Skip to main content

কল্লোল চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থ - 'মেহগনি অন্ধকার'


সরল বোধের কবিতা সংকলন ‘মেহগনি অন্ধকার’

- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - 
দ্বিভাষিক কবি কল্লোল চৌধুরীর একের পর এক গ্রন্থাবলির প্রকাশে আখ্যায়িত এই ভুবনের সাহিত্য পরিসর ঋদ্ধ হচ্ছে নিরন্তর। তাঁর সাম্প্রতিকতম কাব্য সংকলন ‘মেহগনি অন্ধকার’ প্রকাশিত হয়েছে অক্টোবর ২০২১-এ। 
মোট ৬৪ পৃষ্ঠার পাকা মলাটে সন্নিবিষ্ট আছে ৫৫টি কবিতা। স্বল্প থেকে পৃষ্ঠাজোড়া কবিতার সমাহার। তবে স্বল্প দৈর্ঘের কবিতারই পয়োভার। এবং এই স্বল্প কথায় কীভাবে একটি কবিতাকে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যায় পাঠকের অন্তরে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে এই গ্রন্থটি। একেবারেই সহজ সরল বক্তব্যে মনের কথাটি কবি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন পাঠক মননে। উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যায় সেই কবিতাটি যে নামে গ্রন্থটিও হয়েছে নামাঙ্কিত -
ঘাসের ভেতর পাতার ফাঁকে
আমি খুঁজছি সূর্য-অস্ত-শোভা
মোরগফুল, গাঁদাফুলে রয়েছে প্রজাপতি সব
ওরাও হয়তো খুঁজছে আমারই মতন
নারকেলবনের কূলায়ে সোনালি আভা
যেন অবশেষে মেহগনি অন্ধকারেই মিশে যাবে। 
(কবিতা - মেহগনি অন্ধকার)
সংকলিত প্রতিটি কবিতাই যেন কবির মানসসঞ্জাত তাৎক্ষণিক ভাবনার প্রতিফলন। নিত্য নৈমিত্তিক দিন যাপনে মনের গভীরে উঠে আসা প্রশ্নগুলোকে কবিতার অবয়বে চিহ্নিত হয়েছে একের পর এক কবিতায়। উল্লেখ্য - দরবেশ, বুকের ভেতর, নররাক্ষস, জন্মাবার আগে, চার দেওয়ালের মাঝে, মায়ের অসুখ, মাছরাঙা, শিলং পিক, ডিটেনশন ক্যাম্প, কোনো এক পাখির স্বগতোক্তি, মুখোশ আদি। 
কিছু কবিতা তার কবিতাময়তায় আচ্ছন্ন করে রাখে পাঠক মন -
ইচ্ছেরা আমার দামাল ছেলে 
দাপিয়ে বেড়ায় দিগ্বিদিক
ইচ্ছেরা আমার গুপ্ত কথা দীপ্ত রাখে হৃদয়পটে
ইচ্ছেরা আমার বল্গা হরিণ
কখনও বেয়ে যায় সিঙ্গুরে কিংবা শনবিলে
ইচ্ছেরা আমার হাঁটে স্মৃতির প্রজাপতি ধরে।
(কবিতা - ইচ্ছেরা আমার)
কিংবা,
মনে হয় এতদিন মাটির সাথে মিশেছিলাম
- - - - - 
ছিল বাঁশের চালাঘর
ছিল ঘুণপোকা
- - - - -
এখন পাকা উঠোন পাকা ঘর
চারিদিকে রকমারি ফুলের বাহার
টবে টবে সাজানো
তবুও কোথাও এক কৃত্রিমতা
ছুঁয়ে আছে যেন। 
(কবিতা - মাটির সাথে)
এভাবেই টুকরো কথায় কবি তাঁর সহজাত দক্ষতায় সাজিয়েছেন কবিতার কথামালা। কিছু কবিতা খানিক দীর্ঘ - যেখানে আছে প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে কবির অনন্ত ভাবনা। ইম্ফল থেকে মৈরাং, শিলং-গৌহাটি জাতীয় সড়ক, পাশিঘাট, বালি, সায়েন্স সিটি, অবরোধ, ধস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আছে কিছু গভীর অনুভূতির কথা। পড়তে গেলে হারিয়ে যেতে হয় বৈকি। বকুলের সুবাসের মতো, চারিদিক মেঘে ঢাকা, হরিণীর মতো, মাটি, মেঘেরা করে খুনসুটি, অফুরান মেঘ, চাঁদ তুমি কার, তুমি এলে গুঞ্জরণে, নদী, তোমাকে, বইপোকা, পরিবর্তন তেমনই কিছু কবিতা।
কল্লোল চৌধুরীর কবিতা পাঠক মনে দাগ রেখে যায় নিশ্চিত। ভাবতে শেখায়, হারিয়ে যেতে শেখায়। সংগ্রহে রাখার মতো এই সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছে সপ্তর্ষি প্রকাশন, কলকাতা থেকে। নির্ভুল, পরিচ্ছন্ন ছাপা বইটির আকর্ষণীয় একটি দিক। সেই হিসেবে প্রচ্ছদ আরোও একটু উজ্জ্বল আঙ্গিকে হলে আরোও একটু প্রাসঙ্গিক হতো বৈকি।
 
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

মেহগনি অন্ধকার
মূল্য - ১৫০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৮৩০৩৭১৪৬৭

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...