৃষিকাজই প্রধান জীবিকা।
স্বভাবতই খুব খাটতে পারে সবাই। এর বাইরে কিছু ছোটখাটো ব্যবসায়ী, দু’জন স্থানীয়
স্কুল শিক্ষক আর হাতে গোনা চার-পাঁচজন রেল কর্মচারী নিয়েই ধানশিরির সমাজ।
স্টেশন থেকে
মাইল খানেক দূরে ভাটির দিকে নীরবে নিশ্চিন্তে আপন খেয়ালে বয়ে চলেছে এক শান্ত শীতল
ছোট্ট নদী- ধানশিরি। হয়ত কখনো নিজের অববাহিকায় দু’পাশে শ্যামল সোনালি ধানের
জমিকে করে তুলেছিল শ্রী-যুক্ত। তাই নদীর
নাম হয়েছে ধান্যশ্রী বা ধানশিরি। নদী থেকেই জনপদের নামাকরণ। অন্তত এমনটাই মনে করেন
এখানকার অধিকাংশ বয়োবৃদ্ধ নাগরিকেরা। এ নদী দেখেননি অনুলেখাদেবী। নদী তো জীবনে কতই
দেখেছেন, কিন্তু তাঁর কাছে শৈশবের সেই সাপের মতো আঁকাবাকা লিকলিকে ‘গাঙ’- যার
নামটাও আর মনে নেই আজ- সেটাই ছিল প্রকৃত নদী। অনেকটা যেন প্রথম প্রেমেরই মতো আজীবন
স্মৃতিপটে ভাস্বর।
এখানে এই
ধানশিরি নদী, তার অববাহিকার শ্যামলিমা, রেল লাইন আর অপ্রশস্ত পদপথের বাইরে সবটুকুই
লুকিয়ে রয়েছে গাঢ় সবুজ বনানীতে। বিশালাকায় বৃক্ষ থেকে গুল্ম লতায় ভরপুর বনরাজি চির
সবুজ সজ্জায় সুসজ্জিত। গ্রীস্মে যেমন রোদ আড়াল করা ছায়া আর শীতল হাওয়ায় ভরিয়ে দেয়
পরিবেশ তেমনি বর্ষায় ফুটিয়ে তোলে তার আপন সিক্তরূপের অতুলনীয় শোভা। যেখানে দ্রুত অপসৃয়মাণ মেঘের
সঙ্গে অহরহ খেলা করে বেড়ায় সুউচ্চ বৃক্ষরাজি সেখানে রূপালি বৃষ্টিকণার ভারে নুইয়ে
পড়ে নাবালক গুল্মের সাবালক পত্রসম্ভার - যেন পরম শ্রদ্ধায় নতশির হয়ে উজাড়
করে দেয় কৃতজ্ঞতার ডালি। দিনভর পাতার গা বেয়ে পড়া টলমল জল ধারার
শব্দ আর ময়না-শালিকের গুঞ্জরিত কথোপকথন যেন নহবতখানার তানকর্তবের ধুন বাজিয়ে বেড়ায়
ধানশিরির আকাশে বাতাসে।
অপূর্ব
সুন্দর এ জায়গা। সমতলের বুক চিরে দু’ধারকে সমান ভাগে ভাগ করে সেই কোন যুগে বসানো
হয়েছিল সমান্তরাল ইস্পাতের রেললাইন। উজানে মুখ করে দাঁড়ালে লাইনের ডান পাশে স্টেশন
থেকে বেরোনোর রাস্তাটা ধীরে ধীরে উঠে গেছে টিলার উপরের দিকে। এরই দু’পাশে ছোট ছোট
কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান। এখানেই এবড়ো খেবড়ো রাস্তাটার উপর
দোকানগুলোর সামনে বসে বৈকালিক বাজার। স্থানীয় শাক সব্জীই বেশি উঠে। এর বাইরে
প্রয়োজনই বা কী আর আছেই বা কী ? তবে এ বাজারে যতটা না কেনাবেচা তার চাইতে ঢের বেশি
চলে আড্ডা। প্রত্যাশা যেখানে সীমাবদ্ধ নিখাদ আড্ডা সেখানে আবাধ হতে বাধ্য। এখানে
লোকের হাতে অফুরন্ত সময়। তাই রেলগাড়ির আসা-যাওয়া আর বাজার ঘিরে প্রতিদিন বিকেলে
খানিকটা সময়ের জন্য জমজমাট হয়ে উঠে ধানশিরির পরিবেশ। হাসি ঠাট্টা- গল্প গুজবে
সরগরম হয়ে থাকে গোটা স্টেশন চত্বর।
বাজারের
উল্টোদিকে স্টেশন থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে বড় বড় শাল সেগুনের গাছের ফাঁকে প্রতিষ্ঠিত
