Skip to main content

-পাঠকের দৃষ্টিতে- ‘বাংলা ছোটগল্পে বৈচিত্র্যের সন্ধান’


শিরোনামেই প্রতীয়মান এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়বস্তু। বিশাল ২৬৪ পৃষ্ঠার এই সম্পাদনা গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে ৪১ টি মূল্যবান আলোচনাত্মক নিবন্ধ যার প্রতিটি রচনাই বিষয়ের আধারে লিখিত এবং অবশ্যপাঠ্য। ১১১ বছর আগে ছোটগল্প নিয়ে এইচ জি ওয়েলসের মন্তব্য থেকে শুরু করে ছোটগল্পের রূপরেখা, বিস্তার ও বিবিধ আলোচনার মাধ্যমে সাত পৃষ্ঠা জোড়া মূল্যবান ভূমিকা লিখেছেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য। এখানেই গ্রন্থের নান্দীমুখ।
‘নিবেদন’ শিরোনামে দুই যত্নবান সম্পাদক অরূপ পাল ও নিত্যানন্দ দাস সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করেছেন এই গ্রন্থ-সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা। গ্রন্থের প্রতিটি রচনাই তত্ত্ব ও তথ্যে ভরপুর এক একটি দলিল। স্বতন্ত্র আলোচনার কোনো সুযোগও নেই আর এখানে সেই পরিসরও নেই। একমাত্র গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমেই পাঠক হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন তার আস্বাদ।
গ্রন্থের প্রথম রচনা - “পাঠককেন্দ্রিক সাহিত্যতত্ত্বের দর্পণে রবীন্দ্রনাথের ‘দেনাপাওনা’, ‘অতিথি ও ‘কাবুলিওয়ালা’ ছোটগল্পের পাঠ বিশ্লেষণ”। লেখক ড. অজিতকুমার সিংহ। এরপর একে একে আসছে নিত্যানন্দ দাস-এররবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরপোস্টমাস্টার’ : একটি বিশ্লেষণী পাঠ”, সোমা বোস-এররবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরঅতিথিগল্প : প্রকৃতি ভাবনা”, রূমা এস-এরপিতৃত্বের সর্বজনীনতার আলোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরকাবুলিওয়ালা’ ”, দীক্ষিতা দেবাশীষ দে-অলৌকিকতার আড়ালে মনস্তত্বের প্রতিকৃতি : ‘ক্ষুধিত পাষাণমণিহারা’ ”, মৌমিতা চক্রবর্তীরশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরঅভাগীর স্বর্গগল্পে প্রতিফলিত সমাজচিত্র”, রঞ্জন দেবনাথ-এরশরৎচন্দ্রেরঅভাগীর স্বর্গমহেশগল্পে প্রস্ফুটিত সমাজচিত্র”, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যেরশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েররামের সুমতিগল্পের আলোকে বৌদি নারায়ণী চরিত্র আলোচনা
রঞ্জিত মজুমদার লিখেছেনশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরমহেশগল্প - একটি প্রতিবেদন অনিন্দিতা সাহা লিখেছেনপ্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়েরবিবাহের বিজ্ঞাপন’ : একটি সামগ্রিক বিশ্লেষণ . কল্যাণী দাশগুপ্ত লিখেছেন “ ‘পুঁইমাচাগল্পে প্রকৃতি ও মানবের মেলবন্ধন এরপর আছে অপর্ণা দাস-এরসমাজের অন্ধকারগ্রস্ত ও বাস্তবিক মননের দর্পণ : জগদীশ গুপ্তের দুটি গল্প”, দেবলীনা নাথ-এরবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরমেঘ-মল্লার’ : একটি বহুমাত্রিক আলোচনা”, শম্পা রাউৎ-এরশাবলতলার মাঠ : একটি পর্যালোচনা”, অনামিকা চক্রবর্তীরতারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়েরবেদিনীগল্পের একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন, . তাপসী গুপ্তেরবনফুলেরদুধের দাম’ : একটি বহুমাত্রিক পাঠ বিশ্লেষণ”, সুব্রত রায়-এরবনফুলেরস্মৃতিগল্প : আধুনিকতার অভিঘাতে ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণা”, সৌরভ সাহারবিরজুর মা : একটি বিশ্লেষণী পাঠ”, বাসব দাস-এরঅচিন্ত্যকুমারেরসারেঙ’ : শ্রেণিসংগ্রাম ও জীবনসংগ্রামের আলেখ্য”, অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায়ের “ ‘প্রাগৈতিহাসিকগল্পের নামকরণ”, অদিতি রায়-এর “ ‘ইনসাফ কোথায়’ : সৈয়দ মুজতবা আলীরনোমাজলঅবলম্বনে একটি অন্বেষণ