সাবেক মা কালীর মন্দির। যুগ যুগান্তর ধরে বেড়ে ওঠা বিশাল বটগাছের চরণতলে সাজানো
বেদীর সামনে প্রশস্ত দোচালা নাটমন্দির। মন্দিরের কাছেই খানিকটা নিচু জায়গায় এক
মস্ত জলাশয়। নিতান্তই প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট। শাপলা, পদ্মের ফুলে পাতায় বাহার জাগে
জলাশয়ের। টলমল জলে সাঁঝবেলার চাঁদের প্রতিবিম্ব অপরূপ শোভায় শোভিত করে তোলে অখ্যাত
ধানশিরির পরিবেশ। কোনও অজানা মুসাফির যখন রেলের জানালায় বসে সন্ধ্যারাতে কিংবা
সকালের মিষ্টি রোদের মাঝে পেরিয়ে যায় ধানশিরি নামের এ অচেনা ঠিকানা, তখন এক
মুহূর্তের জন্য হলেও নিশ্চিতভাবে দোলায়িত হয়ে উঠে তার অন্তর। শিহরিত যাত্রী হয়ত
ফিরে ফিরে দেখতে থাকে পেছনে- যতক্ষণ না এ দৃশ্য হারিয়ে যায় চোখের সামনে থেকে।
স্টেশন আর
ধানশিরি নদীর মাঝে রেললাইন সংলগ্ন এক অনুচ্চ টিলায় একাধিক পরিবারের বাস। বহু বছরের
পুরোনো বাসিন্দা সব। এরা সবাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ধর্মীয় নয়, ভাষিক। সংখ্যার
বিচারে এখন লঘু-গুরুতে বাটোয়ারা হয়ে যেতে হয় সবাইকে। এ এক আলাদা পরিচয়। তবে
চিহ্নিত হলেও ধানশিরির মত অঞ্চলে এসবের কোনও তাৎপর্য নেই কোনওদিনই।
জীবনের বহু
ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে, আত্মীয় গুরুজনদের হারিয়ে আজ থেকে বহু বছর আগে স্বামীর হাত
ধরে এখানেই একটুকরো জমি কিনে নিজ হাতে বসত গড়ে তুলেছিলেন অনুলেখাদেবী। রেল বিভাগে
নিম্নপদে চাকরি করতেন তাঁর স্বামী। চাকরি সূত্রে ধানশিরি কিংবা এদিক-ওদিকের
দু’একটা ছোট স্টেশনেই থাকতে হত অনুলেখাদেবীর স্বামীকে। তাই অনেক ভেবে চিন্তে এবং
হয়ত-বা ধানশিরির অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অভিভূত হয়েই এখানে থিতু হওয়ার
সিদ্ধান্ত নেন ছিন্নমূল অনুলেখারা। টিলার বন্ধুর ভূমিকে ছেঁটে দিয়ে ছিমছাম করে গড়ে
তোলেন একখানা স্বপ্ননীড়। সামনের দিকে এক চিলতে উঠোন পেরোলেই সরাসরি স্টেশনে যাওয়ার
রাস্তা। পেছনে গভীর খাদ। তবে তা ক্রমশঃ ঢালু হওয়ার সুবাদে গাছ-গাছালির সাজসজ্জায়
সুবিধে হল অনুলেখাদেবীর। প্রকৃতি এখানে সৌন্দর্যের পাশাপাশি দু’হাত ভরে ঢেলে
দিয়েছেন মাটির উর্বরা শক্তি। তাই নানা রকম ফলমূল আর শাকসব্জীতে অচিরেই ভরে উঠল
পেছনের বাগান। কী নেই সে বাগানে। দূর দূরান্ত থেকে অনুলেখার পছন্দের সব ফলমূল আর
বাহারি ফুলের চারা সংগ্রহ করে এনে বাগান সাজিয়ে তোলেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনে।
অনুলেখাদেবীর আন্তরিকতায়, সযত্ন সংরক্ষণে তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে বাগানের
গাছগাছালি। এগুলোর ফাঁকে ফাঁকে পরিচর্যার অছিলায় অনুলেখা ঘন ঘন ফিরে যান তাঁর সেই
ফেলে আসা শৈশবে– যখন মা-বাবার একান্ত ভরসার হাত দু’টো ধরে প্রতিদিন এমনি এক ঢালু
পথ ধরে সেই নাম-না-জানা গাঙে নাইতে যেত ছোট্ট সেই মেয়ে। গাঙের দু’ধারে এমনি সব কত
না অচেনা ফল ফুলের বাহার। সবটা আর মনে নেই এখন। ছবির মতো ভেসে উঠেই যেন মিলিয়ে যায়
অনন্তের আঁকিবুকিতে। সেই নির্ঝঞ্ঝাট সুখের ধারাবাহিকতাকে অন্তরের অলিন্দ জুড়ে
সাজিয়ে রাখতে তাই সদাই সচেষ্ট অনুলেখাদেবী।
সুখ আর
শান্তির সহাবস্থানে নিজেদের সংসারও বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। একে একে দুই পুত্র ও এক
কন্যার জন্ম দিলেন অনুলেখা দম্পতি। কালের নিয়মে এরা বড়ও হলো। বড় হতে লাগলেন
অনুলেখাও। পুত্র-কন্যাদের শিক্ষা-দীক্ষা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন অনুলেখাদেবী।
তাই দুই ছেলেই একসময় স্নাতক হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে পা বাড়ায়। বড়ছেলে তমাল একটা
বীমা কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে নিযুক্তি পায়। ছোটছেলে দুলাল নিজে একটা মধ্য ইংরেজি
বিদ্যালয় খুলে স্থানীয় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তোলার কাজে ব্রতী হয়।
তমালের
বিয়ের পর একে একে ফুটফুটে দুই নাতি পেলেন অনুলেখা। হয়তো বা কালেরই নিয়ম- কিছু পেতে
গেলে কিছু হারাতেও হয়। তাই এত কিছু প্রাপ্তির মাঝেই হঠাৎ করে অনুলেখার জীবনে ঘনিয়ে
এল এক মারাত্মক বিপর্যয়। মাত্র তিন দিনের জ্বরে ভুগে আকস্মিক দমকা হাওয়ার মতো এক
লহমায় অনুলেখার জীবন থেকে হারিয়ে গেলেন তাঁর জীবন-সঙ্গী স্বামী। পাহাড়ি জনপদের এ
এক নিত্য নৈমিত্তিক অঘটন। কোনও কিছু যেন ঠিক মতো বুঝে উঠারই সুযোগ পেলেন না।
জীবনভর দীর্ঘ সহাবস্থানের পরেও যেন অনেক কিছুই রয়ে গেল অপূর্ণ। কত কী যে হারিয়ে
গেল আশৈশব। মাঝে মাঝেই মনে পড়ে চারটে অনাত্মীয় পরিবারের সেই একান্ত আপন
সহাবস্থানের কথা। জগতটাকে চেনার শুরুতো ওদেরই হাত ধরে। কিন্তু আজ কোথায় সব ? কত
খুঁজেছেন কিন্তু কোথাও হদিশ মেলেনি কারোও। ছোটবেলার সেই ঘর-পরিবেশ, মা-বাবা,
আত্মীয়-পরিজন মায় গোটা একটা দেশই যেন হারিয়ে গেল চোখের সামনে থেকে। না কি নিজেই
হারিয়ে গেলেন এ বিশাল সংসার সমুদ্রে ? সময়ের পাল হয়তো এমন করেই ওড়ে। নিঃসঙ্গতার পীড়া
যে কত মারাত্মক তা কল্পনারও বাইরে ছিল অনুলেখাদেবীর।
ধানশিরির
মনোরম পরিবেশেও এখন অনুলেখাদেবী বড় একটা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন না। ভরা সংসারেও
আজকাল বড্ড একাকী মনে হয় নিজেকে। তবে এই আস্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে একাকীত্বের অনুভবের
বাইরে অন্য আরোও কিছু আনুষঙ্গিক কারণও কি হয়ে উঠেছিল দায়ী ?