এরপর আসছে অরূপ পাল-এর লিখাগল্পকার পরশুরামেরবিরিঞ্চিবাবা’ : একটি নিবিড়পাঠ”, অভজিৎ দত্তেরসুবোধ ঘোষেরঅযান্ত্রিক’ : মানুষ ও যন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক”, সব্যসাচী পাত্র-এরসুবোধ ঘোষের ফসিল’ : একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন”, সৌমেন মণ্ডল-এরসুবোধ ঘোষেরসুন্দরমগোত্রান্তর’ : প্রবৃত্তির পিছুটান”, অর্চিতা দেবনাথেরসুবোধ ঘোষেরগোত্রান্তর’ : পাঠ বিশ্লেষণ”, রুম্পী দাসেরসুবোধ ঘোষেরগোত্রান্তর’ : বহুমাত্রিক পাঠ বিশ্লেষণ”, অভিজিৎ সাহারআশাপূর্ণা দেবীর নারী : প্রসঙ্গ তিনটি ছোটগল্প”, প্রিয়তমা মজুমদারেরআশাপূর্ণা দেবী ও তাঁর ছোটগল্পে নারীর করুণ জীবনালেখ্য : প্রসঙ্গসীমারেখার সীমাগল্প”, বীরেশ মণ্ডলেরআশাপূর্ণা দেবীর ছোটগল্পে নারীর অবস্থান”, অনামিকা পাল-এরজ্যোতিরিন্দ্র নন্দীরগাছ’ : প্রকৃতি আর মানব মনের অনন্য মিলন
. দেবলীনা দেবনাথ ও সেখ একরামুল হোসেন যৌথভাবে লিখেছেননারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটগল্প : প্রেক্ষিত মন্বন্তর”, অবন্তিকা মজুমদার লিখেছেনসমরেশ বসুপ্রতিরোধগল্পের নিরিখে তেভাগার প্রতিচ্ছায়া”, প্রতিমা পাল লিখছেন - “ ‘স্তনদায়িনীগল্প অবলম্বনে অবহেলিত মাতৃত্ববোধের একটি নিদারুণ চিত্র এরপর থাকছে জয় সরকার-এরমহাশ্বেতা দেবীরবাঁয়েন’ : এক নিবিড় পাঠ”, নাসরিন খাতুনেরসাধন চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে (নির্বাচিত) বিষয় বৈচিত্র্য”, . মৌসুমী নাথ-এরদেবেশ রায়ের ছোটগল্পে সময় ও সমাজের ভিন্ন মাত্রা”, বেণীমাধব দাস বৈরাগ্য-দিব্যেন্দু পালিতের ছোটগল্পে সমাজ ও বাস্তবতা”, রিঙ্কা দে-বিদেশি বিতাড়ণ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মানুষের ছিন্নমূল হওয়ার কারণ অনুসন্ধান : প্রসঙ্গ মলয়কান্তি দে-আশরাফ আলির স্বদেশগল্প”, দেবজ্যোতি পরকায়স্থেররামকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছোটগল্প : স্বরূপ-সন্ধানএবং সৌম্যদীপ দেব-এরদেবীপ্রসাদ সিংহের ছোটগল্প : একটি বিশ্লেষণাত্মক পাঠ
প্রতিটি লেখাই যথেষ্ট অধ্যয়ন ও যত্নের ফসল নিঃসন্দেহে তবু একথা অনস্বীকার্য যে এধরনের লেখায় অনিচ্ছাকৃত ভাবেই কিছু তত্ত্বের রকমফের ও তথ্যের অপূর্ণতা থেকেই যায় কয়েকটি রচনার অধ্যয়নে মনে হতেই পারে যে হয়তো আরোও খানিকটা বিস্তৃত হতে পারত বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা প্রথম ব্লার্বে বর্ণিত বয়ানের বিপরীতে একই গল্পকারের একই গল্পের একাধিক আলোচনাকে স্থান না দিয়ে পরবর্তী সংকলনের জন্য রেখে দিয়ে বাদ পড়ে যাওয়া বিশিষ্ট গল্পকারদের গল্পের উপর আলোচনা চেয়ে নিতেই পারতেন সম্পাকরা সেক্ষেত্রেবৈচিত্র্য’-র ধারণা আরোও ফলপ্রসূ হতো নিশ্চিত উত্তর পূর্বের আরোও বহু সাড়া জাগানো গল্পের উপর আলোচনাও এ অঞ্চলের পাঠকের চাহিদা মেটাত
সব মিলিয়ে এক অসাধারণ প্রয়াস এই সম্পাদনা গ্রন্থ সুন্দর প্রচ্ছদের সৌজন্যে চঞ্চল গুঁই, প্রকাশক - ‘পত্রলেখা পাকা বাঁধাইয়ে স্পষ্ট মুদ্রণের তারিফ করতেই হয় গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছেদিদি শ্রীমতী প্রণতি দাসের করকমলে শেষ প্রচ্ছদে রয়েছে সম্পাদকদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আশা করা মতো উৎসাহী পাঠকবর্গ ও ছাত্র গবেষকদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আকর হতে পারে এই প্রবন্ধ সংকলনটি

- বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

মূল্য - ৪৫০ টাকা
যোগাযোগ - ৮৬৩৮২৮১৩১৬

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...