*****
ঘণ্টাখানেক
হলো ‘বে’ উঠে গেছে। ‘বে’ অর্থাৎ খরসিং বে। ধানশিরিরই ছেলে। তমালেরই বয়সী হবে। হয়তো
খানিকটা বড়ও হতে পারে। এসেছিল তমালের খোঁজে। তমালের সঙ্গে বন্ধুত্বটা ওর অনেক
দিনের। বেশ আন্তরিক। এসেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে আর পাঁচটা দিনেরই মতো সুর করে হাঁক
পাড়ে- “পে-হী”।
পেহী অর্থাৎ
পিসি অনুলেখাদেবী গলার স্বরেই চিনে নেন- বে’ এসেছে। রান্নাঘর থেকে ভেজা হাতটি
মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসেন- “কীরে খরি, অনেকদিন পর যে ?”- খরসিং এ নামেই পরিচিত তার
পিসির কাছে।
-পেহী, তমাল
কুথায় ?
-এইতো
বেরোলো তমু, কিছু কাজ আছে ?- জানতে চান অনুলেখা।
-কাজ ছিলো
পেহী, বহু জরুরী কাজ। তমালকে আমার লাগেই- ভাঙা বাংলায় একটু কর্কশ সুরে বলে উঠে
বে’।
আওয়াজ শুনে
একটু অবাকই হলেন অনুলেখা। সামলে নিয়ে মুচকি হেসে সামনের চেয়ারটায় বসে বলেন- কেন,
ঝগড়া হয়েছে তমুর সঙ্গে ?
-হয়, আবার
আহিম- বলে বেরিয়ে যায় বে’। কিছু একটা আস্বাভাবিক বুঝে মনে মনে প্রমাদ গুনতে থাকেন
অনুলেখাদেবী। তবে কি বে’ আসার আগে জেনে বুঝেই বেরিয়ে গিয়েছিল তমাল ?
এই বে
ছেলেটা এ সংসারে অনেকদিনের পরিচিত। মাঝে মাঝে এসে দিনভর পড়ে থাকত এখানে।
খাওয়া-দাওয়া সেরে যেত। আরোও আছে এ তল্লাটে বে’র মতো ছেলেরা। সবাই-ই অল্পবিস্তর
পরিচিত অনুলেখাদের। এদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্টতা। অনুলেখাদেবীর
মনে পড়ে- বে’র বাবা সামসিং এক সময় অত্যন্ত কাছের লোক ছিল তাঁর স্বামীর। অনুলেখাকে
বউ বলে ডাকত সামসিং। তমালের ছোটভাইয়ের যেদিন জন্ম হয় সেদিন এই সামসিং-এর জন্যই
জীবন ফিরে পেয়েছিলেন সপুত্র অনুলেখা। সন্তানের জন্ম দেওয়াটা পৃথিবীর সমগ্র
স্ত্রীজাতির পক্ষে যতটুকু মর্যাদাকর ততটুকুই কঠিন। এমন কঠিন সময়ে তমালের বাবার
বাইরে থাকার সুবাদে এই সামসিংই দৌড়ঝাঁপ করে কোথা থেকে যেন এনে হাজির করেছিল এক
প্রশিক্ষিত নার্সকে। জটিল অবস্থা থেকে এরই হাত ধরে সেদিন রক্ষা পেয়েছিলেন অনুলেখা।
সামসিং-এর পরিবারের সঙ্গে তাই আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুলেখাদের। বিনিময়ে সামসিংকেও
প্রয়োজনে যথাসম্ভব সাহায্য করে এসেছেন অনুলেখা ও তাঁর স্বামী। তাই একান্ত কাছের
লোক হয়েই থাকত সামসিং।
আসলে
ধানিশিরির ইতিহাসই এরকম। এখানে জাত-ধর্মের উপরে উঠে সবাই সবার একান্ত কাছের।
বিপদে, অভাবে কেউ কোনওদিন কারো দিক থেকে ফিরিয়ে নেয়নি মুখ। কাল নিজের খাওয়াটা কোথা
থেকে আসবে সে চিন্তাটা না করে যে এসে হাত পেতে চাইল তাকে নিজের শেষ কপর্দকটা
বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি কেউ কোনওদিন। গভীর রাতে ঝড়ের শেষে সবাই বেরিয়ে আসে
অন্যের খবর নিতে। এমনি করে সবাই সবার আপন হয়ে থাকে নিরবধি। উৎসবে, পরবে সবাই সবার
সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায় নিমেষে। বিহু, হোলি, দুর্গাপূজা, ক’জুন, রংকের, চ’ক কেরই
সবেতেই সবার স্বতঃস্ফুর্ত যোগদানে আনন্দের বান ডেকে যেত গোটা ধানশিরি জুড়ে। মনে
পড়ে অনুলেখাদেবীর- বে’দের ঘরে চ’ক কেরই হলে তিনিও তাতে সামিল হতেন সানন্দে। না হলে
ওরা এসে একরকম ধরে বেঁধেই তাঁকে নিয়ে যেত। রাত ভর ছেলে মেয়েদের সে কী অপরূপ নৃত্য।
হারিয়ে যেতে মন্দ লাগত না তাঁর ওদের মাঝে। নতুন পোষাকে নতুন ফসলের গন্ধে কেমন এক
মাদকতা যেন পেয়ে বসত।
কিন্তু বয়স
বাড়ছে অনুলেখাদেবীর। অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ হচ্ছে নিরন্তর। পরিবর্তন হয়েছে তাঁর
সাংসারিক অবস্থানের। ঘরে বউ এসেছে, নাতি হয়েছে। ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট বড় হয়েছে,
স্বামী গত হয়েছেন। এখন অনুলেখার নিজের পেনশনের টাকা আর বড় ছেলের রোজগারে চলে
সংসার। এমনি করে সবকিছুরই আমূল পরিবর্তন নিজের চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছেন
অনুলেখাদেবী। পরিবর্তন হচ্ছে দেশের, সমাজেরও। মহার্ঘ হচ্ছে জিনিসপত্তর। খেতের
শাকসব্জী এখন বহুমূল্য হয়েছে বাজারে। ফলন কমেছে। মাটির উর্বরা শক্তি ধীরে ধীরে
নিম্নমুখী। সবুজের ঘাটতি বনে বাদাড়ে। গাছে গাছে পাখির আনাগোনা, ফুলে ফুলে
প্রজাপতির ওড়াওড়ি এখন অনেকটাই কম।
পরিবর্তনের
হাওয়া ছুঁয়ে যায় ধানশিরিকেও। ইদানীং লোকজন বেড়েছে অনেক। স্বভাবতই জটিল হচ্ছে সমাজ।
আগের সেই সারল্য, সেই নির্ভেজাল সৌহার্দ্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে।
বেকার, উদণ্ড-উদভ্রান্ত ছেলে ছোকরার দল এখন জিনস, চশমা পরে বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়
অহরহ। স্বল্প আয়ে যেখানে নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে ওদের কাছে কোথা
থেকে আসে এত প্রাচুর্য- ভেবে পান না অনুলেখাদেবী। নিজের ছেলেদেরও যেন আজকাল কেমন
অচেনা লাগে তাঁর। কখন কোথায় যায়, রাত বিরেতে অস্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসে- কিছুরই যেন
হদিশ মিলাতে পারেন না। কথা-বার্তায়ও অস্পষ্টতার ছোঁয়া। জিজ্ঞেস করলে কথার সদুত্তর
পাওয়া যায় না। যেন কিছু লুকোতে চায় সব সময়। ওদের মতিগতি দেখে মনে হয় যেন ধীরে ধীরে
দূরে সরে যাচ্ছে নিজেরই সন্তান, ভেবে ভেবে চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন অনুলেখাদেবী।
কিছুই আর ভাল লাগে না তাঁর।
*****
শুকিয়ে গেছে
ধানশিরি নদীর জল। অববাহিকার কৃষিজমি অনাবৃষ্টিতে ফেটে চৌচির। ফলানো ধানের চারা
থেকে ফসল আর উঠে না চাষীর ঘরে। কালো কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে গেছে মন্দির সংলগ্ন
জলাশয়। ঝিলের বুকে প্রতিফলিত হয়ে দিনের প্রথম আলোর ছটা এখন আর উজলে দেয় না
ধানশিরির চৌদিশ। মা কালীর নাটমন্দিরের চাল ভেঙে ভেঙে পড়ছে একধারে। সকাল সন্ধ্যা
এখন রেলগাড়ি আসার সময় কেউ এসে জড়ো হয় না ধানশিরি স্টেশনে। তার বদলে স্টেশন চত্বর
ছেয়ে থাকে এক দঙ্গল বন্দুকধারী সান্ত্রি। গাড়ি আসার ঘণ্টার শব্দে এখন আতঙ্ক জাগে মনে-
কখন না জানি শুরু হয়ে যায় গুলি-বারুদের লড়াই। ধানশিরির আলিতে গলিতে এখন
নিত্য মদ-জুয়া-মারপিটের আসর। বেমালুম উধাও হয়ে গেছে প্রাকসন্ধ্যায়
কিশোর কিশোরী, মহিলাদের হাতে হাত ধরে পাড়াময় ঘুরে বেড়ানোর সে অপরূপ দৃশ্য।
বিচ্ছিন্ন পথচারীর চোখে মুখে এখন উদাস, সন্ত্রস্ত চাউনি। চলায় ক্ষিপ্র পদক্ষেপে
বিপদ এড়ানোর প্রচেষ্টা।
ভীষণভাবে
পরিবর্তিত হয়ে গেছে এখন ধানশিরির আর্থসামাজিক পরিস্থিতি। বিষিয়ে পড়ছে আকাশ বাতাস। সংখ্যার
বিচারে লঘু-গুরুর তারতম্য এখন তুঙ্গে। ধানশিরিতে এখন সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটা এক
সংগ্রাম। বে, ইংতিরা এখন সমান্তরাল সরকারের প্রতিনিধি। মাস ফুরোলে এখন একগুচ্ছ নোট
ধরিয়ে দিতে হয় ওদের হাতে ‘কর’ হিসেবে। একচুল এদিক ওদিক হবার যো নেই। না, বাদ যাননি
সামসিং-এর ঘনিষ্ট অনুলেখাদেবীও। ভাগ্যিস আজ বেঁচে নেই তাঁর স্বামী, সামসিংরা।
নাহলে ওদেরও দেখতে হতো এমন দিন। অনুলেখাদেবীরা এখন নিজগৃহে পরবাসী। কেমন করে যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার
হারালেন তা বুঝে উঠা মুশকিল। শ্রীহীন বাড়িটার দিকে তাকালে স্মৃতির দোলাচলে দোলায়িত
হয়ে উঠেন বিচলিত অনুলেখা। আশ্চর্য, ওই যে সুপারি গাছের বাগান- তাঁর নিজেরই হাতে লাগানো-
ওটার জন্যও করে গুণতে হয় ‘কর’।
সেদিন
এসেছিল বে’র সঙ্গী কয়েকটা ছেলে। তাকানো যায় না ওদের চোখের দিকে। তপ্ত, রক্তবর্ণ
চোখে কীসের একরাশ ঘৃণা যেন দানা বেঁধে রয়েছে। ভাল করে কথাও বলতে চায়না কেউ।
অঙ্গভঙ্গিতে মান্যমানতার লেশমাত্রও নেই। জমিদারী কায়দায় সারাটা বাড়ি তন্নতন্ন করে
ঘুরে দেখেছে। এর পর ‘কর’-এর হিসেব কষেছে। দু’টো কাঁঠাল গাছ, পঁচিশটা সুপারি গাছ,
তিনটে ঘর, ফলের বাগান, ছ’জন লোক- সব মিলিয়ে দীর্ঘ ফর্দ। দুরুদুরু বুকে ওদের
কার্যকলাপ দেখতে থাকেন অনুলেখাদেবী। কিছু বলার সাহস করে উঠতে পারেন না। সারা
জীবনের সম্মান এক পলকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে বাধবে না ওদের। তাই ওরা চলে যাওয়া অবধি
আতঙ্কের প্রহর গুণতে থাকে অনুলেখার পরিবারের প্রতিটি সদস্য। এক সময় অবৈধ ক্ষমতার
অবাঞ্ছিত ঠাট দেখিয়ে বিদায় নেয় উশৃঙ্খল ছেলেদের দল। চোখে অন্ধকার দেখেন আতঙ্কিত
অনুলেখাদেবী। দীর্ঘ জীবন-পরিক্রমার ছবি ক্ষণে ক্ষণে ঘুরপাক খেতে থাকে দৃশ্যপটে। জীবনে
সসম্মানে বেঁচে থাকার যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয়ের হাতছানি স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় মনের
আয়নায়।
*****
সবে সন্ধ্যা
হয়েছে তখন। লণ্ঠনের আলোয় অনুলেখাদেবীর শোবার ঘরে এক থমথমে পরিবেশ। কখন কী হয়।
গতমাসে ‘কর’ মেটানো সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। ছয় জনের সংসার- ‘কর’ মিটিয়ে, ব্যামো
সামলে আর চলছিল না। এরই মধ্যে একদিন তমালকে উঠিয়ে নিয়ে গেছিল কয়েকটি ছেলে ছোকরা।
আশঙ্কায়, দুশ্চিন্তায় দু’টো দিন অনাহারে কাটিয়ে দিল গোটা পরিবার। পরিচিত,
অপরিচিত সবার কাছে গিয়ে কাকুতি করেছেন অনুলেখাদেবী। কিন্তু কেউ কোন আশার কথা
শোনাতে পারেনি তাঁকে। সকলের চোখের সামনে থেকে যেন বেমালুম উবে গেল ছেলেটা। দু’দিন
পর বিধ্বস্ত তমাল প্রায় বিবস্ত্র হয়ে দেহে কালশিটে নিয়ে কোনওক্রমে ঘরে এসে
পৌঁছেছিল প্রাণ হাতে করে।
সেদিনই বুঝে
গেছিলেন অনুলেখাদেবী- তাঁর সাধের ভিটে মাটির মায়া এবার কাটাতে হবে। কিন্তু সে কী
করে সম্ভব ? উদ্বিগ্ন অনুলেখা তারই একটা শেষ চেষ্টার উপায় খুঁজছিলেন প্রায়ান্ধকার
কোঠায় শুয়ে শুয়ে। পাশে বসে নামতা পড়ছিল তাঁর আদরের ছোট নাতি। বড্ড অসহায় মনে হতে
থাকে নিজেকে। স্বামীর অভাবটা প্রচণ্ড ভাবে উপলব্ধি করেন অনুলেখাদেবী। বেঁচে থাকলে আজ এত অসহায়
হতে হতো না তাঁকে। দু’জনে মিলে পরামর্শ করে কিছু একটা সমাধান অবশ্যই
বের করা যেত। এমন অসহায় অবস্থায় অবধারিত ভাবে যাঁর উপস্থিতি অবশ্যম্ভাবী সেই
সর্বশক্তিমানকেই মনে মনে আহবান জানান অনুলেখাদেবী। আর ঠিক তখনই হঠাৎ করে
উদভ্রান্তের মতো তমাল এসে ঢুকল ঘরে। এসেই ঝড়ের বেগে সবাইকে ডেকে বলল- “মা, এক্ষুনি
বেরিয়ে যেতে হবে। না হলে মারা পড়ব সবাই। আমি নিজের চোখে দেখেছি- ওরা আসছে। বে’-ও
ওর ভাইকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে এখুনি সরে পড়তে। চলো মা- চলো, দেরি করো না।”
সারাটা
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যেন একটাই কথা প্রতিধ্বনিত হতে লাগল- ‘ওরা আসছে- ওরা আসছে’।
আতঙ্কিত, হতচকিত অনুলেখাদেবী কিছু ভেবে উঠারই সময় পেলেন না। দেহে অসাধারণ বল সঞ্চয়
করে উঠে দাঁড়ালেন। আদরের ছোট্ট নাতিটাকে কোলে বসিয়ে সবার আগে বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে।
মুহূর্তে এক বস্ত্রে তাঁকে অনুসরণ করল বাকিরাও। সারা জীবন ধরে তিল তিল করে সঞ্চিত
যাবতীয় স্মৃতি, যাবতীয় সম্পত্তি পেছনে ফেলে রেখে ছয়টি কপর্দকহীন, নিঃস্ব প্রাণী
নীরবে, শঙ্কিত চিত্তে রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে এল বাইরে। টিলার গা বেয়ে নিচে নেমে
রেল লাইন ধরে নিঃশব্দে হাঁটতে শুরু করল অজানা গন্তব্যের দিকে। একদা ধানশিরির
অনাবিল, স্বপ্নিল পরিবেশ অমাবস্যার কালো অন্ধকারে কালিমালিপ্ত হয়ে মুখ লুকিয়ে রইল-
হয়ত গর্বিত ইতিহাস থেকে লজ্জিত বর্তমানকে আড়াল করার অভিপ্রায়ে।
পেছন ফিরে
তাকাবার সময় কিংবা গরজ কোনওটাই ছিল না অভিমানী অনুলেখার। ধানশিরির কোমল হাওয়াও যেন
ঝঞ্ঝা হয়ে কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে তাঁর শরীরের প্রতিটি লোমকূপে। নীরবে গড়াতে থাকা
দু’ফোঁটা অশ্রুসজল চোখের সামনে তখন শুধু আবছা আলোয় ঠাহর করতে পারা দু’টো সমান্তরাল
রেলের পাত। দীর্ঘ পথ পরিক্রমার লক্ষ্যে আবার শুরু হলো এক দিশাহীন অনন্তযাত্রা। এ-ও
এক নিদারুণ কষ্টকর পথচলা। আজ কিন্তু বয়সের পরিপক্কতায় কষ্টের মধ্যেও প্রবলভাবে
মিশে রয়েছে পরিজনের অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কা। অনন্ত যাত্রার আগেই হয়ত এ আরেক নতুন
যাত্রা, নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত।
আজ জীবন
সায়াহ্নে দ্বিতীয়বারের মতো পরবাসী হলেন অনুলেখাদেবী।
Comments
Post a Comment